করোনায় লক্ষ্মীপুরের কাউন্সিলরসহ ২ জনের মৃত্যু

করোনায় লক্ষ্মীপুরের কাউন্সিলরসহ ২ জনের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন আক্রান্তের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৮, রায়পুরে ১০, রামগঞ্জে ৪৩ জন, কমলনগরে ৩ ও রামগতির ৭ জন রয়েছেন। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ জন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে এক দিনে লক্ষ্মীপুরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্য ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান উদ্দিন।

রায়হান উদ্দিন ঢাকার আনোয়ার খান মর্ডান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোররাতে মারা যান। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে অন্য আরেকজনের মৃত্যু হয়।

৬০ বছর বয়সী রায়হান উদ্দিনের বাড়ি পৌরসভার মজুপুর এলাকায়। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আরেকজনের বাড়ি সদর উপজেলায়।

এর আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কাউন্সিলর রায়হান উদ্দিন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার সদর হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়।

জেলা সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২০ শতাংশ।

এর আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ১৩ শতাংশ। গড়ে জেলায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন আক্রান্তের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৮, রায়পুরে ১০, রামগঞ্জে ৪৩ জন, কমলনগরে ৩ ও রামগতির ৭ জন রয়েছেন। একই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ জন।

বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৬১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৯ জন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ১০০ জনের বেশি মানুষ। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ হাজার ১৭৯ জন।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেঙ্গুতে চার সপ্তাহে ১৯ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে চার সপ্তাহে ১৯ মৃত্যু

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন। এতে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৯০ জনে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের।

চলতি মাসের চার সপ্তাহে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে মোট ভর্তি হওয়া রোগী ৭ হাজার ৪৩৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগী দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৯০ জনে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ১৬৭ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৭১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছেন ৯৫৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৩৬ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। আগের সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়। আর চলতি মাসের চার সপ্তাহে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন

দেশে ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা

দেশে ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা

ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে মালদ্বীপিয়ান এয়ারের একটি কার্গো বিমানে মঙ্গলবার ভোর ৫টায় টিকার চালানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। টিকা গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিএমএসডি ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা দেশে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে মালদ্বীপিয়ান এয়ারের একটি কার্গো বিমানে মঙ্গলবার ভোর ৫টায় টিকার চালানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। টিকা গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিএমএসডি ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে জার্মানির মিউনিখ হয়ে মালদ্বীপিয়ান এয়ারে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় আরও ২৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছেছে।

এর আগে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ ফাইজারের টিকা দেয় বাংলাদেশকে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্নার ভ্যাকসিনসহ ক্রয়কৃত ও কোভ্যাক্স ফাসিলিটিজের আওতায় এ পর্যন্ত দেশে মোট টিকা এসেছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৪০ ডোজ।

এ ছাড়া চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে ৬ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি মাস থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি ডোজ করে টিকা দেশে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে আরও সাড়ে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনসহ মোট ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন

দেশে জলাতঙ্কে মৃত্যু কমেছে ৭০ শতাংশ

দেশে জলাতঙ্কে মৃত্যু কমেছে ৭০ শতাংশ

জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু অনিবার্য হলেও এ রোগ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো সমাধান কুকুরে নিয়মিত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান। সেই টিকা কার্যক্রমে গতি বাড়িয়েছে সরকার।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা রিজিয়া বেগম এক মাস আগে বাড়ির পোষা বিড়ালের আঁচড় খেয়েছিলেন। জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে দেশের সবচেয়ে বড় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যান তিনি। চিকিৎসকের পরার্মশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাও নেন।

রিজিয়া বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খাবার দিতে গিয়ে পোষা বিড়াল আঁচড়ে দেয়। হাসপাতালের চিকিৎসক এক ডোজ টিকা দিয়েছেন। আরও তিন ডোজ টিকা দিতে হবে।’

জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। কুকুর ও বিড়ালে কামড় দিলে আগে গ্রামের মানুষ চিকিৎসকের কাছে আসত না। যেত ঝাড়ফুঁক করা কবিরাজের কাছে। এখন সেই চিত্রের পরিবর্তন এসেছে। সেই সঙ্গে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে সরকারের টিকা কার্যক্রমের গতি বেড়েছে। ১০ বছরে জলাতঙ্কে মৃত্যুর হার কমেছে ৭০ শতাংশ।

জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির তথ্য বলছে, ২০১১ সালে সারা দেশে কুকুরের আঁচড় বা কামড়ের শিকার হন ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪৪ জন মানুষ। এর মধ্যে জলাতঙ্কে মারা যান ৮২ জন। একই সময়ে ৪৫ হাজার ৬৫৫টি কুকুরকে টিকা দেয়া হয়।

এরপর থেকে কুকুরের জলাতঙ্ক টিকাদান বাড়ানোর ওপর জোর দেয়ায় কমতে থাকে মৃত্যু। গত বছর ২০২০ সালে ২৬ জন মারা যায় জলাতঙ্কে। সে হিসেবে ১০ বছরে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ কেমেছে।

এ বছরের শুরু থেকে জুন পর্যন্ত জলাতঙ্কে প্রাণ গেছে ১১ জনের।

এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু অনিবার্য হলেও এ রোগ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো সমাধান কুকুরে নিয়মিত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান। সেই টিকা কার্যক্রমে গতি বাড়িয়েছে সরকার।

গবেষণা বলছে, জলাতঙ্ক আক্রান্তদের ৭০ ভাগই পুরুষ। আবার আক্রান্তদের ৪৭ ভাগ শিশু, যাদের বয়স ১৫ বছরের কম। আক্রান্তদের ৮২ ভাগই গ্রামে থাকেন এবং ৯০ ভাগ কুকুরের কামড়ে সংক্রমিত। বিড়াল, শেয়াল ও বেজি দ্বারা সংক্রমিত জলাতঙ্কের হার যথাক্রমে ৬ শতাংশ, ৩ শতাংশ ও ও ১ শতাংশ। প্রাণীর কামড়ে আক্রান্তের হার ৯৫ শতাংশ এবং আঁচড়ে ৫ শতাংশ।

দেখা গেছে, আক্রান্তদের ৭৮ ভাগই আধুনিক চিকিৎসা নেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৯৬ শতাংশ জলাতঙ্ক সংক্রমণের জন্য কুকুর দায়ী। কুকুর নিধন নয়, তাদের গণহারে টিকা প্রদান, অভিভাবকত্ব প্রসারণ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের প্রধান সমাধান।

মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুকুর-বিড়ালের আঁচড় ও কামড় খেয়ে অনেক রোগী ভিড় করছেন এই হাসপাতালে। আগের তুলনায় চাপ কমলেও রোগী সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে দৈনিক ৫০০ এর বেশি রোগী আসছেন সেবা নিতে। জরুরি বিভাগের পাশেই জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন। অনেকে প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে, আবার অনেকে বিভিন্ন ল্যাবে কাজ করায় সচেতনভাবে টিকা নিতে এসেছেন।

হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১১ সাল থেকে এ বছরের মে পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৪৭ জন জলাতঙ্কের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের মে পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন ২৬ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, গত দশ বছরে এই হাসপাতালে জলাতঙ্কে মৃত্যু কমেছে ৮১ শতাংশ। ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ ১০৯ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর মারা যায় ২০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১০ সালের আগে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে হয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতেন। দশ বছর পর সেই সংখ্যা ৭০ শতাংশ কমে এসেছে। এ বছর জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০, গত বছরে ছিল ২৬ এবং তার আগের বছর ২০১৯ সালে ছিল ৫৭ জন।

দেশে জলাতঙ্কে মৃত্যু কমেছে ৭০ শতাংশ

অসচেতনতা, দারিদ্র্য, রাস্তায় উদ্বাস্তু কুকুরের সংখ্যাধিক্য এবং পোষা কুকুরের টিকা নিশ্চিতকরণে অবহেলার কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে এখনও বেশি। অর্থনৈতিক ক্ষতি, উচ্চমাত্রার স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মৃত্যুহার বিবেচনায় জলাতঙ্কে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বছরে ৪ লাখের বেশি মানুষ কুকুর, বিড়াল, শেয়াল ও বানরের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়, যাদের বেশির ভাগই ১৫ বছর বয়সের নিচের শিশু।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১০ সালের আগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই হাজার মানুষ জলাতঙ্কে প্রাণ হারাত। গবাদি প্রাণীর মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান এখনও অজানা। আনুমানিক সংখ্যা ২৫ হাজার, যার অর্থনৈতিক মূল্য অপরিসীম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্কমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০২০ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশে এক রাউন্ড ব্যাপক হারে কুকুর টিকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ছয়টি জেলার সকল উপজেলায় তিন রাউন্ড এবং ১৬টি জেলায় দুই রাউন্ড টিকার কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এভাবে টিকাপ্রাপ্ত মোট কুকুরের সংখ্যা ২১ লখ ৩৮ হাজারেরও বেশি। এ ছাড়া জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র রয়েছে ৬৭টি। এসব কেন্দ্রে প্রতিবছর বিনা মূল্যে ৪ লাখের বেশি রোগীকে টিকা দেয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্যাপক হারে টিকাদান নিশ্চিত করলে মানুষ ও কুকুর উভয়ই নিরাপদ থাকবে। তবে প্রাথমিক লক্ষণ দেখে কুকুরে জলাতঙ্ক সংক্রমিত হয়েছে কি না বোঝা অনেক কঠিন। এ জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু অনিবার্য হলেও এ রোগ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। এই রোগ প্রতিরোধের সর্বোৎকৃষ্ট সমাধান কুকুরে নিয়মিত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান। জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে ৭০ ভাগকে কুকুরকে টিকার আওতায় আনা গেল সব কুকুরের শরীরে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ফলে জলাতঙ্ক ভাইরাস কুকুর থেকে কুকুরে কিংবা মানুষে সংক্রমিত হতে পারে না।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন

ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দ্বিগুণ টিকা

ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দ্বিগুণ টিকা

মঙ্গলবার ৮০ লাখ টিকা দেয়ার যে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, সেজন্য কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে টিকাদানের সরঞ্জাম। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে সারা দেশে ৮০ লাখ টিকা দেয়ার কার্যক্রম নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী গণটিকায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রে টিকার বরাদ্দ দ্বিগুণ করার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সঙ্গে এসএমএস ছাড়া কেন্দ্রে আসতে বারণ করা হয়েছে।

গত ৭ থেকে ১৪ আগস্ট গণটিকা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিদপ্তর।

সে সময় কেন্দ্রগুলোতে পর্যান্ত টিকার বরাদ্দ না থাকায় টিকাপ্রতাশীদের ভিড় ও ভোগান্তি ছিল চরমে। অনেকেই রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। এমনকি এসএমএস ছাড়াও বিপুল সংখ্যক মানুষ টিকাকেন্দ্রে ভিড় করে।

তেমন পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এমন ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে সারা দেশে ৮০ লাখ টিকা দেয়ার কার্যক্রম নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এবং ১ হাজার ৫৪টি পৌরসভার ৪৪৩টি ওয়ার্ডে এ টিকা দেয়া হবে। প্রতি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনে তিনটি করে বুথ এবং পৌরসভায় একটি বুথ রাখা হবে।

ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দ্বিগুণ টিকা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে টিকা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

প্রতিটি কেন্দ্র গত ক্যাম্পেইনে প্রতি কেন্দ্র ৩০০ ডোজ টিকার দেয়া হলেও এবারের ক্যাম্পেইনে ৫০০ অধিক টিকা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্যসচিব শামসুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার ক্যাম্পেইনে নিবন্ধনকারী ছাড়া কেউ আসবে না।’

টিকাকেন্দ্রও নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে না। শুধু নিবন্ধন কার্ড নিয়ে গেলেই টিকা দেয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেও টিকা দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া টিকা নেয়া যাবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কথা, যাদের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। এটা সবার জন্য নয়।’

ক্যাম্পেইনে টিকাপ্রতাশীদের ভোগান্তি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ক্যাম্পেইনে কোনো জায়গায় দীর্ঘ লাইন হয়েছে। যারা নিবন্ধিত ছিল না তারও চলে আসায় এমনটা হয়েছে। যাদের ডাকা হয়নি তারও ক্যাম্পেইনে চলে আসছে।

‘এ ছাড়া মডার্না ও ফাইজারের টিকা পেতেও কেন্দ্রে ভিড় করেছেন অনেকেই। এবার যদি সবাই সহযোগিতা করে তাহলে আগের মতো সমস্যা থাকবে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘যখন কোনো ক্যাম্পেইন হয়, তখন অতি উৎসাহী জনগণ দেখতে ভিড় করেন। অনেকে আগে টিকা নেয়ার চেষ্টা করেন। এসব আপনারা দয়া করে করবেন না। এসব করতে গেলে আমরা আমাদের ক্যাম্পেইনটা ঠিক মতো করতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘এটি আসলে গণটিকা নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন।

‘যে ম্যাস ভ্যাকসিনেশন হবে, সারা দেশে কোভিড-১৯ এই ক্যাম্পেইনে আমরা শুধু প্রথম ডোজের টিকা দেব এবং একইভাবে আগামী মাসের একই তারিখে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেব।’

তিনি জানান, ক্যাম্পেইন শুরু হবে সকাল ৯টায়। আর লক্ষ্যমাত্রায় না পৌঁছানো পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা চলমান থাকবে। শেষ টিকা দেয়ার পরও টিকা দল এক ঘণ্টা অবস্থান করবে।

ক্যাম্পেইনে আগে থেকে নির্ধারিত জনগোষ্ঠী ২৫ বছর বয়সী বা তদুর্ধ্ব তাদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে টিকা দেয়া হবে।

‘আমরা চল্লিশোর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেব। বয়স্ক, নারী ও প্রতিবন্ধীদের আমরা বিবেচনায় রাখব। স্তন্যদানকারী মা ও অন্তঃসত্ত্বাদের ক্যাম্পেইনের আওতায় আনব না।’

তিনি জানান, টিকা নেয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিকাকার্ড সঙ্গে আনতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নে কোনো একটি ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্রে একটি বুথ, পৌরসভার প্রতিটি কেন্দ্রে একটি কেন্দ্রে একটি বুথ, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডের ৩টি বুথের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সারা দেশে আগে থেকে যেসব কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলছিল সেগুলো অব্যাহত থাকবে।

টিকাগ্রহীতাদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। টিকা নেয়ার পরে প্রত্যেকে অবশ্যই আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। নারীদের জন্য পর্দা ঘেরা জায়গায় টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউনিয়নে ৩টি বুথে ৩টি টিম থাকবে। প্রতিটি টিমে ২ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন। পৌরসভা পর্যায়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার বা তদুর্ধ্ব মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য স্থির করে দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমরা ৭৫ লাখ টিকা দেব বলে ঠিক করেছি এবং নিয়মিত আরও ৫ লাখ এই ৮০ লাখ টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। প্রতিটি ইপিআই সেন্টার থেকে যা মালামাল দরকার তা আমরা সরবরাহ করেছি। এটা চলছে, আজ রাত এবং কাল সকাল পর্যন্ত চলবে।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২১৪

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২১৪

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ১৬৩ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫১ জন।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১৪ জন। এনিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৫৭১ জন। এসময়ের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৬৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ১৬৩ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫১ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার ৫৭১ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৬ হাজার ৫১৯ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৯৮৯ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭৫৮ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন

টানা এক সপ্তাহ করোনা শনাক্তের হার পাঁচের নিচে

টানা এক সপ্তাহ করোনা শনাক্তের হার পাঁচের নিচে

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ২৫ জনের। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৩৯ জনে। 

দেশে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের পথে। টানা এক সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে পাঁচ শতাংশের নিচে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭৮৭টি। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২১২ জনের দেহে।

এ সময় পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ২৫ জনের। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৩৯ জনে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়। সে হিসেবে করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

গত মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, পরের দিন বুধবার ছিল ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ৪ দশমিক ৬১ এবং শক্রবার ছিল ৪ দশমিক ৫৬। শনিবার শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৫৯ এবং গতকাল সেই হার কমে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৪১ শতাংশে।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মার্চে দেখা দেয় দ্বিতীয় ঢেউ। পরে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর থেকে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন, নারী ১২ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৩, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৬, ষাটোর্ধ্ব ৬ ও সত্তরোর্ধ্ব ৮ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮, খুলনায় ৩, সিলেটে ৩ ও রংপুরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ২০২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ১২ হাজার ৬৮১ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৪৩।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন

এসএমএস ছাড়া টিকা মিলবে না ক্যাম্পেইনে

এসএমএস ছাড়া টিকা মিলবে না ক্যাম্পেইনে

টিকাদান ক্যাম্পেইনে কেন্দেরে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে টিকা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘বয়স্ক, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও নারী, তাদেরকে আমরা বিবেচনায় আনব। এবারের ক্যাম্পেইনে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের টিকা দেয়া হবে না। ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজ দেয়া হবে।’

দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে টিকাদান ক্যাম্পেইন।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে টিকাগ্রহীতাদের আগে থেকে এসএমএস পাঠানো হবে। সে এসএমএস না পেলে মিলবে না টিকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবারের এক ভিডিওবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে এসএমএসের মাধ্যমে টিকা দেয়া হবে।

সোমবার বিকেলে ভিডিওবার্তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘এই ক্যাম্পেইনে আগে থেকে নির্ধারিত জনগোষ্ঠীকে এসএমএসের মাধ্যমে টিকা দেয়া হবে। ২৫ বছর ও তার বেশি বয়সের জনগোষ্ঠীকে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়ে টিকা দেয়া হবে। ৪০ বছরের ওপরে জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

‘বয়স্ক, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও নারী, তাদেরকে আমরা বিবেচনায় আনব। এবারের ক্যাম্পেইনে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের টিকা দেয়া হবে না। ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজ দেয়া হবে।’

এসএমএস ছাড়া টিকা মিলবে না ক্যাম্পেইনে

স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, ‘এটি আসলে গণটিকা নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন।’

এ বিষয়ে ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার ক্যাম্পেইনে নিবন্ধনকারী ছাড়া কেউ আসবে না। টিকাকেন্দ্র কোনো নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে না। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসলেও আমরা টিকা দিতে পারব না। নিবন্ধন কার্ড সাথে থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া টিকা নেয়া যাবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল হক বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কথা, যাদের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। এটা সবার জন্য নয়।’

যেসব কেন্দ্রে ক্যাম্পেইনের টিকা

সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এবং ১ হাজার ৫৪টি পৌরসভার ৪৪৩টি ওয়ার্ডে এ টিকা দেয়া হবে। ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকর্মী এ ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। এর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন। তারা সবাই মিলে এই বিরাট কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।

সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার লোক এ কাজ করবেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনে তিনটি করে বুথ এবং পৌরসভায় একটি বুথ রাখা হবে।

আরও পড়ুন:
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
যেভাবে করোনা ঠেকাবে প্রথম সুচবিহীন ডিএনএ টিকা
ময়মনসিংহে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, মৃত্যু ১৪
৪৮ দিনে সর্বনিম্ন মৃত্যু, ৫৪ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত
খুলনা বিভাগে এক দিনে ১২ মৃত্যু, সুস্থ ৪৯৩

শেয়ার করুন