অসচেতনতার কারণেই এত মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অসচেতনতার কারণেই এত মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরও করোনায় মৃত্যু বাড়ছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘আমাদের গ্রামের লোকদের বিশ্বাস, তাদের করোনা হয় না। গ্রামের মানুষ সর্দি-কাশি উপেক্ষা করেন। ফলে তারা করোনা আক্রান্ত হওয়ার বেশ পরে চিকিৎসকের কাছে আসছেন। তাদের অনেকেরই অক্সিজেন স্যাচুয়েশন ৫০ শতাংশের নিচে থাকছে। মস্তিষ্কের অক্সিজেন স্যাচুয়েশন বেশি সময় ধরে যদি কম থাকে, তাহলে ব্রেন ডেথ হয়ে যায়। এমন সময় তারা চিকিৎসা নিতে আসছেন যখন তাদের আর সামাল দেয়া যাচ্ছে না। তাদের বাঁচানোও যাচ্ছে না।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও বেড়েছে।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের একটি বড় অংশ থেকে যাচ্ছে পরীক্ষা-পরিসংখ্যানের বাইরে। সচেতনতার অভাবেই গ্রামের মানুষ করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর তারা চিকিৎসকের কাছে আসছেন। তাদের অনেকেরই অক্সিজেন স্যাচুয়েশন ৫০ শতাংশের নিচে থাকছে। মস্তিষ্কের অক্সিজেন স্যাচুয়েশন বেশি সময় ধরে যদি কম থাকে, তাহলে ব্রেন ডেথ হয়ে যায়। এমন সময় তারা চিকিৎসা নিতে আসছেন যখন তাদের জন্য আর কিছু করার থাকছে না।’

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত দেড় হাজার রোগী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ মারা গেছে এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে। এ ছাড়া সারা দেশের একটি বড় অংশ মারা যাচ্ছে উপসর্গ নিয়ে। তাদের চিকিৎসা আওতায় আনা যাচ্ছে না।

এ বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘মৃত্যু প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম মানুষকে বেশি করে সচেতন করে তুলতে পারে।’

এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মৌসুমটা, বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণ মাস, এই সময়ে সর্দি-কাশি বেশি হয়।

‘কিন্তু আমাদের গ্রামের লোকেদের বিশ্বাস, তাদের করোনা হয় না। গ্রামের মানুষ সর্দি-কাশি উপেক্ষা করেন। ফলে তারা করোনা আক্রান্ত হওয়ার বেশ পরে চিকিৎসাকের কাছে আসছেন। তাদের অনেকেরই অক্সিজেন স্যাচুয়েশন ৫০ শতাংশের নিচে থাকছে। মস্তিষ্কের অক্সিজেন স্যাচুয়েশন বেশি সময় ধরে যদি কম থাকে, তাহলে ব্রেন ডেথ হয়ে যায়। এমন সময় তারা চিকিৎসা নিতে আসছে যখন তাদের আর সামাল দেয়া যাচ্ছে না। তাদের বাঁচানোও যাচ্ছে না।’

করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তুতি কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ প্রতিরোধে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রস্তুতিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এটা আমাদের মানতে হবে।

‘কারণ রোগীর সংখ্যা যদি আমরা না কমাতে পারি, যতই প্রস্তুত থাকুন না কেন ১৬ কোটি মানুষের দেশে আমরা কত বিছানা দেব? বিছানা দিয়েও সামাল দেয়া যাবে না। রোগীর সংখ্যা বাড়ানো যাবে না। আপনারা দেখছেন, কঠোর লকডাউনের মধ্যে মানুষ কীভাবে বের হচ্ছে। লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এমন হতে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। ঢাকার হাসপাতালগুলোর অবস্থা গ্রামের থেকে অনেক ভালো। উপজেলার হাসপাতালগুলোতে আমার শয্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করছি।’

চীনের টিকা দেশে উৎপাদনের বিষয়ে আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের দেশীয় একটি কোম্পানি চীনের টিকা উৎপদনের জন্য দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য