করোনা

৭ জেলায় ৯২ মৃত্যু

৭ জেলায় ৯২ মৃত্যু

ফাইল ছবি

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, এক দিনে এই হাসপাতালে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ জন শনাক্ত হয়ে ও ৫ জন উপসর্গ নিয়ে। এখন পর্যন্ত আইসিইউতে ১৫ জনসহ মোট ৪০৬ জন রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুরে ২১ জন, ময়মনসিংহে ১৭ জন, রাজশাহীতে ১৬, বরিশালে ১৩, খুলনায় ১১, সাতক্ষীরায় ৯ ও চট্টগ্রামে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর

জেলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, এক দিনে এ হাসপাতালে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ জন শনাক্ত হয়ে ও ৫ জন উপসর্গ নিয়ে। এখন পর্যন্ত আইসিইউতে ১৫ জনসহ মোট ৪০৬ জন রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এক দিনে এ জেলায় ৩০৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৮ জন করোনা শনাক্ত হয়ে ও বাকি ৯ জন উপসর্গ নিয়ে মারা যান। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে ৫৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন মহিউদ্দিন খান মুন জানান, বর্তমানে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৪৩৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি আছেন ২২ জন। নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন।

জেলা সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জেলায় আক্রান্তের হার ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

রাজশাহী
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা শনাক্ত হয়ে ৮ জন ও উপসর্গে ৮ জন মারা গেছেন। উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকে মারা যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে রাজশাহীর ৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২, পাবনার ৩, নাটোর ও কুষ্টিয়ার ১ জন করে। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৪ জন ও নারী ২ জন।

এ নিয়ে চলতি মাসের ১৭ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ২৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ ৯৬ জন আর উপসর্গ নিয়ে ২০২ জনের মৃত্যু হয়।

করোনা ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬৬ জন। আর এই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৭ জন। বর্তমানে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ৪৫৪টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছেন ৫২৭ জন।

রাজশাহী সিভিল সার্জনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাজশাহীতে ৭৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৫৯ ভাগ।

ব‌রিশাল

বরিশাল বিভাগে এক দিনে করোনায় ৪ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই নিয়ে বরিশাল বিভাগে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এক দিনে মৃত‌ ব্যক্তিদের ম‌ধ্যে ১২ জন ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসাধীন ছি‌লেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস জানান, এ বিভাগে নতুন করে ১৫৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশালে শনাক্তের সংখ্যা ১০৪ জন, পটুয়াখালী‌তে ১০, ভোলায় ৩৮, বরগুনায় ১ ও ঝালকা‌ঠিতে ৩ জন।

শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লের ৩০০ শয্যাবি‌শিষ্ট ক‌রোনা ইউ‌নি‌টে শনিবার ২৫৩ জন ভ‌র্তি র‌য়ে‌ছেন, যার ম‌ধ্যে ৮৪ জন ক‌রোনা প‌জি‌টি‌ভ। এক দিনে এই ইউ‌নি‌টে ৩৫ নতুন রোগী ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন।

খুলনা

খুলনায় ২ হাসপাতালে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৭ জন ও গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন।

ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পার্সন সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, এ হাসপাতালে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা নিয়ে ৬ ও উপসর্গ নিয়ে ১ জন মারা গেছেন। শনাক্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনার ৫ জন ও নড়াইলে ১ জন।

এ ছাড়া এ হাসপাতালে ২০০ রোগী ভর্তি রয়েছেন। যার মধ্যে রেড জোনে ১৩৬ জন, ইয়ালো জোনে ২৪ জন, এইচডিইউতে ২০ ও আইসিইউতে ২০ জন। নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ জন।

গাজী মেডিক্যালের স্বত্বাধিকারী গাজী মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে মৃত ৪ জনের মধ্য খুলনার ২ এবং যশোর ও নড়াইলে ১ জন করে। হাসপাতালে ১০৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ৮ জন। এক দিনে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন।

জেলা জেনারেল হাসপাতালের মুখপাত্র আবু রাশেদ জানান, এ হাসপাতালে মৃত্যু নেই। তবে হাসপাতালে মোট রোগী রয়েছেন ৫৬ জন। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৯ জন; বাড়ি ফিরেছেন ১৩ জন।

আবু নাসের হাসপাতালের মুখপাত্র প্রকাশ দেব নাথ জানান, এই হাসপাতালেও মৃত্যু নেই। ৫৬ জন রোগী ভর্তি, যার মধ্যে আইসিইউতে ১০ জন। এখানে নতুন ভর্তি হয়েছেন ১ জন; বাড়ি ফিরেছেন ২ জন।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪৫৮ জন। পাশাপাশি করোনায় মারা গেছেন ৮০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৪ জন।

শুক্রবার এ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, এ পর্যন্ত সাতক্ষীরায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮২৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৭ জন।

বর্তমানে করোনা রোগী রয়েছেন ১ হাজার ২০৮ জন। হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর সংখ্যা ৩৪ জন। এদের মধ্যে সামেক হাসপাতালে ২৬ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৮ জন ভর্তি আছেন।

হোম আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ১৭১ জন। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩২৮ জন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ২৭৪ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ৮১ জন।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০০ জন। এই সময়ে মারা গেছেন ৫ জন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের একটি ও চট্টগ্রামের ৯টি ল্যাবে ১ হাজার ৯৫৭ নমুনা ও এন্টিজেন পরীক্ষা করে ৬০০ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ৪৪৭ জন শহরের এবং ১৫৩ জন উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৫৭ জন।

এক দিনে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ জন। এর মধ্যে ৩ জন মহানগর ও বাকি ২ জন উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট মারা গেছেন ৮২৪ জন।

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বুস্টার স্থগিত করুন, দরিদ্রদের টিকা দিন: ডব্লিউএইচও

বুস্টার স্থগিত করুন, দরিদ্রদের টিকা দিন: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেড্রোস আধানম। ফাইল ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনা প্রতিরোধী টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকার ‘বুস্টার শট’ হিসেবে তৃতীয় ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত অক্টোবরের আগ পর্যন্ত করোনা টিকার বুস্টার ডোজ কর্মসূচি শুরু না করার আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম।

তার মতে, এ কর্মসূচি স্থগিত রাখলে সবগুলো দেশে মোট জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ১০ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ করে টিকা দেয়া সম্ভব হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনা প্রতিরোধী টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

অথচ দরিদ্র দেশগুলোর সিংহভাগ মানুষ এক ডোজ টিকাও পাচ্ছে না বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১০০ জনে টিকাগ্রহীতার হার মাত্র দেড় শতাংশ।

আধানম জানান, এ চিত্র পাল্টাতে হলে টিকার বড় অংশ এখন পাঠাতে হবে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে।

তিনি বলেন, ‘সব সরকারই চাইছে নিজ দেশের মানুষের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে। তাদের উদ্বেগ আমরা বুঝি। কিন্তু যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি টিকা নিয়েছে, তারাই আরও বেশি টিকা নেবে, এটা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

উচ্চ ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে টিকার ভারসাম্যহীনতা বাড়তে থাকার মধ্যেই এ সতর্কবার্তা দিল ডব্লিউএইচও। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশের অন্তত ১০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চেয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু টিকা কার্যক্রমের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে তা অসম্ভব।

লাতিন আমেরিকার দেশ হাইতি আর আফ্রিকার কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একজন ব্যক্তিও দুই ডোজ করে টিকা পাননি।

আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক সংক্রমণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দুই ডোজ টিকা নিয়েছে মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র সাত দশমিক নয় শতাংশ।

অথচ এরই মধ্যে ষাটোর্ধ্বদের তৃতীয় ডোজ দিতে শুরু করেছে ইসরায়েল। শিগগিরই বুস্টার শট দেয়ার পরিকল্পনা মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে জার্মানি। ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সেপ্টেম্বর নাগাদ তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু করতে চায় যুক্তরাজ্য।

করোনা টিকার বুস্টার শট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পরিকল্পনার ঘোষণা এখনও দেয়নি। তবে হোয়াইট হাউজ বুধবার নিশ্চিত করেছে যে আমেরিকান জনগোষ্ঠীকে দুই ডোজ দেয়ার পরেও তৃতীয় ডোজ দেয়ার মতো টিকা মজুত আছে তাদের।

ধনী দেশগুলোতে শিশু-কিশোরদের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রেখে অতিরিক্ত ডোজ দান করতে গত মে মাসেও আহ্বান জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।

বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে জাতিসংঘের কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় আরও টিকা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

পিসিআর মেশিনে ভাইরাস, বন্ধ নমুনা পরীক্ষা

পিসিআর মেশিনে ভাইরাস, বন্ধ নমুনা পরীক্ষা

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের জানান, পিসিআর মেশিন বন্ধ থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। ল্যাবটি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে শুক্রবার থেকে হয়তো আবার নমুনা পরীক্ষা শুরু করা যাবে।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর মেশিনে করোনাভাইরাস পাওয়ায় বন্ধ রয়েছে নমুনা পরীক্ষা।

হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ল্যাবপ্রধান সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২ আগস্ট বিকেলে ১২৩টি নমুনা পরীক্ষার জন্য মেশিনে দেয়া হয়। এতে ১১৫ জনের পজিটিভ ফল এলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়।

এরপর মঙ্গলবার পরীক্ষা করে মেশিনের টিউবে ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেলে করোনা পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ছাড়া ওই ১২৩টি নমুনা আবারও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের জানান, পিসিআর মেশিন বন্ধ থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। ল্যাবটি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে শুক্রবার থেকে হয়তো আবার নমুনা পরীক্ষা শুরু করা যাবে।

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

করোনা আক্রান্তদের প্রায় সবার দেহে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

করোনা আক্রান্তদের প্রায় সবার দেহে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের চারটি ধরন পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের দেহেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।’

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। করোনায় শনাক্তদের প্রায় সবার দেহে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের তথ্য উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক গবেষণায়।

কোভিড-১৯-এর জিনোম সিকোয়েন্সিং সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করার সময় বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান গবেষণা-প্রকল্পটির প্রধান সুপারভাইজার বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের চারটি ধরন পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের দেহেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।’

‘এ ছাড়া, আমাদের গবেষণায় প্রথম ১৫ দিনে একজন রোগী মরিশাস ভ্যারিয়েন্ট অথবা নাইজেরিয়ান ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। মরিশাস ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে এখনও গবেষণা চলমান। তাই সঠিক বলা যাচ্ছে না এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট কতটা সংক্রামক।’

চলতি বছরের ২৯ জুন থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী কিছু করোনা রোগীর ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এই গবেষণায় দেশের সকল বিভাগের রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যাম্পলিং করা হয়।

কোভিড-১৯ পজিটিভ মোট ৩০০ জন থেকে নমুনা নিয়ে ‘নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং’ এর মাধ্যমে করোনারভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়।

করোনার জিনোমের চরিত্র উন্মোচন, মিউটেশনের ধরন, জিনোমের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্ক বের করা এবং বাংলাদেশি কোভিভ-১৯ জিনোম ডাটাবেস তৈরি করাই এ গবেষণার উদ্দেশ্য বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, পরবর্তী মাসগুলোতে চলমান হালনাগাদকৃত ফলাফল জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

৭ আগস্ট ৫০ লাখ মানুষকে টিকা

৭ আগস্ট ৫০ লাখ মানুষকে টিকা

এক সপ্তাহের মধ্যে সারা দেশে ১ কোটি মানুষকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সরকার। এর অংশ হিসেবে আপাতত ৭ আগস্ট প্রায় অর্ধকোটি মানুষকে টিকা দেয়া হবে। তারপর কিছুটা সীমিত করা হবে এ কার্যক্রম। কারণ হাতে পর্যাপ্ত টিকা নেই।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা প্রদানের পরিসর বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ৭ আগস্ট সারা দেশের ১৫ হাজারের বেশি টিকাদান কেন্দ্রে প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে দেয়া হবে প্রথম ডোজ।

অবশ্য সরকারের পরিকল্পনা ছিল ৭ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে ১ কোটি মানুষকে প্রথম ডোজ দেয়া। টিকাস্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

দেশব্যাপী গণটিকা প্রদানের জন্য ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত তারিখ নির্ধারণ করা হলেও সেই ক্যাম্পেইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৭-১২ আগস্ট ৬ দিনের ভ্যাকসিনেশন প্ল্যান করা হলেও হঠাৎ প্ল্যানে পরিবর্তন এসেছে। ছয় দিনের পরিবর্তে এখন মাত্র একদিন করা হবে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন।

‘আপাতত একদিন (৭ আগস্ট) ভ্যাকসিন দেয়া হবে। তারপর সাতদিন বন্ধ থাকার পর আবার ক্যাস্পেইন চালু হবে। তবে চলমান টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

আপাতত আগামী শনিবার দেশের প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা প্রদান করা হবে। তারপর কিছুটা সীমিত করা হবে এ কার্যক্রম। আরও টিকা হাতে আসলে পরিধি ফের বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা মাফিক এক সপ্তাহে ১ কোটি মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখও প্রকাশ করা হয়েছে সরকার থেকে।

এ বিষয়ে বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম টিকাস্বল্পতার কারণে সীমিত করা হয়েছে। আপাতত ৭ আগস্ট শুধু এক দিন প্রতিটি টিকাকেন্দ্রে অগ্রিম রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ৩০০ জনকে টিকা দেয়া হবে। অনেক চেষ্টার পরও এটা পরিবর্তন করা যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে আলোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, ‘আগামী ১৪ আগস্ট থেকে টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে এই কর্মসূচি পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন বিবৃতির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘এটা পুরো সত্য নয়। এক দিন বড় পরিসরে টিকাদান চলবে। তারপর অন্য দিনগুলোর মতো স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রম চলবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শুধু ৭ আগস্ট দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ১৫ হাজার ২৮৭টি ওয়ার্ডে এক সেশনে দেয়া হবে প্রথম ডোজ। এই দিন প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাপান থেকে আসা অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার প্রায় ৮ লাখ ডোজ গ্রহণের পর গত শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহে ১ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহে ১ কোটির বেশি টিকা প্রয়োগের টার্গেট নেয়া হয়েছে। প্রথমেই বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

‘এখন টিকা মজুত আছে যথেষ্ট। আমরা গ্রামগঞ্জে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রায় ১৩ হাজার ৮০০ বুথে টিকা দেয়া হবে। আশা করছি, আমরা যে টিকা দেব সেটা সপ্তাহব্যাপী একটা কার্যক্রম। এর মধ্যে ১ কোটির বেশি টিকা আমরা দিতে সক্ষম হব। এটি আমাদের টার্গেট। অনেক বড় টার্গেট।’

কোভিড-১৯ পর্যালোচনাসংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় সভা শেষে গত মঙ্গলবার সরকারের টিকার মজুত জানতে চাওয়া হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। এ মাসে আরও ১ কোটি টিকা এসে পৌঁছাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এ পর্যন্ত দেশের ১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৪ জন করোনা টিকার আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১ কোটি ৯ হাজার ৯৫৩ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে বুধবার এক দিনে সারা দেশে টিকা নিয়েছেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৩ জন।

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় এক দিনে করোনা শনাক্ত ৭০৭, মৃত্যু ৭

কুমিল্লায় এক দিনে করোনা শনাক্ত ৭০৭, মৃত্যু ৭

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৩৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫৭ জন।

কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন।

পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বুধবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ২ হাজার ১৭১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

শনাক্তদের মধ্যে ১১৪ জনই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।

বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদরের ১২ জন, সদর দক্ষিণের ১৯, বুড়িচংয়ের ৪০, ব্রাহ্মণপাড়ার ২৪, চান্দিনার ২৬, চৌদ্দগ্রামের ৫৬, দেবিদ্বারের ২৯, দাউদকান্দির ৩৯, লাকসামের ৬৭, লালমাইয়ের ২৯, নাঙ্গলকোটের ৬৮, বরুড়ার ৬৪, মনোহরগঞ্জের ৩৩, মুরাদনগরের ৩৯, মেঘনার ২০, তিতাসের ১৮ এবং হোমনা উপজেলার ১০ জন।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনজন রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে সদর দক্ষিণ, চান্দিনা, দেবিদ্বার ও বরুড়ার একজন করে মারা গেছেন।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৩৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৩৪ জন।

গত বছরের ৭ এপ্রিল কুমিল্লা জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, হাসপাতালে করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অন্তত ৩০-৩৫ জন বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। যদি এ রকম চলতে থাকে, তাহলে রোগীর চাপ সামলানো কষ্টকর হয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নিয়মিত ত্রাণও বিতরণ করা হচ্ছে।’

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি জনসচেতনতা বাড়িয়ে কীভাবে সংক্রমণ কমানো যায়। সে লক্ষ্যে প্রতিদিনই কাজ চলছে। পাশাপাশি শতভাগ টিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস।’

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

মতবিনিময় সভায় বরিশালের চিকিৎসক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের ৩ শ’ শয্যার করোনা ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। আর এই ইউনিটের জন্য চিকিৎসক মাত্র ২ জন।

করোনা পরিস্থিতিতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা। জনবল সংকটে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে জটিল। সেখানে কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বরিশালের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরিশাল সার্কিট হাউসে বুধবার দুপুরে হয় বরিশাল জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নানা তথ্য জানান।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, ১ হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে করোনা সংক্রমণের কারণে বাড়ানো হয়েছে ৩শ’ শয্যা। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় জনবল নেই।

তিনি জানান, ৫শ’ শয্যার জন্যই প্রয়োজন ২২৪ জন চিকিৎসক, সেখানে এই হাসপাতালে রয়েছে মোট ১৯৭ জন। বর্তমানে করোনা ইউনিটের জন্য ৩শ’ বেড চালু হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘করোনা ইউনিট চালু করায় জনবল সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আমাদের কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক দরকার।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বরিশালের ৬ জেলার পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে রোগী আসে। এমনিতেই এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট। এর মধ্যে বিভাগের সব করোনা রোগী যদি এখানেই আসে তাহলে তো বিপাকে পড়তে হবে।’

চিকিৎসক ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাপ কমাতে এরইমধ্যে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালকে ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যা করে করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের জন্য বরিশাল নগরীর শিশু ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২০ শয্যার করোনা ইউনিট করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশালের আম্বিয়া মেমোরিয়াল হসপিটাল এবং সাউথ অ্যাপোলো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য আলোচনা চলছে।

সভায় বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন জানান, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৮টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা অনুদান দিয়েছে সমাজের বিত্তবানরা। যা এখানে জরুরি নয়। এখানে দরকার সিপ্যাপ, এপ্যাপ মেশিন। যেসব মেশিনের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে। তা ছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। সংকট কাটাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা ইউনিটে ৬১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯৩টি ছোট সিলিন্ডার, ৫০টি বড় সিলিন্ডার। আরও ৭শ’ সিলিন্ডার চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।’

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

করোনা মোকাবিলায় ব্র্যাকের সঙ্গে ৯ ব্যাংক

‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে ব্যয় হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা দিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ৯টি ব্যাংক।

বেসরকারি ৯টি ব্যাংক এ বাবদ ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৮ টাকা অনুদান দিয়েছে। অনুদানের এ টাকা ব্যয় হবে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলায়।

৯টি ব্যাংক হলো ব্র্যাক, ইস্টার্ন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ডাচ বাংলা ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এই অনুদান করোনার উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ২০ জেলা, বিশেষত রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ব্যয় করা হবে। ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকের সাথে চুক্তি সই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘অনুদানের অর্থ ব্র্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া দুটি উদ্যোগ- ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ এবং ‘ডাকছে আবার দেশ’ এর কাজে লাগানো হবে।

উদ্যোগ দুটির মূল কার্যক্রম হলো- মাস্ক বিতরণ এবং মেডিক্যাল সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে রিসিলিয়েন্স গঠন এবং লকডাউনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা পরিবারগুলোতে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেয়া’।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এই মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের উদ্দেশে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ‘করপোরেট সোশাল রেসপন্সিবিলিটি’ (সিএসআর) কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকগুলো ব্র্যাকের ‘ডাকছে আবার দেশ’ এবং ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ দুইটি কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছে।

এ ৯টি ব্যাংকের প্রতিশ্রুত টাকা থেকে ‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগের অধীনে ব্যয় হবে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা। যা দিয়ে ৭২ হাজার ১৬০টি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

বাকি অর্থ দিয়ে ‘করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুর্গ’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ লাখ মানুষকে মাস্ক এবং অন্যান্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি এই রোগের উপসর্গযুক্ত ১০ হাজার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫টি জেলায় কমিউনিটিকে সংযুক্তিকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় যথাযথ সতর্কতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচারণা এবং ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ভুল তথ্য ও গুজব নিরসনেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ।

‘ডাকছে আবার দেশ’ উদ্যোগটির মাধ্যমে প্রথম দফায় করোনার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৯টি জেলায় ৫০ হাজার পরিবারে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তার এই তহবিল গঠিত হয়েছে ব্র্যাকের কর্মীদের একদিনের বেতন এবং এর সঙ্গে ব্র্যাকের সমপরিমাণ অর্থের অনুদান মিলিয়ে।

আরও পড়ুন:
রংপুর বিভাগে করোনায় ১২ দিনে ১৯৭ মৃত্যু
পাঁচ দিন পর মৃত্যু নামল দুই শর নিচে, শনাক্ত কমেনি
৮ জেলায় ৮২ মৃত্যু
করোনায় চলে গেলেন রাঙ্গামাটির পুলিশ কর্মকর্তা
মেয়াদোত্তীর্ণ টিউবে করোনার নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন