× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

স্বাস্থ্য
What a wonderful way to screw people over
hear-news
player

আমৃত্যু তারুণ্য ধরে রাখার এ কেমন অদ্ভুত উপায়

আমৃত্যু-তারুণ্য-ধরে-রাখার-এ-কেমন-অদ্ভুত-উপায় অন্ত্রের অণুজীব আবার ফিরিয়ে দিতে পারে তারুণ্য। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে যেসব রোগব্যাধি এবং শারীরিক দুর্বলতা আমাদের ঘিরে ধরে তার পেছনে দুর্বল অন্ত্রের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই দুর্বল অন্ত্রকে সজীব করে তোলায় নবীন অন্ত্রের অণুজীব বেশ কার্যকর।

দিনে দিনে বেড়ে চলা বয়সের লাগাম টেনে ধরা গেলে কেমন হতো? শুধু লাগাম টানাই নয়; যদি বুড়িয়ে যাওয়া জীবনে আবার ফেরানো যেত তারুণ্য, তাহলে বদলে যেত সব হিসাব-নিকাশ।

আমৃত্যু তারুণ্য ধরে রাখার বিষয়টি ভবিষ্যতে হয়তো আর অধরা স্বপ্ন হয়ে থাকবে না। এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চলছে গবেষণা, বেশকিছু সম্ভাবনাও খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এসব গবেষণার অনেক বেশ চমকপ্রদ, আবার কোনোটি একেবারেই ‘মেনে নেয়ার মতো নয়’। বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল মাইকোবায়োমে সম্প্রতি সেই ‘মেনে না নেয়ার’ মতো এক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বয়সের লাগাম টানতে দারুণ কার্যকর মলের অণুজীব (মাইক্রোব)!

আঁতকে উঠবেন না। ওই গবেষণায় অল্প বয়সী ইঁদুরের মলের অণুজীব ধেড়ে ইঁদুরে প্রতিস্থাপনের পর তাদের ফের তাগড়া হয়ে উঠতে দেখা গেছে। অণুজীবগুলো বিস্ময়করভাবে ধেড়ে ইঁদুরের অন্ত্র ফের সুগঠিত করেছে, জ্যোতি বাড়িয়েছে চোখে, এমনকি মগজের বুড়িয়ে যাওয়ার লক্ষণগুলোও উধাও করে দিয়েছে।

এই গবেষণায় বয়স্ক ইঁদুরের মলের অণুজীব নবীন ইঁদুরে প্রতিস্থাপন করে ঠিক উল্টো ফল পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নবীন ইঁদুরগুলোর মস্তিষ্কে তৈরি হয়েছে বার্ধক্যজনিত নানান প্রদাহ, কমে গেছে দৃষ্টিশক্তি। অনেকটা ইঁচড়ে পাকা আচরণ দেখা গেছে সবার মধ্যে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে যেসব রোগব্যাধি এবং শারীরিক দুর্বলতা আমাদের ঘিরে ধরে তার পেছনে দুর্বল অন্ত্রের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই দুর্বল অন্ত্রকে সজীব করে তোলায় নবীন অন্ত্রের অণুজীব বেশ কার্যকর। অল্প বয়স্ক ইঁদুরের মলের অণুজীবগুলো ধেড়ে ইঁদুরের ক্ষেত্রে ওই কাজটিই করেছে।

গবেষণাপত্রে গবেষকরা লিখেছেন, ‘আমরা হাইপোথিসিসটি পরীক্ষা করেছি। সেই হাইপোথিসিসটি হলো অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত বেশকিছু প্রধান রোগের বিস্তারকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে মস্তিষ্ক এবং চোখের রেটিনার প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা রয়েছে।’

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মগজের চারপাশে এবং চোখের রেটিনায় প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যায়। বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী এই প্রদাহকে বলা হয় ‘ইনফ্লেমিং’। এর সঙ্গে দেহের বিশেষ ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষেরও সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ইঁদুরের অন্ত্রের অণুজীব বয়স্ক ইঁদুরে প্রতিস্থাপন করলে এই প্রদাহ কমে আসতে শুরু করে। আর বিপরীত কাজটি করলে অন্ত্রের বার্ধক্য এবং প্রদাহের লক্ষণ দেখা দেয় ছোট ইঁদুরের মাঝে।

অন্ত্রের জটিল রোগের চিকিৎসায় মল প্রতিস্থাপনের কৌশল এখনও প্রয়োগ করছেন চিকিৎসকরা। তবে মলের অণুজীব বয়সেরও লাগাম টানতে পারে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে এই প্রথম প্রমাণিত হলো।

গবেষণাটি আরও বড় পরিসরে করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট অ্যাংলিয়ার জীববিজ্ঞানী সাইমন কার্ডিংয়ের ভাষায়, এই গবেষণাটি যুগান্তকারী। এর মাধ্যমে বার্ধক্যজনিত রোগের সঙ্গে অন্ত্রের অণুজীবের সরাসরি সম্পর্ক উদ্ঘাটিত হয়েছে। এই গবেষণা বয়স নিয়ন্ত্রণে অন্ত্রে অণুজীব প্রতিস্থাপনে থেরাপির পথ উন্মোচন করতে পারে।

আরও পড়ুন:
যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন?
‘সূর্যই ঘুরছে পৃথিবীর চারদিকে’, আমানতের দাবি কেন ভুল
চোখ যে মনের কথা বলে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
সঙ্গীরা একদম বোরিং, কেন?

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Those who look exactly without being siblings

সহোদর না হয়েও চেহারা যাদের অবিকল

সহোদর না হয়েও চেহারা যাদের অবিকল
ডপলগ্যাঙার হলো দুজন একই রকম দেখতে মানুষ, যাদের মধ্যে জন্মসূত্রে কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি খুব বিরল হওয়ায় অনেকে এটি অতিপ্রাকৃত ঘটনাও মনে করেন।

উহ্! তোমার চেহারার সঙ্গে কী অদ্ভুত মিল লোকটার, ঠিক যেন মায়ের পেটের আপন ভাই বা বোন। জীবনে এমন কথা অনেকেই অনেকবার শুনে থাকেন। তবে বেশির ভাগ সময়েই এসব শুধু কথার কথা। একজনের চেহারার সঙ্গে আরেকজনের পুরোপুরি মিল খুঁজে পাওয়া সহজ কোনো ঘটনা নয়।

তবে তাই বলে এমন ঘটনা একেবারেই যে ঘটে না, তা কিন্তু বলা যাবে না। নিজের মতো দেখতে কাউকে খুঁজে পেলে আপনি হয়তো ভিরমি খাবেন, কিন্তু মেনে নিতে শিখুন ওই মিল থাকা ব্যক্তিটি আসলে আপনার ‘ডপলগ্যাঙার’

সোজা কথায় ডপলগ্যাঙার হলো দুজন একই রকম দেখতে মানুষ, যাদের মধ্যে জন্মসূত্রে কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি খুব বিরল হওয়ায় অনেকে এটি অতিপ্রাকৃত ঘটনাও মনে করেন।

সহোদর না হয়েও চেহারা যাদের অবিকল

২৩ বছর ধরে বিশ্বের নানা প্রান্তে এই ডপলগ্যাঙার জুটি খুঁজে বেড়াচ্ছেন কানাডিয়ান ফটোগ্রাফার ফ্র্যাঙ্কোস ব্রুনেল। তার প্রধান শখ বা লক্ষ্য হলো, যত বেশি সম্ভব ডপলগ্যাঙারদের ছবি তোলা।

আই অ্যাম নট অ্যা লুক অ্যালাইক নামের একটি প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রুনেল। এর আওতায় ডপলগ্যাঙারদের পরিচয়, সম্পর্ক এবং অনুভূতিগুলো চমৎকারভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সহোদর না হয়েও চেহারা যাদের অবিকল

ব্রুনেলের সাদাকালো ছবিগুলো সবই বলতে গেলে খুব সাধারণ। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, সাদাকালো নেগেটিভ ফিল্মে তিনি তুলে এনেছেন গোটা দুনিয়া চষে খুঁজে পাওয়া ডপলগ্যাঙারদের ছবি। ছবির জুটিগুলো আশ্চর্যরকমভাবে দেখতে এক।

দুই দশকের বেশি সময়ের চেষ্টায় ব্রুনেল বিশ্বের ৩০টি শহরে আড়াই শ ডপলগ্যাঙারকে পেয়েছেন।

সহোদর না হয়েও চেহারা যাদের অবিকল
ডপলগ্যাঙার জুটিকে তাদের ছবি দেখাচ্ছেন ফ্র্যাঙ্কোস ব্রুনেল

এবার এসব ছবি দিয়ে একটি বই প্রকাশের কাজ করছেন ব্রুনেল। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ফ্র্যাঙ্কোস ব্রুনেলের বাড়ি কানাডার মন্ট্রিলে। আই অ্যাম নট অ্যা লুক অ্যালাইক প্রকল্পের পাশাপাশি দ্য সেভেন এসেনশিয়াল টুলস ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ফটোগ্রাফি শিরোনামে তার একটি বইও আছে।

আরও পড়ুন:
জনসম্মুখে গভর্নরকে চড় দিলেন ইরানি সেনা
স্ত্রীর চোখকে আরাম দিতে ঘুরন্ত বাড়ি তৈরি
স্ত্রীকে গোখরা সাপ দিয়ে হত্যার অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড
ঘরের ছাদ ভেঙে বিছানায় উল্কাপিণ্ড!
পায়ুপথে ৪২ লাখ রুপির স্বর্ণের গুঁড়ো!

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Struggling for alcohol in an overturned truck

উল্টে যাওয়া ট্রাকে মদের জন্য কাড়াকাড়ি

উল্টে যাওয়া ট্রাকে মদের জন্য কাড়াকাড়ি তামিলনা়ড়ুর মাদুরাইয়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। ছবি: সংগৃহীত
কেরালার মানলুরের গুদাম থেকে একটি চালান নিয়ে এই সড়ক ধরে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। পথে নিয়ন্ত্রণ হারায় সেটি, উল্টে যায় ট্রাক। আর এতে ট্রাকে থাকা বাক্সগুলো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। বেরিয়ে আসে সেগুলোতে থাকা মদের বোতল। আর এই মদের জন্যই হামলে পড়েছিল স্থানীয় লোকজন।  

তামিলনাড়ুর ব্যস্ত রাস্তা মাদুরাই। ভারী যানবাহন চলাচল করে মহাসড়কটিতে। সম্প্রতি এই সড়কে নেমেছিল মানুষের ঢল। এতে একপর্যায়ে সড়কটিতে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। কিন্তু কেন এই ঢল নেমেছিল?

কেরালার মানলুরের গুদাম থেকে একটি চালান নিয়ে এই সড়ক ধরে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। পথে নিয়ন্ত্রণ হারায় সেটি, উল্টে যায় ট্রাক। আর এতে ট্রাকে থাকা বাক্সগুলো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। বেরিয়ে আসে সেগুলোতে থাকা মদের বোতল। আর এই মদের জন্যই হামলে পড়েছিল স্থানীয় লোকজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বোতলভর্তি মদ কুড়ানোর দৃশ্য। ভিডিও দেখে মনে হতে পারে, যেন কোনো প্রতিযোগিতা চলছে; কার আগে কে বেশি বোতল নিতে পারে। এসব নিয়ে হট্টগোল বেধে যেতেও দেখা গেছে।

উল্টে যাওয়া ট্রাকে মদের জন্য কাড়াকাড়ি

পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাহিনীটি জানায়, ট্রাকে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মদ ছিল।

ঠিক এমন ঘটনা গত ২০ এপ্রিল ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশে। বিয়ারের কার্টন বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে বারওয়ানি জেলায় অন্য একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। তবে এই তৎপরতা উদ্ধারের জন্য না। রাস্তায় পড়ে থাকা বিয়ারের কার্টন নেয়ায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। পরে পুলিশ এসে অবশিষ্ট বিয়ায়ের কার্টনগুলো জব্দ করে।

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The mother gave the child breast milk jewelry

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা জমাট বাঁধা বুকের দুধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই গয়না। ছবি: অরেঞ্জ ভিজুয়ালস।
বুকের দুধ দিয়ে কেন গয়না বানানো- এমন প্রশ্নে সুমনা জানান, তার ব্রেস্টফিডিং জার্নিটা খুব কঠিন ছিল। সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা ভেবেই এই আইডিয়া মাথায় আসে।

এক জোড়া কানের দুল ও একটি নেকলেসের নজরকাড়া সেট। ছবি দেখে যে কেউ ভাববেন, সোনার তৈরি অলঙ্কারে বসানো হয়েছে মুক্তা।

তবে ছবির সঙ্গে জুড়ে দেয়া পোস্টটি পড়ে জানা গেল, সোনার গয়নায় বসানো সাদা রংয়ের যে বস্তুটি আসলে জমাট বুকের দুধ!

এক নারীর বুকের দুধ দিয়ে বানানো হয়েছে গয়নাটি। সেটি বানিয়েছে সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি নামের ফেসবুকভিত্তিক একটি গয়নার দোকান।

ভিন্নধর্মী নকশার গয়নার জন্য সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি তারকাদেরও পছন্দের পেজ এটি।

এবার মা দিবসের সন্ধ্যায় ব্রেস্টমিল্ক দিয়ে তৈরি গয়না হাজির করে সবাইকে চমকে দিয়েছে অনলাইন শপটি।

সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির উদ্যোক্তা জেরিন তাসনিম খান ও গয়নাটির গ্রাহক সুমনা রশীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিউজবাংলা জানতে পারে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে মায়ের এক সংগ্রামের গল্পও।

জেরিন জানান, সুমনা রশীদ প্রায় ছয় মাস আগে তার পেজের নক করে নিজের বুকের দুধ দিয়ে মেয়ের জন্য গয়না বানিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন।

জেরিন বলেন, ‘সুমনা আপু প্রায় ৬ মাস আগে আমাদের পেজে নক করে জানান যে তিনি তার মেয়ের জন্য তার ব্রেস্টমিল্ক দিয়ে জুয়েলারি বানাতে চান। আমাদের কাজ তার পছন্দ বলে আমাদের দিয়েই বানাতে চান।

‘তিনি (সুমনা) জানান যে এ রকম বাইরের দেশে হয়, তাই তিনি নিশ্চিত এটা সম্ভব এবং আমরাই পারব। আমার পেজ ম্যানেজাররা বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি পরে ওই আপুর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করি। আমি তাকে জানাই যে আমি ইন্টারেস্টেড, তবে সাকসেসফুল হবো কি না সে নিশ্চয়তা দিতে পারব না।

‘সুমনা আপু বললেন তিনি তার মেয়েকে এই জুয়েলারি দিতে চান; সময় লাগলেও আমরা যেন করে দেই। তিনি জুয়েলারিটা সোনার উপর চান। এইতো। এভাবেই কাজ শুরু করি।’

বুকের দুধ দিয়ে গয়না বানাতে গিয়ে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

জেরিন বলেন, ‘এ রকম তো আগে কখনও করিনি, বিভিন্ন দেশে এমন হয় আমিও শুনেছি। তবে ঠিক কীভাবে করে তা জানতাম না, জানার দরকারও ওভাবে হয়নি। সুমনা আপু বলার পর আমি ইউটিউব ঘেঁটে, বিভিন্ন আর্টিক্যাল পড়ে শিখতে চেষ্টা করি।

‘তবে সেসব কন্টেন্ট বিদেশের। সেখানে যেসব ম্যাটেরিয়াল অ্যাভেইল্যাবল, সেসব দিয়ে বানানো। আমাকে তো দেশে পাওয়া যায় এমন জিনিস দিয়ে বানাতে হবে। তাই দেশি এলিমেন্টও খুঁজতে হয়েছে। প্রথম কাজই ছিল বুকের দুধ প্রিজার্ভ কীভাবে করা যায় সেটা বের করা।

‘আমরা পরীক্ষামূলকভাবে গরুর দুধ দিয়ে জুয়েলারির মূল অংশটা বানাতে ট্রাই করলাম। সেটা হওয়ার পর মেটালে সেট করে সুমনা আপুকে দেখাই। আপুর অ্যাপ্রুভালের পরই তার বুকের দুধ আনিয়ে সোনার উপর মূল কাজ শুরু করি।’

জেরিন জানান, শুরুতে গয়নার কোনো নকশা মাথায় ছিল না। কাজটা সম্ভব কি না সেটা নিয়ে নিরীক্ষা চলছিল। সম্ভব নিশ্চিত হওয়ার পরই নকশা নিয়ে ভাবেন তিনি।

জেরিন বলেন, ‘নকশা কী হবে ভাবতে গিয়ে মাথায় আসে, বুকের দুধের ফোটার মতো নকশা করা যেতে পারে। সুমনা আপুকে দেখালাম স্যাম্পল। তিনি খুবই পছন্দ করলেন। সেভাবেই বানিয়ে দিয়েছি। অনেক সময় লেগেছে, প্রায় ৬ মাস... তারপরও আপু খুব ধৈর্য ধরে সঙ্গে ছিলেন। তিনি খুবই খুশি। এমন ভিন্ন ধরনের কাজ করতে পেরে আমারও বেশ ভালো লেগেছে।’

এই গয়নার ছবি ও পোস্ট ফেসবুক পেজে দেয়ার পরপরই বেশ সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানান জেরিন। অনেকেই তার পেজে নক করে ব্রেস্টমিল্ক জুয়েলারি বানিয়ে দিতে বলেছেন। তবে পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও এসেছে।

জেরিন বলেন, ‘ব্রেস্টমিল্ক দিয়ে ওই সেটটা বানানোর একটা ভিডিও দিয়েছিলাম পেজে। এরপর বেশ কিছু বাজে ফিডব্যাক পাই। পরে ভিডিওটা ডিলিট করে দেই।

‘আসলে ব্রেস্টফিডিং নিয়ে এখনও নানা ট্যাবু আছে এ দেশের মানুষের মধ্যে। প্রকাশ্যে এসব নিয়ে আলোচনা তো হয় না। সেখানে এমন একটা কাজ করেছি, সেটা অনেকেই হয়ত হজম করতে পারেননি।’

ওই গয়নার ক্রেতা সুমনা রশীদের সঙ্গেও কথা বলেছে নিউজবাংলা।

তিনি জানান, তার মেয়ে মেহভীশ আনিরা মোহসীনের জন্য এই গয়না বানিয়েছেন। মেয়ের বয়স প্রায় দুই বছর।

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

বুকের দুধ দিয়ে কেন গয়না বানানো- এমন প্রশ্নে সুমনা জানান, তার ব্রেস্টফিডিং জার্নিটা খুব কঠিন ছিল। সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা ভেবেই এই আইডিয়া মাথায় আসে।

কী ধরনের সংগ্রাম?

সুমনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়ে জন্মের পর থেকে ল্যাচ (স্তন্যগ্রহণ) করছিল না। করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির সময় তার জন্ম। তাই নার্সরাও কাছে ঘেঁষত না। ডাক্তাররাও কিছু বলতে পারে না। আমিও বুঝতে পারছিলাম না কেন মেয়ে দুধ খাচ্ছে না। কারও কোনো গাইডেন্সও পাইনি। উল্টো সবাই আমাকে বলতে থাকে আমারই ব্রেস্টমিল্ক নেই।

‘আমি ফেসবুকে তখন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মম গ্রুপে অ্যাড হই। সেখান থেকে জানতে পারি যে ল্যাচ করে না এমন নিউবর্ন (নবজাতক) আরও আছে। সেসব গ্রুপ আর ইন্টারনেট ঘেঁটে আমি বুঝতে পারি যে আমার মেয়ের লিপ-টাই সমস্যা আছে। এ সমস্যা থাকলে বাচ্চা ঠিকমতো ল্যাচ করতে পারে না। পরে বিষয়টা নিয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হই আমার মেয়ের এটাই সমস্যা।

‘এরপর নেট ঘেঁটেই বিভিন্ন পদ্ধতি শিখে আমি বাচ্চাকে ট্রেনিং দিতে শুরু করি। জন্মের প্রায় আড়াই মাস পর আমার মেয়েকে ব্রেস্টফিড করাতে পারি। ওই স্ট্রাগলের সময়টা খুব কঠিন ছিল। একে তো মেয়ে দুধ খেতে পারছিল না, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা। তার উপর আশপাশের লোকজনের নানা কটূ-তীর্যক কথা ছিলই।’

সুমনা জানান, এই ওয়েবসাইট ঘাঁটতে গিয়েই তিনি জানতে পারেন বাইরের দেশে বুকের দুধ নিয়ে গয়না বা কিপসেক বানানো যায়। অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে এমন বানায়। তখন তিনিও এমন কিছু করার কথা ভাবলেন। সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির গয়না তার এমনিতেই পছন্দ ছিল। তাই তাদের সঙ্গেই আইডিয়া শেয়ার করেন।

সুমনা বলেন, ‘আমি আমার আইডিয়া বলি, তারাও আগ্রহ দেখায়। আমার তাড়া ছিল না, খুব যে প্রয়োজন তাও না, ভেবেছিলাম বলে দেখি। যদি হয়ে যায় আর কি। তারা জানাল করে দেবে। আমি সে সময়ই ব্রেস্টমিল্ক কালেক্ট করে ফ্রিজে রেখে দেই। এই মাস দুয়েক আগে গয়নাটা হাতে পাই। খুবই ভালো লেগেছে পেয়ে।’

সন্তানকে বুকের দুধের গয়না দিলেন মা

তবে গয়নাটি নিয়ে পরিচিতজনদের কাছ থেকে অপ্রীতিকর মন্তব্য শুনতে হয়েছে বলে জানান সুমনা।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব আগ্রহ নিয়ে সবাইকে সেটটা দেখিয়েছি। কেউ কেউ বলেছে এটার কী দরকার ছিল, এটা আর এমন কী, এই গয়নার পেছনে টাকা নষ্ট করার কী আছে, এমন কোনো প্রেশিয়াস স্টোন তো না যে সোনার উপর করতে হলো। এরা আসলে এটার গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। এটার পেছনে যে আমার ইমোশন সেটা বোঝেনি।’

সুমনা বলেন, ‘আমার মেয়ে এই গয়না দেখে আমার ব্রেস্টফিডিংয়ের স্ট্রাগলটা মনে রাখুক, এটা আমি চাই না। তাকে আমার স্ট্রাগল জানতে হবে না। আমি চাই, এটা দেখে সে জানবে যে আমার মাধ্যমে সে ব্রেস্টমিল্কের রূপে আসলে একটা ব্লেসিং পেয়েছে। আর ব্রেস্টফিডিংয়ের জার্নিটা আমার কাছেই না হয় মেমোরেবল থাকুক।’

আরও পড়ুন:
মায়ের প্রতি অপার ভালোবাসা কৃষকের
৩৮ মা পেলেন রত্নগর্ভা পুরস্কার

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Break up while sitting at the table and eating

যে টেবিলে বসে খাবার খেলেই ‘ব্রেকআপ’

 যে টেবিলে বসে খাবার খেলেই ‘ব্রেকআপ’
রেস্তোরাঁয় খেতে এসে এখানে যারা বসেন, আড্ডা দেন, তাদেরই সম্পর্কের নাকি অবনতি হয়। শেষমেশ সম্পর্ক ছিন্ন। যাত্রা শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই মালিক কর্তৃপক্ষ খেয়াল করেন এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা। এসব দেখে রেস্তোরাঁর পরিচালকরা এই টেবিলের নাম দিয়েছেন ‘দ্য ব্রেকআপ টেবিল’।

আড্ডা দিতে গিয়ে নির্ধারিত কোনো টেবিলে বসে যদি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে, তাহলে কি সেই টেবিলে কেউ বসতে চাইবেন? নাকি এমন টেবিল রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ রাখবেন?

রাজশাহী শহরের একটি ফাস্টফুড শপ এদিক থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এই কারণে যে, সেখানে একটি টেবিলের নাম রাখা হয়েছে ‘ব্রেকআপ টেবিল’। এই টেবিলে যেসব জুটি বসেছেন তাদের বেশির ভাগেরই নাকি প্রেম ভেঙে গেছে। আর এই গোপন কথাটা রেস্তোরাঁর মালিক ঘটা করে প্রচারও করছেন।

টেবিলের পাশে রীতিমতো ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে টেবিলের নাম। সেই সঙ্গে এখানে বসে কতজনের ব্রেকআপ হলো সেটাও উল্লেখ করা আছে। এই টেবিলের জন্য একটি আলাদা খাতা রাখা হয়েছে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মন্তব্য লেখার জন্য।

রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের হিসাবে এখানে বসে আড্ডা দেয়া অন্তত ১০০ জুটির প্রেমের সমাধি ঘটেছে। এমনকি রেস্টুরেন্ট মালিকের নিজের সংসারও নাকি নড়বড়ে হতে বসেছিল এই টেবিলে বসার পর।

রাজশাহী নগরের সাহেববাজার এলাকায় অবস্থিত ‘টেস্টি টাইমস’ ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ। তিন তলার এই রেস্তোরাঁর সাত নম্বর টেবিলটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘বিপজ্জনক’ টেবিল হিসেবে।

রেস্টুরেন্টটি রাস্তার পাশে। কাচের সঙ্গে লাগনো এই টেবিলটি। এটি সেই রেস্তোরাঁর মাঝামাঝি অবস্থানে। টেবিলের পাশের ওয়ালে কাচে কাগজে প্রিন্ট করা ‘দ্য ব্রেকআপ টেবিল। ডেনজার।’


 যে টেবিলে বসে খাবার খেলেই ‘ব্রেকআপ’


পাশে রাখা একটি খাতা। সেখানেই লিখতে বলা হয়েছে নিজেদের অনুভূতি। এ ছাড়া বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে এখানে ‘৮০ প্লাস জনের ব্রেকআপ হয়েছে।’

কত কষ্টের কথা লেখা সেখানে!

এখানে অনেকেই লিখছেন তাদের মন্তব্য। অনেকেই আবার লিখেছেন এই টেবিলের কারণেই তাদের সম্পর্ক আর নেই। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন এখানেই তাদের সম্পর্ক জোড়া লাগে, আবার এখানেই তাদের সম্পর্ক শেষ হয়েছে। তবে অনেকে মজাও করেন বিষয়টি নিয়ে।

সেই নোটবুক উল্টে দেখা গেল কয়েকজনের মন্তব্য। কোনোটা মজার, কোনোটা কষ্টের।

একজন লিখেছেন ‘আন্টি জিতসেন, ভালো একটা ছেলে পাইসেন। আপনাদের জন্য সবই করে ফেলতে পারবে এই জীবনে। ওকে, টাটা বাই বাই খতম।’

অন্য আরেক পাতায় ‘কে’ আদ্যাক্ষরের নামের একজন লিখেছেন ‘আমার জীবনে কোনো লাভ নাই। আমার পুরো জীবনটাই লস।’


 যে টেবিলে বসে খাবার খেলেই ‘ব্রেকআপ’


‘স’ আদ্যাক্ষরের একজন লিখেছেন ‘আমি জাস্ট চাই তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো। আই লাভ ইউ। তোমার অপেক্ষায় আছি।’

আ আদ্যাক্ষর নামের একজন লিখেছেন ‘সন্ধানে আছি। ব্রেকআপ তো দূরের কথা।’

নিজের নাম ‘ছেকা খাওয়া প্রেমিক’ উল্লেখ নামে একজন এই খাতায় লিখেছেন, ‘ব্রেকআপ খুব মজার, প্রেম করার শুরুতে ব্রেক-আপ টেবিলে বসেছিলাম। আর এখন ব্রেক-আপ হয়ে গেছে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আমার দুই বছরের রিলেশনের অবসান ঘটে এখানে আসার কিছুদিন পরেই। আমার বার্থ ডে ট্রিট দিতে এসেছিলাম। এটাই লাস্ট দেখা। বর্তমানে ভালো থাকলেও এখানে আসলে ওইদিনটার কথা মনে পড়ে। স্টে হ্যাপি, স্টে সিঙ্গেল।’

মালিকের সম্পর্কও ভেস্তে যেতে বসেছিল

রেস্তোরাঁটির পরিচালকদের মধ্যে একজন শাওন সাইয়ান। তিনি জানান, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারা রেস্টুরেন্টটি চালু করেন।

বলেন, ‘চালুর তিন দিনের মাথায় দেখলাম এই টেবিলে ঝগড়া করে দুইজন চলে গেল। এর কয়েক দিন পরের ঘটনা, একজন গেস্ট আসে সকালবেলায়। তখনও আমরা রেস্টুরেন্ট চালু করিনি। তাকে বলি এখনও চালু হয়নি, তিনি চলে গেলেন। এর কিছুক্ষণ পর আবার আসেন। এসে এই টেবিলেই বসে। সঙ্গে বান্ধবীও ছিল। কিছুক্ষণ পরই দেখি তাদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তারা চলেই গেল।

‘আরেকটি ঘটনা এই টেবিলেরই। একটা ছেলে ও একটা মেয়ে আসল, পুরো টেবিলটা ভর্তি করে খাবারের অর্ডার করে। দুইজন ভালোভাবেই বসে গল্প করছিল। হঠাৎ ছেলেটার মোবাইলে একটা কল আসে। এরপরই তাদের মাঝে ঝগড়া বেধে গেল। খাবার না খেয়েই বেরিয়ে চলে গেল।’


 যে টেবিলে বসে খাবার খেলেই ‘ব্রেকআপ’


শাওন বলেন, ‘প্রায়ই আমরা দেখতাম এই টেবিলটাতে বিশেষ কিছু হচ্ছে। ঝগড়া থেকে মারামারি। প্রায়ই এখানে ব্রেক-আপের ঘটনা ঘটতে থাকে। এখানে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই এসব ঘটে। এখানে বসলেই যেন ঝগড়া হতো।

‘এমনকি আমি নিজেও বিয়ের আগে এই টেবিলে একদিন খেতে বসে ঝামেলার মধ্যে পড়েছিলাম। হঠাৎই ঝগড়া লেগে গেল। এরপর অনেক কষ্টে আমি সেটি ম্যানেজ করি। এই ঘটনার পর থেকে আমি আর এই টেবিলে বসতে চাইতাম না। এখন পর্যন্ত বসতে চাই না।

‘এমন অনেকেই আছেন, যারা এখানে আর বসতে চান না। অনেক গেস্ট এসে বলেন, এই টেবিলে না, অন্য টেবিলে বসবে। আবার অনেকেই মনে করেন, বসে দেখি কী হয়। তারা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন।’

শাওন বলেন, ‘এই টেবিলে অনেকের সম্পর্ক ভাঙছে। অনেকের আবার জোড়াও লেগেছে। টেবিলের একের পর এক ঘটনা দেখার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে আমরা সেখানে নোটিশ লাগিয়েছি। আমরা এই টেবিলের পাশে নোটবুক রাখি, অনেকেই সেখানে গল্প লিখছেন। নিজের ঘটনা লিখে যান।’

টেবিলটাকে ঘিরে নানা পরিকল্পনাও আছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের। শাওন বলেন, ‘এই টেবিল ঘিরে আমরা আগামীতে বিশেষ অফার চালু করতে চাই। হতে পারে-এখানে বসে খেয়েও যদি গণ্ডগোল না হয়, তাদের জন্য বিশেষ ছাড় দেয়া হবে। এমন একটা ভাবনা আমরা ভাবছি। পাশাপাশি এই যে নোটবুকে যারা গল্প লিখে যাচ্ছেন, এগুলোকে আমর ম্যাগাজিন আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেব।’

আরও পড়ুন:
একটি সংস্থার তদারকিতে থাকতে চায় রেস্তোরাঁ খাত
পদ্মাপাড়ে পাইলটের ‘নোঙর’
টিসিবির মাধ্যমে পণ্য চান রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা
টিকা সনদ ছাড়া খাবার, ১২ রেস্তোরাঁকে জরিমানা
হয়রানি বন্ধের দাবি রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Doctors also advised to smoke cigarettes

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও ১৯৩০-১৯৫০ সালের মধ্যে সিগারেটের বিজ্ঞাপনে চিকিৎসক মডেল হিসেবে কাজ করতেন। ছবি: সংগৃহীত
১৯৩০-১৯৫০ সালের মধ্যে বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে প্রভাবক হিসেবে কাজ করত এমন ট্যাগ লাইন যেখানে বলা হতো, ‘চিকিৎসকরা সুপারিশ করেন’। মজার বিষয়, সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যের বিজ্ঞাপনেও ব্যবহার হতো এই ট্যাগ লাইন।

ওষুধের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন এসেছে কয়েক দশকে। ডাক্তার-রোগীর দূরত্ব কমেছে। একটা লম্বা সময় পর্যন্ত স্বাস্থ্যের ওপর কর্তৃত্ব করেছিলেন চিকিৎসকরা।

রোগীরা একজন চিকিৎসককে ভরসা করেন তার শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসরণ করতেন তারা। আর এই সুযোগটাই সে সময়ে লুফে নিয়েছিল তামাক কোম্পানিগুলো।

১৯৩০-১৯৫০ সালের মধ্যে বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে প্রভাবক হিসেবে কাজ করত এমন ট্যাগ লাইন যেখানে বলা হতো, ‘চিকিৎসকরা সুপারিশ করেন’। মজার বিষয়, সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যের বিজ্ঞাপনেও ব্যবহার হতো এই ট্যাগ লাইন।

তামাক প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপনে ‘গলার চিকিৎসক’ (সাদা কোট পরিহিত মডেলদের) ছবি ব্যবহার করত। সেখানে চিকিৎসক দাবি করতেন, কাশির জন্য সিগারেট নয়; বাতাসের ধুলা, জীবাণু এবং ম্যানথলের ঘাটতিকে দায়ী করতেন।

১৯২০-এর দশকে সিগারেটের প্রভাবশালী ব্র্যান্ড ছিল লাকি স্ট্রাইক। আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির তৈরি এই ব্র্যান্ডটিই প্রথম তার বিজ্ঞাপনে একজন চিকিৎসকের ছবি ব্যবহার করেছিল। বিজ্ঞাপনে এই প্রতিষ্ঠান দাবি করে, ২০ হাজারের বেশি চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন ‘লাকি সিগারেট কম ক্ষতিকর’।

যে বিজ্ঞাপনী সংস্থা লাকি স্ট্রাইককে প্রচার করেছিল, তারা চিকিত্সকদের বিনা মূল্যে সিগারেটের কার্টন পাঠিয়েছিল। তারপর তাদের প্রশ্ন করা হয়, এই ব্র্যান্ড সংবেদনশীল এবং কোমল গলার জন্য অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর কি না। সংস্থাটি দাবি করে, তাদের বিশেষ টোস্টিং প্রসেসের কারণে সিগারেট থেকে বের হয় মসৃণ ধোঁয়া; যা মোটেও ক্ষতিকর না।

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও

১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি লাকি স্ট্রাইকের কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। ফিলিপ মরিস নামে একটি তামাক কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপনে দাবি করে, চিকিত্সকরা নিশ্চিত করেছেন গলায় জটিলতা ভোগাদের ফিলিপ মরিস ব্র্যান্ডের সিগারেট দেয়ার পর তাদের উন্নতি হয়েছে।

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও

এ ধরনের কয়েকটি ধারাবাহিক বিজ্ঞাপন ফিলিপ মরিস ব্র্যান্ডের সিগারেটকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যায়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বের এক নম্বর ব্র্যান্ডের তকমা পায় ফিলিপ মরিস সিগারেট।

আরজে রেনল্ডস কোম্পানির ক্যামেলস ব্র্যান্ডের সিগারেটের জন্য অনেক চিকিৎসক প্রচার চালিয়েছেন।

টাইম টু লেডিস হোম জার্নাল থেকে ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনগুলোয় দাবি করা হয়, দেশজুড়ে চালানো জরিপে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের পছন্দের ব্র্যান্ড ক্যামেলস। বিজ্ঞাপনের যে ছবিটি ব্যবহার হতো, তাতে দেখা যেত একজন চিকিৎসক তার চেম্বারে বসে রোগীর সঙ্গে কথা বলছেন।

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও

চিকিত্সকরা সিগারেট এবং তামাকজাত দ্রব্যের আসক্তি থেকে মুক্ত ছিলেন না, বিষয়টা তামাক কোম্পানিগুলো ভালো করেই জানত। ধূমপানের সঙ্গে রোগের সম্পর্ক আছে এই তত্ত্বের চেয়ে কিছু চিকিৎসক বিশ্বাস করতেন, নির্দিষ্ট (জটিল রোগে আক্রান্ত) ব্যক্তির স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে সিগারেট।

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও

তামাক কোম্পানিগুলো তখন চিকিৎসকদের আহ্বান জানায়, মাত্রাতিরিক্ত ধূমপায়ী রোগীদের স্বাস্থ্যকর ব্র্যান্ডের সিগারেট টানার পরামর্শ দেয়ার। চিকিৎসকরাও তা-ই করতেন।

১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে এবং ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে বিজ্ঞাপনগুলোয় বদল আসতে শুরু করে। ক্যানেলস ব্র্যান্ড তাদের বিজ্ঞাপনে লিখতে শুরু করে, ‘নিজের ইচ্ছায় গ্রহণ করুন।’

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও

তাদের আরেকটি বিজ্ঞাপনে লেখা হয়, ‘স্বাদ সত্যিই মজার! প্রতিটি ক্যানেলসের (সিগারেট) স্বাদ এত ভালো এবং মৃদু। এ জন্য চিকিৎসকের অনুমতির প্রয়োজন নেই!’

সিগারেট টানার পরামর্শ দিতেন ডাক্তাররাও

বিজ্ঞানের উন্নয়নে এসব ভাঁওতাবাজি দূর হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝিতে গবেষকরা জানান, তামাকজাত দ্রব্য এবং ফুসফুসের ক্যানসারের মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে। এটি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করে। এই সময়ে সিগারেটের বিজ্ঞাপন থেকে হারিয়ে যেতে থাকে চিকিৎসকের উপস্থিতি।

টেলিভিশন ও রেডিওতে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১ সালে। ১৯৯৮ সালে মাস্টার সেটেলমেন্ট চুক্তিতে অন্যান্য ধরনের তামাকের বিজ্ঞাপন সীমিত করা হয়।

আরও পড়ুন:
দেশীয় মালিকানাধীন তামাকশিল্প রক্ষায় মানববন্ধন
ই-সিগারেট নিষিদ্ধসহ তামাকপণ্য নিয়ে এক গুচ্ছ দাবি
তামাক করনীতি প্রণয়নের দাবি
‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন জরুরি’
‘তামাক পণ্যে করারোপের বিকল্প নেই’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
There are no mosquitoes in that country

যে দেশে নেই মশা

যে দেশে নেই মশা   বিশ্বের একমাত্র দেশ আইসল্যান্ড, যেখানে নেই মশার উৎপাত। ছবি: সংগৃহীত
আইসল্যান্ডে বছরে তিনবার ভয়াবহ শীত নামে। এই শীতল আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের বিরুদ্ধে। এ কারণে মশারা এই অঞ্চলে টিকে থাকতে পারে না।

তারা আপনার রক্ত ​​চুষে নেয়, কানের পাশে বিরক্তিকর গুঞ্জন করে। তাদের কামড় আপনার বারবিকিউ পার্টিকে করে তুলতে পারে দুর্বিষহ কিংবা জঙ্গলে হাঁটাচলায় ঘটাতে পারে বিঘ্ন। সবচেয়ে বড় কথা তাদের কামড়ে নানা রোগ ছড়ায়, এগুলোর কিছু প্রাণঘাতী।

যাদের কথা বলা হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী এই পতঙ্গের নাম মশা। বিশ্বের সব জায়গায় দাপিয়ে বেড়ায় এরা, কেবল একটি অঞ্চল ছাড়া। সেই জায়গাটি হলো নর্ডিক অঞ্চলের দেশ আইসল্যান্ড

কিন্তু কেন এই অঞ্চলে মশার তাণ্ডব নেই। এর উত্তর, দেশটির আবহাওয়া। আইসল্যান্ডের আবহাওয়া এত বেশি প্রতিকূল যে মশার টিকে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই সেখানে।

মশার বংশ বিস্তারের জন্য উষ্ণতার দরকার। যেসব অঞ্চলের আবহাওয়ায় উষ্ণতা যত বেশি, সেসব অঞ্চলে মশাদের উৎপাতও তত বেশি।

পৃথিবীর উষ্ণতম মহাদেশগুলোর একটি আফ্রিকা। আর তাই এ মহাদেশে মশার বিস্তার খুব বেশি। মশাবাহিত নানা রোগের প্রকোপও এই অঞ্চলে বেশি।

অন্যদিকে আইসল্যান্ডে বছরে তিনবার ভয়াবহ শীত নামে। এই শীতল আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের বিরুদ্ধে। এ কারণে মশারা এই অঞ্চলে টিকে থাকতে পারে না।

এ ছাড়া মশার বংশবিস্তারের জন্য প্রয়োজন জলাশয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আইসল্যান্ডের জলাশয়ে রাসায়নিকের যে অনুপাত আছে, তা মশার বংশবৃদ্ধিকে দারুণ চ্যালেঞ্জে ফেলে।

মশার ডিম থেকে লার্ভা, লার্ভা থেকে মূককীট, মূককীট থেকে পরিণত বাচ্চা– এই চক্রের জন্য সময় ও নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পাশাপাশি প্রয়োজন বদ্ধ জলাশয়। আইসল্যান্ডে স্রোতহীন বদ্ধ জলাশয় নেই বললেই চলে। এ ছাড়া ভয়াবহ শীতে জলাশয়ের পানি বরফে পরিণত হয়। এতে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার প্রক্রিয়াটি চরমভাবে ব্যাহত হয়।

শীতের তীব্রতায় আইসল্যান্ডে মশার বংশবৃদ্ধি করতে না পারলেও, ইউরোপের অনেক শীতপ্রধান দেশে মশারা সাবলীল।

আইসল্যান্ডের পাশের দেশ গ্রিনল্যান্ডে যখন শীত শুরু হয়, তখন শীতনিদ্রায় থাকে মশারা। শীত শেষে বরফ গলা শুরু হলে, তারা ডিম পাড়তে শুরু করে। আইসল্যান্ডের মতো এখানে শীত শেষ হওয়ার পর আবার হঠাৎ করে শীত চলে আসে না। তাই গ্রিনল্যান্ডে বাচ্চা ফোটানোর চক্র পূর্ণ করতে পারে মশা।

যে দেশে নেই মশা
আইসল্যান্ডের তীব্র ঠান্ডা মশার বংশবিস্তারের প্রধান বাধা। ছবি: সংগৃহীত

এ জন্য পৃথিবীর একমাত্র দেশ হিসেবে আইসল্যান্ডে মশার বংশবিস্তার না ঘটলেও, ইউরোপ ও অন্যান্য শীতপ্রধান দেশে মশার বংশবৃদ্ধি ঠিকই চলে।

তবে এই অবস্থা হয়তো বেশি দিন থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর আবহাওয়া। গত ২০ বছরে আইসল্যান্ডের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেড়েছে। আর এই সময়ে দেশটিতে প্রায় ২০০ প্রজাতির নতুন কীটপতঙ্গ আবাস গেড়েছে।

আইসল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী গিসলি মার গিসলাসন বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বন্ধ না করা গেলে অচিরেই আইসল্যান্ডে বসতি গড়বে মশারা। বাকি বিশ্বের মতো তারা সবার জন্য একটি উপদ্রব হয়ে দাঁড়াবে।

আইসল্যান্ডে যে একেবারে মশা নেই তা ঠিক না। আইসল্যান্ডিক ইনস্টিটিউট অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে গেলে দেখা মিলবে মশার। ১৯৮০ সাল থেকে অ্যালকোহলের বোতলে সংরক্ষিত আছে মশাটি। গ্রীনল্যান্ড থেকে ফেরা একটি বিমান থেকে এটিকে আটক করেছিলেন গিসলাসন।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় ৪ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস লার্ভা
শাহজালাল বিমানবন্দরে মশা ও লার্ভার ঘনত্ব নির্ণয়ের নির্দেশ
খুলনায় মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ
মশার উপদ্রব: খুলনায় মশারি মিছিল-সমাবেশ
হাসপাতালে মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ রোগী

মন্তব্য

উপরে