অন্তঃসত্ত্বাদের টিকা দেয়ার পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অন্তঃসত্ত্বাদের টিকা দেয়ার পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দেশে গর্ভবতীদের করোনার টিকা দিতে সম্মতি দিয়েছি আমরা। এ বিষয়ে টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ পরামর্শক কমিটি বা ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন অ্যাডভাইজারি গ্রুপ (নাইটেগ) থেকে সিদ্ধান্ত এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দেশে এতদিন অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী মায়েদেরকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া না হলেও দ্রুতই তাদেরকে টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে টিকা প্রদান বিষয়ে এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দেশে গর্ভবতীদের করোনার টিকা দিতে সম্মতি দিয়েছি আমরা। এ বিষয়ে টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ পরামর্শক কমিটি বা ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন অ্যাডভাইজারি গ্রুপ (নাইটেগ) থেকে সিদ্ধান্ত এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনা থেকে সুরক্ষায় চলমান টিকা কার্যক্রমে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তুর্ভুক্ত করতে শনিবার হাইকোর্টে রিট হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় এ রিট করেন তিন আইনজীবী।

স্বাস্থ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।

রিটে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে অন্তঃসত্ত্বারা করোনারোধী টিকা নিতে পারবেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তঃসত্ত্বাদের ফাইজার ও মর্ডানার উৎপাদিত কোভিড ভ্যাকসিন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ওইসব দেশের অন্তঃসত্ত্বা নারীরা করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আসছে।

‘এ কারণে আমাদের দেশের অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও টিকার আওতায় আনতে নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছে।’

রিট বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়। অর্থাৎ ৩৫ লাখ অন্তঃসত্ত্বা নারী আরও ৩৫ লাখ মানুষের অস্তিত্ব বহন করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সরকারের নির্ধারিত করোনার টিকা রেজিস্ট্রেশনের সুরক্ষা অ্যাপে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধন করতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

আবেদনে বলা হয়, অন্তঃসত্ত্বাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে করোনার টিকা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। তাদেরকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা একটি নিপীড়নমূলক, বৈষম্যমূলক এবং তাদের জীবনধারণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জন্মনিরোধক পিলও নকল

জন্মনিরোধক পিলও নকল

প্রতীকী ছবি

ভেজাল ওষুধ হিসেবে এবার জব্দ হলো জন্মনিরোধক পিল।

শনিবার রাজধানীর বাবুবাজারে সুরেশ্বরী মেডিসিন প্লাজায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে জন্মনিরোধক পিলও রয়েছে।

নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তারা হলেন- মেডিসিন ওয়ার্ল্ডের ফয়সাল আহমেদ, লোকনাথ ড্রাগের সুমন চন্দ্র মল্লিক ও রাফসান ফার্মেসির লিটন গাজী।

গোয়েন্দা পুলিশের লাগবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ নিউজাবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নকল জন্মনিরোধক পিলের মধ্যে আছে আইপিল। অরক্ষিত শারীরিক সম্পর্কের পর এটি জরুরি ভিত্তিতে হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের পিলের দাম স্বাভাবিক জন্মবিরোধ পিলের তুলনায় বেশি।।

ডিবির অতিরিক্ত উপ কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘জড়িতরা অধিক লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশি ও বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের ওষধ ও ক্রিম উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। পলাতক কয়েকজন আসামির কাছ থেকে এগুলো সংগ্রহ করে মিটফোর্ড এলাকায় বাজারজাত করত।’

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

বাইকে ট্রাকের ধাক্কায় কাস্টমস পরিদর্শক নিহত

বাইকে ট্রাকের ধাক্কায় কাস্টমস পরিদর্শক নিহত

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম জানান, সাহাজত আরও দুই জন নিয়ে হিলি থেকে বাইকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর যাচ্ছিলেন। ফুলবাড়ী শহরের রেলক্রসিংয়ের সামনে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সাহাজত নিহত হন।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাইকে ট্রাকের ধাক্কায় কাস্টমস পরিদর্শক সাহাজত আলী নিহত হয়েছেন।

ফুলবাড়ী পৌর শহরের রেলক্রসিংয়ের সামনে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সাহাজত আলী ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের নেকমরদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা কাস্টমসের পরিদর্শক ছিলেন।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুল ইসলাম জানান, সাহাজত হিলি থেকে মোটরসাইকেলে সৈয়দপুর বিমানবন্দর যাচ্ছিলেন। একই বাইকে ছিলেন আমিনুর রহমান ও হরিশ চন্দ্র রায় নামের আরও দুই জন।

শহরের রেলক্রসিংয়ের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সাহাজত নিহত হন। দুর্ঘটনায় বাইকের অপর দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ট্রাকচালক হাফিজুর রহমান রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

পাহাড়ে ১০ কোটি টাকার কাজ বাগাতে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট

পাহাড়ে ১০ কোটি টাকার কাজ বাগাতে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট

রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় রিংওয়েল ও গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ১৩ গ্রুপে ১০ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার আহ্বান করে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। ই-জিপি টেন্ডারের দরপত্র আহ্বান করে দেশের দুটি দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয় প্রকৌশল বিভাগ।

অনলাইনে টেন্ডার হলেও জালিয়াতি করে রাঙামাটিতে ১০ কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের স্থানীয় ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট এই কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে নাম উঠেছে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর।

সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, তারা অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত টেন্ডার জমা দিতে পারেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় রিংওয়েল ও গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ১৩ গ্রুপে ১০ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার আহ্বান করে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। ই-জিপি টেন্ডারের দরপত্র আহ্বান করে দেশের দুটি দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয় প্রকৌশল বিভাগ।

দরপত্রে শর্ত ছিল, ৮ সেপ্টেম্বর মধ্যে তা জমা দিতে হবে। তবে তার এক দিন আগেই নিজেদের সাজানো দরপত্র দিয়ে অনলাইনে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অভিযোগ ওঠে ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

চেষ্টা করেও অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কয়েকজন সাধারণ ঠিকাদার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিন্ডিকেটটির ঠিকাদাররা প্রত্যেক গ্রুপের কাজে নিজের সিডিউলের (দরপত্র) সমর্থনে তাদের নিয়ন্ত্রিত ঠিকাদারি লাইসেন্সের নামে আরও ৪-৫টি করে ত্রুটিযুক্ত সিডিউল সাজিয়ে অনলাইনে জমা দেন, যাতে করে বাছাইয়ে নিজের সিডিউল টিকিয়ে কাজ পাওয়ার শতভাগ নিশ্চিত করা হয়।’

তার দাবির সঙ্গে অন্য কয়েকজন ঠিকাদারও সমর্থন জানান।

তাদের ভাষ্য, এই কাজ করতে নির্দিষ্ট অংকের কমিশন নিয়েছেন রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে।

অনুপম দে এমন অভিযোগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রচারবহুল পত্রিকায় প্রকাশ করে প্রকাশ্য ই-জিপি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যে কোনো জায়গা থেকে বৈধ ঠিকাদাররা অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পেরেছেন।

‘কাজেই এখানে কোনো রকম অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। যারা ইচ্ছুক, সেসব ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে টেন্ডার জমা দিয়েছেন।’

অনুপম দে বলেন, ‘প্রত্যেক গ্রুপ কাজে ৪-৬টি সিডিউল পাওয়া গেছে। সিডিউলগুলো অনলাইন থেকে নামিয়ে জমা করা হয়েছে। এখনও বাছাই করা হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ও সঠিক দরদাতাকে কাজ দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

ট্রেনে বাচ্চা প্রসবে এগিয়ে আসা সেই চিকিৎসক

ট্রেনে বাচ্চা প্রসবে এগিয়ে আসা সেই চিকিৎসক

ফারজানা তাসনিম।

ট্রেনে সন্তান প্রসব করা সাবিনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মা-মেয়ে দুজনই এখন ভালো আছে।

রাত তখন সাড়ে ৯টা। গত বৃহস্পতিবার এই সময়টাতে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনে নিজের আসনেই বসেছিলেন ফারজানা তাসনিম। যাচ্ছিলেন বাড়ি। রাজশাহী নগরীর উপশহরেই তার বাসা।

হঠাৎ করেই ট্রেনের মাইকে একটি জরুরি ঘোষণা ভেসে এল। প্রসবব্যথা শুরু হয়েছে এক নারীর! এ অবস্থায় ট্রেনে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না, জানতে চাইছিলেন একজন।

৪২তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ফারজানা তাসনিম সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদানের অপেক্ষা করছেন। তাই মাইকের ঘোষণাটি শুনে তিনি আর বসে থাকতে পারেননি। দৌড়ে গেলেন ব্যথায় কাতর সেই নারীর কাছে।

ততক্ষণে অবশ্য সেই নারী এক কন্যাসন্তান প্রসব করে ফেলেছেন। কিন্তু এ নিয়ে মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন তার কাছে থাকা স্বজনরা। কারণ সন্তান প্রসবের পরও আরও কিছু জটিলতা থেকে যায়। এ ব্যাপারে দক্ষ মানুষেরাই তার সমাধান করতে পারেন।

ফারজানা তাসনিম দেখতে পান শিশুটির নাড়ি তখনও মায়ের গর্ভের সঙ্গে আটকে আছে। সুদক্ষ চিকিৎসকের মতোই দ্রুততার সঙ্গে সদ্যোজাত শিশুর নাড়িটি কেটে দেন তিনি। তার আকস্মিক এমন আবির্ভাবে স্বস্তি ফিরে আসে স্বজনদের মধ্যে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, সন্তান প্রসব করা সেই নারীও সাহস ফিরে পান।

ট্রেনের মধ্যে সন্তান প্রসব করা সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। সন্তান প্রসবের জন্যই তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তার আগেই ট্রেনের মধ্যে সন্তান প্রসব করায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন তিনি। ঝুঁকিতে ছিল তার সদ্যোজাত কন্যাসন্তানও। তবে চিকিৎসক ফারজানা তাসনিম দেবদূতের মতো হাজির হয়ে তাদের রক্ষা করেন।

ফারজানা বলেন, ‘সাধারণত বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই মায়ের সঙ্গে যে নাড়ি থাকে সেটি কেটে ফেলতে হয়। বেশি দেরি হলে মায়ের সমস্যা না হলেও বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। সেই সমস্যা থেকে বাচ্চা মারাও যেতে পারে।’

সন্তান প্রসবের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন ফারজানা। তিনি বলেন, ‘তারা একটা পরিবেশ করে দিয়েছেন। বগিটা ফাঁকা করেছে। যখন যা দরকার দিয়েছেন। এমনকি ফাস্ট এইড বক্সও তারাই সরবরাহ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রেনটি দ্রুত গতিতে চালিয়ে তারা রাজশাহীতে নিয়ে এসেছেন।’

রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর বগুড়ার শহীদ জিয়াাউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন ফারজানা তাসনিম। ইন্টার্ন করেন সেখান থেকেই। এরপর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আরবান হেলথ কেয়ারে চাকরি করেছেন। তার বাবা সোলায়মান আলী গণপূর্ত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী।

সাবিনা ও তার কন্যাসন্তান এখনও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছে। সাবিনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মা-মেয়ে দুজনই এখন ভালো আছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। শিগগির তারা প্রতিবেদন দেবেন।’

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।’

তবে কত দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি গোলাম মোস্তফা। এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেয়া হয়।’

উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামে আব্দুর রহিম সুপার মার্কেটের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন ওই মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম, মো. ইউসুফ, মো. সুমন ও মো. জুয়েল। তাদের সবার বাড়ি শিলমুদ গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের দিকে বৃষ্টি হয়েছিল। পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। খুঁটি লাগোয়া একটি গাছও বিদ্যুতায়িত ছিল। সেই গাছের ডালের সঙ্গে হাত লাগে আব্দুর রহিমের। তাকে বাঁচাতে এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউসূফ, সুমন ও জুয়েল এগিয়ে যান। এতে তারাও বিদ্যুতায়িত হন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া শিলমুদ মধ্যপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের দাফন করা হয়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটি সরাতে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলেও, তা আমলে নেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ উল্ল্যাহ্‌ বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এখানে খুঁটি স্থাপন করে সংযোগ দেয়। ১০ বছর আগে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের এখতিয়ার চলে যায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেননি।’

নিহত আব্দুর রহিমের শ্যালক মোরশেদ আলম বলেন, ‘অনেকবার তাদের খুঁটি সরাতে বলেছি। তারা সরায়নি। তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।’

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই মাস আগে ওই খুঁটিটি সরাতে গেলে মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম বাধা দেন। এজন্য খুঁটি সরানো হয়নি। দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।’

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহগুলোর সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মৃতদের তালিকা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

নোয়াখালী জেলায় গত এক সপ্তাহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ৬ জন। গত বুধবার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের হেলে পড়া একটি খুঁটির তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মফিজ উল্যাহ নামের এক ব্যক্তি।

মফিজ উল্যাহর পরিবারের অভিযোগ, খুঁটি সরাতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা সরায়নি।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কবিরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সাজ্জাদ হোসেন রিফাত নামের আরও এক স্কুলছাত্র।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

প্রাইমারি ডিলারে সেরা ব্যাংক এনআরবিসি

প্রাইমারি ডিলারে সেরা ব্যাংক এনআরবিসি

সরকারি সিকিউরিটিজ ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক বলা হয়। এই ব্যাংকগুলো বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য সরাসরি নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারে। দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত। প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠনের নাম ‘প্রাইমারি ডিলারস্ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিডিবিএল)।

এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংককে সেরা প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক হিসেবে নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয় করায় ব্যাংকটিকে এই মনোনয়ন দেয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে ব্যাংকটিকে নগদ কমিশন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে, এনআরবিসি ব্যাংককে অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সেরা প্রাইমারি ডিলার নির্বাচন ও আন্ডাররাইটিং কমিশন হিসেবে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪২০ টাকা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিকিউরিটিজ ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক বলা হয়। এই ব্যাংকগুলো বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য সরাসরি নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত। প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠনের নাম ‘প্রাইমারি ডিলারস্ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিডিবিএল)।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল বলেন, ‘স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক। সরকার উন্নয়ন কাজ গতিশীল রাখতে দেশিয় উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে। সেই ঋণ দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সক্রিয়ভাবে ঋণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছি আমরা। পাশাপাশি আয়কর, ভ্যাট, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব সংগ্রহ এবং বিআরটিএ, পল্লী বিদ্যুৎ, ভূমি রেজিস্ট্রেশন ফিসহ সরকারি বিভিন্ন সেবার ফি আদায় করছে এনআরবিসি ব্যাংক।’

উল্লেখ্য, এনআরবিসি ব্যাংকের ৮৩টি শাখার পাশাপাশি সারাদেশে প্রায় ৫৩০টি উপশাখা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস ও বিআরটিএ ফিস কালেকশন বুথ। এর বাইরে আছে ৫৯৫টি এজেন্ট পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি

মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাল্টিমোরে রয়েছে মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি।

২০০৫ সালে ওয়্যারহাউস তাদের স্টুডিও সরিয়ে নেয় ঠিক গ্রাফিতি অ্যালের সামনে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও নিয়ম করা হয়, মেরিল্যান্ডে কেউ গ্রাফিতি আঁকতে চাইলে সোজা চলে যাবেন ওখানে। যত খুশি বা যা খুশি আঁকা হোক না কেন, মানতে হবে না কোনো নিয়ম। পড়তে হবে না আইনের বেড়াজালে।

গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র আঁকার মধ্য দিয়ে মনের চাপ কমানোর কথা কি আগে শুনেছেন? অথবা শুধু একটি গলি, যেটিকে পরিণত করা হয়েছে কেবল দেয়ালচিত্র আঁকার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায়- শুনেছেন কি সেই জায়গার নাম?

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাল্টিমোর নগরীতে এই ‘গ্রাফিতি অ্যালি’ বা ‘দেয়ালচিত্রের গলি’র অবস্থান। প্রাচীন এই মার্কিন নগরী বহু কারণেই বিখ্যাত। তবে যে রাজ্যে দেয়ালে সামান্য আঁকিবুঁকিতেও পকেট থেকে খসতে পারে অন্তত আড়াই হাজার ডলার বা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি। সঙ্গে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হতে পারে।

মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি

সেখানে কীভাবে একটি গলির সবগুলো দেয়াল পরণিত হলো কেবল গ্রাফিতি আঁকার জন্য?

গ্রাফিতি কী, সেটা কমবেশি জানা থাকলেও আবার ঝালিয়ে নেয়া যেতে পারে। জনগণের দৃষ্টিসীমায় যেকোনো দেয়াল, সড়ক, বাড়ির দরজায় কিছু এঁকে রাখাকেই গ্রাফিতি বলা হয়। ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিসর বা গ্রিসে এর জন্ম হাজার বছর আগে। (সূত্র:উইকিপিডিয়া)

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই গ্রাফিতির ব্যবহার হয়ে আসছে। বাল্টিমোরের গ্রাফিতি গলিকে ধারণ করছে ‘গ্রাফিতি ওয়্যারহাউস’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। যারা মূলত স্ট্রিট আর্টিস্ট বা পথশিল্পীদের নিয়ে কাজ করে থাকে।

বহুদিন থেকেই বাল্টিমোরের ওই জায়গাটি ছিল অপরাধী চক্রের দখলে। বিভিন্ন মাদক কারবারি দলের সদস্যরাই সেখানে গ্রাফিতি আঁকতেন। মানতেন না কোনো বিধিনিষেধ। এরই মধ্যে কিছু গ্রাফিতির দেখা মেলে যেগুলো ছিল দারুণ নান্দনিক। মেরিল্যান্ডের আর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট ইনস্টিটিউটসংলগ্ন হওয়ায় গলিটি সহজেই চোখে পড়ে যায় গ্রাফিতি ওয়্যারহাউস কর্তৃপক্ষের।

২০০৫ সালে ওয়্যারহাউস তাদের স্টুডিও সরিয়ে নেয় ঠিক গ্রাফিতি অ্যালের সামনে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও নিয়ম করা হয়, মেরিল্যান্ডে কেউ গ্রাফিতি আঁকতে চাইলে সোজা চলে যাবেন ওখানে। যত খুশি বা যা খুশি আঁকা হোক না কেন, মানতে হবে না কোনো নিয়ম। পড়তে হবে না আইনের বেড়াজালে।

মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি

এখন এই গলিতে গ্রাফিতি আঁকতে আসেন বহু দূরের রাজ্যের বাসিন্দারা। মন খুলে এঁকে যান যা ইচ্ছা।

যা খুশি আঁকার বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক। গলিতে গিয়ে চোখে পড়ল যুক্তরাষ্ট্রের পপ তারকা বিয়ন্সের গ্রাফিতি। সঙ্গে রয়েছে বেশ কঠিন কিন্তু সরেস কোনো বার্তা। অথবা হিজাব পরিহিত মুসলিম নারী বন্দুক তাক করে রয়েছেন আপনারই দিকে। স্প্রে পেইন্টে নিচে লেখা ‘নো রুলস্’। যার বাংলা করলে বলা যেতে পারে ‘কোনো নিয়ম নয়’।

আছে বিখ্যাত কার্টুন চরিত্রে বাগস বানির বিশাল গ্রাফিতি। কিন্তু বাগসকে পরিণত করা হয়েছে আবেদনময়ী নারীতে। কারণ হিসেবে শিল্পী নিচে লিখে গেছেন, ‘শরীরই তো সবকিছু, তাই বাগসের এই দশা’।

মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি

ইংরেজি ‘এল’ আকৃতির এই গলির পুরোটাই রঙের ছড়াছড়ি। সঙ্গে আছে রঙের গন্ধ। গ্রাফিতি আঁকতে মূলত স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করা হয়। সঙ্গে ম্যাগাজিনের কাটা অংশ থেকে শুরু করে পানি নিরোধক মেকআপ ব্যবহার হয় সবকিছুই।

সেখানকার ময়লা ফেলার বাক্সগুলোতেও গ্রাফিতি আঁকা। বাদ পড়েনি সিউওয়্যারেজ পাইপ, মিটার বক্স, সুইচ বোর্ড বা রাস্তার একটি অংশও।

এখানে কিন্তু প্রতি সপ্তাহে পাল্টে যায় গ্রাফিতিগুলো। কখনও কখনও পাল্টে যায় এক দিনের ভেতরেই। ছুটির দিনে গ্রাফিতি অ্যালিতে দেখা মিলতে পারে শখের সংগীত শিল্পীর। এসেছেন দারুণ রঙিন এই জায়গায় মিউজিক ভিডিওর শুটিং করতে।

মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি

‘বি’ নামের এক শিল্পী জানান বেশির ভাগ শিল্পী এখানে আসেন মনের চাপ কমাতে। গ্রাফিতির সঙ্গে জুড়ে দেয়া বার্তা পছন্দ না হলে পাল্টে দিতে পারেন যে কেউ। কিন্তু চেষ্টা করা হয় সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে।

মনের কী কথা প্রকাশ করতে ইচ্ছা করছে? ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন সরকারের ওপর? কোনো ব্যাপারই না। চলে আসুন বাল্টিমোরের গ্রাফিতি অ্যালিতে। এঁকে বা লিখে যান সবকিছু। কোনো সমস্যা নেই।

মন খুলে গ্রাফিতি আঁকার গলি

গভীর রাতে ডিজে পার্টি বা ব্রেক ডান্স গ্রুপ নিয়ে চলতে পারে জন্মদিনের উৎসবও। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপ্রেমীদের মতে, জায়গাটি এই দেশের একটি 'লুকোনো রতনের' মতোই। (সূত্র: ইয়েল্প)

এটি শুধু শিল্পবোদ্ধাদেরই নয়; টেনে আনতে পারে যেকোনো পর্যটককেই।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় অক্সফোর্ডের দ্বিতীয় ডোজের টিকা শুরু সোমবার
টিকা: ‘ভারসাম্যের কূটনীতিতে’ সংকট থেকে সক্ষমতায়
অন্তঃসত্ত্বাদের টিকায় অগ্রাধিকার চেয়ে রিট
টিকাদানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সপ্তাহে কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

শেয়ার করুন