টিকার জন্য ফের জবি শিক্ষার্থীর তালিকা চাইল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

টিকার জন্য ফের জবি শিক্ষার্থীর তালিকা চাইল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার তালিকা একসঙ্গে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার শুধু শিক্ষার্থীদের স্পেশাল ফ্যাসিলিটির আওতায় টিকা দেবে বলে কেবল শিক্ষার্থীদের লিস্ট চেয়েছে, তাই এটি আবার পাঠাতে হবে।

করোনার টিকা পেতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের তালিকা চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বরাবর এই তালিকা পাঠাতে হবে বলে জানিয়েছেন এমআইএসের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

বৃহস্পতিবার রাতে নিউজবাংলার প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবেদককে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তো শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সেই কপিটি এমআইএসের কাছে পাঠাতে হবে।

এর আগেও এমন তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানালে তিনি বলেন, ‘এর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার তালিকা একসঙ্গে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার শুধু শিক্ষার্থীদের স্পেশাল ফ্যাসিলিটির আওতায় টিকা দেবে বলে কেবল শিক্ষার্থীদের লিস্ট চেয়েছে, তাই এটি আবার পাঠাতে হবে।’

টিকার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি থেকে টিকার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।

পুনরায় তালিকা পাঠানোর বিষয়টি জানানো হলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আবারও কেন পাঠাতে হবে? আমরা তো একবার পাঠিয়েছি।’

তিনি প্রতিবেদকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস পরিচালকের নম্বর নেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারলে আমাদের শিক্ষার্থীরাও পারবে। দরকার হলে আমি নিজে কথা বলব সবার সঙ্গে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সময়মতো পরীক্ষা দেবে। আবাসিক হল থাকুক বা না থাকুক, আমাদের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৫৮৬ জনের একটি তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যার একটি কপি রয়েছে ইউজিসির কাছে।

‘তাদের টিকার ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করবে। আবাসিক বা অনাবাসিক হিসেবে তারা তালিকা অনুযায়ী কাজ করবে। তাদের কাছে তালিকা গেছে মানে তারা অবশ্যই বিষয়টি দেখবে। আশা করছি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে।’

এর আগে করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে, ইউজিসি থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কোভিড-১৯ টিকা নিতে যেসব আবাসিক শিক্ষার্থীর তালিকা (সঠিক এনআইডি নম্বরসহ) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগে পাঠানো হয়েছিল, সেসব শিক্ষার্থী জাতীয় ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইটে ঢুকে নিবন্ধন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা

নতুন নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ উন্নয়নে কী করতে হবে সে বিষয়ে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার রাতে অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতেও আলাদা নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

যা যা করতে হবে

. নির্দেশনায় বলা হয়, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, রোল, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, কী কারণে অনুপস্থিত, গৃহীত পদক্ষেপসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে।

. অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করবেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনে হোম ভিজিট করতে হবে।

. প্রতিটি বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির (শ্রেণিভিত্তিক) হার নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উপস্থিতি কম হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

. কোভিড-১৯-এর প্রভাবে শিক্ষার ঘাটতি পূরণে শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের পারঙ্গমতা যাচাই করে বিভিন্ন দলে ভাগ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নির্দেশিত পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

. অনলাইনে ক্লাস চলবে। সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সম্প্রচারিত ‘ঘরে বসে শিখি’তে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।

. বিদ্যালয়ের বিষয় শিক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষকরা শ্রেণিভিত্তিক প্রতিটি শিশুর শিখন যোগ্যতার প্রোফাইল (শিখন ঘাটতি পরিস্থিতি) প্রণয়ন করে এ সম্পর্কে তাদের উন্নতির তথ্য সংরক্ষণ করবেন।

. শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক মূল্যায়নে ক্লাসের কাজ, বাড়ির কাজ যাচাই করে তাদের ঘাটতির বিষয়গুলো পূরণ করতে শিক্ষকরা সমন্বিত উদ্যোগ নেবেন।

. প্রধান শিক্ষক, শ্রেণি শিক্ষক, বিষয় শিক্ষক ও কর্মচারীদের শিক্ষার্থীদের মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে।

. প্রতিদিন ২টি করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। রুটিন অনুযায়ী যে শিক্ষকের ক্লাস থাকবে না তারা বিদ্যালয়ে বসে গুগল মিট-এ (যেখানে সম্ভব) অন্য ৩টি শ্রেণির ক্লাস নেবেন।

. মাঠপর্যায়ের প্রত্যেক মেন্টরকে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে পাঠানো মেন্টরিং গাইডলাইন (মেন্টরদের দায়িত্ব ও কর্তব্যসংক্রান্ত) ও মেন্টরিং টুলস অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

. সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পরের দিন মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ও নার্সিংসংক্রান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয়েছে প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র উত্তোলন শুরু হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে ছাড়া হয় প্রবেশপত্র। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট https://bit.ly/3lqzGPo থেকে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।

কবে পরীক্ষা

আগামী ৩০ অক্টোবর কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা। এরপর ৫ নভেম্বর বাণিজ্য ইউনিট ও ৬ নভেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

যেভাবে মূল্যায়ন হবে

মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের অর্জিত মেধা স্কোরের ক্রমানুসারে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ জন্য মাধ্যমিক/ও লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ; উচ্চ মাধ্যমিক/এ লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত/হিসাবকৃত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ করে এই দুইয়ের যোগফল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ তে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ দিয়ে ১২০ নম্বরের মধ্যে মেধাস্কোর নির্ণয় করা হবে। সে অনুযায়ী তৈরি করা হবে মেধাতালিকা।

মেধাস্কোরের ভিত্তিতে নির্ণয় করা মেধাক্রম অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধাতালিকা ও ফলাফল ভর্তি পরীক্ষার পর সাত দিনের মধ্যে ঢাবির ভর্তি ওয়েবসাইটে (http://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে। প্রার্থী এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানতে পারবেন।

মেধাতালিকা প্রকাশের পর নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে অনলাইনে কলেজ ও বিষয় পছন্দকরণ ফরম পূরণ করতে হবে। পরে শিক্ষার্থীর পছন্দ এবং ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম ও ভর্তির যোগ্যতা অনুসারে বিভাগ বণ্টনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://collegeadmission.eis.du.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।

চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য মনোনীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে এসএসসি এবং এইচএসসির মূল নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা রাখা হবে।

সাত কলেজ হলো: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন

মাত্র দুজন বিদেশি শিক্ষার্থী জবিতে

মাত্র দুজন বিদেশি শিক্ষার্থী জবিতে

জবিতে পড়ছে মাত্র দুইজন বিদেশি শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৭৫টি আসন বরাদ্দ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষে চীনের দুজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখন পর্যন্ত ওই দুজনই পড়াশোনা করছেন জবিতে। তাদের একজন ইংরেজি, অপরজন গণিত বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।

দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়, নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতিসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৭-২০১৮ সাল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।

এর মধ্যে চার বছর পার হলেও মাত্র দুজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন জবিতে।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৭৫টি আসন বরাদ্দ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষে চীনের দুজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখন পর্যন্ত ওই দুজনই পড়াশোনা করছেন জবিতে। তাদের একজন ইংরেজি বিভাগে, অপরজন গণিত বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ না থাকার প্রধান কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রচার-প্রচারণার অভাবকে দায়ী করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটটিতে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব রয়েছে। ওয়েবসাইটে সব ধরনের তথ্য হালনাগাদ করা থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ত।

তারা আরও বলেন, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ চিত্র ভিন্ন। এখানে দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্যই পূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগ্রহের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রচারটা করতে পারি।’

বিদেশি শিক্ষার্থী না আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ এর প্রধান কারণ হতে পারে জবি সম্পর্কে তারা অবগত নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স মাত্র পনেরো বছর। বাইরের দেশে অনেকেই চেনে না, আমরা চেষ্টা করব আস্তে আস্তে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিচয় করানোর।

‘তাছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা হয়তো পছন্দের ফ্যাকাল্টি এখানে পাচ্ছে না তাই আসছে না। আরও একটি বড় কারণ হলো আবাসন ব্যবস্থা। বাইরে থেকে কোনো শিক্ষার্থী আসলে অবশ্যই আবাসন ব্যবস্থা আছে কি না দেখবে। আমাদের যেহেতু আবাসনসংকট তাই বিদেশি শিক্ষার্থী না আসার এটা একটা কারণ।

‘তবে নতুন ক্যাম্পাসে তাদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করলে তখন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

জানা যায়, সামগ্রিকভাবেই দেশে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৪৬তম বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৯) বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮০৪। বর্তমানে যা অর্ধেক হ্রাস পেয়ে ৪৮২-তে এসে দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যে শুধু গোপালগঞ্জের বশেমুরবিপ্রবিতে আছেন ২২১ জন। ১৬৬ শিক্ষার্থী নিয়ে তালিকার ২য় স্থানে রয়েছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। ৫১ শিক্ষার্থী নিয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অবস্থান ৩য়। আর ৩৭ শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৪র্থ।

তালিকার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো যথাক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (৩৭), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (৩৭), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (৩৭) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (৩৪)।

দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬টিতে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী নেই বলে জানায় সূত্রটি।

দেশে এতগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও বিদেশি শিক্ষার্থী কম থাকার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মহল পর্যাপ্ত গবেষণার সুযোগ না থাকা, ভর্তির ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনেক বিভাগে শুধু বাংলায় পাঠদান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অভাব, অপ্রতুল স্কলারশিপ ও সেশনজটকে দায়ী করছেন।

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না বলেন, ‘আমরা খবর নিয়ে জেনেছি তিনার মামা-মামি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করছি, তাদের থেকেই সে ও তার মা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।’

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ওই শ্রেণির বাকি শিক্ষার্থীকে।

তবে স্বাভাবিক রয়েছে অন্য শ্রেণির পাঠদান। শিক্ষার্থী উপস্থিতিও আছে সন্তোষজনক।

কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না নিউজবাংলাকে জানান, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীর ঠাণ্ডা-জ্বর। তাদের মধ্যে তিনা খানম ও তার মা করোনা পরীক্ষা করালে ১৭ সেপ্টেম্বর দুজনেরই পজিটিভ ফল আসে। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে ১৮ তারিখ থেকে ১৪ দিন ওই ক্লাসের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

পান্না বলেন, ‘আমরা খবর নিয়ে জেনেছি ওই ছাত্রীর মামা-মামি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করছি, তাদের থেকেই তিনা ও তার মা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।

‘বাকি তিন শিক্ষার্থীরও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের নেগেটিভ ফল এসেছে। তারপরও তাদের কিছুদিন স্কুলে না পাঠানোর জন্য অভিভাবককে বলা হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে না বলে জানান এই শিক্ষক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ‘আক্রান্ত ওই শিক্ষার্থী ও তার মা সুস্থ আছেন। আমরা তাদের করোনার চিকিৎসা দিয়েছি। তারা হোম আইসোলেশনে আছে।’

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ফেরদাউজ খান বলে, ‘অনেকদিন পর স্কুল খুলেছে। আমরা প্রতিদিন সবাই মাস্ক পরে স্কুলে আসি। করোনা নিয়ে আমাদের কোনো ভয় নাই।’

এক শিক্ষার্থীর মা আসমা বেগম বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই না স্কুল আর বন্ধ থাকুক।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এরপর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি হিসেবে ১৯টি নির্দেশনা জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা মেনে ১২ সেপ্টেম্বর খুলেছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অর্পিতা মন্ডল জানান, শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করানো হয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করানো হয়। এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হলেও বিদ্যালয়ের উপস্থিতির হার সন্তোষজনক।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহরাব গাজী জানান, স্কুলে আসা সব শিক্ষার্থীর শারীরিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী পাঠদান চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘আমরা সব স্কুল মনিটর করছি। কোনো শিক্ষার্থীর করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে ওই শ্রেণি বা স্কুল বন্ধ করে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন

মিড ডে মিল নিয়ে সিস্টেমে ভুল ছিল: প্রতিমন্ত্রী জাকির

মিড ডে মিল নিয়ে সিস্টেমে ভুল ছিল: প্রতিমন্ত্রী জাকির

রংপুরে পিটিআই কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম সারা দেশে মিড ডে মিল পরিচালনা করব। কিন্তু আমাদের সিস্টেমের ভুল ছিল। আমরা নতুন করে প্রকল্প তৈরি করছি।’

সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্কুল ফিডিং প্রকল্প একেবারে বন্ধ হয়নি জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, ‘স্কুল ফিডিং প্রজেক্টের মেয়াদ চলতি বছরের ২০ জুন পর্যন্ত ছিল। প্রজেক্টটা আপাতত বন্ধ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম সারা দেশে আমরা মিড ডে মিল পরিচালনা করব। কিন্তু আমাদের সিস্টেমের ভুল ছিল। আমরা নতুন করে প্রকল্প তৈরি করছি।’

রংপুর প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জাকির বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল পরিচালনার কথা রয়েছে। স্কুলগুলোতে বিস্কুটের যে প্রকল্প ছিল, তা আমরা নতুন করে এক্সটেনশন (বর্ধিত) করে নিয়েছি। আরও ৬ মাসের জন্য বাড়িয়ে নিয়েছি।’

প্রাথমিকের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলগুলো খোলা হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষার্থী ঝরে যায়, তাহলে আমাদের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ঝরে পড়া বাচ্চাদের জন্য সেখানে ব্যবস্থা রয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্যায় যে সব স্কুল নদীতে বিলিন হয়ে গেছে, নতুন জায়গা কিনে নতুন করে স্কুলগুলো করার চেষ্টা করছি। আমরা এ বছরই স্কুলগুলো করতে চাই।

‘বিদ্যালয়গুলোতে আমরা সুন্দর পরিবেশ গড়তে চাই। লেখাপড়ার জন্য আরও ভালো পরিবেশ করতে চাই। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট শিগগিরই দূর করা হবে।’

রংপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা যদি অনিয়ম করেন, অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বিভাগীয় ভাবে দেখা হবে। আমাদের কর্মকর্তারা আছেন, দেখবেন, ব্যবস্থা নেবেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষার রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মুজাহেদুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান সিদ্দিকীসহ জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন

বাকৃবিতে হল খুলছে ২৪ সেপ্টেম্বর

বাকৃবিতে হল খুলছে ২৪ সেপ্টেম্বর

ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. এ. কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। শিক্ষার্থীদের হলে থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ কারণে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে হল খুলে দেয়া হবে।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করবে।

বিষয়টি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. এ. কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। শিক্ষার্থীদের হলে থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ কারণে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে হল খুলে দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। এ সকল শিক্ষার্থীরা ৩ অক্টোবর হলে প্রবেশ করবে।’

এ ছাড়া যেসব বর্ষের ব্যবহারিক ক্লাস এবং ক্লাস টেস্ট এখনো শেষ হয়নি তাদের ৪ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ক্লাস এবং পরীক্ষা শেষ করতে হবে।

গত ৬ জুন শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাকৃবি প্রশাসন।

কিন্তু করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত রাখার সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা মোকাবিলায় গঠিত টাস্কফোর্স। এতে সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়।

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন

এক দশক পর এমপিওভুক্ত ডিগ্রির ৮৪১ শিক্ষক

এক দশক পর এমপিওভুক্ত ডিগ্রির ৮৪১ শিক্ষক

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. কামরুল হাসানের সই করা প্রজ্ঞাপনে সোমবার রাতে ৪ শর্তে তৃতীয় ৮৪১ শিক্ষকের এমপিওভুক্তির আদেশ দেয়া হয়।

এক দশকের বেশি সময় ভোগান্তির পর এমপিওভুক্ত হলেন ডিগ্রি স্তরের ৮৪১ শিক্ষক। এই পুরোটা সময় তারা বিনা বেতনে চাকরি করে আসছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. কামরুল হাসানের সই করা প্রজ্ঞাপনে সোমবার রাতে ৪ শর্তে তৃতীয় ৮৪১ শিক্ষকের এমপিওভুক্তির আদেশ দেয়া হয়।

২০১০ সালের পর বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ পান ৮৪১ শিক্ষক। তবে এমপিওভুক্ত হতে পারছিলেন না তারা। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছিল, তারা অর্থ বিভাগের কাঠামোভুক্ত নন। এ কারণে শিক্ষকদের যোগ্যতা ও বিধি মোতাবেক নিয়োগ ও কর্মরত থাকা সাপেক্ষে এমপিওভুক্ত করতে সম্মতির অনুরোধ জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) ডা. সৈয়দ ইমামুল হোসেন বলেন, ‘তৃতীয় শিক্ষক পদটি রেগুলার এমপিওভুক্ত পদ নয়। তাদের এমপিওভুক্ত করতে হলে আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়। এতে সরকারের বার্ষিক ২৫ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় হবে। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণায়ের অনুমোদনের পর তাদের এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

জানা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকে ডিগ্রি পর্যায়ের তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া শুরু হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত এ শিক্ষকদের নিয়মিত এমপিওভুক্তি দেয়া হতো। এরপর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়।

যেসব শর্তে এমপিওভুক্ত

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি স্তরটি সরকারি এমপিওভুক্ত হতে হবে।

এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগকালীন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

নিয়োগকালীন বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত হতে হবে।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওভুক্ত করতে হবে এবং আগে তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন করে তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না।

আরও পড়ুন:
বিলম্ব ফি দিতে হবে না জবি শিক্ষার্থীদের
জবিতে ফরম পূরণের সময় বাড়ল ১৪ জুলাই পর্যন্ত
জবি শিক্ষার্থীদের জন্যে শিওরক্যাশ ও নগদের সুবিধা
জবির মাঠে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষকদের প্রতিবাদ
জবির খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের খুঁটি

শেয়ার করুন