শাটডাউনেও চলছে গণটিকাদান

শাটডাউনেও চলছে গণটিকাদান

দেশের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে একযোগে টিকাদান চলছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শাটডাউনের মধ্যেই সারা দেশে ফের শুরু হয়েছে গণটিকাদান কার্যক্রম।

দেশের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে একযোগে টিকাদান চলছে।

রাজধানীর ৭ কেন্দ্রে দেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাইজারের টিকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সকাল আটটা থেকে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি দিয়ে গণটিকা দেয়া চলছে। শাটডাউনের মধ্যে টিকা কার্ড নিয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে যেতে পারবেন টিকা গ্রহণকারীরা। যারা এসএমএস পাবেন তাদের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।’

তিনি আরও বলেন, বেলা ১১টায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ কুর্মিটোলা হাসপাতালে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের টিকা দেয়া পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম উপস্থিত থাকার থাকা রয়েছে।

টিকা সংকটের কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৬ এপ্রিল টিকার প্রথম ডোজ দেয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। দুই মাসের বেশি সময় পর আবার বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় গণটিকাদান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

টিকাদানের বিষয়ে বিএসএমএমইউ টিকাদান কেন্দ্রের সমন্বয়কারী ডা. খোরশেদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই দেয়া হচ্ছে টিকা। গাড়ি সংকটের কারণে এসএমএস আসার পরও যারা টিকা নিতে আসতে পারবে না, তারা টিকাদান কর্মসূচি চলামান থাকা অবস্থায় যেকোনো সময় টিকা নিতে পারবেন। এটা নিয়ে কোনো অসুবিধা হবে না।

‘এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আগেই জানানো হয়েছে, লকডাউনে চলবে টিকাদান। টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নেয়া যাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, প্রতিদিন সকাল ৯টার আগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। তিন হাসপাতলের প্রতি কেন্দ্রে ১২০ জন করে ৩৬০ জনকে সোমবার টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, নার্সিং শিক্ষার্থী, আইএইচটি-ম্যাটস এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীরা এই টিকা পাবেন। এ ছাড়া অন্যান্য অগ্রাধিকার তালিকাভুক্তরাও নিবন্ধন করে এই টিকা নিতে পারবেন। যারা এসব কেন্দ্রে নিবন্ধন করে আগে টিকা পাননি, তারাও এবার টিকা পাবেন।

ডা. শামসুল বলেন, ‘আপনাদের কাছে কেন্দ্র থেকে মোবাইল ফোনে এসএমএস যাবে। এসএমএস যাওয়া সাপেক্ষে আগের মতোই টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়া যাবে। কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অবশ্যই টিকা কার্ড নিয়ে যেতে হবে।

‘যেসব প্রবাসী কর্মী সিনোফার্মের টিকা নিতে চান, তারাও নিতে পারবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধন অনুযায়ী ঢাকার বাইরের কেন্দ্র থেকেও এই টিকা নেওয়া যাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার টিকাদানের ক্ষেত্রে ঢাকায় ৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে আটটি কেন্দ্র বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হবে রাজধানীর ৪০টি কেন্দ্রে।

ফাইজারের টিকা রাজধানীর ৭ কেন্দ্রে

ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কেন্দ্রে।

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণটিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই দিন প্রথম টিকা নেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড দিয়ে দেশে শুরু হয় গণটিকাদান। ভারতের প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে এ টিকা কিনেছে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে তিন কোটি ৪০ লাখ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সিরাম এখন পর্যন্ত টিকা সরবরাহ করেছে ৭০ লাখ।

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে টিকা স্বল্পতার কথা জানিয়ে রপ্তানি বন্ধ রেখেছে সিরাম। এমন বাস্তবতায় চীন, রাশিয়ার টিকা আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

এরই মধ্যে চীনের উপহারের ১১ লাখ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর বাইরে বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকেও পাওয়া গেছে ১ লাখ টিকা।

তবে এসব টিকা বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। আর সিরাম থেকে টিকা এনে যাদের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে কি না, এই বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। অথচ শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দুই ডোজ লাগে।

আরও পড়ুন:
ভুয়া টিকায় জড়িত বিজেপি: মমতা
প্রবাসীদের টিকা দেয়ায় কাতারকে ধন্যবাদ
কোভ্যাক্সের টিকা আসছে শুক্র-শনিবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শাটডাউনে যেভাবে চলবে গণটিকা
ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে ৫ কোটি মানুষ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য