ফাইজারের ১০ লাখ টিকা আসছে এ মাসেই

ফাইজারের ১০ লাখ টিকা আসছে এ মাসেই

করোনাভাইরাস রোধে বিভিন্ন উৎস থেকে আগস্টের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টিকা দেশে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা উপহার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ১০ লাখ টিকার প্রথম চালান ৩০ আগস্ট পৌঁছবে দেশে।

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে ফাইজারের ৬০ লাখ টিকা উপহার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ১০ লাখ টিকার প্রথম চালান ৩০ আগস্ট পৌঁছবে দেশে।

করোনাভাইরাস রোধে বিভিন্ন উৎস থেকে আগস্টের মধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টিকা দেশে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৬০ লাখ ডোজ ফাইজার ভ্যাক্সিন পাওয়া যাবে। তার অংশ হিসেবে ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় আসবে ১০ লাখ ডোজ টিকার চালান।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কাতার এয়ারওয়েজের মাধ্যমে ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ লাখ টিকার চালান পৌঁছবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর মিলার বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাস রোধে বিভিন্ন উৎস থেকে আগস্টের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টিকা দেশে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, এর মধ্যে সিরামের উৎপাদিত অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২৯ লাখ, চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির ৪০ লাখ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি ৬০ লাখ টিকা থাকবে। বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকে এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা ৫০ লাখ আর উপহারের ৩২ লাখ টিকা হাতে নিয়ে বাংলাদেশ গণটিকা কার্যক্রম শুরু করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর আসে আরও ২০ লাখ টিকা। কিন্তু ভারতে করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে সিরাম ইনস্টিটিউটকে সে দেশের সরকার টিকা রপ্তানি আপাতত বন্ধ রাখতে বলায় প্রতি মাসে ৫০ লাখ টিকা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি কোম্পানিটি। সেপ্টেম্বরের আগে সিরামের টিকা পাওয়ার আশা ক্ষীণ।

সিরাম থেকে ধাক্কা খাওয়ার পর সরকার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এর মধ্যে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তিটি প্রথম কার্যকর হয়। এই কোম্পানির তিন থেকে চার কোটি টিকা সরকার কিনতে চায়। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে সে দেশের টিকাও এখনও আসেনি।

এই দুটি টিকা আবার দেশেই উৎপাদনের পরিকল্পনা চলছে। জুলাইয়ের মতো আগস্টেও আসার কথা এক কোটির বেশি টিকা। সেটা আসছে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিভিন্ন ধরনের জ্বরের লক্ষণ

বিভিন্ন ধরনের জ্বরের লক্ষণ

ম্যালেরিয়া রোগীর প্রতিদিন অথবা এক দিন পর পর জ্বর থাকবে। সঙ্গে ডায়রিয়া, গায়ে ব্যথা, বুক ধড়ফড় এবং কাঁপুনি দেওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেবে।

বছরের এই সময়ে বিভিন্ন কারণে জ্বর হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। সমস্যা হচ্ছে জ্বরটা কী কারণে হচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না বলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন। চলুন আজ দেখে নেই, কোন ধরনের জ্বরের লক্ষণ কী রকম।

ডেঙ্গু

জ্বর, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, সারা শরীরে ব্যথা, চোখে ব্যথা, পেশিতে, হাড়ে এবং গিরায় গিরায় ব্যথা- এগুলোই ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ। কারও মধ্যে যদি এ সব লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে তার ডেঙ্গু হতে পারে।

কোভিড-১৯

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জ্বর, শুকনা কাশি, ত্বকে ফুসকুরি, সারা শরীরে ব্যথা, গন্ধ ও স্বাদ না পাওয়া, দুর্বলতা, ডায়রিয়া, বুকে ব্য়থা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

চিকুনগুনিয়া

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ প্রায় একই রকম। চিকুনগুনিয়া হলে সাধারণত জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা ঘোরা, তলপেটে ব্যথা, পেশি ও হাটুতে ব্যথা এবং চোখ ব্য়থার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়া রোগীর প্রতিদিন অথবা এক দিন পর পর জ্বর থাকবে। সঙ্গে ডায়রিয়া, গায়ে ব্যথা, বুক ধড়ফড় এবং কাঁপুনি দেওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেবে।

ভাইরাস জ্বর

ভাইরাল ফিভার খুব সাধারণ অসুখ। এ ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, গায়ে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেবে।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

ভারতে এক দিনে আড়াই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস। সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্ম হয় নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদির। শুক্রবার তার জন্মদিনে ভারতে টিকা দেয়া হয় দুই কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ জনকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে টুইট করে টিকাদানে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও একই বিষয় জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের রেকর্ড সংখ্যার জন্য গর্ব বোধ করবেন প্রতিটি ভারতীয়।’

টিকাদান অভিযান সফল করতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের ধন্যবাদ জানান মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আড়াই কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এক দিনে সে লক্ষ্যের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছিল চীন।

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস।

সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) প্রধান আর এস শর্মা শুক্রবার সন্ধ্যায় এনডিটিভিকে বলেন, দিনটি ঐতিহাসিক।

ওই সময় তিনি দেশব্যাপী টিকাদানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন।

সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এনকে অরোরা বলেন, কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায়। এই নিয়ে প্রায় সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে পৌঁছাল।

চীনের সিনোফার্ম উৎপাদিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির আরও ৫০ লাখ ডোজ দেশে পৌঁছেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয়ক ডা. আবু জাহের বিমানবন্দরে এসব টিকা গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে এলো।

ঢাকায় চীনের দূতাবাস থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, শনিবার ঢাকায় পৌঁছাবে টিকার এই বড় চালান। নির্ধারিত সময়ের আগেই তা দেশে পৌঁছায়। এর আগে ৫৪ লাখ ও ৫০ লাখ ডোজের আর দুটি টিকার বড় চালান বাংলাদেশে পাঠায় সিনোফার্ম।

বাংলাদেশে করোনারোধী চলমান টিকা কার্যক্রমে যেসব ব্র্যান্ডের টিকার প্রয়োগ চলছে তার বেশির ভাগই সিনোফার্মের।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর বাইরে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বণ্টনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গড়া তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। এসব টিকাই প্রতি সপ্তাহে ৫০ লাখ ডোজ করে পাঠাচ্ছে চীন।

বাংলাদেশ টিকা কার্যক্রমের শুরুটা করেছিল ভারতে উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। এর ফলে গণটিকাদান কর্মসূচি কিছুদিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সরকার।

সিরাম থেকে টিকা না পেয়ে টিকার বিকল্প উৎসেন সন্ধানে নামে বাংলাদেশ। এতে চীন থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। দেশটি থেকে সিনোফার্মের মোটা দাগের টিকা কেনার পাশাপাশি দেশে উৎপাদনেরও চুক্তি করে সরকার, যা পক্রিয়াধীন।

চীনের পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকেও দফায় দফায় টিকা পাচ্ছে সরকার। সংকট কেটে যাওয়ায় টিকা প্রদানের আওতাও বাড়ানো হয়েছে। বয়স সীমা দফায় দফায় কমানো হয়েছে। ১৮ বছর বয়সীদেরও টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

বাগেরহাটের হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চাপ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এক মাসে শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালেই সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত এক মাসে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজারের বেশি শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ শিহান মাহমুদ বলেন, 'হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড আছে ২৪টি। গত কয়েক দিনে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

‘প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চাপ এতটাই বেশি যে মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীর জায়গা দিতে পারছি না। এসব শিশুদের অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।’

বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান জানান, ভাদ্র মাসের গুমোট গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

তিনি বলেন, ‘এক মাসে শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালেই সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

তবে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন

৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

অদম্য জয়ন্ত কানড়োইয়ের কাছে ছয়বার হার মেনেছে ক্যানসার। ছবি: দ্য বেটার ইন্ডিয়া

২০২০ সালের নভেম্বরে ষষ্ঠবার ক্যানসার শনাক্তের পর অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের জটিল চিকিৎসার যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয় জয়ন্তকে। তিনি বলেন, ‘ছয়বার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছি। প্রায় প্রতিবারই দেহের নতুন কোনো অংশ আক্রান্ত হয়েছে। যতবার অসুস্থ হয়েছি, আত্মীয়রা আমার মা-বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিল কোনো হাসপাতালে আমাকে ফেলে রেখে আসতে। তারা ভেবেছিল যে আমি যেহেতু বাঁচবোই না, শুধু শুধু কেন আমার বোঝা টানবেন আমার মা-বাবা।’

২৩ বছর বয়সী ভারতীয় যুবক জয়ন্ত কানড়োইয়ের ওজন মাত্র ৩৬ কেজি, কিন্তু তার কণ্ঠের বলিষ্ঠতায় স্পষ্ট লড়াকু ব্যক্তিত্ব। জয়ন্তর প্রতিদ্বন্দ্বী সহজ কেউ নয়। প্রাণঘাতী রোগ ক্যানসারের সঙ্গে তার লড়াই চলছে কিশোর বয়স থেকে। জীবন জয়ের যুদ্ধে গত নয় বছরে ছয়বার ক্যানসারকে হারিয়েছেন তিনি।

জয়ন্ত জানান, গত নয় বছরে গুণে গুণে এক হাজার ২৩৭ দিন বা প্রায় চার বছরই হাসপাতালে কেটেছে তার। ক্যানসারকে জিততে না দিলেও তার শরীরজুড়ে রোগটির ধ্বংসলীলা। ১৭টি কেমোথেরাপি, ৬০টির বেশি রেডিওথেরাপি আর অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের মতো কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

একের পর এক অস্ত্রোপচার, আর শরীর-মনের শক্তি নিংড়ে নেয়া ওষুধ, আর স্বাস্থ্যপরীক্ষার কষ্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন জয়ন্ত। তার কাছে ক্যানসার এখনও অজেয়।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের আজমির শহরের বাসিন্দা জয়ন্ত। ২০১৩ সালে যখন দশম শ্রেণির ছাত্র সে, তখন প্রথম ক্যানসার ধরা পড়ে তার।

তিনি বলেন, ‘ঘাড়ের ডান দিকে মাংসপিণ্ডর মতো কিছু একটা অনুভব করি। পরে জানা যায়, এটা ক্যানসার। সেই প্রথম হজকিন লিম্ফোমার নাম শুনি আমি। কোনো ব্যথা ছিল না। কিন্তু দিন দিন মাংসপিণ্ডটি বড় হচ্ছিল।

‘প্রথমবার অপারেশন থিয়েটার দেখি আমি সে সময়। ভয় পাইনি একটুও। জয়পুরের ভগবান মহাবীর ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি হই। অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় কেমোথেরাপির ধাক্কা। ছয়টি কেমোথেরাপি নিয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম আমাকে ক্যানসারমুক্ত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেই দিনটির সব স্মৃতি আজও চোখে ভাসে আমার।’

এরপর জয়পুর থেকে আজমিরে ফেরেন জয়ন্ত, অংশ নেন মাধ্যমিক পরীক্ষায়, নিজ ক্লাসে প্রথম হন তিনি। গর্ব নিয়ে জয়ন্ত বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের পুরো সময়েই প্রথম সারির শিক্ষার্থী ছিলাম আমি।’

এসবের মধ্যেই ক্যানসারমুক্ত জয়ন্ত তীব্র ক্লান্তিতে ভুগতেন। এতটাই যে লম্বা সময়ের জন্য স্কুলেও যেতে পারছিলেন না। অথচ পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একটি দিনও স্কুল বাদ না দেয়ার রেকর্ড ছিল তার।

একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় জয়ন্তর দেহে আরেকটি মাংসপিণ্ড ধরা পড়ে; এবার ঘাড়ের বাম পাশে। ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আবারও ভগবান মহাবীর ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন।

জয়ন্ত কখনোই নিজের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে দেননি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উৎরে যান এসবের মধ্যেই, বিকমে পড়াশোনা শুরু করেন।

জয়ন্ত বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৭ সালের শুরুতে আবারও ক্যানসার ধরা পড়ে আমার শরীরে, এবার অগ্ন্যাশয়ে। প্রায়ই পেটে অসহ্য ব্যথা হতো। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় শেষ বর্ষে পড়াশোনার সময়। দিল্লিতে একা থাকছিলাম বলে বাবা আমাকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে চিকিৎসা শুরু করার অনুরোধ করেন।’

দ্য বেটার ইন্ডিয়ার জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অসুস্থতা মারাত্মক রূপ নেয়ায় পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই ২০১৭ সালে আজমিরে ফেরেন জয়ন্ত। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ না করে বাড়ি ফেরার কারণে খুব কষ্টে ছিলাম। কিন্তু ব্যথাও সহ্য করতে পারছিলাম না। ভেঙেচুরে যাচ্ছিলাম মনে হতো।’

সেবার চিকিৎসকরা জানান, অগ্ন্যাশয়ের টিউমারে পৌঁছাতে জয়ন্তর পেটে নয় ইঞ্চি লম্বা ফুটো করতে হবে।

জয়ন্ত বলেন, ‘সেবারই প্রথম বাবার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখলাম। টিউমারটা মাত্র এক সেন্টিমিটার ছিল। কিন্তু পাকস্থলীর যে অংশে এটি ছিল, সে অংশটি কেটে ফেলে দিতে হবে- এই চিন্তা আমার বাবাকে কুড়ে খাচ্ছিল।’

অগ্ন্যাশয়ে টিউমার ধরা পড়ার দুই বছর পর কেমোথেরাপিসহ সব চিকিৎসা শেষ করেন জয়ন্ত। তৃতীয়বার ক্যানসারকে হারিয়ে বাড়ি ফিরেই নতুন উদ্যমে শুরু করেন পড়াশোনা। সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমে নাম লেখান তিনি, সম্পন্ন করেন স্নাতক।

জয়ন্তর বাবা ৫৭ বছর বয়সী অশোক কানড়োই বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য ছেলেকে আবারও দূরে পাঠানোর ঝুঁকি নিতে চাইনি। ওর ডিগ্রির চেয়ে জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নয় বছর ধরে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু সন্তানের সুস্বাস্থ্য চেয়েছি। তাই চেয়ে যাব আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।’

২০১৯ সালে আবারও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন জয়ন্ত; ২০১৭ সালে যেখানে ক্যানসার ধরা পড়েছিল, ঠিক সেই একই জায়গায় ধরা পড়ে নতুন টিউমার।

চতুর্থবার ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পরও মুখের হাসি মুছতে দেননি জয়ন্ত। দীর্ঘযুদ্ধে শরীর ভেঙে পড়লেও আবারও চিকিৎসা শুরু করেন; আবারও জয়ী হয়ে ফেরেন।

গত দুই বছরে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার আর দেখা দেয়নি। কিন্তু গত বছর জয়ন্তর ডান হাতের বগলের নিচে আরেকটি টিউমার ধরা পড়ে। এবার ছেলেকে নিয়ে আহমেদাবাদের গুজরাট ক্যানসার হাসপাতালে যান বাবা।

জয়ন্ত বলেন, ‘২০২০ সালের ২০ মার্চ চিকিৎসা শেষে আজমিরে নিজের বাড়িতে ফিরলাম। পরদিন থেকে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে লকডাউন শুরু হলো। অস্ত্রোপচারপরবর্তী চিকিৎসার জন্য আহমেদাবাদ যাওয়ার দরকার হলেও আর যেতে পারিনি।’

ক্যানসারের পঞ্চম আঘাত থেকে সেরে উঠতে না উঠতেই আট মাসের ব্যবধানে জয়ন্ত জানতে পারেন ষষ্ঠবারের মতো শরীরে বাসা বেঁধেছে হতচ্ছাড়া রোগটি। সময় ২০২০ সালের নভেম্বর। এবার ক্যানসারের আক্রমণস্থল তলপেট।

এই সময় অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের জটিল চিকিৎসার যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয় জয়ন্তকে। শরীরে সুঁই ঢোকাতে ভয় না পেলেও মেরুদণ্ডের নিচ থেকে অস্তিমজ্জা বের করে আনার সময় অসহনীয় ব্যথা সহ্য করতে হয়েছিল তাকে।

জয়ন্ত বলেন, ‘ছয়বার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছি। প্রায় প্রতিবারই দেহের নতুন কোনো অংশ আক্রান্ত হয়েছে। যতবার অসুস্থ হয়েছি, আত্মীয়রা আমার মা-বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিল কোনো হাসপাতালে আমাকে ফেলে রেখে আসতে। তারা ভেবেছিল যে আমি যেহেতু বাঁচবোই না, শুধু শুধু কেন আমার বোঝা টানবেন আমার মা-বাবা।

‘আজ যখন আমি অন্যদের বাঁচতে উৎসাহ দিই, আমার ওই আত্মীয়-স্বজনরা হাঁ করে তাকিয়ে শোনে। তারা আজ আমাকে ভাগনে ডেকে যোগাযোগ করতে চায়।’

পুরো যাত্রা শুধু জয়ন্তর জন্য নয়, তার পরিবারের জন্যও একইরকম ক্লান্তিকর ছিল। শারীরিক ব্যথা সহ্য করেছেন তিনি, একইরকম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে তার পুরো পরিবার। এখন সবাই খুশি।

ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা তৈরি, দুঃস্থদের চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহ, ক্যানসারে আক্রান্তদের মনোবল বাড়ানো ইত্যাদি লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুদের সহযোগিতায় একটি দাতব্য সংগঠন গড়ে তুলেছেন জয়ন্ত। সংগঠনটিতে বর্তমানে ৩৫০ জন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবক আছেন।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন

সংকটে পিরোজপুরের ২২ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

সংকটে পিরোজপুরের ২২ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

জরাজীর্ণ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা

পিরোজপুরের সাত উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন। বাকি ৬টি শূন্য। ৫২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দেখাশোনার দায়িত্বে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আছেন ৩০ জন। ২২টিতে মেডিক্যাল অফিসার নেই। এতে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

রক্ষণাবেক্ষণসহ বহুমুখী সংকটে পড়েছে পিরোজপুরের ২২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

গ্রামে গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ ডেলিভারি, শিশুদের টিকাদান ও ভিটামিন ক্যাপসুলসহ বিনা মূল্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র।

অযত্ন ও অবহেলায় এরই মধ্যে ২২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

এতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার লাখো মানুষ। তবে সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পিরোজপুরের সাত উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন। বাকি ৬টি শূন্য। ৫২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দেখাশোনার দায়িত্বে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আছেন ৩০ জন। ২২টিতে মেডিক্যাল অফিসার নেই। এতে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সংকটে পিরোজপুরের ২২ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র
চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন গ্রামবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

জরাজীর্ণ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানি, বিদ্যুৎসহ নানা সমস্যার কথা জানান স্থানীয় লোকজন।

জেতদাসকাঠি কলেজের শিক্ষক আলী আকবর জানান, অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত হলেও তারা ১২টা বা ১টায়ও আসেন না। রোগীরা দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসার জন্য চলে যান শহরে।

চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও ওয়ার্ডবয়রা চিকিৎসা এবং ওষুধ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমকে নিয়ে কলাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান হালিমা বেগম। তিনি জানান, তিন দিন ধরে বাচ্চার কাশি, সকাল ১০টার দিকে এসেছেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরকারি ডাক্তার দেখাতে। ১১টার দিকেও ডাক্তারের দেখা পাননি।

বহুমুখী সংকট নিয়েই চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন মেডিক্যাল কর্মকর্তারা।

অবকাঠামোসহ অন্য অসুবিধার কারণে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করছেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস ।

তিনি জানান, এসব এলাকার দরিদ্র মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যা শিগগিরই সমাধানের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন

এক দিনে আরও ১৬৩ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে

এক দিনে আরও ১৬৩ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে

হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী। ফাইল ছবি

হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ১৪০ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ২২৮ জন। এরমধ্যে মারা গেছে ৫৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ১৪০ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ২২৮ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৩ হাজার ৯৮০ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ১৯১ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৮৮ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ১৭ দিনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

এর আগে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০০২ সালে, সেবার ৫৮ জনের মৃত্যু সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যায়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

আরও পড়ুন:
জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার শেষ চালান ২৮ আগস্ট

শেয়ার করুন