করোনায় এক দিনে ছয় বিভাগে ১২৭ মৃত্যু

করোনায় এক দিনে ছয় বিভাগে ১২৭ মৃত্যু

করোনায় এক দিনে বরিশালে ৩১ জন, খুলনায় ২৬ জন, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ১৯ জন এবং সিলেট ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন করে মারা গেছেন।

করোনা ও উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ছয় বিভাগে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ ৩১ জন মারা গেছেন। একই সময়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন করে মারা গেছেন।

বরিশাল

বরিশাল বিভাগে এক দিনে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৩১ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। বাকিরা মারা গেছেন উপসর্গে। এদিকে বরিশাল বিভাগে এই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯৮ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস সোমবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এই নিয়ে বরিশাল বিভাগে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৭। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ২৩ জন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে নতুন করে ৭৯৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশালে ২৮২ জন, পটুয়াখালীতে ১২৯ জন, ভোলায় ১৬০ জন, পিরোজপুরে ৮২ জন, বরগুনায় ৮৩ জন এবং ঝালকাঠিতে ৬২ জন।

এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ‌্যা ৩৪ হাজার ৬২৭।

এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩০০ শয্যার করোনা ইউনিটে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৩১১ জন ভর্তি রয়েছেন। যার মধ্যে ১১৪ জনের করোনা পজিটিভ। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ইউনিটে ৫৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এই ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বমোট ১ হাজার ১১৭ জনের মৃত‌্যু হয়েছে।

খুলনা

করোনা আক্রান্ত হয়ে খুলনা বিভাগে এক দিনে ২৬ জন মারা গেছেন। একই সময়ে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জসিম উদ্দিন হাওলাদার সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের মধ্যে খুলনা ও কুষ্টিয়ায় ৭ জন করে, যশোর ও মেহেরপুর ৩ জন করে, ঝিনাইদহ ও মাগুরায় ২ জন করে, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গায় ১ জন করে মারা গেছেন।

খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৯৫ হাজার ১৮৫ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ হাজার ৪৫৪ জন।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ বিভাগে এক দিনে মৃত ২৩ জনের মধ্যে ৭ জন করোনা শনাক্ত হয়ে মারা গেছেন। বাকি ১৬ জন মারা গেছেন উপসর্গে। মৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহের ১৫ জন, জামালপুর ও নেত্রকোণায় ৩ জন করে এবং গাজীপুরের ২ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৬ জন নারী ও ১৭ জন পুরুষ।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ফোকাল পার্সন) মহিউদ্দিন খান মুন সোমবার সকাল ১০টায় নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা ইউনিটে ৫৩৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি আছেন ২৫ জন। নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬২ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন।

মহিউদ্দিন খান মুন আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়ান স্টপ ফ্লু কর্নারে সেবা নিয়েছেন ৩৯৫ জন এবং ৪২ জন টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছেন।

রাজশাহী

রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব থেকে বেশি মৃত্যু বগুড়ায়, ১০ জন। এ নিয়ে রাজশাহী বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৪।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃতদের মধ্যে বগুড়ার সর্বোচ্চ ১০ জন, রাজশাহীর ২ জন, নওগাঁর ২ জন, নাটোরের ৫ জন রয়েছেন। বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে এ পর্যন্ত বগুড়ায় সর্বোচ্চ ৫৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরই রাজশাহী জেলায় ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মারা গেছেন ১৪০ জন, নওগাঁয় ১২০ জন, নাটোরে ১১৮ জন, জয়পুরহাটে ৫০ জন, সিরাজগঞ্জে ৬৬ এবং পাবনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ২৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৭২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৫৭৯ জন।

রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭২৯ জন। এ নিয়ে বিভাগে মোট ৬১ হাজার ৩০৫ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন।

বর্তমানে বিভাগের ৮ জেলায় হাসপাতালে চিবিৎসাধীন রয়েছেন ১২ হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭০ জন। এ বিভাগে বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৯ হাজার ৮২৬ জন।

সিলেট

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে সিলেট বিভাগে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগে নতুন করে আরও ৮৫৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিমাংশু লাল রায় স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদনে সোমবার দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬০ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা।

এ নিয়ে বিভাগে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪১ হাজার ৩০৫।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫ জন। এক দিনে সুস্থ হয়েছেন ৪৬৮ জন। এ বিভাগে শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

রংপুর

রংপুর বিভাগের আট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৬৫৭ জন।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. মোতাহারুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জানান, রোববার সারা দিনে বিভাগে ১ হাজার ৯৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে আক্রান্তের হার ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৪ জনের মধ্যে গাইবান্ধা ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জন করে, পঞ্চগড়, রংপুর ও দিনাজপুরে ২ জন করে, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে ১ জন করে রয়েছেন।

এ নিয়ে বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৫০ । এর মধ্যে দিনাজপুরে ২৭২, রংপুরে ২০৮, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৮৫, নীলফামারীতে ৬৮, পঞ্চগড়ে ৬০, লালমনিরহাটে ৫৬, কুড়িগ্রামে ৫৪ ও গাইবান্ধায় ৪৭ জন রয়েছেন।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে রংপুরের ১৫৪ জন, দিনাজপুরের ৯৭ জন, কুড়িগ্রামের ৭৯ জন, ঠাকুরগাঁওয়ের ৬৭ জন, নীলফামারীর ৬১ জন, পঞ্চগড়ের ৪৮ জন, গাইবান্ধার ৪৪ জন ও লালমনিরহাট জেলার ২৫ জন রয়েছেন।

এ পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৪৫ হাজার ৪২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে অনুমতি কেন সংবিধানবিরোধী নয়: হাইকোর্ট

সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে অনুমতি কেন সংবিধানবিরোধী নয়: হাইকোর্ট

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সাথে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

অভিযোগপত্রের আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে নিয়োগকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার বিধান সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার আসামি কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পদায়ন করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে এনডিসি এস এম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টে এসব বিষয়ে নিয়ে রিটটি দায়ের করেন কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান। আদালতে তার আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইশরাত হাসান।

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সাথে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি বিচারকারী আদালতের গোচরীভূত হয় বিচারাধীন কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মচারী, তাহলে আদালত অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।

রিটকারির আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে হেনস্থা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে বাড়ি থেকে তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা।

পরে সাংবাদিক আরিফুলের কাছে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে মধ্যরাতেই কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেন। কিন্তু আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি একজনকে বরিশালে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয়, এসব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি লাগবে।

এসব বিষয়ে দেখে সরকারি চাকরি আইনের ৪১ (১) ও (৩) এর বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

জাপানি গাড়িসহ নিলাম হবে ৭৫ লট পণ্যের

জাপানি গাড়িসহ নিলাম হবে ৭৫ লট পণ্যের

চট্টগ্রাম বন্দরের একাংশ

২৯ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় ৭৫ লট পণ্য নিলামে তোলা হবে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৯৩ লট পণ্য নিলামে তোলা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিভিন্ন মডেলের তিনটি জাপানি গাড়ি, সাড়ে ১৫ হাজার কেজি ড্রাগন ফলসহ ৭৫ লট পণ্য নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমদানিকারকরা পণ্যগুলো খালাস না করায় ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই নিলাম।

নিলামের জন্য অপেক্ষারত জাপানি গাড়ি তিনটি যথাক্রমে টয়োটা মাইক্রোবাস, নিশান মাইক্রোবাস, টয়োটা কেআর-৪২ মডেলের।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্যমতে, এবারের নিলামে গাড়ি ছাড়াও রয়েছে ১৫২ কেজি সালফিউরিক এসিড, ১ ব্যাগ টেক্সটাইল কেমিক্যাল, ১৫ হাজার ৫০০ কেজি ড্রাগন ফল, ১ হাজার ৩১৩ রোল ফেব্রিক্স পণ্য, ৬২ কার্টন প্লাস্টিক হ্যাঙ্গার, ২৪ লাখ ৬০৯ টাকা মূল্যের থান কাপড়, ২০ ব্যাগ জিংক অক্সাইড, ২ হাজার ৫৩০ কার্টন আউটডোর ওয়াল টাইলস, ৩১ হাজার ২০৫ টাকা মূল্যের রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস পণ্য, ১৯৫ কার্টন জেন্টস আন্ডারওয়্যার, ৭ কার্টন পেপার ট্যাগ, ১৩৩ কেজি প্লাস্টিক ফিতা, ২১ কার্টন ওয়েস্ট বেল্ট, ৫০ কেজি পেইন্টিং পণ্য, ৫৯ কার্টন ফ্লাড লাইট, ২২ পিস ল্যাবরেটরি সাপ্লাইজ, ৭৪ কার্টন হ্যান্ড গ্লোভস, ৫৭০ রোল ফ্লোর ম্যাট, ৭৬২ ব্যাগ এলুমিনিয়াম পাউডার, ৩ কার্টন কটন ড্রকর্ড, ৫৩ হাজার কেজি ওজনের এমপিইটি ফিল্ম, ৫১ কার্টন ইলেকট্রিক এয়ার পাম্প, ১৫ হাজার ৭০০ কেজি ওজনের ব্র্যান্ড ফেজার লিফট, ১৫০ কেজি ওজনের পুস্তক নিলামে তোলা হচ্ছে।

এ ছাড়াও ২ হাজার ৬৭০ পিস মোটরসাইকেল টায়ার, ৯৫ হাজার ৮৭৯ টাকা মূল্যের কসমেটিক্স, ৫ হাজার ৩৬৭ টাকার ডিপ লাইনার, ২ হাজার ২৪১ টাকার আই লাইনার, ১৩ লাখ ১২ হাজার ৩৪১ টাকার ক্যাপিটাল মেশিনারি, ৯৮ হাজার ৪২৫ টাকার মেশিনারি পণ্য, ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬১ টাকার পিভিসি মেশিন, ১ ইউনিট ডায়নামিক ব্যালেন্সিং মেশিন, ৯১ পিস খালি ড্রাম, ২৭ হাজার ১৫০ কেজি ওয়্যার রোপ, ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৬ কেজি ওজনের চেইন ক্যাবল, ৩০ পিস ইলেকট্রিক স্ট্যান্ড ফ্যান, ৬ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকার বয়লার পণ্য, ৪ হাজার ৭৭৪ কেজি ওজনের শার্ট ফেব্রিক্স, ৬২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৭ কেজি ওজনের উল ফেব্রিক্স, ১ হাজার ৪৩০ কেজি ওজনের আমব্রেলা ফেব্রিক্স, ১৮ পিস ওয়াল ফ্যান, ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২০৯ টাকার ব্লক ও ব্লেড পণ্য, ৪৬ রোল কম্বল, ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৯২ টাকার জিংক শিট পণ্য উঠছে নিলামে।

সরকারি নিলাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে এম করপোরেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে নিলামের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিলামে অংশ নিতে হলে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালীন ২০০ টাকা দরে ক্যাটালগ ও ১০০ টাকা দরে দরপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রশাসন) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টেন্ডার বক্সে দরপত্র জমা দিতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (নিলাম শাখা) মো. আল আমিন জানান, বন্দরে আমদানি করা পণ্য যথাসময়ে খালাস না করলে তা নির্দিষ্ট সময় পর নিলামে তোলা হয়। কারণ খালাস না করা পণ্য বন্দরের ইয়ার্ডগুলো দখল করে রাখে। এতে কনটেইনার জটের সম্ভাবনা থাকে। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনটি নিলাম ডাকার চেষ্টা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

২৯ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় ৭৫ লট পণ্য নিলামে তোলা হবে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৯৩ লট পণ্য নিলামে তোলা হয়েছিল।

বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন পণ্য অনেক সময় খালাস করেন না আমদানিকারকরা। পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনতে গিয়ে কায়িক পরীক্ষায় আটক হয় এসব পণ্যের বড় একটা অংশ। নিয়মনুযায়ী আমদানিকারকদের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের পণ্য খালাসের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু যথাসময়ে পণ্য খালাস না করলে এগুলোকে নিলামে তোলে কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

লিবিয়া থেকে ফিরেই গ্রেপ্তার হত্যা মামলার আসামি

লিবিয়া থেকে ফিরেই গ্রেপ্তার হত্যা মামলার আসামি

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ওই মামলায় কালুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এরপরই সেই পরোয়ানা বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় তার সন্ধানে। ঘটনার ৫ বছর পর কালু দেশে ফিরতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন বাকি আইনি কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে পরিচালিত হবে।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এক আসামি।

গ্রেপ্তার আজাদ হোসেন কালুকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজাদ হোসেন কালুর বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার এসআই কেএম আব্দুল হক জানান, ২০১৬ সালে স্কুলছাত্রী কবিতা হত্যার পর লিবিয়ায় পালিয়ে যান আসামি আজাদ হোসেন কালু। শনিবার সকালে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরেন তিনি। হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কালুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার বিষয়টি জানতে পারেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। ইমিগ্রেশন থেকে গৌরনদী মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে কালুকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ওই মামলায় কালুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এরপরই সেই পরোয়ানা বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় তার সন্ধানে। ঘটনার ৫ বছর পর কালু দেশে ফিরতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন বাকি আইনি কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে পরিচালিত হবে।

২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সকালে গৌরনদীর সুন্দরদী এলাকার আয়নাল হকের মেয়ে কবিতা আক্তারের হাত-পা বাধা মরদেহ স্থানীয় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। টরকী বন্দর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী কবিতা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার ধানডোবা গ্রামের আজাদ হোসেন কালুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই কবিতাকে তার প্রেমিক কালু হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা এবং মেয়েটির বাবা আইনুল হক বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এসব ঘটনার পর থেকেই কালুর কোনো সন্ধান মিলছিল না।

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

২৬ দিনে ডেঙ্গুতে ১৫ মৃত্যু

২৬ দিনে ডেঙ্গুতে ১৫ মৃত্যু

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে রোববার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ১৮৫ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৭ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার ৩৫৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৬ হাজার ২৫৩ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৪৩ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮১৪ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

এর আগে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০০২ সালে, সেবার ৫৮ জনের মৃত্যু সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যায়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর হার।

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে শিশুর প্রাণ গেল দুর্ঘটনায়

চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে শিশুর প্রাণ গেল দুর্ঘটনায়

আদুরি খাতুন জানান, মেয়ের ঠাণ্ডা-জ্বর হওয়ায় তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আলমসাধুতে বাড়ি ফিরছিলেন। হাকিমপুরে ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকি লেগে তিনি মেয়েসহ আলমসাধু থেকে পড়ে যান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার সময় আলমসাধু থেকে পড়ে সাত মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শিশুটির মা।

আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে রোববার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত আনিকা খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার তিয়রবিলা গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম ও আদুরি খাতুনের ছোট মেয়ে। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে আছে।

আদুরি খাতুন নিউজবাংলাকে জানান, মেয়ের ঠাণ্ডা-জ্বর হওয়ায় তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আলমসাধুতে বাড়ি ফিরছিলেন। হাকিমপুরে ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকি লেগে তিনি মেয়েসহ আলমসাধু থেকে পড়ে যান।

স্থানীয়রা তাদের সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শিশুটি মারা গেছে। তার মাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘শিশুটির মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত বা মামলার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

রেইনট্রি ধর্ষণ মামলায় পেছাল যুক্তিতর্ক

রেইনট্রি ধর্ষণ মামলায় পেছাল যুক্তিতর্ক

বনানীর রেইনট্রি হোটেল। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ প্রতিবেদনে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অপর আসামি সাদমান সাকিফ, রহমত আলী ও বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়।

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ ৫ আসামির যুক্তিতর্কের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার অসুস্থ থাকায় রোববারের নির্ধারিত যুক্তিতর্ক হয়নি। এদিন যুক্তিতর্কের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইশতিয়ার আলম জনি।

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে অস্ত্রের মুখে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।

পুলিশ প্রতিবেদনে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অপর আসামি সাদমান সাকিফ, রহমত আলী ও বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় সহযোগিতার অভিযোগ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৭ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সে বছর ১৩ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এরপর গত ২২ আগস্ট মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রে ৪৭ সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত ২৯ আগস্ট আত্মপক্ষ শুনানিতে সাফাতসহ ৫ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। আসামিরা সকলেই জামিনে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

দুর্নীতি: আ.লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নানের বিচার শুরু

দুর্নীতি: আ.লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নানের বিচার শুরু

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। ছবি: ফেসবুক

আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন মীর আহমেদ আলী সালাম। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুটি আলাদা মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করে আদালত।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম।

রোববার অব্যাহতি চেয়ে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন মীর আহমেদ আলী সালাম।

শুনানির সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা নিয়ে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের কাছে হেরে যান। গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে আর মনোনয়ন দেয়নি।

প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে মান্নানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তিন দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি।

মান্নানের পাশাপাশি তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধেও ওঠে একই ধরনের অভিযোগ। ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। পরে ২৩ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনিও।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সেখানে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মান্নান খানের আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি।

তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, তদন্তে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় মারা গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান
করোনায় মানসিক চাপ দূরে রাখা জরুরি
করোনা চিকিৎসায় শয্যা বাড়াতে রিট
অক্সিজেন ব্যাংক নিয়ে করোনা আক্রান্তের পাশে ইউনিভার্সাল এমিটি
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে এক মাসে ৩২৩ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন