হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত

হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত

চিকিৎসক বদলির আদেশ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ভুলে থাকায় ওই আদেশ স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফাইল ছবি

পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সংযুক্তি আদেশে ত্রুটি থাকতে পারে বিবেচনায় ওই আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে, প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছিল, বুধবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে, বৃহস্পতিবার তাদের ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ ঘোষণা করা হবে। আর বেতন ভাতাদি আগের কর্মস্থল থেকে উত্তোলনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হাজারেরও বেশি চিকিৎসকে বদলির আদেশ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ভুলে থাকায় ওই আদেশ স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

রোববার ও সোমবার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ৪৬টি প্রজ্ঞাপনে কোভিড রোগীদের সেবা দিতে সহকারি অধ্যাপক ও প্রভাষক পদের চিকিৎসকদের বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতালে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়।

পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সংযুক্তির আদেশে ত্রুটি থাকতে পারে এমন বিবেচনায় ওই আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সকল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলোকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করে চিকিৎসকদের নামের তালিকা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-১ অধিশাখার ই-মেইলে পাঠাতে বলা হয়েছে। ইমেইল অ্যাড্রেস হলো [email protected]

মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, চিকিৎসকদের বর্তমান কর্মস্থলের বিষয়ে তথ্যগত ভুল থাকার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদেশ ত্রুটিপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে।

তথ্যগত ভুলের কারণে আরটিপিসিআর ল্যাবসহ অন্যান্য ল্যাব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক; কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত চিকিৎসক; এবং মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের একমাত্র চিকিৎসক হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাই ওই আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চিকিৎসা সেবায় গতি আনতে এক হাজারেরও বেশি চিকিৎসককে একসঙ্গে বদলির আদেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

উপসচিব সারমিন সুলতানা ও জাকিয়া পারভিনের সই করা এসব আদেশে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলা এবং জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নতুন কর্মস্থলে করোনা চিকিৎসায় কাজ করবেন বদলি করা চিকিৎসকরা।

বদলি করা চিকিৎসকদের তালিকায় দেখা যায় তাদের অধিকাংশ দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা করছিলেন। তাদেরকে নতুন কর্মস্থলে বুধবারের মধ্যে যোগ দিতে বলা হয়।

দেখা গেছে, বর্তমানে কর্মরত মেডিক্যাল কলেজ থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালে, কিংবা ওই জেলার জেনারেল হাসপাতাল বা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিংবা পাশের কোনো জেলায় তাদের পাঠানো হয়।

বদলি হওয়া চিকিৎসকদের লকডাউনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে সময় দেওয়া হয় দুই দিন। অনেক চিকিৎসককে মেডিকেল কলেজে লাগোয়া হাসপাতালে বদলি করা হলেও এক জেলা থেকে আরেক জেলায়, উপজেলায় বদলি করা হয়েছে এমন চিকিৎসকের সংখ্যাও কম নয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বুধবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে, বৃহস্পতিবার তাদের ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ ঘোষণা করা হবে। আর বেতন ভাতাদি আগের কর্মস্থল থেকে উত্তোলনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

যেখানে বদলি করা হয়:

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ জন।

দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ থেকে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ২৯ জন এবং দিনাজপুর জেলা হাসপাতালে ১৭ জন।

যশোর মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতালে ১৪ জন।

বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ঝালকাঠি জেলা হাসপাতালে ২০ জন।

বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ২০ জন।

বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩২জন এবং বরিশাল জেলা হাসপাতালে ১৯ জন।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ থেকে বরগুনা জেলা হাসপাতালে ১২ জন।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ থেকে ভোলা জেলা হাসপাতালে ১২ জন।

যশোর মেডিক্যাল কলজে থেকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ১২ জন।

নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজ থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা হাসপাতালে ১৯ জন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফেনী জেলা হাসপাতাল ও দাগন ভূঁইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন।

রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন।

নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজ থেকে নোয়াখালী জেলা হাসপাতালে ২৮ জন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিসিজেজ এবং ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৪ জন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ১০২ জন।

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ এবং সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্স ট্রেনিং স্কুল থেকে দুইজন মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ বেড বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতাল ও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে বগুড়া ২৫০ বেড মোহাম্মদ আলী জেলা হাসপাতালে ৪৩ জন।

পাবনা মেডিক্যাল কলেজ ও সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ থেকে নাটোর জেলা হাসপাতালে ১৫ জন।

ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি এবং কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে ঝিনাইদহ জেলা হাসপাতালে ১৫ জন।

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে মেহেরপুর জেলা হাসপাতালে ১৫ জন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে খুলনা জেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ২৮ জন।

নওগাঁ মেডিক্যাল কলেজ থেকে নওগাঁ জেলা হাসপাতালে ১৪ জন।

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ বেড আধুনিক সদর হাসপাতালে ২২ জন।

পাবনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাবনা ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন।

দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা হাসপাতালে ১৮ জন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে ১৭ জন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে কুড়িগ্রাম জেলা হাসপাতালে ২৪ জন।

নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ থেকে নীলফামারী জেলা হাসপাতালে ১১ জন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে লালমনিরহাট জেলা হাসপাতালে ২০ জন।

দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ থেকে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে ১৮ জন।

যশোর মেডিক্যাল কলেজ ও সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ থেকে যশোর জেলা হাসপাতালে ২৪ জন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ১৪ জন।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ থেকে পটুয়াখালী জেলা হাসপাতালে ১৩ জন।

রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে বান্দরবান জেলা হাসপাতালে ১৬ জন।

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে শরিয়তপুর জেলা হাসপাতালে ২৭ জন।

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও ফরিদপুর জেলা হাসপাতালে ৩৬ জন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে ১৮ জন।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতালে ২২ জন।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ থেকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ২১ জন।

নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজ ও চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে চাঁদপুর জেলা হাসপাতালে ২২ জন।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ থেকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন।

কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ থেকে কক্সবাজার জেলা হাসপাতাল ও কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৮ জন।

যশোর মেডিক্যাল কলেজ থেকে মাগুরা জেলা হাসপাতালে ১৪ জন।

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ থেকে সাতক্ষীরা জেলা হাসপাতালে ১৬ জন।

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ এবং কুষ্টিয়া মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্স ট্রেনিং স্কুল থেকে কুষ্টিয়া জেলা হাসপাতালে ২৩ জন।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস বাড়ছে

প্রতীকী ছবি

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক উত্তম কুমার দাশ বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ কমে আসায় প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসের সংখ্যা সপ্তাহে দুই দিন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

আগামী সপ্তাহ থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে দুই দিন করা হবে। এখন সপ্তাহে এক দিন এ দুই শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক উত্তম কুমার দাশ বুধবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ কমে আসায় প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসের সংখ্যা সপ্তাহে দুই দিন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি হবে।’

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিকের অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস এক দিন করে বাড়িয়ে সপ্তাহে দুই দিন করা হয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

এখন চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে এক দিন করে হচ্ছে।

এদিকে শিশু শ্রেণি, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির মতো প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষের ক্লাস আপাতত বন্ধ রয়েছে।

দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই তাগিদ দিয়ে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষ ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত বেশি সময় বন্ধ থাকবে, ততই বাড়বে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

১৫ দফা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান নেতারা

১৫ দফা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান নেতারা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

এর আগে, ১৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু করে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ঘোষণা অনুযায়ী ধর্মঘট চলার কথা বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত। বৈঠকে অংশ নেয়া নেতারা জানান, দাবি আদায়ের আশ্বাস পেলে প্রত্যাহার হতে পারে ধর্মঘট।

১৫ দফা দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

সচিবালয়ে বুধবার সকালে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে রয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

এর আগে, ১৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু করে ঐক্য পরিষদ। ঘোষণা অনুযায়ী ধর্মঘট চলার কথা বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত।

বৈঠকে অংশ নেয়া নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের আশ্বাস পেলে প্রত্যাহার হতে পারে ধর্মঘট।

১৫ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের অগ্রিম আয়কর নেয়া যাবে না এবং এ পর্যন্ত নেয়া অগ্রিম আয়কর ফেরত দিতে হবে।

১০ বছর ধরে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানচালকদের লাইসেন্স দেয়া বন্ধ রয়েছে, অবিলম্বে লাইসেন্স দেয়া চালু করতে হবে।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন না হওয়ায় দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে মঙ্গলবার থেকে চলছে কর্মবিরতি। অন্য জেলায় এর বড় কোনো প্রভাব না পড়লেও চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে প্রায় থমকে গেছে চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম। তবে অন্য বন্দরগুলো স্বাভাবিক আছে।

মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় এ কর্মবিরতি।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পণ্য ও কনটেইনার বহনকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বুধবার সকালেও মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি নিতে কোনো ট্রাক-কার্ভাড ভ্যান এবং লরি বন্দরে ঢুকতে পারেনি। তেমনি বন্দরে ঢোকা গাড়িগুলোও সকালে বন্দর থেকে বের হতে পারেনি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

বন্দরের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘জাহাজে কন্টেইনার ওঠানামা সচল রয়েছে। তবে লুজ কার্গো বা খোলা পণ্য পরিবহন, কন্টেইনার থেকে ট্রাক বা ভ্যানে এবং বন্দরের কন্টেইনার অফ ডকে যাওয়া বন্ধ আছে।’

কন্টেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়, কর্মবিরতির কারণে যা এখন বন্ধ।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

কন্টেইনার ডিপো সমিতির সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিন রপ্তানি পণ্যবাহী দেড় হাজার কন্টেইনার বন্দরে পাঠানো হয়। কর্মবিরতির কারণে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। আবার আমদানি পণ্যবাহী যেসব কন্টেইনার ডিপোতে খুলে খালাস করা হয়, তাও বন্দর থেকে আনা যাচ্ছে না।’

কর্মবিরতির বিষয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক সমিতির সদস্য হাসান মুরাদ বাদশা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। আমাদের কর্মবিরতি চলমান।’

বেনাপোল

যশোরের বেনাপোল বন্দর থেকেও সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। এতে দেখা দিয়েছে পণ্যজট। তবে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বেনাপোলে এ কর্মবিরতি পালন করছে যশোর জেলা ট্রাক মালিক সমিতি।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী জানান, কর্মবিরতি সফল করতে বন্দর এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়েছে।

তারা বলেন, বন্দরে মঙ্গলবার সকাল থেকে কোনো ট্রাক পণ্য লোড করেনি বা বেনাপোল ছেড়ে যায়নি। বুধবারও এ পরিস্থিতি আছে।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, পণ্য লোড না হওয়ায় একদিকে রপ্তানির পণ্যবাহী ট্রাক জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে আমদানির পণ্য ঢুকছে। সব মিলিয়ে যানজট দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, যানজটে সাধারণ মানুষের চলাচলেও ভোগান্তি হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন তরফদার জানান, বন্দর থেকে পণ্য লোড না হওয়ার কারণে বন্দরে জায়গা সংকট দেখা ও পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মবিরতি শেষ হলে এ জট কেটে যাবে।

অন্য জেলাগুলোর কী অবস্থা

দুই দিন ধরে চুয়াডাঙ্গার ভেতর-বাইরে সব রুটে বন্ধ রয়েছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী পরিবহন। এর প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যের ওপর। জেলার বাইরে ফসল পাঠাতে পারছেন না কৃষকরা।

জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। তা এখনও হয়নি। তাই আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।’

কর্মবিরতিতে নেই লালমনিরহাটের বুড়িমারী, চ্যাংড়াবান্ধা ও সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের পরিবহন মালিক-চালকরা।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট) সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাদ নিউজবাংলাকে জানান, বন্দর স্বাভাবিক।

লালমনিরহাট জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পুলিন চন্দ্র রায় জানান, জেলায় কেন্দ্রের কর্মবিরতির প্রভাব পড়েনি।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

সাতক্ষীরায়ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে পণ্যবাহী পরিবহন। ভোমরা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কর্মবিরতি অংশ না নেয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।

জেলা ভিআইপি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহিন আলম জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবির সঙ্গে একমত তারা। তাদের আন্দোলনেও পাশে আছেন। তবে কর্মবিরতি পালন করছেন না।

কর্মবিরতির ডাক দেয়া হলেও উত্তরের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায় দুই দিনই।

সিরাজগঞ্জ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক পণ্যপরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, ‘১৫ দফা দাবি না মানায় সারা দেশে আমাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কর্মবিরতির কারণে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ আছে, তবে মহাসড়কে রীতিমতো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করছে। আমাদের এখানেও কিছু কিছু ট্রাক চলছে। এগুলোও বন্ধ করার আহ্বান করা হয়েছে।’

সাভারের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের সামনে ট্রাকে মালামাল উঠানামা করতে দেখা যায় বুধবার সকালে। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকভর্তি পণ্য নিয়ে রাজধানীতে আসার কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

ঢাকার প্রবেশপথের সড়কগুলোতে মঙ্গলবার রাতেও স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী ট্রাক চলতে দেখা যায়।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

পরিবহন মালিক সমিতির সাভারের আশুলিয়া শাখার সদস্য আমির আলী নিউজবাংলাকে বলেন, দক্ষিণবঙ্গের সড়কে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করতে গিয়ে যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা সাভার ও আশুলিয়ায় নেই। এ কারণে এখানে কর্মবিরতির প্রভাব পড়েনি।

কর্মবিরতিতে নেই রংপুর বিভাগের পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। আগামী ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রংপুরের নেতারা।

সংগঠনটির জেলা সভাপতি হাফিজার রহমান হাফিজ বলেন, ‘ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় যে কর্মবিরতি দেয়া হয়েছে, তা ঢাকার তেজগাঁওকেন্দ্রিক। আমাদের কাছে কোনো চিঠি নেই। কেউ কর্মবিরতি পালন করছেন না।’

সিলেট জেলায় কিছু ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেলেও অন্য জেলা থেকে পণ্যবাহী পরিবহন প্রবেশ করেনি।

তবে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে পাথর পরিবহন বন্ধ আছে মঙ্গলবার থেকে।

কর্মবিরতি: চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, বেনাপোলে পণ্যজট

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, প্রাইম মুভার পণ্যপরিবহন মালিক সমিতির সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, স্বতস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। বিশেষত বন্দর এলাকা থেকে কোনো পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে না।

বরিশালে মঙ্গলবার দুপুরে কর্মবিরতি পালন করতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর বিমানবন্দর মোড়ে সমাবেশ করে জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে ঘণ্টাখানেক পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। বিভাগের সব জেলাতেই বুধবার পণ্যবাহী ট্রাক ও ছোট যান চলতে দেখা যায়।

রাজশাহী জেলায় মঙ্গলবারের মতো বুধবারও বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রাক চলাচল। তবে ছোট ছোট যানে পণ্য পরিবহন চলছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রামের সিফায়াত উল্লাহ, বরিশালের তন্ময় তপু, সিলেটের দেবাশীষ দেবু, রাজশাহীর আহসান হাবিব অপু, রংপুরের রফিকুল ইসলাম, সাভারের ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসলাম শাওন, লালমনিরহাটের শাহজাহান সাজু, সিরাজগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রুবেল ও চুয়াডাঙ্গার জহির রায়হান সোহাগ।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এই দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রকৌশলীর সন্তান দিল্লুর রহমান বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তি দখলের জন্য ‘মামলাবাজ সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। এই সিন্ডিকেটের মামলা থেকে আপন ভাইও রেহাই পাননি। পির দিল্লুরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রপন্থায় মদদ দেয়ার অভিযোগও পুরোনো। 

রাজারবাগ দরবার শরিফের পির মো. দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে উচ্চ আদালতে গেছেন ভুক্তভোগীরা। এই পিরের বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি দখলে গায়েবি মামলা দিয়ে হেনস্তা করার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রাজারবাগ দরবার শরিফের সব সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তাদের কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে।

প্রশ্ন উঠেছে, রাজধানীর বুকে প্রশাসনের অগোচরে কীভাবে এত ক্ষমতাধর হয়ে উঠলেন দিল্লুর রহমান? তিন দশক ধরে মুরিদ-ভক্তদের নিয়ে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরিফ নামের দরবার শরিফ কীভাবে এত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে?

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৌশলীর সন্তান দিল্লুর রহমান বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তি দখলের জন্য ‘মামলাবাজ সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। এই সিন্ডিকেটের মামলা থেকে আপন ভাইও রেহাই পাননি। পির দিল্লুরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রপন্থায় মদদ দেয়ার অভিযোগও পুরোনো।

যেভাবে পির হলেন দিল্লুর রহমান

মো. দিল্লুর রহমান ১৯৮৬ সালে রাজারবাগে তার পৈত্রিক বাড়িতে ‘দরবার শরিফ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার বাবার নাম মো. মোখলেসুর রহমান।

পারিবারিক কয়েকটি সূত্র জানায়, দিল্লুর রহমানের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তরুণ বয়সে ইসলাম সম্পর্কে ভালো জ্ঞান, সেই সঙ্গে আরবি ও ফারসি ভাষায় দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনুসারীদের মাঝে জনপ্রিয়তা পান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার ভক্ত-মুরিদের সংখ্যা। একপর্যায়ে তিনি ঢাকার বুকে বড় মাপের একজন পির হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

পিরের পরিবারের এক সদস্য পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারে তার (দিল্লুর রহমান) আগে কোনো পির নেই। তার বাবা ছিলেন একজন প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ী। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের প্রভাকরদীতে। নয় ভাইবোনের মধ্যে দিল্লুর রহমান তৃতীয়।’

তিনি বলেন, ‘দিল্লুরের বাবা মুক্তিযুদ্ধের আগেই রাজারবাগে বাড়ি করেন। সেখানেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় দিল্লুর রহমান ছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্র। পড়তেন লক্ষ্মীবাজারের তৎকালিন কায়েদ ই আজম কলেজে (বর্তমান সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ)। পরে এই কলেজ থেকেই তিনি ডিগ্রি পাস করেন।’

পরিবারের ওই সদস্য জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় এপ্রিল মাসে পিরের বাবা সপরিবারে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখানে দিল্লুরের মেজ ভাই হাফিজুর রহমান হারুন ও চাচাত ভাইয়েরা যুদ্ধে যোগ দেন। কয়েক দিন পর একটি চিরকূট লিখে দিল্লুর রহমানও বাসা ছেড়ে চলে যান। চিরকূটে তিনি যুদ্ধে যাওয়ার কথা জানান। তবে একমাস পরেই বাড়ি ফিরে আসেন দিল্লুর। এরপর থেকেই তার চলাফেরায় পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি ধর্মকর্মে মনোনিবেশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে ঢাকায় ফিরে কলেজে যেতে শুরু করেন দিল্লুর। সেই সঙ্গে ধর্মকর্মে বাড়তে থাকে মনোযোগ। শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে পায়জামা-পাঞ্জাবি-টুপি পড়া শুরু করেন। সাধারণ পড়ালেখার পাশাপাশি ইসলামিক বই পড়া শুরু করেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ডিগ্রি পড়ার সময় যাত্রাবাড়ীর পির আবুল খায়ের ওয়াজিউল্লাহর মুরিদ হন দিল্লুর রহমান। সেই সঙ্গে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক রোকন উদ্দীনের কাছে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষার তালিম নেন। পরে রোকন উদ্দীনের মেয়েকেই বিয়ে করেন দিল্লুর রহমান।

পির পরিবারের কয়েক সদস্যের দাবি, ইসলামি ডিগ্রি না থাকলেও অসংখ্য ধর্মীয় বই পড়ে ও আলেমদের কাছাকাছি থেকে ব্যাপক ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করেন দিল্লুর রহমান। এজন্য অনেক সুপরিচিত আলেমও তরুণ দিল্লুরের সঙ্গে যুক্তিতর্কে পেরে উঠতেন না। খুব অল্প সময়ে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। আর সেই জনপ্রিয়তাকে ভিত্তি করে ১৯৮৬ সালে ঢাকার পৈত্রিক বাড়িতে দরবার শরিফ স্থাপন করে তিনি পুরোদস্তুর পির বনে যান। বাড়তে থাকে তার ভক্ত-মুরিদের সংখ্যা।

পিরের এক আত্মীয় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইসলামজ্ঞানে তার দখলের কারণে একটা সময় পর্যন্ত তাকে নিয়ে আমরা খুব গর্ব করতাম। সম্মান দিয়ে পরিবারের সদস্যরাও তাকে হুজুর বলে সম্বোধন করত। তবে ১৯৯৮ সালে দিল্লুর রহমানের বাবা মারা যাবার পর তার কাছে ধর্মব্যবসায়ীরা ভিড়তে থাকে। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর সে তার পৈত্রিক বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে নিজের ভাইদের বিরুদ্ধেই মামলা করে। সেই থেকে শুরু হয় তার মামলাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।’

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান
পির মো. দিল্লুর রহমানেরর বাড়ি

পিরের মামলায় ভাইয়েরাও জেলে

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি পিরের মামলাবাজ সিন্ডিকেটের হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে পিরের আপন তিন ভাইও আছেন।

রাজারবাগের পৈত্রিক সম্পদ দখলের জন্য পির তার মুরিদদের দিয়ে তিন ভাই আনিসুর রহমান ফিরোজ, হাফিজুর রহমান হারুন ও জিল্লুর রহমান তরুণের বিরুদ্ধে মামলা করান। এসব মামলায় তারা জেলও খেটেছেন। এদের মধ্যে জিল্লুর রহমান তরুণের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করেন পিরের মুরিদরা। অন্য ভাইয়েরা পরে আপসের মাধ্যমে দিল্লুরের রোষানল থেকে এখন মুক্ত হলেও সমঝোতা না করায় বাবার বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে জিল্লুর রহমান তরুণকে।

তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, মানব পাচার, মাদক, হত্যাসহ গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করেন দিল্লুরে মুরিদরা। এর মধ্যে ২৩টি মামলায় তরুণ খালাস পেলেও সাতটি এখনও বিচারাধীন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জিল্লুর রহমান তরুণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আপন ভাই আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, এই লজ্জার কথা আমি কাউকে বলতে চাই না। আমি আমার মতো আছি, তার (দিল্লুর রহমান) সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের বংশে কোনো পির ছিল না। আমরা এক সময় তাকে নিয়ে খুব গর্ব করতাম। কিন্তু কিছু খারাপ মুরিদ আর স্ত্রীর প্ররোচনায় সে অধঃপতনে গেছে।’

ভাস্কর্য ভাংচুর ও উগ্রবাদে জড়ানোর অভিযোগ

রাজারবাগ পির দিল্লুর রহমানের প্রতিষ্ঠা করা ধর্মীয় সংগঠন আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত। ২০০০ সাল থেকে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদি তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৯ সালে ১২টি ধর্মভিত্তিক সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করে সরকার। এগুলোর মধ্যে অন্যতম আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত। এছাড়া, পির দিল্লুর রহমানের নিজস্ব পত্রিকা দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক পত্রিকা আল বাইয়্যিনাতে গণতন্ত্র, নির্বাচন, জাতীয় সংগীত, বৈশাখী উৎসব, খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়ে নেতিবাচক মতামত প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।

২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর আল বাইয়্যিনাতের অনুসারীরা মতিঝিলের বলাকা ভাস্কর্য ভাংচুর করেন। এ ঘটনায় পুলিশ আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের আট সশস্ত্র কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ভাস্কর্য ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লুর রহমান।

ওই ঘটনার কয়েক মাস পর আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের অনুসারীরা বিমানবন্দর গোলচত্বরে বাউলের ভাস্কর্যটিও ভেঙে ফেলেন। এছাড়া, ২০১৭ সালে হাইকোর্ট চত্বরে লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য স্থাপনের পরপরই আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত সেটি সরিয়ে ফেলতে উড়ো চিঠিতে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পিরের পরিবারের এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব ঘটনার পরিকল্পনা পিরের দরবার শরিফে বসেই হতো। মতিঝিলের বক (বলাকা ভাস্কর্য) ভাঙার মিটিংয়ের আলোচনার কিছুটা আমি নিজ কানে শুনেছিলাম। তার এসব অপকর্মের জন্য অন্য ভাইদেরও পুলিশ-গোয়েন্দাদের চাপে পড়তে হয়েছে। তবে তার ভাইয়েরা জড়িত ছিল না। এরপর বাধ্য হয়ে পিরের তিন ভাই মিলে সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ঘটনার সব দায় আল বাইয়্যিনাতের।’

গ্রামের বাড়িতে যান না দিল্লুর রহমান

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার প্রভাকরদী গ্রামের মৃত মোখলেসুর রহমানের ছেলে দিল্লুর রহমান। এক সময়ের গ্রাম্য মাতবর মোখলেসুর রহমানকে গ্রামের সবাই এক নামে এখনও চেনেন। তবে তার ছেলে দিল্লুর রহমান সম্পর্কে তারা খুব একটা তথ্য দিতে পারেননি।

প্রভাকরদী গ্রামে দিল্লুরদের পৈত্রিক বাড়ির নাম ‘মিয়া বাড়ি’। সেখানে ‘মিয়া মসজিদ’ নামে একটি মসজিদও রয়েছে। ভিটায় রয়েছে তিন তলা একটি ভবন, তবে সেখানে কেউ থাকেন না।

রাজারবাগ পির দিল্লুরের কীভাবে উত্থান
গ্রামের বাড়িতে পির মো. দিল্লুর রহমানেরর নির্মিত মাদ্রাসা

গ্রামবাসী জানান, দিল্লুর রহমান গ্রামে না গেলেও তার অনুসারীরা সেখানে যাতায়াত করেন। প্রতিবেশী এক নারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই বাড়িতে কেউ থাকে না। হুজুর (দিল্লুর রহমান) এখানে আসে না, কিন্তু তার লোকজন আসে। তারা এসে কয়েক ঘণ্টা থেকে আবার চলে যায়। মাঝে মধ্যে তার বড় ভাই আসত, তবে তিনিও এখন আসেন না। তাই বাড়িটা ফাঁকাই থাকে।’

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, কয়েক দশক আগে তারা হঠাৎ শুনতে পান, মোখলেস মাতবরের ছেলে দিল্লুর পির হয়ে গেছেন। এরপর সাদা কাপড় পরে বিশাল ভক্তদল নিয়ে তিনি প্রতি বছর একবার গ্রামে মাহফিল করতে আসতেন। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে সেই মাহফিলও বন্ধ।

পিরের অনুসারীদের কয়েক জন দাবি করেন, প্রভাকরদী গ্রামের পাশে সরাবদী গ্রামে দিল্লুর রহমানের একটি মাদ্রাসা আছে। তবে সেই ঠিকানা অনুযায়ী গিয়ে একটি টিনশেড ঘর দেখা গেছে।

ঘরের বাইরে মাটি কাটছিলেন একজন। নিজেকে মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার জন্য মাদ্রাসা বন্ধ। এখানে বাংলা ও আরবি পড়ানো হয়। এটি পীর সাহেবের তৈরি কামিল মাদ্রাসা।’

মাদ্রাসায় কত জন শিক্ষার্থী শিক্ষক রয়েছে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।

গ্রামবাসীর দাবি, টিনশেড ঘরটি কোনো মাদ্রাসা নয়। আগে সেখানে এক ব্যক্তি পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর এখন আরেকটি পরিবার আছে।

সরাবদী গ্রামে দিল্লুর রহমানের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ভয়ে এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না কেউ। গ্রামের এক জন জানান, ‘বিভিন্ন মানুষের খেতে খুঁটি গেঁথে রেখেছেন পিরের অনুসারীরা। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এক মামলা শেষ না হতেই আরেক মামলার মুখে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

নতুন নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ উন্নয়নে কী করতে হবে সে বিষয়ে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার রাতে অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

যা যা করতে হবে

. নির্দেশনায় বলা হয়, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, রোল, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কী কারণে অনুপস্থিত, গৃহীত পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে।

. অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করবেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনে হোম ভিজিট করতে হবে।

. প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির (শ্রেণিভিত্তিক) হার নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উপস্থিতি কম হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

. কোভিড-১৯-এর প্রভাবে শিক্ষার ঘাটতি পূরণে শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পারঙ্গমতা যাচাই করে বিভিন্ন দলে ভাগ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নির্দেশিত পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. অনলাইনে ক্লাস চলবে। সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সম্প্রচারিত ‘ঘরে বসে শিখি’তে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।

. বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষকরা শ্রেণিভিত্তিক প্রতিটি শিশুর শিখন যোগ্যতার প্রোফাইল (শিখন ঘাটতি পরিস্থিতি) প্রণয়ন করে এ সম্পর্কে তাদের উন্নতির তথ্য সংরক্ষণ করবেন।

. শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক মূল্যায়নে ক্লাসের কাজ, বাড়ির কাজ যাচাই করে তাদের ঘাটতির বিষয়গুলো পূরণ করতে শিক্ষকরা সমন্বিত উদ্যোগ নেবেন।

. প্রধান শিক্ষক, শ্রেণি শিক্ষক, বিষয় শিক্ষক ও কর্মচারীদের শিক্ষার্থীদের মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

. প্রতিদিন ২টি করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। রুটিন অনুযায়ী যে শিক্ষকের ক্লাস থাকবে না তারা বিদ্যালয়ে বসে গুগল মিট-এ (যেখানে সম্ভব) অন্য ৩টি শ্রেণির ক্লাস নেবেন।

. মাঠপর্যায়ের প্রত্যেক মেন্টরকে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে পাঠানো মেন্টরিং গাইডলাইন (মেন্টরদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসংক্রান্ত) ও মেন্টরিং টুলস অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

. সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পরের দিন মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ও নার্সিংসংক্রান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান

সবার সরকার না হলে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ: ইমরান

কাবুলের রাস্তায় তালেবান যোদ্ধাদের প্রহরা। ফাইল ছবি

ইমরান খান বলেন, ‘তারা (তালেবান) যদি সব গোত্রকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাহলে আগে বা পরে তাদেরকে গৃহযুদ্ধে পড়তে হবে। যার অর্থ, অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হবে। আর এটা দুশ্চিন্তার বিষয়।’

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারে সবার প্রতিনিধিত্ব না থাকলে দেশটি গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বিবিসির সাংবাদিক জন সিম্পসনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইমরান খান বলেন, ‘তারা (তালেবান) যদি সব গোত্রকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত না করে তাহলে আগে বা পরে তাদেরকে গৃহযুদ্ধে পড়তে হবে। যার অর্থ, অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খল আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হবে। আর এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।’

একের পর এক প্রদেশ জয়ের পর গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে পুরো আফগানিস্তান দখলের ষোলকলা পূর্ণ করে তালেবান।

দুই দশক পর আবার আফগানিস্তান দখল করে তালেবান জানায়, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই। সহনশীলতার কথা বলেছিল কট্টর ইসলামি গোষ্ঠীটি। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানায় তারা। সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আশ্বাস দেয়। সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখারও ইঙ্গিত দেয়।

তালেবানের এসব আশ্বাসের বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তালেবান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, সেখানে বেশির ভাগ সদস্যই পশতু জাতিগোষ্ঠীর; মন্ত্রিসভায় নেই কোনো নারী সদস্য। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মানা করে দিয়েছে তারা।

সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন করতে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে তালেবান নেতৃত্বের প্রতি ফের আহ্বান জানান ইমরান খান। তিনি এটাও বলেছেন যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া উচিত হবে না।

ইমরান খান জানান, যেসব শর্ত রাখা হয়েছে তা পূরণ করতে পারলেই কেবল তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের দেয়া শর্ত তালেবান পূরণ করতে পেরেছে কি না, এমন প্রশ্নে ইমরান খান জানান, এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করাটা খুব দ্রুত হয়ে যাবে। তালেবানকে আরও সময় দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পাকিস্তানের সরকার প্রধানের।

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া বা না দেয়ার বিষয়টি প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান ইমরান খান।

তালেবান যে আফগানিস্তানের নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে মানা করেছে সে বিষয়টিও ওঠে আসে বিবিসিকে দেয়া ইমরান খানের সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ করতে না দেয়া ইসলামবিরোধী ধারণা।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলগুলো খুলে দেয়া হয়। তবে ক্লাসে রাখা হচ্ছে না কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী। কেবল ছেলে শিক্ষার্থী এবং পুরুষ শিক্ষকদের স্কুলে আসতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অবশ্য ইমরান খানের বিশ্বাস আফগান মেয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুতই স্কুলে ফিরবে এবং নারীরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, ‘তারা (তালেবান) ক্ষমতায় আসার পর যেসব বিবৃতি দিয়েছে তা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। আমি মনে করি, তারা নারী শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে যেতে অনুমতি দেবে। নারীদের শিক্ষিত করার দরকার নেই, এই ধারণা ইসলামসম্মত নয়। এমন ধারণার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

এসআই বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ভ্যানচালক সৈয়দ আলী।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে ভ্যানের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক ৪৮ বছর বয়সী সৈয়দ আলীর বাড়ি উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নের সাংরাইল গ্রামে। আরেকজনের পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সৈয়দ আলী ভ্যান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তার ভ্যানে এক যাত্রী ছিলেন। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত ভ্যানচালক সৈয়দ আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

এসআই বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত সৈয়দ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এর আগেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত আরেকজনের মরদেহ নিয়ে গেছে পরিবার। তার বাড়ি আশপাশের ইউনিয়নে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র দে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কারটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছেন। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন
এবার নারী চিকিৎসককে চেকপোস্টে আটকে রাখার অভিযোগ

শেয়ার করুন