২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গুর যে ভ্যারিয়েন্টটি বেশি ছড়াচ্ছে, সেই একই ভ্যারিয়েন্ট ২০১৯ সালে বিপর্যয় ঘটিয়েছিল।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত (রোববার) সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৮২। এর মধ্যে জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৯৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনাতেও আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এর আগে গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জনের, যাদের মধ্যে ছয় জন মারা যান। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটে। সেবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি, যাদের মধ্যে মারা যান ১৭৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ বছর শনাক্ত রোগীর বেশির ভাগই ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরোটাইপ থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। দুই বছর আগেও এ ধরনের ভ্যারিয়েন্টে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডেঙ্গুর এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সেরোটাইপ থ্রি বেশি সংক্রমিত করতে সক্ষম।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবারও ডেঙ্গুর টাইপ থ্রি বেশি মানুষকে আক্রান্ত করছে। এবার করোনা সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে একটু বেশি সতর্ক হতে হবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোতলেবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এবার ডেঙ্গুর টাইপ সি-তে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এখনকার রোগীদের যে লক্ষণ দেখা দিচ্ছে তা হল দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। তবে অন্য উপসর্গের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই মাথা ব্যথা, চোখ জ্বলা, বমি, পাতলা পায়খানা এগুলো হচ্ছে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আরেক সহযোগী অধ্যাপক পার্থ প্রতিম দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি যেসব রোগী দেখেছি তাদের হাই ফিভার রয়েছে। কিছু কিছু রোগীর বমি ও ডায়রিয়া রয়েছে। যদিও এটা গতবারও ছিল।’

২০১৯ এর মতো এবারও ভয়ংকর ডেঙ্গু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাসের আসলে চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, টাইপ থ্রি, টাইপ ফোর। এবার ডেঙ্গু টাইপ থ্রি দিয়ে জ্বরটা বেশি হচ্ছে।

এ বছর কেনো সেরোপাইট থ্রি বেশি সক্রিয়, সেই প্রশ্নে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘এই চারটার মধ্যে কোনো একটা ভাইরাসের বিস্তার কোনো বছর বেশি হয়। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি হয়েছিল। গত বছরেও এই টাইপ থাকলেও তখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল।’

ডেঙ্গুর চারটি ধরনের মধ্যে কোনটি বেশি প্রাণঘাতী, সে বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় সবগুলোই এক রকমের। তবে কিছু টাইপ বেশি সংক্রামক, যেমন করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বেশি সংক্রমিত করে। ২০১৯ সালে টাইপ থ্রি বেশি ছড়িয়েছিল, তাই বলা যায় এটার সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।’

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘ঢাকা থেকে আক্রান্ত অনেক রোগী গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ফলে সেখানেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। কারণ অন্যান্য জেলাতেও এডিস মশা আছে। আক্রান্তকে কামড়ানোর পর ভাইরাস মশা থেকে আবার সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস ইজিপটাই মশার মাধ্যমে সাধারণত ছড়ায়। আরেকটি আছে এডিস এলবোপিকটাস, তবে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে এডিস ইজিপটাই ডেঙ্গুর বাহক।’

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এক রেটের ইন্টারনেটে গতির ফাঁকি

এক রেটের ইন্টারনেটে গতির ফাঁকি

প্রতীকী ছবি

আইএসপিএবি-এর সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে এখানে কথা আছে, এ ইন্টারনেট কিন্তু ওয়ান বাই এইট শেয়ারিং ব্র্যান্ডউইথ। তার মানে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস কিন্তু ইন্টারনেট পাবে না, পাবে ৬২৫ কেবিপিএস। এই গতির ইন্টারনেট নিয়ে তারা তেমন কিছুই করতে পাবে না।’

একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে এয়ার টিকেটিং অফিসার হিসাবে কাজ করেন আরিফ হোসেন। এয়ার টিকেট বিক্রির নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, তাই অফিসের বাইরেও সারাক্ষণ ইন্টারনেট সংযোগে থাকতে হয়।

মোবাইল ইন্টারনেটে ব্যয় বেশি বলে আরিফ হোসেন বাসায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারসংযোগ নিয়েছেন ৫ এমবিপিএস ৫০০ টাকায়। তবে প্রায়ই দেখা যায়, বাসার ইন্টারনেটে ফেসবুক-ইউটিউব চললেও এয়ার টিকেট বুকিং সফটওয়্যার কাজ করে না, তখন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। বাধ্য হয়ে বাড়তি ৩০০ টাকা দিয়ে সংযোগ ১০ এমবিপিএস করে নিয়েছেন। এতে আগের চেয়ে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়লেও তা মন মতো হচ্ছে না।

আরিফের মতো অনেক গ্রাহকেরই অভিযোগ, সর্বনিম্ন রেটের এ ইন্টারনেট ঠিক মতো কাজ করে না। তারা ইন্টারনেটের সঠিক গতি পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রচুর সময় লাগে।

এক রেটে ইন্টারনেট

চলতি মাস থেকে সারা দেশে এক দাম ও সর্বনিম্ন রেটে ইন্টারনেট পাবার পথ তৈরি হয়েছে। এতে গ্রাম বা শহর সব জায়গাতেই সর্বনিম্ন ৫০০ টাকায় ইন্টারনেট পাবেন গ্রাহকরা। এক রেটে ইন্টারনেট কার্যকার হলেও এই ইন্টারনেটের সত্যিকার গতি কত তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে ‘এক রেটে’ ইন্টারনেট সেবামূল্য (ট্যারিফ) চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। গত ১২ আগস্ট বিটিআরসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইন্টারনেটের নতুন এই ট্যারিফ ঘোষণা করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

নতুন দাম হিসাবে খুচরায় ৫ এমবিপিএস ৫০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস ৮০০ এবং ২০ এমবিপিএস ১ হাজার ২০০ টাকায় পাবেন গ্রাহক।

এর আগে ৬ জুন ‘এক দেশ এক রেট’ ইন্টারনেট ঘোষণা দেয়ার পরে তা বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছিল। ইন্টারনেটের একেক পর্যায়ে একক দর ছিল। তাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তিনটি ধাপে খুচরা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি), বেসরকারি নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) অভিন্ন ট্যারিফ চালু করা হয়েছে। এতে আইআইজি ও এনটিটিএন চালু হওয়ার ১২ বছর পর এ সেবামূল্য নির্ধারণ করা হলো।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মূল্য নির্ধারণের মধ্যে দিয়ে সারা দেশে ‘এক দেশ এক রেট’ ইন্টারনেট বাস্তবায়ন হবে। এতে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষও শহরের মানুষের মতো কম দামে ইন্টারনেট সেবা পাবে। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ দর কার্যকর করতেই হবে।

রেট ৫০০ টাকা, কিন্তু গতি আট ভাগের এক ভাগ

আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সরকারের ঘোষণার পর বেশির ভাগ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের প্যাকেজে পরিবর্তন এনেছে। একই প্যাকেজের মূল্য আগে বেশি থাকলেও তা কমিয়েছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর থেকেই ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস ব্যান্ডইউথ সেবা দিয়ে আসছে, তবে তা শহরে যেখানে গ্রাহক বেশি সেখানেই সম্ভব ছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে গ্রাহকদের ব্যান্ডইউথ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সর্বনিম্ন দরে ইন্টারনেট গ্রাহকরা আরও আগে থেকেই পেয়ে আসছে। কিন্তু এখানে একটি ফাঁক রয়েছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন দরে যে লাইন দেয়া হয়, সেগুলো শেয়ারড লাইন। এখানে গ্রাহক চাইলে তার মনমতো স্পিড পাবে না। কারণ ৫০০ টাকায় যারা প্যাকেজ নিচ্ছে, তাদের এ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে এক জনের ইন্টারনেট সংযোগের গতি আট ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। তাই বেশির ভাগ গ্রাহক এতে সন্তুষ্ট নন। তাদের ব্যান্ডউইথ ও স্পিডের চাহিদা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে করপোরেট অফিস শেয়ারড ইন্টারনেট দিয়ে চলে না। তাদের ডেডিকেটেড ব্যান্ডউইথ নিতেই হয়। তবে এ ক্ষেত্রে মাসিক চার্জও বেশি।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে এখানে কথা আছে: এ ইন্টারনেট কিন্তু ওয়ান বাই এইট শেয়ারিং ব্র্যান্ডউইথ। তার মানে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস কিন্তু ইন্টারনেট পাবে না, পাবে ৬২৫ কেবিপিএস। এই গতির ইন্টারনেট নিয়ে তারা তেমন কিছুই করতে পাবে না। ইউজাররা হ্যাপি থাকবে না। এই খানেই একটু বোঝার ভুল রয়েছে।

‘অনেকে মনে করে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস গতি পাবে। এ ডাটা ৮ জনে শেয়ার করলে তা যে ৬২৫ কেবিপিএস হয়, এ কথা অনেকেই বলে না। মনে করেন কেউ শেয়ারড লাইন নিল। তার বাসায় লোক ৪ জন, তাহলে ৬২৫ কেবিপিএস গতিও চার ভাগ হয়ে যাবে, এ গতি দিয়ে সে কী করতে পারবে? তাই কাজ করতে চাইলে তাকে প্যাকেজে আপডেট করে নিতেই হবে। তখন কিন্তু সর্বনিম্ন দাম থাকবে না।’

সর্বনিম্ন এক রেট কি সম্ভব

আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সর্বনিম্ন রেটে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব। তবে তা খুব যে কার্যকর হবে তা নয়। কারণ ৫০০ টাকায় শেয়ারড লাইন ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়। সর্বনিম্ন প্যাকেজ যদিও ভ্যাটসহ ৫২৫ টাকা খরচ পড়ে, অপারেটররা ৫০০ টাকাই রাখছেন। তবে, গ্রাহকের সুবিধার জন্য কেউবা ১ বনাম ৮ এর জায়গায় ১ বনাম ৩ বা ১ বনাম ৪ করছেন। আবার অনেকে ১ বনাম ৮ শেয়ারিং লাইন দিলেও ৫ এমবিপিএসের জায়গায় ৮ এমনকি ১০ এমবিপিএস স্পিডও দিচ্ছে। টাকাও একটু বেশি নিচ্ছে। কারণ, সব গ্রাহকের এক সঙ্গে একই সময় ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে কোনো গ্রাহক ব্যবহার না করলে অন্যরা তখন তুলনামূলক ভালো স্পিড পায়। তবে কেউ বিশেষ কোনো কাজ করতে চাইলে কিংবা বাফারিং (ধীরগতি) মুক্ত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চাইলে তাকে ডেডিকেটেড লাইন নিতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে বেশি খরচ করতেই হবে।’

এমদাদুল হক বলেন, ‘৫ এমবিপিএস ডেডিকেটেড (এক লাইন এক ইউজার) লাইনে অপারেটরের ২০০০ টাকার মতো খরচ পড়ে। তাহলে সে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস দেবে কীভাবে? কোনো প্রতিষ্ঠান হয়তো বা ১০০ টাকা বেশি নিয়ে ৮ জনের ক্ষেত্রে ৪ বা ৫ জনকে একটি শেয়ার লাইন দিচ্ছে। গ্রাহকও একটু ভালো গতির ইন্টারনেট পাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আটজনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষণাভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইনডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যানসার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্ধতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপপ্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ ওঠার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়ে হঠাৎ মামলা সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। এত বেশি অভিযোগ আসছে যে, নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে অধিদপ্তর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ পাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। এত বেশি সংখ্যায় অভিযোগ এর আগে জমা পড়েনি।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আরেক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। আরেক প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।

কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় এই তিনটি ছাড়াও অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে এখন তারা সমাধানের আশায় ছুটছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ মানুষ এসে লিখিতভাবে তুলে ধরছেন কোটি কোটি টাকার চাহিদা।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কেবল ইভ্যালি নিয়েই অভিযোগ পড়েছে ৭ হাজার ১৩৮টি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিস্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, গেল জুন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ ছিল ১৩ হাজার ৩৫৭টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৬টি অভিযোগ। এক্ষেত্রে অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ। তবে জুলাই এবং আগস্ট ধরলে নিষ্পত্তির হার কম।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত অভিযোগ

৩০ জুন পর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

তবে জুলাই ও আগস্ট এ দুই মাসে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৮৭টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৩০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৭টি। নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ নিয়ে অভিযোগের হার বেশি। এর মধ্যে এক ভোক্তার ১ কোটি টাকার অভিযোগ আছে। এর বাইরে ৩০ লাখ, ৫০ লাখ টাকার অভিযোগ কম নেই।

এ সময়ে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৮টি। ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৪৯৫টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তি ৬৩ শতাংশ।

ই-অরেঞ্জ ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি নিষ্পত্তি করা গেছে। নিষ্পত্তির হার ১ শতাংশ।

দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৮টি। শতকরা হারে যা ৯১ শতাংশ।

ধামাকার বিরুদ্ধে ৩২৩টি অভিযোগের বিপরীতে ৫৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১৮ শতাংশ।

সহজডটকমের বিরুদ্ধে ৯৩টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৮৫টি।

আজকের ডিল ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ১৮২টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৭টি। শতকরা ৯২ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তির হার ৭৮ শতাংশ।

চালডাল ডটকমের বিরুদ্ধে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন ১৯০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি। শতকরা নিষ্পত্তি ৮৯ শতাংশ।

প্রিয়শপ ডটকমের বিরুদ্ধে ৬২৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪২টি। নিষ্পত্তির হার ৭১ শতাংশ।

ফালগুনি ডটকমের মালিক আইনের আওতায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬৪৪টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫১টি।

অথবা ডটকমের বিরুদ্ধে ১৮৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

উবার ডটকমের বিরুদ্ধে ১২৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৫ অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশ।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৬৭টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৫টি।

বিক্রয় ডটকমের বিরুদ্ধে ১৭৪টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

নিরাপদ ডটকম বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের বিপরীতে ৬৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার হার ৫৬ শতাংশ।

আদিয়ানমার্ট ডটকম বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগের বিপরীতে ৩৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ৩৩ শতাংশ।

আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১০ শতাংশ।

গ্রাহক যা বলেন

ধানমন্ডি থেকে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আলী শরীফ। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার পণ্য কেনার জন্য অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অফিসে গেলে ডেলিভারির দিনক্ষণ দেয়া হয়নি।

শফিক খান নামে একজন বলেন, ‘একটি বাইক কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি তিন মাস আগে। কিন্তু বাইকটি দেয়া হচ্ছে না।’

অন্য একজন গ্রাহক জানান, দুটি মোবাইল সেট কেনার জন্য টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পণ্য ডেলিভারির যে দিন নির্ধারণ করা হয়, সেই দিনে পণ্য দেয়া হয়নি। তারপরে এক মাসে সময় বাড়িয়ে দিন দেয়া হয়েছে। আসলে পাওয়া যাবে না।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এত অভিযোগ আসছে, তাতে অন্য অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিঘ্ন ঘটছে। লোকবল কম থাকায় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারপরও গ্রাহকের স্বার্থে সব ধরণের উদ্যোগ নেবে এই প্রতিষ্ঠান।’

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন

কর্নেল বেগের সেই চিঠি

কর্নেল বেগের সেই চিঠি

মুক্তিযুদ্ধকালীন জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার মূলে রয়েছে একটি চিঠি। পাকিস্তানি এক সেনা কর্মকর্তার সে সময় লেখা চিঠির প্রসঙ্গটি জাতীয় সংসদেও উঠেছে এবং এ নিয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

‘তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।’—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে উদ্দেশ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় এভাবেই চিঠি লিখেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওই সময়ের কর্নেল আসলাম বেগ।

এ রকম একটি চিঠি সম্প্রতি নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চিঠিটি মুক্তিযুদ্ধে ‘বীর উত্তম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে ছদ্মবেশে পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষ নিয়েছিলেন তিনি। আর দেশের স্বাধীনতায় ঝাঁপিয়ে পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঠেলে দিয়েছেন মৃত্যুর দিকে।

এ নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার লেখা একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সে (জিয়াউর রহমান) কী করেছে, আমি বলি। কর্নেল আসলাম বেগ, সে তখন ঢাকায় কর্মরত ছিল, পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল, সেই কর্নেল বেগ জিয়াকে একটা চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ’৭১ সালে। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল, আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ওই চিঠি তার কাছে আছে। তিনি বলেন, ‘কথাটা উঠবে জানলে আমি চিঠিটা নিয়ে আসতাম। একসময় আমি নিয়ে আসব। এটা আমাদের প্রসিডিংসের পার্ট হয়ে থাকা উচিত।’

সেই চিঠির একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। ১৯৭১ সালের ২৯ মে মেজর জিয়াকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন কর্নেল বেগ।

যা লেখা ছিল মূল চিঠিতে

Dacca

Major Zia Ur Rahman, Pak Army

We all happy with your job. We must say, good job. You will get new job soon.

Don’t worry about your family. Your wife and kids are fine.

You have to be more careful about Major Jalil.

Col. Baig Pak Army

May 29. 1971

বাংলায় যা দাঁড়ায়:

ঢাকা

মেজর জিয়াউর রহমান, পাক আর্মি

তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।

তোমার পরিবার নিয়ে চিন্তা কোরো না। তোমার স্ত্রী ও সন্তানরা ভালো আছে।

মেজর জলিল সম্পর্কে তোমাকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

কর্নেল বেগ, পাক আর্মি

মে ২৯, ১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব দেখানোর স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে দেয়া হয় ‘বীর উত্তম’ খেতাব। বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত সেক্টর-১ এর দায়িত্ব পালন করেছেন মেজর জিয়া। ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর সেক্টরটির দায়িত্বভার বর্তায় ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাঁধে।

কর্নেল বেগের সেই চিঠি
জিয়াকে উদ্দেশ করে লেখা কর্নেল বেগের সেই কথিত চিঠি


তবে এ চিঠির বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর-১ এর কমান্ডার এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম।

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে সংসদের বক্তব্য শুনুন। আমি এসব নিয়ে এখন কোনো কথা বলব না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।

বৃহস্পতিবার সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি।’

সেদিন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের কথার প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, জিয়া যেখানে দায়িত্বে ছিল, সেখানে নাকি বেশি মানুষ মারা গেছে। ক্যাজুয়ালিটি সব থেকে বেশি। সে একটা সেন্টারে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আর সেখানে ক্যাজুয়ালিটি বেশি হয়েছে।’

জিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া থেকে মনে প্রশ্ন জেগেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাহলে প্রশ্ন আসে: সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে? পাকিস্তানিদের পক্ষে, যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, ওই ব্যবস্থা করেছিল কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার না।’

গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভা থেকে জিয়াউর রহমানসহ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সুপারিশ আনা হয়।

এ বছরের ৬ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় জড়িত এবং আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আত্মস্বীকৃত খুনির বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

যারা খেতাব হারিয়েছেন তারা হলেন: লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীর বিক্রম গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক গেজেট নং ৩২৯)।

কর্নেল বেগের সেই চিঠি
আসলাম বেগ, যিনি পরবর্তীকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিলেন


তবে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

কে এই বেগ?

খোঁজখবর করে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীতে মির্জা আসলাম বেগ নামে একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ’৭১-এ পাকিস্তানের একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেন।

কিন্তু মির্জা আসলাম বেগ ইংরেজিতে নিজের নামের বানান লিখেছেন ‘Beg’। আর যিনি জিয়াউর রহমানকে চিঠি লিখেছেন, তার বানান ছিল ‘Baig’। এ দুজন একই ব্যক্তি কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৭১ সালে আসলাম বেগ একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিলেও পরে তাকে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়। যেখানে পাঠদান বিষয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ওই সময়টায় তিনি যুদ্ধবিদ্যায় এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক মারা গেলে পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফের দায়িত্ব পান মির্জা আসলাম বেগ। ১৯৯১ সালে অবসর জীবনে যান বেগ। তার আগ পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই চার তারকা জেনারেল।

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন

এক বৈঠকে প্রকল্পের ব্যয় কমল ২০০ কোটি টাকা

এক বৈঠকে প্রকল্পের ব্যয় কমল ২০০ কোটি টাকা

বিটিসিএল-এর ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার একটি প্রকল্প আর্থিক অসঙ্গতির কারণে একাধিক বার ফিরিয়ে দেয় পরিকল্পনা কমিশন। ছবি: প্রতীকী

ফাইভ-জির উপযোগী করে বিটিসিএলের নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন করতে বিটিসিএলের একটি প্রকল্প ঘুরছে কয়েক বছর ধরে। পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন বলছে, প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে সমীক্ষা করা হয়নি। সমীক্ষার পর প্রকল্পের ব্যয় এক ধাক্কায় ২০০ কোটি টাকা কমে গেছে। তবে আরও বেশ কিছু আপত্তি রয়েছে মূল্যায়নে।

ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তাবের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিডেটের (বিটিসিএল) ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার ৩৬৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ফিরিয়ে দেয় পরিকল্পনা কমিশন।

যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া অনেকটা ধারণার ভিত্তিতে তিন বছর পর একই প্রকল্প তিন গুণ বেশি ব্যয় দেখিয়ে ১ কোটি ২৬৫ টাকা প্রাক্কলন করে আবার কমিশনে প্রস্তাব পাঠায় বিটিসিএল। এটি ছিল প্রথম প্রস্তাবের প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং ৮৯৬ কোটি টাকা বেশি।

তবে এবারও আপত্তি তোলে কমিশন। মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে আবারও বিস্তারিত সমীক্ষা করার জন্য ফেরত পাঠায় প্রকল্প। এতে দ্বিতীয় প্রস্তাব থেকে ২০১ কোটি টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৬৪ টাকা নতুন ব্যয় প্রাক্কলন করে বিটিসিএল। তৃতীয় প্রস্তাবের ওপরও নানা আপত্তি রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের।

এমন ঘটনা ঘটেছে ‘ফাইভ-জি উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে। সম্পূর্ণ দেশি অর্থায়নের এ প্রকল্পটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) বাস্তবায়ন করতে চায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, শুরুতে ২০১৮ সালে এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আসে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল অক্টোবর ২০১৮ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২১ এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

তখন চীনের অর্থায়নে অন্য একটি প্রকল্প চলমান ছিল। আইসিটি বিভাগের একই ধরনের প্রকল্পও ছিল। তাই বিটিসিএলকে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব না করে চলমান অন্য প্রকল্পের সঙ্গে এটির কোনো দ্বৈধতা (ওভারল্যাপ) আছে কি না, তা যাচাই করতে এবং এ প্রকল্পে জনবলের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ নিয়ে আবার প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলে কমিশন।

পরে ২০২০ সালে আবার প্রস্তাব পাঠায় বিটিসিএল, কিন্তু এবার প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল প্রস্তাব করা হয় জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৩। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হলে তার ওপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে পিইসির (মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় বলা হয়, যে প্রকল্প শুরুতে ছিল ৩৬৮ কোটি টাকা, তা পরবর্তী সময়ে প্রাক্কলন করা হয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। এ থেকে বোঝা যায়, সমীক্ষা সঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। কোনো নির্ভরযোগ্য সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল। তাই পিইসি সভার একটি সিদ্ধান্ত ছিল, যথাযথ কারিগরি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করিয়ে পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে।

পিইসি সভার এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সম্ভাব্য সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

বুয়েটের করা সে সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিপিপি পুনর্গঠন করে প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১ হাজার ৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করে এটি অনুমোদনের জন্য আবার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এতে প্রকল্পের নতুন ব্যয় আগের প্রস্তাবিত ব্যয়ের চেয়ে ২০১ কোটি টাকা কমে যায়। প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে ৭১৩ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে দেবে সরকার। এ ঋণ ৫ শতাংশ সুদে ১৩ বছরে সরকারকে শোধ দিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেবামূলক কাজই বেশি করে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ সরকারকে করতে হবে। এ জন্য সংস্থাটির সেবার আওতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। এতে ফাইভ-জি ‍সুবিধার অবকাঠামো তৈরি এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ হবে।’

প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম প্রস্তাবের চেয়ে সর্বশেষ প্রস্তাবে কাজের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। আগে জেলা শহর পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কথা থাকলেও এখন তা উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নেটওয়ার্ক আধুনিক করার জন্য অনেক যন্ত্রপাতিও কেনা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। তাই ব্যয় আগের চেয়ে বেড়েছে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বলছে, বর্তমানে দেশে ৬ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১১ শতাংশ নারী। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মোট আন্তর্জাতিক শেয়ারে বাংলাদেশের ১৬ শতাংশ অবদান রয়েছে, যা সারা বিশ্বে দ্বিতীয়। এই পেশায় নারীদের অবদান বাড়াতে হলে আরও অনেককে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কোণে অবস্থানরত শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের ইন্টারনেট পেনিট্রেশন ১৩ শতাংশ, যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক কম। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হওয়ার জন্য সারা বাংলাদেশে ইন্টারনেটের পেনিট্রেশন প্রায় ৯০ শতাংশ হতে হবে। এ কারণেই পুরো দেশকে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার কেব্‌ল লিংক সুবিধার আওতায় আনা এবং বিটিসিএলের টেলিযোগাযোগ কাঠামো আধুনিকীকরণসহ উচ্চমানের ট্রান্সমিশন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের যত আপত্তি

কমিশন বলছে, নতুন করে যে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, তাতে কমিশন সন্তুষ্ট নয়। কমিশন থেকে আরও বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনার সঙ্গে বুয়েটের সমীক্ষার বিস্তারিত সুপারিশও দাখিল করতে হবে।

প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে ৩০ জনের বিদেশ ভ্রমণ বাবদ ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়ার্কশপের জন্য ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন এটির যৌক্তিকতা জানতে চাইবে।

সম্ভাব্য সমীক্ষা প্রতিবেদনে কনসালটেন্সি বাবদ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হলেও ডিপিপিতে তা কমিয়ে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু এ খাতের অবশিষ্ট অর্থ মোট প্রকল্প ব্যয় থেকে বাদ না দিয়ে অন্য অঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ জানতে চাইবে কমিশন।

প্রকল্পের আওতায় ৩৬ মাসের জন্য ১২টি যানবাহন ভাড়া বাবদ ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ছয়টি মোটরসাইকেলসহ ১১টি মোটরযান ক্রয় বাবদ ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জ্বালানি বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রস্তাব করার কারণ জানাতে হবে।

তিন বছরের প্রকল্পে ৩৯ জনের ভাতা বাবদ ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছে কমিশন।

কমিশন বলছে, এ ক্ষেত্রে ৬৪ জেলার মডার্নাইজেশন অফ ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রকল্পসহ বিদ্যমান ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি খুবই কম দেখানো হয়েছে। এখানে বরগুনায় ১২ জিবিপিএস, বরিশালে ৬০ জিবিপিএস, ভোলায় ১৩ জিবিপিএস, ঝালকাঠিতে ১১ জিবিপিএস দেখানো হয়েছে। এ প্রকল্পে বরগুনায় ২০০ জিবিপিএস, বরিশালে ৪৫০ জিবিপিএস, ভোলায় ৩০০ জিবিপিএস, ঝালকাঠিতে ২০০ জিবিপিএস বৃদ্ধি করা হবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, আগের প্রকল্পসহ বিদ্যমান ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি এত কম হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

প্রকল্পটি নিয়ে অর্থ বিভাগে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জনবল নির্ধারণ কমিটির সভায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পর্যায়ে ৩৯ জন জনবলের সুপারিশ করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে জনবল নিয়োগে কোনো অসুবিধা হবে কিনা- এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত প্রয়োজন বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।

এক বৈঠকে প্রকল্পের ব্যয় কমল ২০০ কোটি টাকা
বিটিসিএল ভবন

কী থাকবে প্রকল্পে

প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন সর্বাধুনিক টেলিযোগাযোগ ও আধুনিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেয়া এবং বর্ধিষ্ণু চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নতকরণ এবং সম্প্রসারণ করাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বলছে বিটিসিএল।

বিটিসিএল এও বলছে, প্রকল্পের মাধ্যমে বিটিসিএলের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ককে নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য দেশের ৬৪ জেলা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা ব্যাক-আপ অপটিক্যাল লিংক সুবিধার আওতায় আনা হবে। ঢাকা মহানগরে ব্যাক-আপ লিংক তৈরি করা হবে। বর্তমান ফোর-জি নেটওয়ার্কের চাহিদা বৃদ্ধি ও আসন্ন ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ককে আধুনিকীকরণের জন্য দেশব্যাপী আটটি ক্লাস্টার (চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, খুলনা এবং বরিশাল) স্থাপন, ক্লাস্টার থেকে জেলা, জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ বিতরণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, রাউটার, এসএফপি মডিউল ইত্যাদি স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া ব্যাক-আপ রিং নেটওয়ার্কে রূপান্তরের জন্য দেশব্যাপী ১৪৬টি ওএফসি লিংক (ভূগর্ভস্থ) এবং আটটি ওএফসি লিংক (সাবমেরিন/নদীর তলদেশ দিয়ে) স্থাপন, ওএফসি ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল স্থাপন, ৩ হাজার ১৪৪ কিলোমিটার সাবমেরিন কেব্‌ল স্থাপন ৩৯ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন

জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

১৯৭৭ সালে ২ অক্টোবর অভ্যুত্থানের পর বিমানবন্দর থেকে মরদেহ সরানো হচ্ছে। জাপানের এনএইচকে টিভির সৌজন্যে পাওয়া ছবি।

জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে ছোট-বড় ২১টি অভ্যুত্থান ঘটেছে বলে গবেষক ও বিশ্লেষকদের লেখায় তথ্য পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছিল ২৬টি। এসব অভ্যুত্থানের পর নামমাত্র বিচারে কতজনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে, তার তালিকা করা দুঃসাধ্য। শুধু ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর বিমানবাহিনীর সদস্যদের ব্যর্থ অভ্যুত্থানেই ফাঁসি ও ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ১৩০০ জনের বেশি সেনাকে। 

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে (১৯৭৫-৮১) দেশে ২৬টির মতো সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছিল বলে বিভিন্ন ভাষ্যে জানা যায়। কেউ কেউ বলেন সংখ্যাটি ২১।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর। এই অভ্যুত্থানটি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি তথ্য জানা যায়। বাকিগুলো ধোঁয়াশার আড়ালে।

১৯৭৭ সালের অক্টোবরের অভ্যুত্থানে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন শতাধিক সেনা অফিসার। অনেকে নিহত হয়েছিলেন অভ্যুত্থান দমাতে গিয়ে। আবার বিচারের নামে মেরে ফেলা হয় কয়েক শ সেনাকে। সব মিলিয়ে মোট সংখ্যাটি আড়াই হাজারের মতো হতে পারে।

তাদের মধ্যে ১৩০০ জনের বেশি সেনাকে ফাঁসি ও ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। বাকিদের মৃত্যুর কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। সেই সময় থেকে আজও তারা পরিবারের কাছে নিখোঁজ।

জিয়াউর রহমানের আমলে সামরিক বাহিনীতে অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনা ও মৃতের সংখ্যা মেলানো খুবই কঠিন। এ নিয়ে খুব বেশি গবেষণা হয়নি।

প্রায় ৪৫ বছরের মাথায় এসে গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়ার আমলে নিহতদের তালিকা করার নির্দেশ দেন।

তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ রকম একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা কতটা কঠিন? এটি আদৌ কি সম্ভব?

সেই সময়ের বেশির ভাগ প্রত্যক্ষদর্শী জীবিত নেই। আবার অনেক দালিলিক প্রমাণ নষ্ট করারও অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে গবেষণা প্রায় হয়নি বললেই চলে।

নথি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে

এ বিষয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান করেছেন সাংবাদিক ও গবেষক জায়েদুল আহসান পিন্টু। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা খুব কঠিন কাজ। তবে অসম্ভব নয়। হয়তো এখনও ব্যক্তিগতভাবে কিছু দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যাবে। কিছু ঘটনার সাক্ষী ও স্বজন এখনও বেঁচে আছেন। দ্রুত কাজ শুরু করলে হয়তো এখনও সত্যের খুব কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব। তবে দেরি করলে বা আরও ১০ বছর পর করলে কিছুই মিলবে না।’

জায়েদুল আহসান বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, ওই পাঁচ বছরে কমপক্ষে ১৯টি অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছিল। তবে নিহতের সংখ্যা কারও কাছে এককভাবে নাই। হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে আছে।’

জায়েদুল আহসান বলেন, যত দ্রুত সম্ভব একটি তথ্যানুসন্ধানী কমিশন গঠন করা দরকার। যে কমিশন ওই সময়কালের হত্যা, হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার হত্যা, বিনা বিচারে হত্যা এবং বিচারের নামে প্রহসনের ট্রাইব্যুনালে হত্যা বা ফাঁসি– এসব কিছুর তথ্য সংগ্রহ করবে। তথ্য সংগ্রহের উপায় হলো দলিল-দস্তাবেজ বা মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ।

তিনি বলেন, ‘দলিল-দস্তাবেজ দুই সামরিক সরকারের আমলেই (জিয়া ও এরশাদ) নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এখনও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কারও কারও কাছে থাকতে পারে। সেগুলো আহ্বান করা ও সেই সময়ের মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এই তথ্যানুন্ধানী কমিটিকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন করতে হবে, যাতে তথ্য চেয়ে তারা যে কাউকে তলব করতে বা সমন জারি করতে পারে। তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী বা সেনাপ্রধানও হন, তবু কমিশনে এসে তথ্য দিতে বাধ্য থাকেন।’

জায়েদুল আহসানের মতে, এই কমিশন দুভাবে গঠিত হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি বা সাবেক প্রধান বিচারপতি হতে পারেন এটির প্রধান। তার সঙ্গে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক ও গবেষক থাকতে পারেন। আবার সংসদীয় কমিটিও হতে পারে। সেটা সংসদ ঠিক করবে। সেখানে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী থাকতে পারেন। সেটা সর্বদলীয় হতে পারে। আবার দুটি কমিটি একসঙ্গেও হতে পারে। তারা আলাদাভাবে কাজ করে একসঙ্গে বসতে পারে।

তবে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, সরকার চাইলে এ রকম একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা কঠিন হবে না।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার তালিকা করতে চাইলে এটা করা কোনো ঘটনাই না। এটা খুবই সহজ। কারণ এর প্রতিটি ঘটনারই রেকর্ড আছে। সরকার চাইলে সব তথ্যই সরকার পাবে। কারণ ওই সময়ের অনেকেই তো এখনও বেঁচে আছেন। আপনার-আমার কাছে হয়তো কঠিন। আমরা অ্যাকসেস পাব না। যাদের ফাঁসি দিয়েছে, তাদের রেকর্ড তো জেলখানাতেই আছে।’

তিনি বলেন, ‘আন-রেকর্ডেড বা নিখোঁজ বলে তো কিছু নেই। সবই তো রেকর্ডেড। যাদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে, কারও লাশই পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয়নি। ফলে পরিবারের কাছে সবাই নিখোঁজ। এমনিতে তো কেউ নিখোঁজ হয়নি।

‘সরকারের পক্ষে কোনো কিছুই কঠিন না। শেখ মুজিবের ওপর অল পুলিশ রেকর্ডস সিন্স নাইনটিন ফোরটি এইট বাইর করছে না? প্রধানমন্ত্রী চাইলে অল রেকর্ডস তিনি পাবেন। তিনি নিজেই ডিফেন্স মিনিস্টার। তিনি তথ্য চাইলে ডিজিএআই, এনএসআই, পুলিশ, জেল সবাই সব রেকর্ড তাকে দেবে। আমরা সিভিল হিসেবে হয়তো এসব পাব না। কিন্তু তিনি তা পাবেন। কারণ সব আছে।’

জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

লেখক ও সাংবাদিক আনোয়ার কবির নিউজবাংলাকে বলেন, জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে চলা হত্যা, গণহত্যা, গণফাঁসি নিয়ে তথ্যানুসন্ধানী কমিশন গঠনের জন্য অনেক দিন ধরেই কথা হচ্ছে। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রথম এই কমিশন গঠনের দাবি ওঠে জাতীয় সংসদে। এরপর নানা সময়ে আমার বই ধরে সংসদে বিভিন্ন সংসদ সদস্য দাবি তুলেছেন। কিন্তু কমিশন গঠন হয় না, তথ্যের সন্ধানও হয় না। প্রাণ হারানো সেনার তালিকাও হয় না।’

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের সময় জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির একটি উপকমিটি গঠন হয়েছিল সামরিক বাহিনীতে এসব অভ্যুথানের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে। তবে কর্নেল শওকত আলীর নেতৃত্বাধীন এ কমিটি খুব বেশি তথ্য জোগাড় করতে পারেনি।

কত মানুষকে হত্যা করা হয় সশস্ত্র বাহিনীতে

১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের অভ্যুত্থান নিয়ে জায়েদুল আহসানের লেখা বই রহস্যময় অভ্যুত্থান ও গণফাঁসি । জায়েদুল আহসান ওই ঘটনায় সামরিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের আংশিক তালিকা উদঘাটন করেছিলেন ঢাকা, বগুড়া ও কুমিল্লা কারাগারের নথি ঘেঁটে।

বইতে তিনি লিখেছেন: ‘১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় সামরিক বাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের নির্দেশে গঠিত বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালের কথিত বিচারে সেনা ও বিমানবাহিনীর যেসব সদস্যকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১৯৩ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। ঐ ঘটনায় পূর্বাপর মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এটা স্পষ্ট যে বিচারের আওতার বাইরেও অনেককে মরতে হয়েছে।

‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী দুই মাস ১ হাজার ১শ থেকে ১ হাজার ৪শ সৈনিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়েছিল। ঐ সময় শুধু ঢাকা ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে সৈনিকদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ঢাকায় ১২১ জন আর কুমিল্লায় ৭২ জনের ফাঁসি হয়। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ শতাধিক সৈনিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।’

অক্টোবরের ওই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাংবাদিক এন্থনি ম্যাসকারেনহাস আ লিগ্যাসি অব ব্লাড গ্রন্থে বলেছেন, ‘এ সময় পরবর্তী দুই মাসে বাংলাদেশের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী ১১৪৩ জন সৈনিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বাংলাদেশে সে সময়ে প্রায় সকল কারাগারে গণফাঁসি দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ দেশের প্রায় সকল প্রগতিশীল সংগঠনই তখন এর প্রতিবাদ করেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, প্রহসন ও কোনো আইনকানুনের পরোয়া না করে নামকাওয়াস্তে বিচার ও ফাঁসির ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছিল।’

সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-৮১) নামক বইয়ের লেখক সাংবাদিক ও গবেষক আনোয়ার কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি নিয়ে সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা বা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন প্রকাশনা ও নথিপত্র ঘেঁটে আমার মনে হয়েছে, এই সংখ্যা নেহাত কম নয়।

‘আনুমানিক আড়াই হাজার হবেই। তবে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১৯৭৭ সালে বিমানবাহিনীতে ঘটে যাওয়া এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানকে ঘিরে।’

১৯৮৭ সালে বিমানবাহিনী থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইতিহাস বইতে এই অভ্যুত্থানের দিনকে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বইটিতে এই বিদ্রোহের কারণে সরকার নির্দেশিত বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার ও পরে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মোট ৫৬১ জন বিমান সেনা হারানোর ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ১৯৭৭ সালে ৩ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ ‘100 Reported killed in Dacca Coup Attempt’ শিরোনামে অভ্যুত্থান-সম্পর্কিত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

১৯৭৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন পোস্ট-এ ‘Bangladesh Executions: A Discrepancy' শিরোনামে এক প্রতিবেদনে বলা হয়: ‘১৯৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাঠানো একটি গোপন তারবার্তায় ঢাকার আমেরিকান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জানান, তার পাওয়া তথ্য অনুসারে ২১৭ জন মিলিটারি সদস্যকে ক্যু প্রচেষ্টার পরবর্তীকালে হত্যা করা হয়।

‘আমাদের মনে হয় মিলিটারি কোর্ট স্থাপনের আগেই সম্ভবত এদের ৩০-৩৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিল’- বলেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আলফ্রেড ই বার্গেনসেন।

টেনেহিঁচড়ে গণফাঁসি ও দাফন

জায়েদুল আহসান তার বইতে লিখেছেন, ‘৭৭-এর ২ অক্টোবর অভ্যুত্থান দমনের পর থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর সহস্রাধিক সদস্যকে কোনো কিছু না জানিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় আটক করা হয়। এদের প্রায় সবাইকে পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে ঠাঁই না পাওয়াদের রাখা হয় সেনানিবাসের ভেতরে বিভিন্ন নির্যাতন সেলে।

‘তাদের হাত-পা-চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলত অকথ্য নির্যাতন। সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ছোট একটি কক্ষে ৫০-৬০ জনকে একই সঙ্গে রাখা হতো। অপরদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের ৭ অক্টোবর থেকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য শুরু হয়। বন্দিদের এই বিচার চলে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দেয়ার জন্য প্রতিদিন কারাগার থেকে বাসভর্তি করে সশস্ত্র প্রহরায় তাদের সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া এবং ফিরিয়ে আনা হতো।

‘সামরিক আদালতের রায় প্রতিদিন রাত ৯টার মধ্যে বন্দি সামরিক ব্যক্তিদের জানানো হতো। যাদের ফাঁসির আদেশ হতো তাদের সঙ্গে সঙ্গে কনডেমড সেলে পাঠানো হতো। রায় জানানোর রাতেই কিংবা পরের রাতে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হতো।

'৭৭-এর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কারাগারগুলোতে যখন সন্ধ্যা নেমে আসত, তখন প্রতিটি কক্ষ থেকে ভেসে আসত গগনবিদারী কান্নার রোল। সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে কারা কর্তৃপক্ষ এতই তড়িঘড়ি করে ফাঁসি দিচ্ছিল যে, একই নামের একজনকে ফেলে অন্যজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিচ্ছিল। পশুপাখির মতো, জোর করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গলায় রশি বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়া হতো। প্রাণ যাওয়ার আগেই হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলা হতো। কারাগারের ড্রেনগুলো সৈনিকদের রক্তে ভরপুর হয়ে যেত।’

অভ্যুত্থানের ফাঁদ?

১৯৭৭ সালের অক্টোবরের এই অভ্যুত্থান সম্পর্কে জেনারেল মীর শওকত আলীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন সাংবাদিক ও গবেষক জায়েদুল আহসান। এই অভ্যুত্থান সামরিক গোয়েন্দাদের দিয়ে জিয়ার পাতানো ফাঁদ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শওকত জানান, ঘটনাটা তার কাছেও রহস্যময় ছিল।

জেনারেল মীর শওকত জানান, জেনারেল জিয়াউর রহমান অক্টোবরের বিদ্রোহের আগাম খবর পেয়েছিলেন মিসরের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের কাছ থেকে। ১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সফরে জেনারেল জিয়া মিসর যান। ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী দিবসে তার প্রধান অতিথি থাকার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়ে দেন।

২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী দিবসে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে জিয়াসহ সব সিনিয়র অফিসারকে হত্যা করা হবে বলে আনোয়ার সাদাত তার নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন।

মীর শওকত জানান, অভ্যুত্থান দমনে রেডিও স্টেশন, বিমানবন্দর, জিয়ার বাসভবনের আশপাশ এবং ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন গেটে সৈনিকদের প্রাণহানি ঘটেছে। তার ধারণা, এই সংখ্যা এক শর বেশি না। পরবর্তী সময়ে বিচারের মাধ্যমে ১১০০ জনের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন, তবে নিশ্চিত নন বলে জানান।

১৯৭৮ সালের ৫ মার্চ লন্ডনের দ্য সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই রক্তগঙ্গা কেবল আংশিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে... বিমানবাহিনীর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য সানডে টাইমসকে বলেছেন, ৩০ সেপ্টেম্বর বগুড়ায়, আর ২ অক্টোবর ঢাকায় অভ্যুত্থানের পর সামরিক ট্রাইব্যুনালে ৮০০-এর অধিক সেনাসদস্যকে দণ্ডিত করা হয়েছে। সামরিক আদালতের সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যাঙ্গারু কোর্টের পার্থক্য খুব বেশি নয়। ঢাকায় প্রায় ৬০০ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ফায়ারিং স্কোয়াডে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে।’

১৯৭৮ সালের ২৫ মার্চ মুম্বাইয়ের ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলির প্রতিবেদনে বলা হয়, 'যদিও অ্যামনেস্টি শুধু এটুকুই বলতে প্রস্তুত যে কমপক্ষে ১৩০ জন এবং সম্ভবত কয়েক শর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তবে ঢাকার কিছু ওয়াকিবহাল সূত্রের মতে এ সংখ্যা ৭০০ পর্যন্ত হতে পারে।’

অভ্যুত্থানের সংখ্যা কত?

জায়েদুল আহসান তার বইতে বলেছেন, ‘বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকা, বই-প্রবন্ধ ও নানা গবেষকের লেখায় ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের বিদ্রোহ, ৭ নভেম্বরে পাল্টা বিদ্রোহ, ’৮১ সালের ৩০ মে জিয়া হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কমবেশি জানতে পেরেছি, যেন একটির পিঠে আরেকটি। শুধু জেনারেল জিয়ার আমলে ছোট-বড় ২১টি অভ্যুত্থান ঘটেছে বলে গবেষক ও বিশ্লেষকদের লেখায় তথ্য পেলেও বিশদ কিছুই জানতে পারিনি।’

জায়েদুল আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরো পাঁচ বছরে হত্যাকাণ্ড, বিচার বা ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালে জীবন হারানোদের তালিকা কারও কাছে নেই।’

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফের সারবাংয়ে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক পর্যটন নগরী। এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

কক্সবাজার সৈকতের ঘোলা পানি নিয়ে আক্ষেপের দিন শেষ হতে চলেছে। সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক।

পর্যটন পার্কটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বলছে, এটি চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত আমূল বদলে যাবে।

বেজা জানিয়েছে, পর্যটনের জন্য বিশেষ এ অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ শেষ, এখন চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজ। সেটি শেষ হলেই স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এই পর্যটন পার্কের পরিকল্পনা করা হয় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর। শুরুতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে এলাকাটি উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে দায়িত্ব পায় বেজা।

২০১৪ সালে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে ৯৬৭ একর জমিতে এ পর্যটন পার্ক তৈরির কাজ শুরু হয়। এটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা। তবে এতে দেশি পর্যটকরাও যেতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বে নির্মাণ হচ্ছে এই পার্ক।

দেশে বিদেশি পর্যটকের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সরকারি হিসেবে প্রতি বছর দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ বিদেশি নাগরিকের আনাগোনা থাকে। এর মধ্যে পর্যটক যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ীরাও। সরকার আশা করছে, সাবরাং পর্যটন পার্ক যাত্রা শুরু করলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।

বলা হচ্ছে, এই পার্কে প্রতিদিন পায় ৩৯ হাজার পর্যটক পর্যটন সেবা নিতে পারবেন।

নির্মিতব্য এই বিশেষ পর্যটন এলাকাটির অবস্থান কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার আর টেকনাফ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের সাথে এলাকাটির সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে অবস্থান বঙ্গোপসাগরের। কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে সাবরাং যেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

এখন পর্যন্ত এই সাবরাং পর্যটন পার্কে বিনিয়োগ এসেছে ২৪ কোটি ডলারেরও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক এক পর্যটন নগরী।

এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন মাঝ পর্যায়ের কাজগুলো চলছে। প্লট তো দেয়া হয়ে গেছে। ক্যানেলের কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে একটি প্রশাসনিক ভবন করছিলাম সেটার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

‘মাটি ভরাটের টেন্ডার ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার, সেটার পর্যবেক্ষণ চলছে। মাটি ভরাট হলেই আসলে ডেভেলপার যারা প্লট নিয়েছে তারা কাজ শুরু করে দেবে।’

সাবরাং পর্যটন পার্কটি তৈরি হয়ে গেলে পুরো কক্সবাজারের পর্যটন খাত বদলে যাবে বলে মনে করছে বেজা। মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর কারণ হলো এটা সমুদ্রের কাছে। তারপর এটা আমরা পুরোটাই পরিকল্পিতভাবে করছি। এতে খোলা জায়গা থাকবে, ক্যানেল থাকবে, ভেতরে এমিউজমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। মানে একটা অত্যাধুনিক পরিকল্পনা করে আমরা সামনে এগুচ্ছি।

‘কক্সবাজারে যেটা হয়েছে, সেটা কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছে, করেছে। এখানে কিন্তু সেটা না। প্লট দেয়া হলেও একটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখেই ভবন করতে হবে। ভেতরে সবুজ বাতাবরণ থাকবে। পরিবেশটাই হবে অন্যরকম। যখন এটা চালু হবে, আমার মনে হয় পর্যটকরা অবশ্যই এখানে আসবে।’

সাবরাং থেকে মাত্র আধাঘণ্টায় যাওয়া যায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস। এর ফলে পর্যটকরা দিনে গিয়ে দিনেই সেখান থেকে ফিরে আসতে পারবেন। আর এতে ঝুঁকির মধ্যে থাকা সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ বৈচিত্রও রক্ষা পাবে।

মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এখান থেকে আবার সেন্ট মার্টিন দেখা যায়, খুব কাছেই। এ কারণে এটিই হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। এখানে আবার আমরা একটি ফটো কর্নার করেছি, ক্লক টাওয়ারের মতো।

‘এটা চালু হলে এই এলাকার অর্থনীতিই বদলে যাবে পাশাপাশি মানুষের রুচিতেও আমূল পরিবর্তন আসবে।’

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হলেও এটিতে যেতে পারবেন দেশি পর্যটকরাও। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা এক্সক্লুসিভলি বিদেশি পর্যটকদের জন্য হবে না। যদিও এখন আমরা যে পলিসি তৈরি করছি তাতে বিদেশি পর্যটকই আমাদের মূল টার্গেট। বৈদেশিক মুদ্রা মূল টার্গেট। কিন্তু এর মধ্যে দেশিরা যে আসতে পারবে না তা না।

‘এখানে যে হোটেল রিসোর্টগুলো হবে, সেগুলোতে একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। যেমন, যদি ধরা যায় রয়্যাল টিউলিপ হোটেল, এটাতে তো বিদেশি ও দেশি উভয় পর্যটকই থাকতে পারে। ঠিক এ ধরনের স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। ভেতরে যে কেউ যেতে পারবে, ঘুরতে পারবে। সুন্দর একটা গেট করছি, টেন্ডার হয়ে গেছে। যখন মূল কাজগুলো হয়ে যাবে, তখন বিনিয়োগকারীরা আসবে, কাজ করতে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই পর্যটনের বিকাশ হবে না, বরং মনোযোগ দিতে হবে ব্র্যান্ডিংয়ে।

পর্যটন বিষয়ক পত্রিকা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহেদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম একটি পার্ক বা পর্যটন অঞ্চল যদি করা যায়, এটি নিঃসন্দেহে খুব ভালো একটি উদ্যোগ। তবে যে কোনো ভাল উদ্যোগকে সমর্থনের জন্য ভাল নীতিও থাকতে হয়। আমাদের দেশের ট্যুরিজম পলিসিটাই তো এখনও ঠিক হয়নি। পর্যটনের জন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যানও নেই।

‘এই যে একটা ভাল জিনিস আমরা করছি, এটাকে মার্কেটিং কীভাবে করব? কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের এখানে আসতে উদ্বুদ্ধ করব? আমরা কতটুকু সুযোগ সুবিধা দিতে পারব – এই বিষয়গুলোও একই সাথে ভাবতে হবে। দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের তো অনেক প্রডাক্ট রয়েছে, যেমন সুন্দরবন বা কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত অথবা বুদ্ধিস্ট হ্যারিটেজ। কিন্তু এগুলো কি আমরা বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে পারছি?’

তিনি বলেন, ‘শুধু কিছু অবকাঠামো তৈরি করেই যদি আত্মতুষ্টিতে ভুগি, তাহলে কিন্তু সুফল পাওয়া যাবে না। পর্যটকবান্ধব একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে, ব্র্যান্ডিং করতে হবে। সর্বোপরি পর্যটন খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
এক দিনে হাসপাতালে ২৮৭ ডেঙ্গু রোগী
করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু ভয়ংকর
১৪ দিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ মন্ত্রীর
ডেঙ্গু আতঙ্ক বরিশালে
এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৯ গুণ

শেয়ার করুন