করোনা টেস্টে জট, বাড়ছে সংক্রমণ

করোনা টেস্টে জট, বাড়ছে সংক্রমণ

রংপুর নগরীতে বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করোনা টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ( ভারপ্রাপ্ত) আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘চার জেলার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব, তার সক্ষমতাও কম। আরও একটি পিসিআর ল্যাব হবে দ্রুত, তখন সমস্যা থাকবে না। যেসব নমুনা জটের কথা বলা হচ্ছে তা অচিরেই সমাধান হবে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনা টেস্টের জট লেগেছে। করোনা পজিটিভ ছাড়া রংপুরের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন না গুরুতর অসুস্থরাও। সময় মতো টেস্টের ফল না পাওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে।

সুত্র জানিয়েছে, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে এখনও ৯০০ নমুনা জমা পড়ে আছে।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার শত শত রোগী এ ল্যাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ১৮৮টি নমুনা টেস্টে সক্ষম এই পিসিআর।

করোনা উপসর্গের রোগীদের স্বজনরা জানান, নমুনা দিলেও সময়মত রেজাল্ট পাচ্ছে না তারা। ফলে করোনা পজেটিভি হলেও যথা সময়ে জানতে পারছেনা অনেকে।

রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। গত ১৭ দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে রংপুর বিভাগে মারা গেছেন ২২৬ জন।

মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১২ দিন আগে আড়াই হাজার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। শুক্রবার ৩২০টি নমুনার প্রতিবেদন আসে।

শুক্রবার আরও এক হাজার ২০০ নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন কবে পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

১৭ জুন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে পিসিআরে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিটি জেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি জেলার জন্য ৩০টি, সিটি করপোরেশনের জন্য ৩৫টি, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ২৫টি এবং বাকি কয়েকটি পুলিশ, বিজিবি ও ভিভিআইপিদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এখানে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে নমুনা পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে গত এক মাসে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নমুনার সংখ্যাও বেড়েছে।

রংপুর নগরীর হাজিপাড়া মহল্লার সাদেকুর রহমান স্বপন জানান, ১২ দিন আগে তিনি নমুনা দিয়েছেন। তারও দুই দিন আগে থেকে করোনা উপসর্গে ভুগছেন। তার নমুনার রিপোর্ট এখনও আসেনি। এ অবস্থায় বাড়ির লোকজনও সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।

তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রংপুর কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম, তারা কোভিড পজিটিভ না হলে ভর্তি নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর গ্রামের সমছেল হক জ্বরে ভূগছেন। ১২ জুলাই নমুনা দিয়েছেন, ছয় দিনেও ফল পাননি। তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও পিসিআর ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সব নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন তেমন জট নেই।’

১২ দিন আগে পাঠানো নমুনার রিপোর্ট না পাওয়া বিষয়ে ডা: লাইজু বলেন, ‘এমনটা হবার কথা নয়, খোঁজ নিতে হবে। আমরা আশা করছি আরও একটি পিসিআর ল্যাব পাবো।’

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ( ভারপ্রাপ্ত) আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘চার জেলার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব, তার সক্ষমতাও কম। আরও একটি পিসিআর ল্যাব হবে দ্রুত, তখন সমস্যা থাকবে না। যেসব নমুনা জটের কথা বলা হচ্ছে তা অচিরেই সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ২০৪ মৃত্যু, শনাক্ত কমে ৮,৪৮৯
৭ জেলায় ৯২ মৃত্যু
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য