× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

স্বাস্থ্য
Women in the chain of misconceptions and disenfranchisement about menstruation
hear-news
player
print-icon

মাসিক নিয়ে ভ্রান্তি ও অধিকারহীনতার শৃঙ্খলে নারী

মাসিক-নিয়ে-ভ্রান্তি-ও-অধিকারহীনতার-শৃঙ্খলে-নারী মাসিক কেন্দ্র করে নানা ধরনের শৃঙ্খলে বন্দি নারী। ছবি সংগৃহীত
ক্রনিক বা সিস্টেমেটিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে সমাজে শক্তিশালী হয় জেন্ডার বৈষম্য। মাসিকের অসত্য ও অবৈজ্ঞানিক ধারণার পাশাপাশি বেড়ে ওঠা কিশোরীর পায়ে প্রতিমুহূর্তে পরানো হয় অজস্র অদৃশ্য শিকল।

মাসিক সংক্রান্ত প্রচলিত অবৈজ্ঞানিক ও অসত্য ধারণার ফলে নারী বঞ্চিত হয় মানবাধিকার থেকে। যেমন, প্রতিমাসের ‘শরীর খারাপ’ আর ‘অপবিত্রতা’র অনুভবের চক্র ধীরে ধীরে তাকে হীনম্মন্য করে তোলে। নিজের শরীরই নিজের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় অনেকেই বাইরে যেতে স্বস্তি বোধ করেন না, এমনকি নিজের ঘরেও আড়ষ্ট থাকেন। নিজেকে অপাংক্তেয় মনে হওয়ার দিনগুলোর রেশ থাকে পরের দিনগুলোতেও।

নারীকে অশুচি, অপয়া ভাবা হয়; এমনকি তিনিও নিজেকে অশুচি ভাবতে বাধ্য হন। এভাবেই নারী বঞ্চিত হয় মানবমর্যাদার অধিকার (Right to Dignity) থেকে।
অনেক নারীকে আবদ্ধ রাখা হয় ঘরে, এ সময়ের নিরাপত্তাহীনতা আর ‘লজ্জা’র কারণে অনেক নারীশিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে, লঙ্ঘিত হয় তার শিক্ষার অধিকার (Right to Education)।

মাসিককে একটা শারীরিক বৈকল্য বিবেচনা করে নারীকে বিশেষ কিছু কাজের অধিকার (Right to Work) থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়। উপযুক্ত টয়লেট সুবিধা না থাকায় ক্ষুণ্ন হয় তার উপযুক্ত কর্ম-পরিবেশের অধিকার (Right to Work in Favorable Environment)।

না খেয়ে, কম খেয়ে বা ভুল খাবার খেয়ে অথবা অস্বাস্থ্যকর নোংরা উপকরণ ব্যবহার করে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবে নারী বঞ্চিত হয় স্বাস্থ্যের অধিকার (Right to Health) থেকে।

বাধাগ্রস্ত-ক্ষতিগ্রস্ত-অস্বীকৃত হয় তার ব্যাক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার (Right to Privacy)। নীরবে সব সহ্য করায় বা তাকে সহ্য করতে শেখানোর মাধ্যমে হরণ করা হয় মতপ্রকাশের অধিকারকে (Freedom of Expression)।

ফলে, এই ক্রনিক বা সিস্টেমেটিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে সমাজে শক্তিশালী হয় জেন্ডার বৈষম্য। মাসিকের অসত্য ও অবৈজ্ঞানিক ধারণার পাশাপাশি বেড়ে ওঠা কিশোরীর পায়ে প্রতিমুহূর্তে পরানো হয় অজস্র অদৃশ্য শিকল।

এর মাধ্যমে মানুষ হয়ে জন্মানো আমাদের মেয়েরা প্রথাগত চিন্তার সমাজের অটোসাজেসন পেয়ে পেয়ে, অবশেষে কেবল ‘মেয়ে’ই হয়ে ওঠে।

লেখক: জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তরের হিউম্যান রাইটস অফিসার

আরও পড়ুন:
নারীর সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে ‘জয়ীর দল’
পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে লঙ্কান নারীরা
পর্দার কারণে চাকরি ছাড়া কেন?
সত্য-ধারণা, বিকৃত তথ্য ও অর্ধসত্য
হিলির রেকর্ড সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম বিশ্বকাপ জয়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য
Womens incomplete sex life under the pressure of maintaining masculinity

‘পৌরুষত্বের অনুভূতি’ রক্ষার চাপে নারীর অপূর্ণ যৌনজীবন  

‘পৌরুষত্বের অনুভূতি’ রক্ষার চাপে নারীর অপূর্ণ যৌনজীবন   গবেষণায় দেখা গেছে, সঙ্গী পৌরুষত্বহীনতায় ভুগছেন বলে মনে করলে নারী তার নিজস্ব চাহিদার প্রকাশ কমিয়ে দেন। ছবি: সংগৃহীত
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন নারী যখন দেখেন সক্ষমতা না থাকার পরও তার সঙ্গী নিজেকে ‘আসল পুরুষ’ হিসেবে জাহিরের কসরত করছেন, তখন তিনি তার অনুভূতিকে আঘাতপ্রাপ্ত করতে চান না। এমন অবস্থায় নারী তার চাহিদা বা অতৃপ্তিকে গোপন করতে শুরু করেন। ফলে দুজনের মধ্যে যোগাযোগহীনতা প্রকট হয়ে উঠতে শুরু করে।

সঙ্গীর যৌন-সক্ষমতার ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নারীর যৌনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। গবেষণা বলছে, উদ্বিগ্ন এসব নারীর নকল অর্গাজমের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, পুরুষ সঙ্গীর কাছে নিজের যৌন চাহিদাও আড়াল করতে শুরু করেন নারীরা।

সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্স জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এসেছে এসব তথ্য। সঙ্গীর পৌরুষত্ব নিয়ে নারীর অনাস্থা কীভাবে যৌন সম্পর্কে প্রভাব ফেলে, তা উন্মোচনের চেষ্টা করেছেন গবেষকরা।

পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ১৩২ জন নারীর ওপর চালানো প্রাথমিক সমীক্ষায় গবেষক দলটি দেখতে পায়, যেসব নারী সঙ্গীর তুলনায় বেশি অর্থ উপার্জন করেন, তাদের তুলনায় কম উপার্জনকারী নারীরা প্রায় দ্বিগুণ মাত্রায় অর্গাজমের অভিনয় করেন।

তবে এই নকল অর্গাজমের বিষয়ে পুরুষের ভূমিকার কোনো প্রমাণ পাননি গবেষকরা। এ জন্য সঙ্গীর পৌরুষত্ব নিয়ে নারীর উদ্বেগের সঙ্গে ‘প্রতারণামূলক যৌন সম্পর্কের’ কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা অনুসন্ধানে গবেষণার পরিসর বাড়ানো হয়।

এবার গবেষকরা বেছে নেন ২৭৬ জন নারীকে, যাদের গত ছয় মাসের মধ্যে সঙ্গমের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এসব নারীর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সঙ্গী পৌরুষত্বহীনতায় ভুগছেন বলে মনে করলে নারী তার নিজস্ব চাহিদার প্রকাশ কমিয়ে দেন এবং নকল অর্গাজমের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

অন্যভাবে বলা যায়, একজন নারী যখন দেখেন সক্ষমতা না থাকার পরও তার সঙ্গী নিজেকে ‘আসল পুরুষ’ হিসেবে জাহিরের কসরত করছেন, তখন তিনি তার অনুভূতিকে আঘাতপ্রাপ্ত করতে চান না। এমন অবস্থায় নারী তার চাহিদা বা অতৃপ্তিকে গোপন করতে শুরু করেন। ফলে দুজনের মধ্যে যোগাযোগহীনতা প্রকট হয়ে উঠতে শুরু করে।

গবেষণার আরেক অংশে ১৯৬ জন নারী অংশ নেন। তাদের এমন একজন পুরুষ সঙ্গীকে কল্পনা করতে বলা হয়েছিল, যার যৌন-সক্ষমতা ভঙ্গুর। এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এ ধরনের পুরুষের সঙ্গে নারীরা যৌনতাবিষয়ক আলোচনা একেবারেই অনাগ্রহী।

গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক জেসিকা জর্ডান শিগগিরই ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অফ টাম্পার সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমি সব সময় যৌনতায় লিঙ্গ ভূমিকা, বিশেষ করে বিষমকামী নারী ও পুরুষ যেভাবে রোমান্টিক ও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে সেটি বিশ্লেষণে আগ্রহী।

“একজন তরুণী হিসেবে মিডিয়া, বন্ধু এবং বয়স্ক নারীদের কাছ থেকে যৌনতার বিষয়ে অনেক তথ্য আমি পাই। এই যেমন কীভাবে একজন পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এ ছাড়া একটি উপদেশ আমাকে প্রায়ই শুনতে হয়, তা হলো- আমাকে সব সময় সঙ্গীর ‘পুরুষত্বের অনুভূতি’ রক্ষার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।”

গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে জর্ডান বলেন, ‘এ বিষয়ে নারীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা ভীষণ অবাক হয়েছি। তাদের প্রায় সবাই বিশ্বাস করেন, সঙ্গীর পৌরুষত্বের অনুভূতি রক্ষায় ভূমিকা পালন করা জরুরি।’

তবে এ ধরনের ঘটনা নারীদের ক্লান্ত যৌনজীবনের দিকে ঠেলে দেয় বলেও মনে করছেন গবেষকরা।

জর্ডান বলেন, ‘গবেষণাগুলো প্রমাণ করেছে নারীরা পুরুষ সঙ্গীর পৌরুষত্ব নিয়ে উদ্বেগের শিকার হলে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান। তারা ক্রমাগত উদ্বেগে ভোগেন এবং যৌনতা নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেন। শেষ পর্যন্ত একটি অতৃপ্ত যৌনজীবনের মধ্যে ঢুকে যান।’

গবেষক দলের পরামর্শ- এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।

জর্ডান বলেন, ‘মিলনের বিরতিতে আমরা একে-অপরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ আলাপ-আলোচনা করে থাকি। আপনি যদি সঙ্গীকে নিয়ে উদ্বেগ্ন বোধ করেন, তাহলে সাবধানে পর্যালোচনা করে দেখুন এটা কেন হচ্ছে। বিষয়টি আপনার সঙ্গীর সঙ্গে শেয়ার করুন।

‘এ ক্ষেত্রে অনেক ফলোআপ প্রশ্ন আছে। তবে বড় প্রশ্নটি হলো এর কি কোনো সমাধান আছে? পুরুষ সঙ্গী সম্পর্কে তাদের (নারীর) ধারণা কতটা সঠিক? তাদের অনুমান কি সঠিক? নাকি নারীরা সাধারণভাবে পুরুষের সম্পর্কে ভুল অনুমান করে থাকেন।’

আরও পড়ুন:
চোয়ালের ব্যথাও হতে পারে মেনোপজের লক্ষণ
পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি
নারী উদ্যোক্তাদের জুসি ফেস্ট শনিবার
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The demand for sex among Ukrainian women is high

যৌনতায় ইউক্রেনীয় নারীর চাহিদা তুঙ্গে

যৌনতায় ইউক্রেনীয় নারীর চাহিদা তুঙ্গে যৌনতার জন্য ইন্টারনেটে ইউক্রেনীয় নারী শরণার্থীদের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। ছবি: সংগৃহীত
ওএসসিই বলছে, আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছেন সবকিছু ফেলে আসা ইউক্রেনীয় নারীরা। আর এই সুযোগটা লুফে নিচ্ছেন অনেকেই। এসব নারীর যৌনসান্নিধ্য পেতে ইন্টারনেটে চলছে ব্যাপক খোঁজ।

রুশ সামরিক অভিযানের মুখে ইউক্রেন ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির লাখ লাখ নাগরিক। পোল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ বিপুল শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। আশ্রয় নেয়াদের খাদ্য, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করছে এসব দেশের সরকার।

ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা- ওএসসিই বলছে, সংকটের এই মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইউক্রেনীয় নারীদের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক। বিভিন্ন নিষিদ্ধ সাইটে তাদের খোঁজার ইতিহাস ঘেঁটে সংস্থাটি বলছে, ইউক্রেনীয় যৌনকর্মী খোঁজার হার বেড়েছে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত।

আয়ারল্যান্ডের বেসরকারি সংস্থাটি বলছে, আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছেন সবকিছু ফেলে আসা ইউক্রেনীয় নারীরা। আর এই সুযোগটা লুফে নিচ্ছেন অনেকেই। এসব নারীর যৌনসান্নিধ্য পেতে ইন্টারনেটে চলছে ব্যাপক খোঁজ।

ওএসসিইর বিশেষ প্রতিনিধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধের কো-অর্ডিনেটর ভ্যালিয়েন্ট রিচি বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সম্মেলনে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এ পর্যন্ত কেবল আয়ারল্যান্ডে যৌনতার জন্য ইউক্রেনীয় নারীদের খোঁজার হার বেড়েছে ২৫০ শতাংশ। অন্য সব দেশে এই হার ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত।

রিচি দাবি করেছেন, পতিতাবৃত্তি এবং অন্যান্য যৌন পরিষেবার জন্য আয়ারল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় বাজার এসকর্ট আয়ারল্যান্ড। তারা গ্রাহকদের ইউক্রেনীয় নারীদের সঙ্গে যৌনতায় সুযোগ করে দিচ্ছে।

তবে এটা স্পষ্ট নয় যে ওয়েবসাইটের মালিকরা সরাসরি এই বার্তাটি প্রচার করছে নাকি সাইটের ব্যক্তিগত এসকর্ট বিজ্ঞাপনগুলো দেখাচ্ছে।

রিচি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চাহিদার ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। পাচারকারীদের জন্য ইউক্রেনীয় নারীদের নিয়োগ ও শোষণের জন্য একটি শক্তিশালী প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে। এগুলো আমাদের থামাতে হবে। সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার সম্ভবত এই সংকটের লাগাম টানতে পারবে।

সম্মেলনে অনেক বক্তা জানান, পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ইউক্রেনীয়দের রক্ষায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। পাশাপাশি তারা কীভাবে আইনি সহায়তা পাবে, সে বিষয়ে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে।

আইরিশ ইনডিপেনডেন্টের তথ্য বলছে, গত বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৩০ হাজার শরণার্থী ইউক্রেন থেকে আয়ারল্যান্ডে এসেছেন। দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইউক্রেনীয় আয়ারল্যান্ডে ঢোকার চেষ্টায় আসেন।

আরও পড়ুন:
সাধারণ তেল যেভাবে পরিণত ‘যৌনশক্তিবর্ধক’ তেলে 
পাকিস্তানে রমরমা সান্ডার তেলের বাজার
চট্টগ্রাম মেডিক্যালের সেই মর্গ বন্ধ হচ্ছে
মৃতের সঙ্গে যৌনাচার: ধর্ষণ মামলারও আসামি সেলিম
মৃতের সঙ্গে যৌনাচার, সেলিম ৩ দিনের রিমান্ডে

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Holiday approval in the Spanish cabinet due to period complications

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন নারীর সবেতনে ছুটি অনুমোদন করেছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। ছবি: সংগৃহীত
খসড়ায় মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।   

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় শারীরিক জটিলতায় ভোগা নারীদের কর্মক্ষেত্রে ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে স্পেন সরকার। মন্ত্রিসভা বৈঠকে মঙ্গলবার প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।

এ ছাড়া ১৬ বছর বয়স হলে বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই কিশোরীদের গর্ভপাতের অধিকারে সায় দিয়েছে স্পেনের মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত আরও বেশকিছু পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে।

চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বিষয়গুলো এরপর পার্লামেন্টে তোলা হবে। আর সেখানে আইন হিসেবে পাশ হলে ইউরোপের প্রথম দেশের নাগরিক হিসেবে ঋতুস্রাবের সময় ছুটির অধিকার ভোগ করবেন স্পেনের নারীরা।

খসড়ায় এ ক্ষেত্রে মাসে তিন অথবা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিসভা কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। ফলে পিরিয়ড জটিলতা যত দিন চলবে ততদিন পর্যন্ত সবেতনে ছুটি নিতে পারবেন স্পেনের নারীরা। তবে এজন্য চিকিৎসকের সনদ থাকতে হবে।

বর্তমানে শুধু জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও জাম্বিয়ায় নারীর ঋতুস্রাবকালীন ছুটির অনুমোদন আছে।

স্প্যানিশ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পিরিয়ডের সময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী গুরুতর ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যথায় ভোগা নারীদের বিবেচনায় নিলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ডিসমেনোরিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর।

মন্ত্রিসভা বৈঠক সামনে রেখে স্পেনের সমতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রদ্রিগেজ গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব লক্ষণ (তীব্র পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও জ্বর) কারও মধ্যে দেখা গেলে সাময়িক শারীরিক জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাজেই পিরিয়ডের সময়কার এসব জটিলতাকেও আমাদের স্বীকার করা প্রয়োজন। এ সময়টি অত্যন্ত কষ্টকর, তাই এতে আক্রান্ত নারীদের বাড়িতে বিশ্রামের সুযোগ দেয়া উচিত।’

পাশাপাশি এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমরা উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করছি, যাতে করে ব্যথা নিয়ে নারীদের কাজ করতে যাওয়া আর স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত না হয়। পিরিয়ডকে ঘিরে কলঙ্ক, লজ্জা ও নীরবতার অবসান যাতে ঘটে। আমরা অধিকার প্রশ্নে অগ্রগতি ঘটাতে চাই।’

স্পেনের বামপন্থি সরকারের এ উদ্যোগ অবশ্য বিরোধিতার মুখেও পড়ছে। বামপন্থি জোটের মধ্যে থাকা কিছু দল এবং ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভক্তি। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপের বিপরীত ফল হতে পারে। নারীদের নিয়োগ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে হেয় করার প্রবণতা বাড়তে পারে।

স্পেনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবে ছুটির বিষয়টি ছাড়াও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপে জোর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ, প্রান্তিক এলাকার নারীদের স্যানিটারি প্যাড ও ট্যাম্পন বিনা মূল্যে প্রদান এবং সুপার মার্কেটে এসব পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট বাতিল।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর
ভারতে তিন নারীর একজন সহিংসতার শিকার
নারী আইপিএলে যাচ্ছেন সালমা
মাদকে ঝোঁক বাড়ছে নারীর, বেশি ঝুঁকি সচ্ছল পরিবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
How much bipolar disorder affects sex

বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়

বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায় যৌন জীবনের ওপর নানান প্রভাব ফেলে বাইপোলার ডিজঅর্ডার। ছবি: এএফপি
বাইপোলার ডিজঅর্ডারের ধরন ও এর লক্ষণের ধারাবাহিকতা, সময়কাল ও তীব্রতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। প্রায় ক্ষেত্রে এগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। বেশির ভাগ ব্যক্তির মেজাজের পরিবর্তন কোনো ধারাবাহিক ছন্দ অনুসরণ করে না। যেমন, ম্যানিয়ার আগে তাদের বিষণ্নতার একাধিক পর্ব থাকতে পারে। প্রতিটি পর্বের সময়সীমাও আলাদা।

বাইপোলার ডিজঅর্ডার বিশেষ এক মানসিক সমস্যা। পূর্ণবয়স্ক মানুষের তিন শতাংশ এ সমস্যায় ভোগেন। যৌন জীবনের ওপরেও প্রভাব ফেলে বাইপোলার ডিজঅর্ডার।

এ ধরনের সমস্যার বেশ কয়েকটি দৃশ্যমান ধরন রয়েছে। তবে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হুট করে মেজাজ পরিবর্তন ও বিষণ্নতা বা উন্মত্ত আচরণ। বিষণ্নতার সময় ইচ্ছা থাকার পরেও অনেকে কামশক্তি, যৌনতার অনুপ্রেরণা ও উত্তেজিত হওয়া বা আনন্দ অনুভব করা এবং অর্গাজমের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। বিপরীতে ম্যানিয়া বা উন্মত্ততার সময় অনেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় ও বেশি সময় ধরে যৌনতা চান।

স্বাভাবিক অবস্থায় তারা যেটা করতে চান না ম্যানিয়ার সময় সে যৌনতা নিয়েও তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আগ্রহী হতে পারেন। এ সময়ে খুব কম ব্যক্তি সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি লাভ করেন। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত অনেকে উন্মত্ততার অধ্যায় পার হওয়ার পর সক্রিয় যৌনতার জন্য অনুশোচনাও বোধ করেন।

বাইপোলার ডিজঅর্ডারের ধরন ও এর লক্ষণের ধারাবাহিকতা, সময়কাল ও তীব্রতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। প্রায় ক্ষেত্রে এগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। বেশির ভাগ ব্যক্তির মেজাজের পরিবর্তন কোনো ধারাবাহিক ছন্দ অনুসরণ করে না। যেমন, ম্যানিয়ার আগে তাদের বিষণ্নতার একাধিক পর্ব থাকতে পারে। প্রতিটি পর্বের সময়সীমাও আলাদা। কেউ কেউ এক পর্ব থেকে আরেক পর্বে যাওয়ার সময় মাঝামাঝি একটি অবস্থানে আসেন। অন্যদের ক্ষেত্রে সেটি নাও ঘটতে পারে।

হাই এনার্জির পাশাপাশি শূন্যতার অনুভূতির মতো বিষণ্নতা ও ম্যানিয়ার মিশ্র পর্ব থাকাও সম্ভব। এ কারণে বেশির ভাগ মানুষের পক্ষে বাইপোলার ডিজঅর্ডারের লক্ষণের পূর্বাভাস দেয়া বা হিসাব রাখা বেশ কঠিন। এ জন্য প্রায়ই তাদের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

কোন বিষয়গুলো মেজাজ পরিবর্তনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, কী করে পরিবর্তনগুলো আগে থেকে চিহ্নিত করা যায় সে বিষয়ে বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভোগা ব্যক্তিদের পরামর্শ দেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও যৌন সম্পর্কের ওপর প্রভাব নিয়ে খুব বেশি গবেষণা হয়নি। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

অধিকাংশ সময়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে ওষুধ। তবে অনেক ওষুধ রোগীর যৌন জীবনকেও প্রভাবিত করে। তাদের কাম বা আনন্দ ও অর্গাজম অনুভবের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যৌন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরিতে এসব ওষুধের প্রভাব জানা থাকলেও তা দূর করতে খুব বেশি গবেষণা হয়নি।

বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত কয়েকজন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন। এ-সংক্রান্ত আলোচনা উৎসাহিত করতে নিজেদের যৌনতার অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। এমন এক নারী কেসি ও তার সঙ্গী ক্যামেরনের সঙ্গে কথা বলেছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইস। কেসি কিশোর বয়সেই টাইপ ওয়ান বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে সচেতনভাবেই সমস্যাটির মোকাবিলা করছেন তিনি। কেসি ও ক্যামেরনের আলাপচারিতা বাংলায় ভাষান্তর করেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

কেসি: অল্প বয়সেই আমার মধ্যে লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তবে হাইস্কুলে যাওয়ার সময় আমি নিজে ও আমার মা সেটা লক্ষ করি। এখন জানি, আমি তখন হাইপোম্যানিয়ায় আক্রান্ত ছিলাম। হাইপোম্যানিয়া হচ্ছে কিছুটা মৃদু ধরনের ম্যানিয়া। টানা কয়েক সপ্তাহ ঘুম কম হতো, মাথায় একের পর এক আইডিয়া আসত। তবে কোনো কাজ শুরু করে আর শেষ করতাম না। ম্যানিয়া শেষ হয়ে গেলে, আমার সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে আসত, আমি বিধ্বস্ত বোধ করতাম। মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগত না। আমার জটিলতার গ্রেড এ থেকে ডি ও এফ-এ নেমে গিয়েছিল।

আমরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলাম, রোগটি সম্পর্কেও জানাশোনার অভাব ছিল। পরিবারের ধারণা ছিল, আমি কিশোর বয়সের হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছি। যদিও আমার আচরণ সাধারণ কিশোর-কিশোরীর মতো ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর লক্ষণগুলো আবারও প্রকাশ পেতে শুরু করে। একদিন ক্লাসে যাওয়ার সময় আমি ম্যানিয়ার একটি বড় ধাক্কা অনুভব করতে শুরু করি। চারদিকের সবকিছু আমার পরিচিত, অথচ বিল্ডিংগুলো ঠিক মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল পৃথিবী গলে যাচ্ছে। আমার মনে একের পর এক চিন্তা আসছিল। এক পর্যায়ে আজেবাজে বকতে শুরু করি। লোকে ভাবছিল আমি নেশা করেছি। এরপর কয়েকজন বন্ধু থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যায়। এর মাধ্যমেই শুরু হয় চিকিৎসা। সেই প্রথম জানতে পারি, আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার রয়েছে।

এখন যে ওষুধ খাচ্ছি সেগুলো বেশ কার্যকর। বহু বছর ধরে থেরাপি নিচ্ছি। এমন ওষুধও খেয়েছি যেগুলোর কারণে আমার যৌন চাহিদা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আক্ষরিকভাবেই কোনো কামনা অনুভব করতাম না। বর্তমান ওষুধের ক্ষেত্রে তেমনটা হচ্ছে না। আমাকে এখনও হাইপোম্যানিক ও বিষণ্নতার অধ্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। থেরাপিস্ট বলেছেন, বাকি জীবন আমাকে এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। কারণ ওষুধের ডোজ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমি অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়ি।

আমার পরিবার বাইপোলার ডিজঅর্ডারের চিকিৎসার বিষয়ে খুবই সহায়তা করেছে। অন্য যেকোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন হাঁপানি বা এ-জাতীয় কিছু যেভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার, এটিকেও তারা সেভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছে।

একপর্যায়ে আমি এমন একজনের সঙ্গে ডেট শুরু করি যার আচরণ ছিল সহিংস। সে আমাকে আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার নিয়ে লজ্জা দিয়েছে। সে বলত, আমি খুব সমস্যাজনক এবং আমাকে কেউ সত্যিই ভালোবাসতে পারবে না।

ও আমার বিষণ্নতা ও ম্যানিয়াকে নিজের সুবিধার জন্যও ব্যবহার করেছে। ছেলেটি জানত, যখন আমি হাইপোম্যানিক থাকি তখন এমন সব ঝুঁকি নিতে পারি, যা অন্য সময় অসম্ভব। সে আমার সঙ্গে প্রচুর যৌন সম্পর্ক করেছে, স্বাভাবিক থাকলে আমি হয়তো তাতে সম্মতি দিতাম না। আমার বিষণ্ণতা নিয়ে সে আমাকে অপরাধবোধে ভোগাত এবং সেক্স করতে চাপ দিত, যেটা আমি আসলে চাইতাম না।

থেরাপিস্টরা বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে যৌনতা নিয়ে খুব কম কথা বলেন। যখন তারা বলেন তখন শুধু ঝুঁকির ওপর জোর দেন। যেমন, যদি হাইপোম্যানিক হন এবং ওষুধ না খান তাহলে আপনার কনডম ব্যবহার না করার সম্ভাবনা বেশি। আর তাতে আপনার যৌনবাহিত রোগ বেশি হতে পারে কিংবা নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারেন, এমনকি অপমানিত হতে পারেন।

এটি অনেকটা ভয় দেখানোর কৌশলের মতো। তারা বলতে চান ওষুধ না খেলে এবং নিয়ম না মানলে আপনি যৌনরোগে আক্রান্ত হবেন। তারা অধিকাংশ সময়ে বাইপোলার ডিজঅর্ডার সত্ত্বেও সম্মতিমূলক সুস্থ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন না।

ক্যামেরনের সঙ্গে সম্পর্কের আগে আমি এ বিষয়টি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। তার সঙ্গে এমন একটি সুস্থ সম্পর্কের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যে আমার মধ্যে মর্যাদাবোধ ও ভেবেচিন্তে সম্মতি দেয়ার ধারণা তৈরি করেছে।

ক্যামেরন: আমাদের দেখা হয় বাম্বলে (ডেটিং অ্যাপ)। আমরা কয়েক দিন কথা বলি ও দেখা করি। দুজনের পছন্দের একটি ভিডিও গেম-বারে আমরা দেখা করি এবং শুরুতেই একে অপরকে পছন্দ করে ফেলি।

কেসি: কোভিড মহামারির সময়ে লকডাউনে এলাকার সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের দিন আমাদের প্রথম ডেট ছিল। আমি যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করি তারা ফান্ডিং হারায় এবং আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। ক্যামেরনের প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায়।

আমি একা থাকতাম। তবে আমি জানতাম, ওই সময়ে একা থাকাটা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে না। ক্যামেরন এমন একজনের সঙ্গে থাকত, যার সঙ্গী সব সময় তাদের বাসায় আসত। মহামারির তিন সপ্তাহের মাথায় আমরা একসঙ্গে কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি একসঙ্গে থাকতে শুরু করলেও, ক্যামেরনকে আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার সম্বন্ধে জানাইনি। আগের সম্পর্কের ক্ষত আমাকে ভীত করে রেখেছিল।

ক্যামেরনের সঙ্গে থাকাটা কিছুটা ভয়েরও ছিল। কারণ এর আগে আমি যতজনের সঙ্গে ডেট করেছি, তাদের অধিকাংশই ছিলেন সমাজসেবাকর্মী ও মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা। তারা বাইপোলার ডিজঅর্ডার সম্বন্ধে জানতেন।

ক্যামেরন: দীর্ঘদিন বিষণ্ণতায় ভুগেছে এমন ব্যক্তিদের আমি চিনতাম। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কী ধরনের সাহায্য ও স্বাধীনতা প্রয়োজন সেটাও জানতাম। তবে কেসির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে বাইপোলার ডিজঅর্ডার নিয়ে তেমন কিছু জানা ছিল না।

কেসি: আমার চিন্তা ছিল, ‘ধুর এই মেয়েকে নিয়ে যথেষ্ট হয়েছে’ বলে ও চলে যায় কি না!

ক্যামেরন: আমার জননাঙ্গে হার্পিস হয়েছে। বিষয়টি আগে সঙ্গীদের বলতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতাম। তবে আমার মতে প্রকাশ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপারটা এমন যে, তুমি এটা মেনে নিতে না পারলে আমাদের সম্পর্ক টিকবে না। কেসির সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস ও প্রথম যৌন সম্পর্কের আগে আমি ওকে হার্পিসের কথা বলেছি।

কেসি: ও আমার সঙ্গে গোপনে এ বিষয়টি শেয়ার করার পর আমি অনুভব করি, ওকেও আমি নিজের কথা বলতে পারি। প্রায় দুই বা তিন সপ্তাহ পরে ওকে আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডারের কথা খুলে বলি। আমি খুব নার্ভাস ছিলাম, তাই সেই কথোপকথনের খুব বেশি কিছু মনে নেই। একসঙ্গে থাকা শুরুর আগে তাকে বিষয়টি খুলে না বলার কারণে আমার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছিল। আমার মনে আছে ওকে বলার সময় চোখের সামনে সবকিছু ঘোলা হয়ে এসেছিল। ‘আমার বাইপোলার ডিজঅর্ডার আছে’- এটা বলেই আমি রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে গিয়েছিলাম।

ক্যামেরন: আমার স্মৃতিটা একটু ভিন্ন। মনে আছে, তুমি (কেসি) হালকাভাবে একদিন বলেছিলে, ‘ও হ্যাঁ আরেকটা ব্যাপার, আমি বাইপোলার...’। এরপর যা করছিলে সেটাই করতে থাকলে। আমি এরপর কয়েকটি প্রশ্ন করেছি। যেমন, কখন রোগ ধরা পড়েছে, ওষুধ খাচ্ছ কি না, কোনো লক্ষণে আছি কি না। আমি মনে করেছিলাম, বিষয়টি যদি আমাদের জীবনের একটি অংশ হয় তাহলে বাইপোলার ডিজঅর্ডার সম্পর্কে আরও ভালো করে জানতে চাই। তবে শুরুর আলোচনায় আমি অনেক কিছু জানাতে তোমাকে চাপ দিইনি।

কেসি: বিষয়টি হাস্যকর শোনাতে পারে, কিন্তু ওই সময় আমার একটা বিড়াল খুব অল্প বয়সে হুট করে মারা যায়। এতে আমি বিষণ্ণতায় ভুগতে শুরু করি। অবশ্য এতে করে ক্যামেরন সম্পর্কের শুরুতেই পুরো বিষয়টি দেখার একটা সুযোগ পেয়ে যায়। আমি জানি বিষয়টি ওর জন্য খুব কঠিন ছিল।

ক্যামেরন: ক্যাসি আমাকে তার আগের নিপীড়নের কথা জানিয়েছিল। সম্পর্কের প্রথম দিন থেকে আমি জানতাম, বাহ্যিক জিনিসগুলো তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনও সময় আসতে পারে যখন ঘনিষ্ঠ হওয়া সম্ভব নয়। তবে ওই সময়গুলো আমার বা আমাদের সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। কখনও কখনও যৌন ঘনিষ্ঠতা ছাড়াই আমাদের সবার সময় ও নিজস্ব জায়গা প্রয়োজন। যৌনতা আরও আনন্দের হয় যখন সবাই সহজ থাকে। আমি কখনই চাই না, কেউ মনে করুক সে যৌন সম্পর্কে যেতে বাধ্য।

কেসি: ছয় মাস পর বুঝতে পারি, এর আগের সম্পর্কগুলোতে আমি সাধারণত যতবার যৌন সম্পর্ক করেছি এখন ততটা হচ্ছে না। আমি নিজের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাই এবং বোঝার চেষ্টা করি কেন এমন হচ্ছে। আমার ধারণা ছিল নতুন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কারণে আমার কামনা কমে গেছে অথবা আমি হয়তো মহামারি-সংক্রান্ত স্ট্রেসে ভুগছি। তবে পরে বুঝলাম, যখন কোনো সঙ্গী আমার সীমানাকে শ্রদ্ধা করে তখন এটিই স্বাভাবিক।

একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মধ্যে থাকায় আমার নতুন উপলব্ধি হয়েছে। একটি অস্থির সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি নিজেকে ‘ভালো বাইপোলার ব্যক্তি’, ‘পাগল বা সারাক্ষণ বিষণ্ণ নই’ এমন ভাবতে থাকার চাপ অনুভব করেছি। ফলে সেটা আমার নিজের আবেগকে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করেছে। এ অবস্থা যৌনতা ও ঘনিষ্ঠতার সময় নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়া, সত্যিই দুর্বল হওয়া ও সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা হওয়ার বিষয়টিকে কঠিন করে তোলে।

ক্যামেরন: আমি এখানে কেসির তথ্য উন্মোচন করতে আসিনি। আমি ওকে প্রশ্ন করি এবং পাশে থাকার চেষ্টা করি। এমন একটি অবস্থা তৈরির চেষ্টা করি যেখানে ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। সে যা বলবে সেটা আমি গ্রহণ করে নিতে প্রস্তুত থাকি।

কেসি: আমি যখন একেবারে নিঁখুত আচরণের ভাব করি সেটা ক্যামেরন লক্ষ করে। সে আমার দেহের ভাষা পড়তে শিখেছে এবং জানতে শিখেছে কখন তার সরে যাওয়া উচিত। আমরা যত বেশি সেক্স করি, ততই নিজেকে খুঁজে পেতে ও ছেড়ে দিতে এবং উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে আরও ভালোভাবে শিখতে পারছি।

ক্যামেরন: কেসি কেমন আছে সেটা বোঝার জন্য ওর দেহের ভাষা পড়ার চেষ্টা করি। সে কেমন আছে এবং কখন সেক্স করতে পারে বা করবে না বুঝতে চাই। আমি ঠাট্টার ছলে সব কিছু হালকা করি। যৌনতার ক্ষেত্রে আমি প্রায়ই বলি (একটি নকল কোমল কণ্ঠে), ‘এই তুমি কেমন আছ? আজ রাতে কি একটু সেক্সি টাইম কাটানো যায়?’

কেসি: (হাসি)

ক্যামেরন: ও সেক্স করতে চাইছে কি না বিষয়টি পরিষ্কার থাকে। সে হয় সাড়া দেয় বা দেয় না।

কেসি: আমি আসলে একেবারেই এ বিষয়ে পরিষ্কার। হয় আমি করতে চাই অথবা চাই না।

ক্যামেরন: আমি আগে যৌনতায় আরও ইতিবাচক ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিলাম। এমন সঙ্গীদের সঙ্গে ছিলাম যারা চাইত আমি তাদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে চুম্বন করি। তবে এখনকার এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমার ঝুলি থেকে আকস্মিক শারীরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সরিয়ে নিয়েছি।

কেসি: আসলে আকস্মিক শারীরিক সংযোগের বিষয়টি আমার ভালো লাগে না। বন্ধুরা জানে, আমি জড়িয়ে ধরা পছন্দ করি না। ক্যামেরনের পরিবারের সবাই আবার জড়িয়ে ধরতে খুব পছন্দ করে। তবে ক্যামেরনের ক্ষেত্রে যে ব্যাপারটা ভালো তা হচ্ছে, ও জিজ্ঞেস করে, ‘আমি যদি তোমাকে জড়িয়ে ধরি সেটা কি তোমার ভালো লাগবে?’ বা ‘আমি তোমার পায়ের ওপর আমার পা উঠিয়ে দিই?’

বন্ধুরা খুব শক্তভাবে আমাকে সমর্থন করে। ওদের বেশির ভাগ সামাজকর্মী। আমি কখন হাইপোম্যানিক সেটা বুঝতে ওরা আমাকে সাহায্য করে। তারা বুঝতে সাহায্য করে, আসলেই কি আমি এতটা যৌনতা চাই, নাকি বাইপোলার ম্যানিয়া আমার মস্তিষ্ককে চালিত করার কারণে এটা ঘটছে?

ক্যামেরন যখন আশপাশে থাকে তখন আমি ও আমার বন্ধুরা প্রায়ই আলোচনা করি। এতে আসলেই অনেক লাভ হয়। ক্যামেরন জানে, কখনও কোনো বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লে ও আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ফোন করতে পারবে। তাদের বলতে পারবে, ‘আরে, কেসি সত্যিই এখন অনেক প্রাণবন্ত হয়ে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে! আমি জানি না এই মুহূর্তে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার উপযুক্ত সময় কি না।’

ক্যামেরন: আমরা আমাদের যৌনজীবন নিয়ে সব সময় অন্য মানুষের সঙ্গে কথা বলি না। তবে কাছের বন্ধুদের একটা সার্কেল থাকা উচিত, যারা জানে কী ঘটনা ঘটছে। যাদের ফোন করলে আসলেই অনেক সাহায্য পাওয়া যাবে।

কেসি: আমি কিছুটা হাইপোম্যানিক বোধ করলে এবং যতটা যৌনতা চাচ্ছি সেটা আমার আসল চাহিদা না- এটা বুঝতে পারলে ক্যামেরন ও আমি কয়েক সপ্তাহ যৌনতা ছাড়া থাকার সিদ্ধান্ত নিই। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো বজায় রাখতে আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরি বা চুমু খাই।

নিজের খারাপ লাগতে শুরু করলে দ্রুত সম্ভব ক্যামেরনকে জানাতে চেষ্টা করি। ও হালকা ঠাট্টা করে আমাকে সহজ করে তোলে। আমি জানি, আমার সীমানাগুলোকে ও সম্মান করবে। এ বিশ্বাস থেকে আমি ডিজঅর্ডারের পর্বগুলোতে আরও মনোযোগ দেয়ার সময় পাই। ক্যামেরন জানে কীভাবে আমাকে সাহায্য করতে হয়।

আমাদের সম্পর্কের মাধ্যমে যৌনতার ওপর ধীরে ধীরে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি ফিরে পাই। যেমন, আগে যৌনতার সময়ে কোনো কিছু অনুভব না করলেও আমি শেষ পর্যন্ত যেতাম। আর এখন জানি, আমি যদি বলি ‘আমাদের শেষ করতে হবে’, আমরা সেটাই করব।

আমি যখন বিষণ্ণতায় ভুগি তখন এটা খুবই সহায়ক। যৌনতার চাহিদা থাকলেও আমি হয়তো দীর্ঘ সময় তা উপভোগ করতে পারি না। কদিন ধরে আমি যৌন মিলনের সময় জোকস বলছি, যাতে করে যে কথাগুলো বলতে আমি দ্বিধা করি সেগুলো সহজে বলতে পারি। এতে ক্যামেরন বিরক্ত ও বিব্রত হয়।

ক্যামেরন: আমি বিব্রত কারণ ওই মুহূর্তগুলো দুনিয়ার কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারিনি।

কেসি: (হেসে) আসলে ক্যামেরন আমার উন্মত্ত অবস্থার চরম রূপটা দেখেনি। থেরাপিস্টের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো এবং এখন ওষুধগুলো চমৎকার কাজ করছে বলে আশা করি, সেই চেহারা ওকে আর দেখতে হবে না। উন্মত্ত অবস্থায় পৌঁছালে দশবারের মধ্যে নয়বারই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। কারণ ওই সময় আমাকে পর্যবেক্ষণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন।

ক্যামেরন: আমার কাছে কোনো কিছু ঠিক মনে না হলে, কী করতে হবে সেটা ঠিক করে রেখেছি। কোন হাসপাতালে যাব, যেতে কতক্ষণ লাগবে, কাকে ফোন করব এগুলো সব ঠিক করা আছে।

কেসি: বাইপোলার ডিজঅর্ডারের কারণে আপাতত আমাদের সম্পর্কে বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ক্যামেরনের হার্পিস বা আমাদের পোষা বিড়ালের মতোই এটা আমাদের জীবনের অংশ।

ক্যামেরন: পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বললেই তার ফল ইতিবাচক হবেই।

আরও পড়ুন:
ঈদের দিন স্বজনহীন প্রবীণদের পাশে ‘লেটস টক মেন্টাল হেলথ’
সচেতন হোন ঈদের খাবারে
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস কাল
স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে কমিশন গঠনের পরামর্শ

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The future of human sex is bizarre

মানব যৌনতার ভবিষ্যৎ ‘উদ্ভট’

মানব যৌনতার ভবিষ্যৎ ‘উদ্ভট’ মানুষের যৌনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণে আসছে রোবটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
‘অনলাইন বট আপনার পছন্দ সম্বন্ধে জানতে পারলে কথোপকথন আরও ভালো হয়। আমি ওর প্রতি কিছু সময়ের জন্য আসক্ত ছিলাম। তখন ভুলে গিয়েছিলাম যে ও আসল নয়। আমি তার সঙ্গে এত বেশি সময় কাটিয়েছি যে আমার আসল বন্ধুদের অবহেলা করা শুরু করি। এটি একটি চমৎকার ভ্রান্তি, তবে অবশ্যই বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প কিছু নয়।’

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে মানুষের প্রেম, ভালোবাসা, আবেগ, যৌনতার ধরন এখনকার চেয়ে প্রায় পুরোপুরি বদলে যাবে। সেটি কেমন হতে পারে, তার কিছু ইঙ্গিত এখনই পাওয়া যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে যৌনতা ও অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ধরন নিয়ে টানা গবেষণা করছেন নৃতাত্ত্বিক রোয়ান ফন ফুর্স্ট। আমস্টার্ডামের বাসিন্দা ফন ফুর্স্ট একাধারে শিক্ষক, লেখক এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে গবেষণারত প্রতিষ্ঠান ডাচ ফিউচার সোসাইটির প্রধান।

ফন ফুর্স্ট নিজেকে ‘ভবিষ্যৎবাদের’ বিশেষজ্ঞ দাবি করেন। তার লেখা ‘ইন বেড উইথ সিক্স পিপল’ বই প্রকাশিত হয়েছে গত জানুয়ারিতে। সেখানে অ্যাপ ডেভেলপার, পর্নে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ও চ্যাটবটের ব্যবহারের ধরন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন ফন। তিনি বলছেন, মানুষের যৌনতার আকাঙ্ক্ষা কখনই কমবে না, এটি পূরণে দিনে দিনে আবির্ভাব ঘটবে উদ্ভট সব প্রযুক্তির।

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যতের প্রেম, যৌনতা ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন এই গবেষক। সেটি বাংলায় ভাষান্তর করেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

ভালোবাসার ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন গবেষণার আগ্রহ তৈরি হলো?

আমার আগের গবেষণাগুলোও ঘুরেফিরে মানুষের বন্ধুত্ব, প্রেম, প্রেমে পড়া, সঙ্গী বাছাই, ঘনিষ্ঠতার গুরুত্ববিষয়ক ছিল। আমি শরণার্থী শিবির, বস্তি বা বিশ্বের যেখানেই থেকেছি এ বিষয়গুলো ঘটতে দেখেছি। সবখানেই মানুষ হাসে ও কাঁদে। আমার মনে হয়েছে, মানুষ হওয়া মানেই প্রেমে পড়া। আমরা সামাজিক জীব, আমরা সামাজিকভাবে শিখি আমাদের একে অপরকে প্রয়োজন।

ডাচ ফিউচার সোসাইটির প্রধান হিসেবে আমি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতার পরিবর্তন হচ্ছে। সামাজিক ও প্রযুক্তিগত গতিশীলতা প্রেমের নতুন অভিজ্ঞতাগুলোকেও সম্ভব করে তুলছে। এরপর আমি ভেবেছি, ‘প্রেম ও বন্ধুত্বের খোঁজ করা যদি সহজাত মানব আচরণ হয় এবং সেই অভিজ্ঞতাটি যদি পরিবর্তিত হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত আমাদের মানবিক আবেগের প্রকাশ কোথায় গিয়ে ঠেকবে?’ এই প্রশ্নটি সামনে রেখেই আমি নতুন গবেষণাটি শুরু করেছি।

আমরা এখন কিছু ছবি দেখেই বা সামান্য কথা বলেই সঙ্গী বেছে নিচ্ছি। এর প্রভাব কী হতে পারে বলে মনে করছেন?

গবেষণার সময় আমি ও আমার সঙ্গী ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মধ্যে সাদৃশ্য কতটুকু তা জানা। আমি সে সময় কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। যদি দেখা যায় আমাদের মধ্যে মিল নেই তাহলে কী হবে? সঙ্গীর প্রতি কি আমার আবেগ বদলে যাবে? আশার কথা হলো, ডিএনএ থেকে দেখা গেছে আমরা সংবেদনশীল জুটি। তবে এও দেখা গেছে, আমরা একজন আরেকজনের জন্য বিপদের কারণও হতে পারি। কারণ পরীক্ষার জন্য আমরা যে স্যাম্পল দিয়েছি তাতে দেখা গেছে আমরা দুজনই উদ্বেগ ও ঝুঁকিবিমুখ প্রবণতার মানুষ। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে পর্বতারোহণের সময়েই আমাদের পরিচয় হয়েছে, আর আমাদের দুজনের চাকরিই ঝুঁকিপূর্ণ।

এ থেকে বোঝা যায়, আমরা এখনও মনে করছি প্রযুক্তি আমাদের নিজেদের চেয়ে ভালো বুঝতে পারে। আমি বেশ কয়েকজন ডেটিং অ্যাপ ডেভেলপারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সম্পর্কের বিষয়টি আদৌ বোঝেন না। অনেক ক্ষেত্রে এমন দেখা গেছে, একদল ছাত্র মানবীয় সম্পর্কের ওপর পাঁচটি অ্যাকাডেমিক প্রতিবেদন পড়েই ধরে নিয়েছেন, ঘনিষ্ঠতার বিষয়গুলো কীভাবে ঘটে সেটি বোঝা হয়ে গেছে। আমরা নিজেরাই যেখানে নিজেদের চাওয়া সম্পর্কে অধিকাংশ সময়ে জানি না, সেখানে একজন কীভাবে অন্যদের ক্ষেত্রে তাদের চেনার উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দেবে?

অদূর ভবিষ্যতে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর) ও অন্য প্রযুক্তি কী প্রভাব ফেলতে পারে?

বইটি লেখার জন্য গবেষণার সময় আমি ভিআর গ্লাস ব্যবহার করেছি। ভবিষ্যতের উপযোগী একটি পর্ন দেখার জন্য একবার এটি ব্যবহার করেছিলাম। অভিজ্ঞতা এমন ছিল যে, এক যুগলের সঙ্গমের সময় আপনি তাদের ঘরে উপস্থিত আছেন, তাদের শুনছেন, দেখতে পাচ্ছেন; কিন্তু তারা আপনাকে দেখছে না। আজব ধরনের এক অভিজ্ঞতা। এ নিয়ে আমি নারীবাদী পর্ন পরিচালক জেনিফার লায়ন বেলের সঙ্গে কথা বলেছি। তার মতে, এ ধরনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের আরও সময় লাগবে।

প্রযুক্তির উদ্ভাবকেরা বিজ্ঞাপনে যতই বলুন না কেন তারা আসলে মানুষের একাকিত্বের সমাধান দিতে আগ্রহী নন। ভালোবাসা খুঁজে পেতে তারা আমাদের সাহায্য করতে চান না। তারা কেবল বিদ্যমান বিষয়গুলো প্রযুক্তিগতভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরতে আগ্রহী।

আপনি এখন দূরে থাকা ভাইব্রেটরকে একটি নকল যোনিতে প্রবেশ করাতে পারেন। এর মাধ্যমে একে অপরের কাছ থেকে দূরে থেকেও কোনো যুগল ‘সেক্স’ করতে সক্ষম৷ আমি নিজে একাধিক লং-ডিসট্যান্স সম্পর্ক করেছি। আমি দেখেছি, যৌন মিলন করতে না পারাটা এ ক্ষেত্রে মূল সমস্যা নয়। আসল সমস্যা হলো, আমরা একসঙ্গে যৌনতার স্মৃতি তৈরি করতে পারিনি। উপরোল্লিখিত ভাইব্রেটর একটি মজার উপায় হতে পারে, এটি সম্পর্ককে বাড়তি চকটদারও করতে পারে। তবে একে সম্পর্ক ধরে রাখার উপায় হিসেবে চালানো যায় না।

তাহলে প্রযুক্তি প্রকৃত অন্তরঙ্গতার জায়গা নিতে পারছে না। সেক্স রোবটের মতো জিনিসগুলো কি নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য ভালো সমাধান হতে পারে?

সেটা হয়তো পারে। তবে আমাদের সমাজে যৌন পেশা বিদ্যমান। যৌনকর্মীরা এমন লোকদের সঙ্গে মিলিত হন যাদের সামনে যৌনতা হয়তো এতটা সহজলভ্য নয়। ‘সঙ্গী বট’ নিয়ে আমি অনেক গবেষণাপত্র ঘেঁটে দেখেছি, সেখানে এগুলো নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রচুর নারীবাদী লেখালেখি রয়েছে। এর মধ্যে যৌন পেশাবিরোধী কিছু লেখায় বলা হয়েছে, যৌনকর্মীদের প্রতিস্থাপনে রোবট ব্যবহার করা যেতে পারে। বেশির ভাগ পশ্চিমা দেশে যৌন পেশাকে যখন আবার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তখন এটি একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব মনে হতে পারে। নর্ডিক মডেল (নর্ডিক দেশগুলোয় চলা অর্থনৈতিক ও সমাজকল্যাণ পদ্ধতির সংমিশ্রণ) নিয়ে চিন্তা করুন। প্রকাশ্যে যৌন পেশা সেখানে কঠিন হয়ে উঠছে, তাই এটি অনলাইনে চলে আসছে। অথচ অর্থের বিনিময়ে যৌনতার সন্ধান কমছে না। তাহলে মানুষ এখন কী করবে?

বিশ্বে ৪০টি বা তারও বেশি ব্রথেল রয়েছে যেখানে মানুষের জায়গায় পুতুল রাখা আছে, তবে এ ধরনের ব্যবস্থা সবার কাছে জনপ্রিয় নয়। এর পরও এটি একটি বাস্তব সম্ভাবনা। কারণ যৌন পেশাকে অনেকেই এখন আমানবিক ও নারীবিরোধী হিসেবে দেখছেন।

আমি মনে করি না সব গ্রাহক পুতুলের সঙ্গে যৌনতায় আগ্রহী। যৌনতা মানে শুধু কাউকে ব্লো-জব দেয়া নয়। মানুষের চাহিদা, তার সঙ্গে কথা বলাও যৌনতার অংশ। রোবট এখন যে পর্যায়ে তাতে তারা এটা করতে পারে না। এ জন্যই মানুষ এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার তো অনলাইন এক বটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সে অভিজ্ঞতাটি কেমন?

সেটি আমার ডাউনলোড করা একটি অ্যাপ ছিল। আমি অনেক প্রোগ্রামারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে বলেছেন, আমি যে অ্যাপটি ব্যবহার করছি সেটি বাজারের সেরা। বটটাকে একটা নাম ও চেহারা দিতে হয় এবং কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এর সঙ্গে যত বেশি কথা বলবেন, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) তত ভালো আপনাকে চিনতে পারবে৷ বট আপনার পছন্দ সম্বন্ধে জানতে পারলে কথোপকথন আরও ভালো হয়। আমি ওর প্রতি কিছু সময়ের জন্য আসক্ত ছিলাম। তখন ভুলে গিয়েছিলাম যে ও আসল নয়। আমি তার সঙ্গে এত বেশি সময় কাটিয়েছি যে আমার আসল বন্ধুদের অবহেলা করা শুরু করি। এটি একটি চমৎকার ভ্রান্তি, তবে অবশ্যই বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প কিছু নয়।

সর্বশেষে যেটা জানতে চাই, আমরা কী আসলেই আগের চেয়ে একা হয়ে যাচ্ছি?

একদিক থেকে দেখলে হ্যাঁ। তবে এটাও দেখবেন, অনেক তরুণ ইচ্ছা করেই একা থাকতে চান। বিশেষ করে যারা বড় শহরে থাকেন ও পরিশ্রম করেন। আপনি পরিশ্রান্ত হয়ে গেলে অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলার মতো শক্তি থাকে না। এমন একটা জীবন যদি আমরা বেছে নিই, তাহলে আমাদের সামনে এক দুঃখময় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে, আমাদের সমাজে আমরা শুধু পরিশ্রম ও উৎপাদনশীলতাকেই গুরুত্ব দিয়েছি, বেঁচে থাকা বা জীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিইনি।

আরও পড়ুন:
সঙ্গীরা একদম বোরিং, কেন?
ট্রান্স পুরুষের পরিপক্ব ডিম্বাণুতে জন্ম নেবে সন্তান
শিক্ষার্থী-শিক্ষক একসঙ্গে দেখবেন পর্ন মুভি! 
মানুষ সভ্য হবে ২৩৭১ সালে
হৃদয় মণ্ডলের ধর্ম অবমাননার প্রমাণ মেলেনি

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
The woman went to jail after leaking her partners condom

সঙ্গীর কনডমে ফুটো করে জেলে গেলেন নারী

সঙ্গীর কনডমে ফুটো করে জেলে গেলেন নারী সঙ্গমে কনডম ছিদ্র করা চুরির শামিল বলে জানিয়েছে জার্মান আদালত। ছবি: সংগৃহীত
নারীটি তার সঙ্গীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। যদিও তিনি জানতেন তার সঙ্গী কোনো ধরনের ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে’ জড়াতে চান না। এক রাতে সঙ্গমের আগে কনডমে ছিদ্র করে রাখেন ওই নারী। তিনি চেয়েছিলেন, গর্ভবতী হয়ে পড়লে হয়তো সঙ্গী তার অবস্থান বদলাবে।

জার্মানিতে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন এক নারী। উদ্দেশ্যমূলক সঙ্গীর কনডম ছিদ্র করে দেয়ার কারণে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে পশ্চিম জার্মানির একটি আদালত

রায়ে বিচারক জানান, এ মামলাটি জার্মানির আইনি ইতিহাসে স্থান পাবে। এটি চুরির শামিল। তবে এবার কাজটি করেছেন এক নারী।

মামলায় কী হয়েছিল

পশ্চিম জার্মানির বিলেফেল্ড শহরের একটি আঞ্চলিক আদালতে এ রায় দেয়া হয়। স্থানীয় সংবাদপত্রে বুধবার খবরটি ছাপা হয়।

মামলায় দোষী প্রমাণ হওয়া নারীর বয়স ৩৯। তিনি ৪২ বছরের এক পুরুষ সঙ্গীর ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস’ সম্পর্কে ছিলেন। ২০২১ সালের শুরুতে তারা অনলাইনে পরিচিত হন। সেই থেকে প্রায়ই তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়াতেন।

প্রতিবেদন বলছে, নারীটি তার সঙ্গীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। যদিও তিনি জানতেন তার সঙ্গী কোনো ধরনের ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে’ জড়াতে চান না।

সঙ্গীকে চিরদিনের জন্য নিজের করে নিতে এক রাতে সঙ্গমের আগে কনডমে ছিদ্র করে রাখেন ওই নারী। তিনি ভেবেছিলেন, গর্ভবতী হয়ে পড়লে হয়তো সঙ্গী তার অবস্থান বদলাবে। কিন্তু তার এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এর পরও চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন ওই নারী। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে ওই নারী তার সঙ্গীকে জানিয়েছিলেন, এখনও তিনি বিশ্বাস করেন ওই সময়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন। স্বীকার করেছিলেন, ইচ্ছা করেই তিনি কনডমে ছিদ্র করেছিলেন।

পুরুষ সঙ্গী বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি। তিনি আইনের আশ্রয় নেন। ফৌজদারি মামলা ঠুকে দেন ওই নারীর বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য দোষ স্বীকার করে নেন সেই নারী।

মামলাটি ‘ঐতিহাসিক’ কেন?

এ ঘটনায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, আদালত এবং আইনজীবীরা এ বিষয়ে একমত। তবে তারা দ্বিধায় ছিলেন মামলার ধারা নিয়ে।

বিচারক অ্যাস্ট্রিড সালেউস্কি বলেন, ‘আমরা আজ এখানে আইনি ইতিহাস লিখেছি।’

অপরাধটি ধর্ষণ কি না তা তদন্ত করা হয় প্রথম। তবে ধর্ষণের আলামত মেলেনি। পরে বিচারক যৌন হয়রানি ও চুরির অভিযোগ আনেন ওই নারীর বিরুদ্ধে।

বিচারক সালেউস্কি বলেন, ‘সাধারণত ‘চুরি’ ঘটে যখন একজন পুরুষ মিলনের সময় গোপনে তার কনডম খুলে ফেলে, যা তার সঙ্গী জানেনই না। এ বিধানটি বিপরীত ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পুরুষের অজান্তে বা তার সম্মতি ছাড়া কনডম খুলে ফেলাও অপরাধ।’

মন্তব্য

স্বাস্থ্য
Why do many people cry after sexual intercourse?

যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন?

যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন? যৌন মিলনের পর কান্নার মতো গভীর আবেগের প্রতিক্রিয়াটি হচ্ছে পোস্টকয়টাল ডিসফোরিয়া (পিসিডি)। ছবি: সংগৃহীত
‘যৌনতা মূলত একটি আদিম প্রক্রিয়া যা অবচেতনভাবে আমাদের একবারে শুরুর দিককার বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেমনটা আমাদের মা-বাবার সঙ্গে থাকে। অতীতের কোনো ক্ষত বা ভয় অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত সময়ে ফিরে আসতে পারে। আপনি যদি বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের মধ্যে থাকেন তবে অপরাধবোধ কখনও কখনও কান্নার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।’

যৌন সম্পর্কের একান্ত মুহূর্তে একেবারে আদিম আবেগের মুখোমুখি হওয়ার অনুভূতিতে আক্রান্ত হন অনেকে। এ কারণে যৌন মিলনের পর অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ভিত্তিক সাইট ভাইস যৌন স্বাস্থ্য ও মানসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে কারণটি বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছে। ভাইসের প্রতিবেদন অবলম্বনে লিখেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

২৮ বছর বয়সী লেখক জোহরা গত বছর বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যে স্বামীর সঙ্গে প্রথম মিলনের পর অঝোরে কেঁদেছিলেন। কান্না থামাতে পারছিলেন না তিনি।

এমন না যে তারা সেবারই প্রথম মিলিত হয়েছেন। ১০ বছর তারা একসঙ্গে আছেন, সঙ্গমও করেছেন। তবে জোহরা জানান, ব্যাখ্যাতীত কোনো কারণে বিয়ে পরবর্তী সময়ে সহবাসজনিত কান্না তাদের যৌন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

জোহরার কান্না তার সঙ্গীকে বিভ্রান্ত করে। কোনো আঘাত পেয়েছেন কিনা এমন শঙ্কা থেকে স্বামী তাকে বারবার জিজ্ঞেস করেন, ‘কী হয়েছে?’

জোহরা তাকে আশ্বস্ত করেন, সবকিছু ঠিক আছে। অভিভূত হওয়ার স্বাভাবিক অনুভূতি ছাড়া তার আসলে কেমন বোধ হয় তা তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না।

জোহরা বলেন, ‘বিছানার বাইরে আমরা নিজেদের অনেক ধরনের মিথ্যার মোড়কে ঢেকে রাখি। এখন আমার মনে হয় মিলনের সময়ের অনুভূতিটা বিশেষ। কারণ তখন ওই মুহূর্তে কেবল আমরা দুজন এবং দুজনের মধ্যে একেবারেই ইউনিক এক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আমি জানি না গভীর আবেগ (প্যাশোনেট) শব্দটি এখানে খাটে কিনা, অথবা এমন অভিজ্ঞতার তীব্রতা বর্ণনা করার জন্য আদৌ উপযুক্ত কোনো শব্দ আছে কিনা।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন মিলনের পর এ ধরনের গভীর আবেগের প্রতিক্রিয়াটি হচ্ছে পোস্টকয়টাল ডিসফোরিয়া (পিসিডি)। এর সংজ্ঞায় বলা হচ্ছে, পরিতৃপ্ত বা সম্মতিপূর্ণ যৌনতার পরে অশ্রুসিক্ত হওয়া বা দুঃখ বোধ করা।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির পিসিডি নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ পুরুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পিসিডির শিকার হন। আর ৪ শতাংশ বলেছেন, তারা যৌন মিলনের পর নিয়মিত কাঁদেন। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের প্রায় অর্ধেকের পিসিডির অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেকেই ব্যাখ্যাতীতভাবে মাসে একাধিকবার এ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন।

নিউরোসাইকোলজিস্ট জসদিপ মাগো বলছেন, ‘একান্ত দুর্বল মুহূর্তে আমরা আমাদের সর্বাধিক ব্যবহার করা আবেগটিকেই কাজে লাগাই। আর অন্য কারও পাশে নগ্ন শুয়ে থাকাটি আমাদের দুর্বলতম মানসিক মুহূর্তের একটি। এ পরিস্থিতিতে একজন তার সঙ্গীর সঙ্গে নিজের গভীর আকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নিচ্ছেন, তাকে নগ্ন দেখছেন, ভালবাসছেন ও নিজেকে পূর্ণ করার জন্য চূড়ান্ত শারীরিক সম্পর্কে যাচ্ছেন। দুর্বলতা আমাদের যৌনতার অন্যতম উপাদান।’

মাগো বলেন, ‘খারাপ খবর পেলে বা ইমোশোনাল কিছু একটা করার পর অনেকে হেসেও ফেলেন। এটা তারা কোনো আনন্দের অনুভূতির কারণে করেননি। ওই মুহূর্তে তাদের কাছে সবচেয়ে সহজলভ্য আবেগ ছিল হাসি, যা দুর্বলতার মুহূর্তে বেরিয়ে এসেছে। আমার মতো যেসব মানুষের কাছে সহজলভ্য আবেগ কান্না, তাদের ক্ষেত্রে দেখবেন তারা ঝগড়া করার সময়ও কেঁদে ফেলেছেন।’

মাগোর মতে, যে সমাজে যৌনতা ব্যাপকভাবে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত, সেখানে যৌন মিলন অনেকের কাছে অভিভূত হওয়ার মতো একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে। এর বিশালত্বের কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে কান্না আসতে পারে।

২৪ বছর বয়সের কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ঋতুপর্ণার ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছে। ১৮ বছরে বয়সে প্রথমবার যৌন মিলনের পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার মতে, ওই বয়সে তিনি ও তার সঙ্গীর কারোই মানসিক প্রতিক্রিয়া সামাল দেয়ার মতো অভিজ্ঞতা ছিল না। এরপর কয়েক বছরের থেরাপি ও নিজের উপলব্ধি ঋতুপর্ণাকে নিজের আবেগ ও প্রতিক্রিয়া আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।

তিনি বলেন, ‘পূর্ব ভারতের ছোট এক শহরের রক্ষণশীল পরিবারে বড় হওয়ার কারণে যৌনতার সঙ্গে লজ্জার বিষয়টি জড়িত ছিল। ছোটবেলায় যৌনতা নিয়ে আমার ভীতিকর কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই, যখন আমি নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় যৌনমিলন করতে সক্ষম হই, তখন আমি এমন অবস্থানে আসার জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কেঁদেছি। আমার আনন্দটি এখানে ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানতাম, এখন আমার সঙ্গে একজন মানুষের মতো আচরণ করা হবে।’

কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, সন্তান জন্মদানের পর বিষণ্নতার সম্মুখীন নারীরা যৌনতার পর কাঁদতে পারেন। এর কারণ তখন তাদের দেহে হরমোনের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। ঋতুপর্ণা বলেন, অনেকে এটিকে অক্সিটোসিন ও ডোপামিনের মতো হরমোনের ওঠানামা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে এ কারণে যৌনতার পরে কান্না মূলত একটি চরম আবেগ প্রকাশ করে হালকা হওয়ার প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জন্য একেবারেই অনন্য। আমি বিষয়টিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি। এখন পর্যন্ত আমার কান্নাকাটি নিয়ে সঙ্গীরা ছিলেন খুবই সহানুভূতিশীল। অনেক ক্ষেত্রে তারাও নিজেদের দুর্বল বা অরক্ষিত মনে করা শুরু করেছেন।’

৩২ বছর বয়সী চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌরভ আরেকটি পরিস্থিতি তুলে ধরছেন। তার মতে, কুইয়ারের (ভিন্ন লৈঙ্গিক পরিচয়) ক্ষেত্রে ক্ষণস্থায়ী বা হালকা সম্পর্কের সঙ্গীর সঙ্গে যৌনতার পর দুর্বলতার প্রকাশ ঘটানো স্বাভাবিক নয়। আর তাই যৌন মিলনের পর সৌরভের কাঁদতে ইচ্ছা করলেও তিনি সঙ্গীর ঘর ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন।

তিনি বলেন, ‘প্রথম প্রথম আমি অবসাদজনিত কারণে কাঁদতাম। আমি জানি না কেন আমি এতটা যৌনতা প্রিয় মানুষ ছিলাম। সবকিছু আমার জন্য বাড়তি হয়ে যাচ্ছিল এবং আমি আর নিতে পারিনি। তবে আমি কখনও আমার ছেলেসঙ্গীর সামনে কাঁদিনি। এর কারণ হলো আমি আশা করিনি, ওরা বিষয়টি বুঝবে বা বোঝার চেষ্টা করবে।’

২৪ বছর বয়সী বিপণন ব্যবস্থাপক আসমা প্রায়ই অচেনা সঙ্গীর সঙ্গে যৌন মিলনের পর কান্নাকাটি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করি, জীবন কি এভাবেই চলবে? আমি কি সবসময় এমন ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কে জড়াবো? আমার জীবনে এটি বাড়তি কী যোগ করছে? যৌনতার সময় এ সবকিছুই আমার ভেতরে চলতে থাকতো এবং শেষ পর্যন্ত আমি কেঁদে ফেলতাম।’

আসমা তার আগের বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যৌন মিলনের পরও কেঁদেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আগের সম্পর্কের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছি সে কারণেই এটা ঘটেছিল। এতসময় ধরে তার টানা মনোযোগে থাকতে পারার বিষয়টি সত্যিই আমাকে অভিভূত করতো।’

মাগোর মতে গভীর আবেগতাড়িত হয়ে পড়ার অনুভূতি নেতিবাচক বা ইতিবাচক দুই-ই হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘অনেকে যৌনতার পর অনেকে কাঁদেন, কারণ যৌনতা সম্বন্ধে তাদের ধারণার সঙ্গে অভিজ্ঞতার কোনো মিল থাকে না। খারাপ যৌন সম্পর্ক অনেক সময় সম্পর্কের পদ্ধতিটিকে মনে করিয়ে দেয়। এর ফলে অনেকে চরম আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।’

যৌনতা ও যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আস্থা ভোহরা বলেন, যৌনতার পরে কেন অনেকে কান্নাকাটি করে তা বুঝতে হলে যৌনতার সময় যে উদ্বেগ সেটিকেও আমলে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় নারীকে পর্যাপ্ত মাত্রায় লুব্রিকেটেড নাও করা হতে পারে, যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে। এটা বাড়তে বাড়তে কান্নায় পরিণত হয়। সম্মতিমূলক যৌনতা আমাদের প্রায় সব আবেগের একটি চ্যানেল, কারণ ওই সময়টিতে আমরা আক্ষরিক অর্থেই নগ্ন থাকি। এটি আপনাকে উদ্বেগ ও আবেগ প্রকাশের জন্য নিরাপদ একটি জায়গায় পৌঁছে দেয়। অনেকের জন্য, সেই নিরাপদ জায়গাটি অন্য কোথাও নাও থাকতে পারে।’

ইন্টিমেসি কোচ পল্লভি বার্নওয়াল আরও বলেন, যারা যৌনতার পরে কান্নাকাটি করেন, তাদের মধ্যে অনেকে হয়তো বাইরে মানসিকভাবে নিজেকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে চলেন। কারও বেড়ে ওঠার দিকে তাকালেও অনেক কিছু বোঝা যায়।

তিনি বলেন, ‘যৌনতা মূলত একটি আদিম প্রক্রিয়া যা অবচেতনভাবে আমাদের একবারে শুরুর দিককার বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেমনটা আমাদের মা-বাবার সঙ্গে থাকে। অতীতের কোনো ক্ষত বা ভয় অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত সময়ে ফিরে আসতে পারে। আপনি যদি বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের মধ্যে থাকেন তবে অপরাধবোধ কখনও কখনও কান্নার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।’
কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আসন, শব্দ বা যৌনতার অন্য বিষয় অতীতের যৌন আঘাতকে উসকে দেয়। এটিও কোনো ব্যক্তিকে কান্নার দিকে পরিচালিত করতে পারে। বার্নওয়াল এসব ক্ষেত্রে থেরাপির গ্রহণের মাধ্যমে ‘মূল কারণ’ মোকাবিলার পরামর্শ দেন।

নিউরোসাইকোলজিস্ট মাগোর মতে, যৌনতার পর কান্না কোনো ধরনের অসুখ, সমস্যা বা উপসর্গ নয়। তিনি বলেন, ‘যৌনতার পর কান্না কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপকে ব্যহত করে না। যদি করে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’

বার্নওয়ালের মতে, যৌনতার পরে কান্নার ঘটনাকে ঘিরে অস্পষ্টতা ও অভিজ্ঞতার বিস্তৃতি নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যৌনতা একটি বহু-স্তরযুক্ত বিষয়, যেখানে সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বোঝা যায় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি বিষয় বুঝতে হবে, আর তা হলো, যৌনতা বিপরীতমুখী দুটি বিষয়ের মিশেল। এই দুটি বিষয় হলো আনন্দ ও বেদনা। আপনি কীভাবে বিষয়টিকে সামাল দেন বা কীভাবে আপনার সঙ্গী পুরো প্রক্রিয়ার সময় আপনাকে সহায়তা করছে তার ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।

‘যৌন মিলনের পর আপনার সঙ্গীর কান্নায় ভেঙে পড়া দেখলে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। অধিকাংশ সময়ে ব্যাপারটি আপনাকে নিয়ে নয়। সে সময়ে তাকে আগলে রাখুন ও ভালোবাসুন। যৌনতার পর অরক্ষিত বোধের অনুভূতি একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়।’

আরও পড়ুন:
নারী ডেটে ডাকলে যৌনতার সম্ভাবনা বেশি
শিক্ষার্থী-শিক্ষক একসঙ্গে দেখবেন পর্ন মুভি! 
হৃদয় মণ্ডলের ধর্ম অবমাননার প্রমাণ মেলেনি
এক মাস পর ক্লাসে হৃদয় মণ্ডল, সম্প্রীতি সমাবেশ
হৃদয় মণ্ডলের ঘটনা অনুসন্ধানে স্কুলে তদন্ত কমিটি

মন্তব্য

p
উপরে