বিনা মূল্যে হার্টের ভাল্ব, রিং পাবেন গরিব রোগীরা

বিনা মূল্যে হার্টের ভাল্ব, রিং পাবেন গরিব রোগীরা

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুদানের চেক হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। ছবি: নিউজবাংলা

চেক গ্রহণের পর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় ও গরিব রোগীদের বিনা মূল্যে হার্টের ভাল্ব, রিং ও পেসমেকার কিনতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে এককালীন ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

হৃদরোগের চিকিৎসায় সরকারি পর্যায়ে দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। সারা দেশের রোগীরা এই হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেক রোগীকে ভাল্ব প্রতিস্থাপন কিংবা রিং বসাতে হয়।

আর্থিক সংকটের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পান না। এসব রোগীদের চিকিৎসায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে এককালীন ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া হৃদরোগ হাসপাতালে অনুদানের চেক হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন।

চেক গ্রহণ শেষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নিউজবাংলাকে বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় ও গরিব রোগীদের বিনা মূল্যে হার্টের ভাল্ব, রিং ও পেসমেকার কিনতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে এককালীন ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশের গরিব মানুষের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সবচেয়ে বেশি গরিব রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। এমনকি বিনা মূল্যে সবচেয়ে কম খরচে রোগীরা চিকিৎসা সুবিধা পান। এমন অসহায় রোগীদের জন্য এই টাকা থেকে চিকিৎসা দেয়া হবে।

বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য ১৫০টি ভাল্ব, ১৫০ রিং ও ১০০ পেসমেকার কেনা হবে। এই অনুদান প্রথমবারের মতো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

এগুলো বিতরণ কিভাবে হবে জানতে চাইলে ডা. মীর জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে আগে থেকেই গরীব রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়।

যারা এই সেবার আওতায় আসবে তাদের অবশ্যই এলাকা থেকে চেয়ারম্যান বা স্থানীয় প্রতিনিধিদের থেকে একটি সনদ নিয়ে আসা লাগবে। স্থানীয় প্রতিনিধি লিখে দিবেন সে আসলেই গরিব এবং আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা নিতে পাচ্ছেন না। এছাড়া এবিষয়ে হাসপাতালে তিন সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। তার সবকিছু দেখে এই অনুদান থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিবেন।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরীর পাহাড় নিয়ে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

পরীর পাহাড় নিয়ে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘পরীর পাহাড় প্রশ্নে জটিলতা নিরসনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। যা করলে চট্টগ্রামবাসীর উপকার হবে সেটিই করা হবে।’   

চট্টগ্রামবাসীর সুবিধার দিক বিবেচনা রেখেই পরীর পাহাড় প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয় পরিদর্শনকালে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

তিনি বলেন, ‘পরীর পাহাড় প্রশ্নে জটিলতা নিরসনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। যা করলে চট্টগ্রামবাসীর উপকার হবে সেটিই করা হবে।’

বিরোধ নিরসনে পরীর পাহাড় পরিদর্শনে আসেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের কার্যালয়ে এসেছি। কোনো বিরোধ নিরসনের জন্য আসিনি। এটা করবেন এখানকার নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন বা সরকার। সরকার যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, তখন আমি আসব।’

পরীর পাহাড় নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আইনজীবীরা পরষ্পর মুখোমুখি অবস্থান আছেন। চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি সেখানে নতুন দুটি ভবন তৈরির উদ্যোগ নিলে তা নিয়ে আপত্তি তোলে জেলা প্রশাসন। সমিতির ওই দুই নতুন স্থাপনা নির্মাণকে জেলা প্রশাসন বলছে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। আর সমিতির দাবি, নিয়ম মেনে ‘অনুমোদন’ নিয়েই ভবন করছেন তারা।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন

ইভানার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা

ইভানার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা

ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মানের (বাঁয়ে) নামে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

মামলায় ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।

স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে তার পরিবার।

ইভানার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী শনিবার রাতে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদূত হাওলাদার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ইভানার স্বামীর পাশাপাশি চিকিৎসককে আসামি করার কারণ হলো, তিনি কোনো ডায়গানোসিস ছাড়াই ইভানাকে উচ্চমাত্রার মানসিক ভারসাম্যহীন রোগের ওষুধ দিয়েছিলেন। যে জন্য ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছে।’

ইভানের বাবার অভিযোগ, রুম্মানের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। যা নিয়ে পারিবারিক কলহ ছিল। বিষয়টি নিয়ে ইভানাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগের নবাব হাবিবুল্লাহ রোডে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পেছনে) দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

ইভানা লায়লা চৌধুরী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। ছেলের বয়স ৮ আর মেয়ের বয়স ৬।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন

‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’

‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জড়িত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লগো

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখলাম, একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। প্রতিযোগিতা কমিশন দ্রুততার সঙ্গে এই বিষয়ে কাজ করবে।’

মোবাইল ব্যাংকিং খাতে দ্রুত শৃঙ্খলা না ফেরালে এ খাতের পরিণতি হবে ই-কমার্সের মতো। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সার্ভিস চার্জ আরও কমিয়ে কিভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা আনা যায় এবং ছোট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা যায় সে ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ‘মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন মো. মফিজুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক।

মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিযোগিতা কমিশন আইন ২০১২ সালে হলেও আমরা ২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করেছি। তবে এখনও আমাদের লোকবল ও কর্মযজ্ঞে অনেক ঘাটতি। মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় আমরা জানতাম দশটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। কিন্তু পরে মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখলাম, একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। প্রতিযোগিতা কমিশন দ্রুততার সঙ্গে এই বিষয়ে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘সার্ভিস চার্জ যাতে জনগণের সাধ্য ও সামর্থ্যের মধ্যে থাকে এ বিষয়টিও আমরা দেখবো। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় যেহেতু এ খাতে রেগুলেটরি তাই তাদেরই এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা দরকার।’

‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
‘মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুভ্রত রায় মৈত্র বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং খাতে আমরা শুধু নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিশন সেবা দেই। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি করার সময় ১ জনের আইডি ব্যবহার করে অন্যজন সিম ব্যবহার করার কারণে কিছু অ-নিরাপত্তা এখনও রয়েছে। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সার্ভিস চার্জ আরও কমিয়ে আনা যায় কিভাবে সে ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সকলকেই ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ বলেন, ‘কমিশনগুলো নিজেরা শক্তিশালী না হবার কারণে দাঁত, নখবিহীন কমিশনে পরিণত হয়েছে। একচেটিয়া বাজার আধিপাত্য রোধ করতে প্রতিযোগিতা কমিশনকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে যদি ২৫ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা কোন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে গ্রাহকদের ভেতর সমন্বয় না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানি ও বাজারে মনোপলি ও মুনাফাখোররা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি কোম্পানি কিভাবে একক আধিপাত্য বিস্তার করল এবং উচ্চ মূল্যের সার্ভিস চার্জ আদায় করল এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কি তাও ভেবে দেখা দরকার।’

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারা অপারেটররাসহ আরও নতুন নতুন বিনিয়োগ এ খাতে আনা জরুরি।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশে একটি মোবাইল অপারেটর ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ নিতো। সেটি কমে এখন ৪৫ পয়সা হয়েছে। কেবলমাত্র অন্যান্য অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তাই মোবাইল ব্যাংকিং খাতেও প্রতিযোগিতা আনা গেলেও এর সার্ভিস চার্জ দ্রুত কমে আসবে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজির হোসাইন বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা দ্রুত ফিরিয়ে আনা না গেলে এর পরিণতি হবে ই-কমার্সের মতো। বাজারে দ্রুত আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার মধ্যে এনে সার্ভিস চার্জ কমিয়ে কিভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা আনা যায় এবং ছোট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা যায় এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশনকেই ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মহোদয়ের ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন করতে হলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সার্ভিস চার্জ কমিয়ে আনা ও বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টির বিকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন

৭০ বছর পর মা-ছেলের দেখা

৭০ বছর পর মা-ছেলের দেখা

বাঞ্ছারামপুরের আশ্রাফবাদ গ্রামে শনিবার ৮০ বছর বয়সী কুদ্দুস তার মা মঙ্গলুন্নেছার কাছে ফেরেন। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার মায়ের কোলে ফিরে আসা কুদ্দুছ বলেন, ‘এতগুলো বছর পর হারিয়ে যাওয়া মাকে ফিরে পেয়েছি, সে আনন্দ মুখের ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। মারা যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটানোর ইচ্ছা ছিল, আজ সেটি পূরণ হয়েছে।’

শিশুকালে হারিয়ে যাওয়া কুদ্দুছ ৭০ বছর পর মায়ের সন্ধান পেয়েছেন।

শনিবার ৮০ বছর বয়সী কুদ্দুছ তার মা মঙ্গলুন্নেছার কাছে ফেরেন। মায়ের বয়স এখন ১১০ বছর। মা-ছেলে দুজনেই একে অপরকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে তাদের দেখা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাফবাদ গ্রামে মা-ছেলের সাক্ষাতের দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান আশপাশের অনেক নারী-পুরুষ।

কুদ্দুছ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামের কালু মুন্সির ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে কুদ্দুছ সবার বড়। তার দুই বোনের মধ্যে জোৎস্না আক্তার মারা গেছেন। কুদ্দুছ মুন্সির সাত বছর বয়সে তার বাবা কালু মুন্সি মারা যান। মঙ্গলুন্নেছা ১০ বছর বয়সী কুদ্দুছকে লেখাপড়া করাতে পাশের বাড়ির জামাই নবীনগর উপজেলার পুলিশ সদস্য আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে রাজশাহীর আত্রাই উপজেলায় পাঠান। সেখান থেকে কুদ্দুছ হারিয়ে যান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুদ্দুছ হারিয়ে যাওয়ার পর আত্রাই উপজেলার সিংশাইর গ্রামের সাদেক মিয়ার নিঃসন্তান স্ত্রী তাকে লালন-পালন করেন। ৩০ বছর বয়সে বাগমারা উপজেলার সবেদ মিয়ার মেয়ে শুরুজ্জাহাসকে বিয়ে করে সেখানেই জীবনযাপন করছিলেন কুদ্দুছ মুন্সি। গত ১২ এপ্রিল আত্রাই উপজেলার সিংশাইর গ্রামের এমকে আইয়ূব নামের এক ব্যক্তি কুদ্দুছের হরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেন।

৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে আপলোড হওয়া ভিডিওর মাধ্যমে আইয়ূবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কুদ্দুছের সঙ্গে দেখা করেন চাচাতো ভাইয়ের নাতি শফিকুল ইসলাম। কুদ্দুছের সঙ্গে তার মাকে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথোপকথনের ব্যবস্থা করে দেন শফিকুল। কুদ্দুছের বাম হাতের কাটা দাগ দেখে চিনতে পারেন মা।

শনিবার মায়ের কোলে ফিরে আসা কুদ্দুছ বলেন, ‘এতগুলো বছর পর হারিয়ে যাওয়া মাকে ফিরে পেয়েছি, সে আনন্দ মুখের ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। মারা যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটানোর ইচ্ছা ছিল, আজ সেটি পূরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়ার পর রাজশাহীর আত্রাই উপজেলার সিংশাইর গ্রামের সাদিক মিয়ার স্ত্রী আমাকে ছেলের মতো লালন-পালন করেন। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছি। অনেকবার মা ও বোনদের খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি। মায়ের কোল যে কতটা শান্তির, তা ভাষায় প্রকাশের নয়। বাকিটা জীবন মাকে নিয়ে কাটিয়ে দিব।’

কুদ্দুছের ছেলে হাফেজ সোহেল মুন্সি বলেন, ‘দাদিকে দেখতে পাওয়া ছিল খুবই অকল্পনীয়। পূর্বে বাবার জন্য প্রায়ই খারাপ লাগত। দাদির কথা চিন্তা করে কষ্টে অনেক কান্নাকাটি করেছে। তবে সেই দূরত্বের আজ অবসান ঘটেছে। আজকে মা-ছেলের মিলনে সকলের চোখজুড়েই সুখের কান্না। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে দাদাকে ফিরে পেলাম। ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দেয়ার সময় বড় দাদি মঙ্গলুন্নেছা শুধু একটি কথাই বলেছেন, কুদ্দুছ তুই আয়।’

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন

‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ

‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা করছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফাইল ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘গুলাব’ ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িশ্যায় আগামীকাল রোববার বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে এটির আসার আশঙ্কা খুবই কম। তবে তার প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামে আঘাত হানবে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা খুবই কম বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামটি পাকিস্তানের দেয়া, যার ইংরেজি নাম রোজ; বাংলায় যার অর্থ গোলাপ ফুল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘গুলাব’ ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িশ্যায় আগামীকাল রোববার বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে এটির আসার আশঙ্কা খুবই কম। তবে তার প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।’

রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টি রোববারও হবে জানিয়ে আব্দুর রহমান বলেন, ‘‘ঢাকায় শনিবার ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি নিম্নচাপের প্রভাবেই হয়েছে। ‘গুলাবের’ কারণে এখনও ভারী বর্ষন হয়নি কোথাও। সমুদ্রবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে। তবে গতিবিধি অনুযায়ী পরে সংকেত দেয়া হতে পারে।’’

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি শনিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ শনিবার পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে রোববার দক্ষিণ ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া তেলেঙ্গনা, চত্তিশগড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ বেশি। মাছ ধরার ট্রলারকে সোমবার পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যেতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন

কুমার নদে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল

কুমার নদে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল

সাঈদ নামে একজন বলেন, ‘বর্তমানে নৌকাবাইচ খুব কম দেখা যায়। তাই নৌকাবাইচের কথা শুনে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে এবং আনন্দ পেয়েছি। আমি চাই আমাদের রাজৈরে নৌকাবাইচের আয়োজন আরও করা হোক।’

মাদারীপুরের রাজৈরে কুমার নদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।

উপজেলার আমগ্রাম ব্রিজসংলগ্ন নদ এলাকায় নৌকাবাইচকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাংলা ও বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির প্রাচীনতম এ উৎসব উপভোগ করতে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-নির্বিশেষে মেতে ওঠেন আনন্দ-উল্লাসে। নদের পাড়ে বসে হরেক রকমের খেলনা ও মিষ্টির পসরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার বিকেলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজৈরে কুমার নদের পাড়ের স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর নৌকাবাইচ। এ সময় কুমার নদের পাড় পরিণত হয় রাজৈরসহ আশপাশের শত শত মানুষের মিলনমেলায়। প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে।

শুক্রবার বিকেলে শুরু হয়ে নৌকাবাইচ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। উৎসবমুখর এ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার দলপতির হাতে পুরস্কার তুলে দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা দেখতে আসা লোকজন ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।

আয়োজক কমিটির সদস্য রাজৈর পৌরসভা কাউন্সিলর উজির মিয়া বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। করোনা মহামারি ও লকডাউনের জন্য রাজৈরবাসী দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিল। তাদের বিনোদন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমরা ৯ কাউন্সিলর।’

আরেক কাউন্সিলর সুলাইমান বলেছেন, ‘গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এ কারণে আমরা এই নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নৌকাবাইচের আয়োজন করব।’

নৌকাবাইচ দেখতে এসে স্নিগ্ধা নামের একজন বলেন, ‘আমি এর আগে কখনও নৌকাবাইচ দেখিনি। প্রথম দেখলাম। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।’

স্বর্ণা নামের একজন বলেন, ‘প্রতিযোগিতার কথা শুনে অনেক দূর থেকে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে নৌকাবাইচ।’

সাঈদ নামে একজন বলেন, ‘ বর্তমানে নৌকাবাইচ খুব কম দেখা যায়। তাই নৌকাবাইচের কথা শুনে আমি এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, আনন্দ পেয়েছি। আমি চাই আমাদের রাজৈরে নৌকাবাইচের আয়োজন আরও করা হোক।’

সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘প্রতিবছর এ আয়োজন ধরে রাখতে সহযোগিতা করব। ঐহিত্য ধরে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সে হিসেবে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের আরও আয়োজন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন

বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য

বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য

তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে এক ওয়েবিনারে বলা হয়, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে, সে হারে হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। এ ছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুব সমাজের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হলেও এখনও বাস্তবায়নে রয়েছে জটিলতা। সুফল পেতে পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। 

দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই যুবসমাজ। কিন্তু কর্মসংস্থানের সঙ্গে মিলছে না মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব। এখনও শিক্ষা এবং কাজের ধরনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ফলে তরুণদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হচ্ছে চাকরির বাজার।

এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোতে নিয়ে আসা দরকার।

শনিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনার মূল প্রবন্ধে এমন তাগিদ উঠে আসে।

ওয়েবিনার তরুণদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও শ্রম উৎপাদনশীলতা, আয় এবং দারিদ্র্য সম্পর্কিত সমস্যা ও নীতি এবং বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন কৌশল আলোচনা করা হয়।

বলা হয়, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে, সে হারে হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। এ ছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুব সমাজের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হলেও এখনও বাস্তবায়নে রয়েছে জটিলতা। তাই সুফল পেতে পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের সিনিয়র গবেষণা সহযোগি ইশরাত শারমীন।

সানেমের সিনিয়র গবেষণা সহযোগি ইশরাত হোসাইনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।

নাসিমা বেগম বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং এর অধীনে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। নীতি নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে বাল্য বিয়ে বেড়ে গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। এসব ব্যাপারে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির ফলে এই খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং এই খাতের সৎ তরুণ উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।’

ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ের জনমিতি পার করছে। এর সুবিধা ভালোমতো নিতে আমাদের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামজিক নীতিও গ্রহণ করে দুটির সমন্বয় করতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শুধু সরকার নয়, সুশীল সমাজ ও গবেষকরাও ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণদের সামাজিক আন্দোলন এবং তরুণ নারীদের জন্য সমতা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।’

মূল প্রবন্ধে ইশরাত শারমীন বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এমন সময় বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যখন দেশ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য কোভিডের কারণে আশংকার সম্মুখীন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ও নির্মাণখাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। তৃতীয়ত, অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারুণ্যের প্রত্যাশা থাকবে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন, বেকারদের জন্য বিমা প্রকল্প প্রণয়ন, বাল্য বিয়ে, শিশু শ্রম ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে বিদ্যমান বৃত্তি প্রদান প্রকল্পগুলোর আওতা বৃদ্ধি। সেই সাথে শ্রম বাজারে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে।

জাগো ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক এশা ফারুক বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের মধ্যে অসামঞ্জস্যের কারণে যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দেশে উদ্যোক্তা তৈরি হলেও তারা টিকে থাকতে পারছে না, কারণ তাদের দক্ষতা থাকলেও যথাযথ অংশীজনের সাথে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হচ্ছে না। ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। সে জন্য উন্নত মানের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা দরকার।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাজমুল আহসান বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও তা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যুব অধিদপ্তরের জন্য বাজেট অত্যন্ত নগণ্য, যার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য যথেষ্ট কর্মসূচি হাতে নেয়া সম্ভব হয় না। প্রযুক্তিগত বিভাজন কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ব্যাপারেও তিনি জোর দেন।

ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) যুগ্ম পরিচালক ফাল্গুনি রেজা জানান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তরুণদের যে দাবি আছে, সেটা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।

ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের অপারেশনস লিড সামাঞ্জার চৌধুরী বলেন, দেশে চাকরিপ্রার্থী তৈরি হলেও চাকরি তৈরি হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা শ্রমবাজারের জন্য তৈরি নন। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতার ম্যানেজার মরিয়ম নেসা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া যে স্বপ্নকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তরুণদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার বিভিন্ন অংশকে চিহ্নিত করে সকলের চাহিদা পূরণের জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

আরও পড়ুন:
ময়মনসিংহের ১০৫ অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মী পেলেন অনুদান
সংকটে থাকা নন-এমপিও শিক্ষকরা পাচ্ছেন অনুদান
অনুদানপ্রাপ্তদের কার সিনেমা কেমন
অ্যাথলেট জহিরকে লক্ষ টাকা অনুদান হুইপ আতিকের
প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেল মারুফের পরিবার

শেয়ার করুন