চীন থেকে কেনা টিকার প্রথম চালান ঢাকায়

চীন থেকে কেনা টিকার প্রথম চালান ঢাকায়

চীন থেকে কেনা টিকার প্রথম চালান এসেছে দেশে। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই টিকা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। শনিবার সকালে বাকি ১০ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে।

কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া মডার্নার ১২ লাখ টিকা আসার দেড় ঘণ্টা পর দেশে এসে পৌঁছেছে চীন থেকে কেনা সিনোফার্ম উৎপাদিত বিবিআইবিপি-করভি টিকার ১০ লাখ ডোজ।

একটি বিশেষ ফ্লাইটে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই টিকা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘এই টিকা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে নিয়ে রাখা হবে তেজগাঁওয়ের ইপিআই স্টোরেজে।’

২০ লাখ টিকা রাতেই আসার কথা থাকলেও বাকি ১০ লাখ টিকা শনিবার সকালে আসবে বলেও জানান তিনি।

কোভ্যাক্স থেকে বাংলাদেশে আরও ১৩ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে শনিবার। সবমিলিয়ে শুক্রবার ও শনিবার এই দুই দিনেই মোট ৪৫ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ।

চীন থেকে কেনা টিকার প্রথম চালান ঢাকায়

এর আগে উপহার হিসেবে দুই দফায় বাংলাদেশকে ১১ লাখ টিকা দিয়েছে চীন।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ প্রথম আনে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকার চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। তবে ৭০ লাখ পাঠানোর পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায়।

এর পাশাপাশি ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে মোট ৩৩ লাখ টিকা।

টিকার সংকট কাটাতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যে চলতি সপ্তাহ থেকেই অগ্রগতি দেখা দিচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যেই টিকার চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা পাচ্ছে দেশ।

এ ছাড়া সরকারের হাতে বর্তমানে ফাইজার, কোভিশিল্ড, বিবিআইবিপি-করভি মিলিয়ে ১৪ লাখ টিকা। এই টিকা দিয়ে আগামী এক মাস টিকা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যাবে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেয়া প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ মানুষের সংকটও দূর হচ্ছে। জুলাইয়ের মধ্যে এই টিকাও হাতে পাচ্ছে সরকার। সিরাম ইনস্টিটিউট টিকা দিতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চালান আসছে। ফলে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ যারা নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে।

আগামী মাসের মধ্যেই রাশিয়ার তৈরি করোনা টিকা স্পুৎনিক-ভির ৪০ লাখ ডোজ দেশে আসবে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। আর গণটিকা শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি। প্রতি মাসে ভারত থেকে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকে পাওয়ার কথা ছিল সাত কোটির বেশি টিকা।

তবে ভারতে করোনার নতুন ধরনের ব্যাপক বিস্তারে সব পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। নিজ দেশে টিকার চাহিদা মেটাতে সে দেশের সরকার বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানি সিরাম ইন্টারন্যাশনালকে করোনার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করা টিকা যেমন দেয়া যায়নি, তাই কোভ্যাক্সের টিকা পায়নি বাংলাদেশ। এই বৈশ্বিক উদ্যোগও সিরাম থেকেই টিকা নেয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছিল।

এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৬ এপ্রিল টিকার প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ রাখে। আর সিরামের দ্বিতীয় ডোজও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে ঈদের পর।

তবে সিরাম থেকে টিকা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তার পর সরকার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা করছে। চীন থেকে সরকার তিন থেকে চার কোটি টিকা কেনার কথা বলছে। এর মধ্যে কত টিকার চুক্তি হয়েছে, সেটি এখনও প্রকাশ হয়নি।

হাতে টিকা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে আবার গণটিকা শুরু করেছে সরকার। ঢাকায় ৪০টি আর বাইরে প্রায় এক হাজার কেন্দ্রে চলছে এই কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:
করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ পেল মডার্নার টিকা
দুই দিনে টিকা আসছে ৪৫ লাখ, চলতি মাসে কোটি
টিকার রেজিস্ট্রেশনে ভোগান্তিতে সিলেটের প্রবাসীরা
ভারতে করোনা প্রতিরোধী বিশ্বের প্রথম প্লাজমিড ডিএনএ টিকা
গবেষণা: টিকা নিলে করোনা কাবু করতে পারে না

শেয়ার করুন

মন্তব্য