করোনায় ১৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু

করোনায় ১৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের করোনা ইউনিটে রোগী নিয়ে আসছেন স্বজনরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ঈদের তিন দিনের সাধারণ ছুটি শেষে নতুন করে শাটডাউন শুরুর দিন শুক্রবার অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন প্রাণহানি নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৫১ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে দেশে আরও ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি গত ১৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু।

গত ৬ জুলাইয়ের পর থেকে প্রতিদিনই এর চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঈদের তিন দিনের সাধারণ ছুটি শেষে নতুন করে শাটডাউন শুরুর দিন শুক্রবার অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন প্রাণহানি নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৫১ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বাড়ায় শনাক্তের পরিমাণও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২০ হাজার ৪৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬ হাজার ৩৬৪ জনের শরীরে এই ভাইরাসটির অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

আগের দিন শনাক্তের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৯৭ জন। সে দিন পরীক্ষা হয়েছিল ১১ হাজার ৪৮৬ জনের।

করোনায় ১৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু
শুক্রবার সকাল থেকে ঈদের ছুটি-পরবর্তী কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ। সার্বিক শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ৯ হাজার ৬জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৬ জন। সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৯৫ আর নারী ৭১ জন। এর মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে।

এদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ৭, ত্রিশোর্ধ্ব ১৫, চল্লিশোর্ধ্ব ২৪, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৩২ ও ষাটোর্ধ্ব ৪৬ জন, সত্তরোর্ধ্ব ২৭, আশির্ধ্ব ১০ এবং ৯০ বছরের বেশি ৩ জন রয়েছে।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এরপরই রয়েছে খুলনা বিভাগ, ৩৩ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৩৩ জন, রাজশাহীতে ৭, বরিশালে ১০, সিলেটে ৮, রংপুরে ১২ ও ময়মনসিংহে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি।

তবে মে মাস থেকে ব্যাপকভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তখন আক্রান্তের হটস্পট ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের মতো জনবহুল শহরগুলো।

গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু- দুটোই কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি। তবে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে করোনার নতুন ধরনের কথা জানা যায়।

সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের দ্রুত অসুস্থ করে দেয়, তাদের অক্সিজেন লাগে বেশি। ছড়ায়ও দ্রুত, তাই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয় ২৪ এপ্রিল। কিন্তু বিধিনিষেধ না মানায় ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকানো যায়নি। প্রথমে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রাজশাহী অঞ্চলে ব্যাপক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরে তা ছড়ায় খুলনা বিভাগে। সেই সঙ্গে ঢাকা বিভাগের বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল আর টাঙ্গাইল এলাকাতেও সংক্রমণ ঘটে ভাইরাসটির।

পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় গত ২২ জুন থেকে ঢাকাকে ঘিরে রাখা সাত জেলায় যান চলাচল বন্ধ করে রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এতেও কাজ না হওয়ায় ১ জুলাই থেকে শুরু হয় শাটডাউন। সরকার জনগণের চলাচল রোধে এবার যে কঠোর, তার প্রমাণ মেলে সেনাবাহিনী মোতায়েনেই।

এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মধ্যে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে শাটডাউন ৮ দিনের জন্য শিথিল করে সরকার। সেই মেয়াদ শেষ হয়ে শুক্রবার সকাল থেকে আরও ১৪ দিনের জন্য দেশ গেল কঠোর বিধিনিষেধে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ

বিমানবন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস ঢাকার প্রভেনটিভ টিম বিমানবন্দরে নজরদারি করতে থাকে। রাত ১১ টার দিকে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্ল্যাইট ঢাকায় অবতরণ করলে আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। তল্লাশি করে তার কাছ থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ করা হয়।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে দেড় কেজি সোনা জব্দ ও একজনকে আটক করেছে শুল্ক কর্মকর্তারা।

অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. আনোয়ার হোসেন। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানের খবর পেয়ে কাস্টম হাউস ঢাকার প্রতিরোধ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নেয় ও নজরদারি করতে থাকে। রাত ১১ টার দিকে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৪ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে।

এ সময় আনোয়ার হোসেনকে শনাক্ত করে তল্লাশি করলে তার হাতব্যাগ ও পায়ুপথ থেকে এক হাজার ১০ গ্রাম পেস্টসদশ গোল্ড, ৪৬৪ গ্রাম ওজনের ৪ টি সোনার বার এবং ১১০ গ্রাম সোনার গয়না জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দকৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে শুল্ক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যে সংশোধন শুরু হয়েছে, তা থামেনি আজও। একটি ব্রোকারেজ হাউজে হতাশা নিয়ে শেয়ার মূল্য দেখছেন বিনিয়োগকারী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর দিন সূচক পড়েছিল ৫৬ পয়েন্ট। ১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচকের পতন হয় ৩৭ পয়েন্ট। আর এক সপ্তাহ পর সূচক পড়ল ৭ পয়েন্ট। তবে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। গত ১২ সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

টানা তৃতীয় রোববার পতন নিয়ে শুরু হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন।

জুলাই থেকে টানা এক হাজার দুইশ পয়েন্টে বেশি সূচক বাড়ার পর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সংশোধন শুরু হয়েছে, তাতে সূচকের পতন না ঘটলেও বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন ঘটছে।

দুই সপ্তাহ এভাবে চলার পর চলতি সপ্তাহ থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা, তা পূরণ হলো না।

তবে আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় সূচকের পতন হয়েছে কম। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর দিন সূচক পড়েছিল ৫৬ পয়েন্ট।

১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচকের পতন হয় ৩৭ পয়েন্ট। আর এক সপ্তাহ পর সূচক পড়ল ৭ পয়েন্ট।

আগের দুই পতনের মতোই এবারও সূচক বেড়ে গিয়ে শেষ বেলায় পড়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর সূচক এক পর্যায়ে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ৭৮ পয়েন্ট। সেখান থেকে ১২৪ পয়েন্ট পতন হয় বেলা শেষে।

১৯ সেপ্টেম্বর লেনদেনের শুরুতে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ২৮ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৬৫ পয়েন্ট পতনে শেষ হয় লেনদেন।

আর টানা তৃতীয় রোববার সূচক এক পর্যায়ে বেড়ে যায় ২৯ পয়েন্ট। সেখান থেকে পতন হয় ৩৬ পয়েন্ট।

তবে সূচকের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে অনেকটাই। আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবারের ‍তুলনায় প্রায় চারশ কোটি টাকা বেড়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আজই।

তলানিতে থাকা ব্যাংক খাত আরও দর হারিয়েছে, বিমা খাতের পতন ছিল আরও বেশি। জ্বালানি এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেও গেছে বাজে দিন। প্রকৌশল খাতেও ভালো গেছে এমন নয়।

অন্যদিকে ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র এবং ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। আর সবচেয়ে ভালো দিন গেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে।

সব মিলিয়ে ১১৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২৩০টির দর। আর দাম ধরে রাখতে পেরেছে ৩৩টি।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।’

রোহিঙ্গা সংকটকে জিইয়ে রেখে সরকার পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতি আদায় করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।

‘এটা জিইয়ে রেখে পশ্চিমাদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, যেমন: স্পেন, ভারত, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যেতে পারেনি। এই সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তারা বের করতে পারেনি।’

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। মিয়ানমার সেনা ও দোসরদের এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের এ আগমনে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মাত্রা পায়।

জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অর্জন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আরও বলেন, ‘অর্জন তার একটাই; আরও বেশি মিথ্যাচার কীভাবে করা যায়। আপনারা লক্ষ করবেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে মানুষের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন জাতিসংঘে দেয়া তার গোটা বক্তব্যের কোথাও তিনি তা উল্লেখ করেন নাই।’

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের নেতাদের সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় যেসব লেখালেখি হয়েছে তা খণ্ডানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তিনি অনেকগুলো নেতিবাচক কথা বলেছেন। আমরা তার এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

‘পাশাপাশি আমরা আশা করি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনি সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যাতে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।’

বক্তব্য দেয়ার সময় ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

প্রতি উপজেলায় ফায়ার স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে

প্রতি উপজেলায় ফায়ার স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে

ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে ৪১তম ব্যাচের অফিসার্স ফাউন্ডেশন কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ। ছবি: নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের ক্ষমতা গ্রহণের আগে দেশে ফায়ার স্টেশন ছিল মাত্র ২০৪টি। এখন সারা দেশে চালু ফায়ার স্টেশন ৪৫৬টি। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা হবে ৫৬৫টি এবং জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার।’

দেশে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রাজধানীর মিরপুর ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে ৪১তম ব্যাচের অফিসার্স ফাউন্ডেশন কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের ক্ষমতা গ্রহণের আগে দেশে ফায়ার স্টেশন ছিল মাত্র ২০৪টি। এখন সারা দেশে চালু ফায়ার স্টেশন ৪৫৬টি। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা হবে ৫৬৫টি এবং জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার।

‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী এই জনবলকে ২৫ হাজারে উন্নীত করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এখন আর আগের দমকল বাহিনী নয়। আমরা ফায়ার সার্ভিসকে সকল দিক থেকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। প্রতিষ্ঠানটি এখন বহুমাতৃক সেবাকাজে নিয়োজিত।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর জন্য নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘সারা বিশ্বে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ-দুর্ঘটনার চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। দুর্ঘটনাগুলো আমাদের সামনে নতুন নতুন চরিত্রে আবির্ভূত হচ্ছে; আবার নতুন নতুন দুর্ঘটনাও যোগ হচ্ছে আমাদের জীবনে। প্রকৃতিগতভাবে দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে আপনাদের সবসময় দুর্যোগ প্রশমনের জন্য যেমন কাজ করতে হবে; তেমনি উদ্ভাবনী বিবেচনা শক্তি দিয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতিও সীমিত রাখতে হবে।

‘আমি আশা করব, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রশিক্ষনলব্ধ জ্ঞানকে ধরে রাখবেন এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তা আরও শাণিত করবেন। আরেকটি বিষয় সব সময় মনে রাখতে হবে, এটি একটি ইউনিফর্মধারী সুশৃঙ্খল বিভাগ। প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাদেরকে শৃঙ্খলার মান বজায় রাখতে হবে।’

সবসময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলতে হবে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমি আশা করি, আগামী দিনে আপনারাই হবেন ফায়ার সার্ভিসের মূল চালিকা শক্তি। সুন্দর মন-মানসিকতা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ দিয়ে এই বিভাগের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে আপনারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা করছি।’

ফায়ার অ্যাকাডেমি নির্মাণের জন্য মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১০০ একর জায়গা নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ-সুবিধাও অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিভাতা প্রদান, পূর্ণাঙ্গ রেশন ইউনিট চালু, ৩ রঙের মর্যাদাপূর্ণ কমব্যাট পোশাক প্রবর্তন, রাষ্ট্রীয় পদক সংখ্যা ও সম্মানি বৃদ্ধি এবং ফায়ারফাইটার ও অফিসারসহ পাঁচটি পদের বেতন গ্রেড বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাজের সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এই বাহিনীকে বিশ্বমানের একটি সেবা বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিসিএস নন-ক্যাডারের সুপারিশ অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের যোগ দেয়া স্টেশন অফিসারসহ মোট ৪৪ জন অফিসারের প্রশিক্ষণ সমাপ্তি শেষে তাদের পদায়নের আগে এই সমাপনী কুচকাওয়াজ হয়।

দীর্ঘ ১১ মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সকল দুর্যোগে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ৪৪ জন অফিসারের মধ্য থেকে শারীরিক যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা, শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা, আচার-ব্যবহার, লিখিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দক্ষতার ভিত্তিতে তিনজনকে চৌকস নির্বাচিত করা হয়। চৌকস অফিসারদের পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন অধিদপ্তরের উপ সহকারী পরিচলক মো. আনোয়ারুল হক। প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট ছিলেন ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. নাজিম উদ্দিন সরকার।

এসময় পতাকাবাহী দলের নেতৃত্ব দেন জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর মো. শামীম আহম্মেদ, প্রথম কনটিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট এবং দ্বিতীয় কনটিনজেন্টটির নেতৃত্ব দেন স্টেশন অফিসার মো. জিল্লুর রহমান।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি মহিদুল জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

গাজীপুরের পূবাইলে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পূবাইল থানাধীন মাজুখান গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে থেকে রোববার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতের নাম মো. সিহাব। সিহাব পূবাইল থানার মাজুখান গ্রামের মো. জুয়েলের ছেলে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিদুল।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে সিহাবের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

সিহাবের বাবা জুয়েল জানান, নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখোঁজি করেও সিহাবের সন্ধান না পেয়ে রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম।

সিহাবকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, শিশুটির বাবা-মা সাত মাস ধরে আলাদা থাকেন। শিশুটি মাজুখান এলাকায় তার বাবার সঙ্গে থাকত। শনিবার দুপুরে নিখোঁজের পর রোববার ভোরে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

অপহরণের ২ দিন পর র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার হন এই তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, নির্মাণ কাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়। 

কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে অপহরণ হওয়া তিন বাংলাদেশি যুবককে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। তবে সেখান থেকে কাউকে আটক করা যায়নি। র‍্যাব জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের অপহরণ করেছে।

উদ্ধার যুবকরা হলেন নোয়াখালীর হাতিয়ার আজিজুল ইসলাম, নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের আল আমিন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মুক্তার হোসেন মৃধা।

নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শনিবার দুপুরে তাদের উদ্ধার করা হলেও বিষয়টি রোববার দুপুরে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানান, নির্মাণ কাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়।

অপহরণ হওয়া আজিজুল ইসলামের ভাই হাসান মো. সায়েম ঘটনাটি র‍্যাবকে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নয়াপাড়ার ওই পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় তিনজনকে।

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ সাদী আরও জানান, এ ঘটনায় আজিজুলে ভাই টেকনাফ থানায় মামলা করেছেন। অপহরণকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

জোর করে ঢাবির বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে চাকরি প্রত্যাশীরা

জোর করে ঢাবির বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে চাকরি প্রত্যাশীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করেন প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রন্থাগারের দরজা খোলার পর শুরুতে শৃঙ্খলা দেখা গেলেও মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখা যায়। নিয়মের তোলাক্কা না করে লাইব্রেরিতে ঢুকতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এ সুযোগে চাকরি প্রত্যাশারাও ঢুকে পড়েন। এসময় দায়িত্বে নিয়োজিত লাইব্রেরির কয়েকজন কর্মচারীকে ধাক্কা এবং ঘুষি দিয়ে ফেলেও দেন তারা।

দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের দরজা। অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার খোলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে জোর করে ঢুকে পড়েছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

এসময় তাদের রোখার চেষ্টা করে আঘাত পেয়েছেন গ্রন্থাগারের কয়েকজন কর্মচারী।

রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে বরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত মাস্ক নিয়ে তারা গ্রন্থাগারের গেইটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। মাপা হয় শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা। এরপর তাদের হাতে সেনিটাইজার দিয়ে এবং করোনা সনদ যাছাই করে ঢুকতে দেয়া হয় গ্রন্থাগারে।

শুরুতে কিছুটা শৃঙ্খলা দেখা গেলেও খানিক পরই নিয়মের তোয়াক্কা না করে জোর করে গ্রন্থাগারে ঢুকে যায় অনেক শিক্ষার্থী। এ সুযোগে চাকরি প্রত্যাশীরাও ঢুকে পড়েন। এসময় দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মচারীকে ধাক্কা এবং ঘুষি দিয়ে ফেলে দেন তারা।

বাইরের কোনো বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করা যাবে না, এমন নিয়ম থাকলেও তাও মানেননি শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষার বই হাতে নিয়ে ঢুকে পড়েন তারা।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী। সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক নাসির উদ্দীন মুন্সি।

তারা চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের বের হয়ে যেতে বললে কিছু শিক্ষার্থী প্রক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রক্টর গোলাম রাব্বানী।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সহযোগিতা করে কী আমরা ভুল করেছি। তোমরা আমাদের এমন স্মৃতি দিও না যে স্মৃতি আমদের কষ্ট দেয়। তোমাদের প্রতি আমাদের যে মমত্ববোধ সেটি কী আমরা এই দেড় বছরে প্রমাণ করিনি! তোমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী আছে তার পড়ো। আর যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী না তোমরা আমাদের সহযোগিতা করো। তোমাদের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

লাইব্রেরিয়ান নাসির উদ্দীন মুন্সি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরাও তোমাদের কাছ থেকে শিখব। তোমরা এমন কোনো আচরণ করে সেটি নষ্ট করে দিও না।’

কথা শেষ করেই শিক্ষার্থীদের সেখানে রেখেই বের হয়ে যান প্রক্টর এবং গ্রন্থাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকবৃন্দ।

পরে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে লাইব্রেরি সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পড়তে চায়, এটি ইতিবাচক দিক। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’

গ্রন্থাগারিক নাসির উদ্দীন মুন্সি বলেন, ‘আমাদের সকল আয়োজন থাকার পরও শিক্ষার্থীরা জোর করে ঢুকে পড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই চাকরি প্রত্যাশী। যেহেতু ঢুকে পড়েছে তাই আমরা আজ বের করে দেয়নি। সামনের দিনে এটি নজরে রাখা হবে।’

বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জোর করে প্রবেশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতনতার জায়গাটি খুবই প্রখর। এটি আমাদের শক্তি। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ঠ সচেতনতা ছিল। আশা করি, এই ধরনের ভূমিকা সবাই পালন করবেন। আমরা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল। প্রত্যেকেই যদি আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করি তাহলে কিন্তু একটি শিক্ষা অনুকূল পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?
যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে এক সপ্তাহ পর মায়ের মৃত্যু
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জেলায় ৯৯ মৃত্যু
ঈদে নমুনা পরীক্ষা তলানিতে, মৃত্যু ১৮৭
৪ জেলায় ৫৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন