শাটডাউন উঠলেও কমছে সংক্রমণ

শাটডাউন উঠলেও কমছে সংক্রমণ

করোনা সংক্রমণ কমে আসায় তুলে নেয়া হয় শাটডাউন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। এটা প্রত্যাশিত ছিল। জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রতিদিন ২০০-এর ওপরে ছিল মৃত্যু। এই মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে লকডাউন দেয়া হয়। সেই লকডাউনের ফলাফল আমরা এখন পাচ্ছি। প্রথমে সংক্রমণ কমেছে, এরপর মৃত্যু কমে এসেছে।’

দেশে ধীরে ধীরে করোনার সংক্রমণ কমছে। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিদিন মৃত্যু সংখ্যা ২৬৪ থেকে কমে ১২০ জন দাঁড়িয়েছে। এটি গত ৫২ দিনের মধ্যে এক দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যুর রেকর্ড।

একই সঙ্গে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১৬ হাজার থেকে কমে ৩ হাজারের ঘরে নেমে এসেছে। এ সময়ের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, গেল এক মাসের কঠোর লকডাউনের ফল এটি। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আগামী মাসের শুরুতে গিয়ে আবার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি। গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুটিই কমে আসে। এক পর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি।

তবে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে করোনার নতুন ধরনের কথা জানা যায়। সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের দ্রুত অসুস্থ করে দেয়, তাদের অক্সিজেন লাগে বেশি। ছড়ায়ও দ্রুত, তাই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। যে কারণে জুলাই মাসে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই মাসে রোগী শনাক্তের সংখ্যা তিন লাখের অধিক। মৃত্যু হয় ৭ হাজার বেশি। জুলাইয়ের শেষ দিকে কিছুদিন শনাক্তের হার ৩১ শতাংশের বেশি ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শনিবার দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ৫২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৯৯১ জনের শরীরে।

দেশে এই নিয়ে শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ১৪৩ জনের। এর আগে এক দিনে কম শনাক্তের খবর আসে গত ২০ জুন। সেদিন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৪১। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৮২টি। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণ মৃত্যু ও সংক্রমণ কমে এলেও আগস্ট মাসের শেষে ভয়াবহ রূপে এটি ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি ও টিকা নেয়ার ওপর জোর দিতে হবে।

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। এটা প্রত্যাশিত ছিল। জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রতিদিন ২০০-এর ওপরে ছিল মৃত্যু। এই মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে লকডাউন দেয়া হয়। সেই লকডাউনের ফলাফল আমরা এখন পাচ্ছি। প্রথমে সংক্রমণ কমেছে, এরপর মৃত্যু কমে এসেছে।’

তবে এখন যে লকডাউন খুলে দেয়া হয়েছে, এর প্রভাবে ভবিষ্যতে সংক্রমণ আবার বাড়বে বলে মনে করেন ডা. মুশতাক। তিনি বলেন, ‘এটার প্রভাব আমার আগস্ট মাসের শেষের দিকে পাবে। তিন সপ্তাহ পর আবার মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়বে- এটা বলাই যায়।’

তিনি বলেন, বিধিনিষেধ সারা জীবন পালন করতে হবে, এমন নয়। তবে সংক্রমণ হওয়ার স্থানগুলোতে অবশ্যই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ কারণে ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে করোনা আক্রান্ত এলাকাগুলোকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। অনেকেই করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন, কিন্তু পরীক্ষা করাচ্ছেন না। অবস্থা জটিল হলে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। এমন করা যাবে না। প্রতিটি রোগীকে শনাক্তের ব্যবস্থা করতে হবে।

জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘সংক্রমণ কমে আসার পেছনে একটা বড় কারণ লকডাউন। যদিও লকডাউন ভালোভাবে পালন করা হয়নি, তবু লকডাউনের কারণে মানুষের অবাধ চলাচল ছিল না সড়কে। গত এক মাস কঠোর লকডাউনের ফলে এই মৃত্যু কমে এসেছে। আমরা লকডাউন তুলে ফেলেছি। দেখছি, মানুষের মধ্যে এখন স্বাস্থ্যবিধি মানায় উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই অফিসের ছুটিতে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরতে যাচ্ছেন এবং কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এভাবে চললে আবার মৃত্যু ও সংক্রমণ বেড়ে যাবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বেস্ট রিটেইল অর্গানাইজেশন অফ দ্য ইয়ার’ জিতল স্বপ্ন

‘বেস্ট রিটেইল অর্গানাইজেশন অফ দ্য ইয়ার’ জিতল স্বপ্ন

‘মোস্ট সাসটাইনেবল রিটেইল ইনিশিয়েটিভ’, ‘বেস্ট একুইজিশন স্ট্যাটেজি’ ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার জিতে নিয়েছে স্বপ্ন। এবারই প্রথম বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২১’ শীর্ষক অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি আয়োজিত হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করার পর জুরি বোর্ড ২৩ অক্টোবর রাতে এই পুরস্কার ঘোষণা করে।

মর্যাদাকর ‘বেস্ট রিটেইল অর্গানাইজেশন অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় চেইন সুপারশপ ‌‘স্বপ্ন’। এই পুরস্কার ছাড়াও ‌‘মোস্ট সাসটাইনেবল রিটেইল ইনিশিয়েটিভ’, ‘বেস্ট একুইজিশন স্ট্যাটেজি’ ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার জিতে নিয়েছে ‌স্বপ্ন।

এবারই প্রথম বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২১’ শীর্ষক অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি আয়োজিত হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করার পর জুরি বোর্ড ২৩ অক্টোবর রাতে এই পুরস্কার ঘোষণা করে।

অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েট পার্টনার ছিল দ্য ডেইলি স্টার। অনুষ্ঠানে অন্যান্য পার্টনার হিসেবে আরও ছিল ওয়ার্ল্ড রিটেইল ফোরাম, রিটেইল স্টোর টুরস (স্ট্যাটেজিক পার্টনার), এমএসবি (নলেজ পার্টনার), আমরা (টেকনোলজি), ব্যাক পেইজ পিআর।

এর আগে বিশ্বের ১৭টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ জিতে ‘(এএমএফ) ৬ষ্ঠ এশিয়া মার্কেটিং এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। যা এশিয়ার ‘মার্কেটিং কোম্পানি অফ দ্য ইয়ার ২০২০’ নামে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য, ‘স্বপ্ন’ তাদের যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালে। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে ‘সুপারস্টোর’ বিভাগে পর পর ৫ বার বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৯ এবং ২০২০ সালে পরপর দুই বছর সব ক্যাটাগরির মধ্যে দেশের প্রথম ১০টি ব্র্যান্ডের মধ্যে স্থান করে নিতে পেরেছে ‘স্বপ্ন’। এছাড়া সুপার ব্র্যান্ড বাংলাদেশের অধীনে ২০১৮ এবং ২০২০-২১ সালে ‘সুপার ব্র্যান্ড’ হিসেবে পুরস্কার জিতেছে ‘স্বপ্ন’।

শেয়ার করুন

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

স্থানীয়রা জানান, আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইয়েরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু জাফর শরীফ নামের এক যুবক চাচাতো ভাইদের হাতে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের গুড়িয়া গ্রামে শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ৩৮ বছর বয়সী আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইয়েরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

জাফরের ভাই তোফাজ্জেল শরীফ বলেন, ‘চাচাতো ভাই জামাল শরীফ ও আবুল শরীফের কাছে আমার ভাই জাফর কিছু জমি বিক্রয় করে। সেই জমি দলিল করার সময় তারা ভেন্ডারের মাধ্যমে বাড়ির দাগের জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সবকিছু জেনে আবু জাফর বাড়ির দুই পরিবারের লোকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন চাচাতো ভাইয়েরা জাফরকে তাদের ঘরের নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পরে রক্তাক্ত অবস্থায় জাফরকে বৈঠকের রুমে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সত্যরঞ্জন খাসকেল এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন

ফাইল ছবি

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরহাদ জানান, সাতারকুল জিএম বাড়ি এলাকায় ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।

শনিবার রাত ১০টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরহাদ জানান, সাতারকুল জিএম বাড়ি এলাকায় ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে ফরহাদ হোসেন প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

শেয়ার করুন

‘গুজব ছড়ানোয়’ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

‘গুজব ছড়ানোয়’ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাজির হোসেন ইমরান। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে ইমরান জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালান। পরে ওই পোস্ট ডিলিট করে আত্মগোপনে চলে যান।

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকা থেকে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নাজির হোসেন ইমরান বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যে ইমরান ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছিলেন।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে ইমরান জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালান। পরে ওই পোস্ট ডিলিট করে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব তাকে আটক করে।

এরপর র‍্যাব তাকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে হস্তান্তর করেন।

শেয়ার করুন

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, 
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।

বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে বিকেলে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া বিল্লাল হোসেন। তার দাবি, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। আর এর আগে তিনি যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন।

তবে মানববন্ধনে বক্তারা জানান, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে অর্থের মাধ্যমে হাত করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিৎ রায়ের মদদপুষ্ট হয়ে বিল্লাল হোসেন আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে উঠেছেন।

এভাবেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বিল্লালকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। এখন রাজাকারের ছেলে যদি নৌকা প্রতীক পান তবে আওয়ামী ইজ্জত বলে কিছু থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘারপাড়াসহ রায়পুরে শান্তি কমিটির প্রভাবশালী নেতা ছিল রাজাকার মোহাম্মদ আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানুষের বাড়িতে ডাকাতির সাথে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে সে।

‘সেই রাজাকারের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তার পরিবারও রাজাকার। বর্তমানে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পায়তারা করছে।’

রাজাকারের সন্তানের পরিবর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের নৌকা প্রতীক দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, ইয়াকুব আলী, ডা. ইরাদত আলী, হাফিজুর রহমান, আলী বক্স, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান, রিপন হোসেন ও মাসুদুর রহমান রাজু।

অভিযোগের বিষয়ে বিল্লাল হোসেন জানান, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। সে সময় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন ছড়িয়ালা আজিজ। পরে সভাপতি হন মৌলভী আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৬ সালে ভোটের মাধ্যমে জিতে রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। আমি এরশাদের সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। এর আগে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলাম।’

তবে বিল্লাল হোসেন যাদের রাজাকার কমান্ডার বলছেন কীসের ভিত্তিতে বলেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে শুনেছি।’

শেয়ার করুন

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সভায় দেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।

জলবায়ুজনিত ক্ষতির প্রভাব কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুত অর্থ দিচ্ছে না শিল্পোন্নত দেশগুলো। এ জন্য আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনে জলবায়ু তহবিল বা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপম্যান্ট’ (সিপিআরডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবি করেন।

ইউএনসিসিসি’র ২৬তম জলবায়ু সম্মেলন অর্থাৎ ‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক ওই সভায় কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন অংশ নেয়।

সভায় অংশ নেয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলো দায়ী হলেও এর ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ ক্ষতি কমাতে শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখছে না। আগামী কপ-২৬ সম্মেলনে এই তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ অব্যাহত প্রতিশ্রুতির বাস্তয়নে জোর দিতে হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ২০৩০ সালের মধ্যে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বকে ২০৪০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। কপ-২৬ সম্মেলনেই এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।’

শামসুদ্দোহা জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধরিত্রী সরকার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা থাকলেও উন্নত বিশ্ব তা প্রাক-শিল্প বিপ্লব সময়ের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যথাযথ সঠিক এনডিসি ডকুমেন্টই পারে এই বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।’

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে সরকার, গবেষক, নীতি-নির্ধারক এবং নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, ‘অসছে সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশ কাটিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে এই অপচেষ্টাকে মোকাবিলা করতে হবে।’

সিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গির হাসান মাসুম বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব কার্বন নির্গমণ কমানোর বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন ইস্যুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলো যদি কার্বন নির্গমন কমানোর উপরই মূল চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতো তাহলে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন রকম থাকত।’

শেয়ার করুন

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারের বরাতে আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রাজাশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের আদালতে শনিবার বিকেলে তোলা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ৫০ বছরের মনিরুল ইসলাম, ৬৮ বছরের কলিম উদ্দিন, ২৫ বছরের আব্দুল মতিন ও আব্দুল মমিন, ২০ বছরের ফয়সাল আহমেদ, ৩৫ বছরের আজাহার আলী, ৪২ বছরের আবু বক্কর, ৩০ বছরের আব্দুর রব, ৩৪ বছরের উজ্জ্বল হোসেন, ৩৫ বছরের আব্দুল হালিম, ৫০ বছরের ওবেদ আলী ও ৬১ বছরের আবুল হোসেন। তারা সবার বাড়ি পবা উপজেলায়।

এসব নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

পরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক রেজাউল করিম কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন