করোনায় বেড়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ব্যবহার

করোনায় বেড়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ব্যবহার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের ব্যবহার বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই উপকরণ ব্যবহার ছিল ৮ শতাংশ। এখন তা বেড়ে পৌঁছেছে ৬৪ শতাংশে। যদিও আমরা এক্ষেত্রে সফলতা আরও বেশি আশা করি।

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় করোনাকালে দম্পতিদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের ব্যবহার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। একইসঙ্গে বেড়েছে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারে বাল্যবিয়ে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রোববার দুপুরে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসচিব আলী নুর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেগম সাহান আরা বানু।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের ব্যবহার বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই উপকরণ ব্যবহার ছিল ৮ শতাংশ। এখন তা বেড়ে পৌঁছেছে ৬৪ শতাংশে। যদিও আমরা এক্ষেত্রে সফলতা আরও বেশি আশা করি। করোনার সময়েও জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের বিতরণ কাজ পরিবার পরিকল্পনার কর্মীরা অব্যাহত রেখেছেন। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা এ দূরহ কাজটি করেছেন। করোনার মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব বেড়েছে। এ সময়ে গর্ভবতীদের অনেকেই হাসপাতালে আসেননি, তাই সিজার অনেক কম হয়েছে।’

করোনার মধ্যে দেশে বাল্যবিয়ে বেড়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, এজন্য দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে বাল্যবিবাহ বেড়েছে। এটা কাম্য নয়। এ সময়ে পরিবারিক কলহ বেড়েছে। বিশেষ করে নারী নির্যাতন ও শিশুদের অবহেলার ঘটনা ঘটছে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, গোটা বিশ্বেই বেড়েছে।

দেশে টিকার সংকট নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। আপনারা সবাই ভ্যাকসিন নেবেন, মাস্ক পরবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘জনসংখ্যার তুলনায় আমাদের দেশে জমির পরিমাণ অনেক কম। নতুন নতুন বাড়ি-ঘর তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চাষবাদ করার জমি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখন থেকে নিয়ন্ত্রিত পরিবার ও প্রজন্ম স্বাস্থ্য বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা প্রজন্ম স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত। মহামারীর এ সময়ে দেশে গরিব ও গ্রামীণ পরিবারগুলোয় কিশোরীদের গর্ভধারণ বেড়েছে। মহামারির মধ্যে যে সব মায়েরা গর্ভবর্তী হচ্ছেন, তাদের প্রসবের সংকট বা প্রসব পরবর্তী সংকট অনেক অনেক বেশি। আমার লক্ষ্য করছি যে করোনার মধ্যে মাতৃমৃত্যু হার বেড়েছে।’

মাতৃমৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা ও একলামশিয়ার উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম। আর একটি বিষয় হচ্ছে যদি আমরা পরিবার পরিকল্পনা সুরক্ষিত না করতে পারি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করতে পারি তাহলে এই মাতৃমৃত্যু হার কমানো সম্ভব না।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘লজ্জা-শরম’ নেই: ফখরুল
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে টিআইবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য