মডার্নার ২৫ লাখ টিকা আসছে ২ ও ৩ জুলাই

মডার্নার ২৫ লাখ টিকা আসছে ২ ও ৩ জুলাই

‘চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত বিবিআইবিপি-করভির টিকা পেতে এরই মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। টিকার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে চীন থেকে করোনার টিকা দেশে আসছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আরও ২৫ লাখ ডোজ টিকা ২ ও ৩ জুলাইয়ের দেশে আসবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এই টিকা টিকাগুলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার উদ্ভাবিত।

মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকে এই ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ।’

‘চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত বিবিআইবিপি-করভির টিকা পেতে এরই মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। টিকার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে চীন থেকে করোনার টিকা দেশে আসছে।’

এর আগে গত ৩১ মে কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা। রাজধানীর তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওই টিকার প্রয়োগ চলছে। কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সিইপিআই) উদ্যোগে।

এই জোটের মাধ্যমে ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের জন্য বিনা মূল্যে টিকার ব্যবস্থা করার কথা। কোভ্যাক্স থেকে প্রথম ধাপে ১ কোটি ২৭ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বিশ্বজুড়ে টিকার সংকট দেখা দেয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত জুনে কোভ্যাক্সের কাছে টিকা পেতে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। কোভ্যাক্সে থেকে প্রায় ৭ কোটি টিকা দেয়ার কথা রয়েছে। এটা পর্যায়ক্রমে আসবে। কোভ্যাক্সে সেই চিঠির জবাব আমাদের কাছে এসেছে। উনারা আমাদের ২৫ লাখ টাকা দেবে বলে জানিয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে টিকা আমাদেরকে টিকা আনতে বলা হয়েছে। এই বিষয়টি উনারা বলেছেন এবং যা যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেই ব্যবস্থা নিতে বলছেন। ইতোমধ্যে আমরা চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সব হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের নির্দেশ

সব হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের নির্দেশ

দেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির কাজ অনেকটা এগিয়েছে। ফাইল ছবি

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রোববার ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব হাসপাতালে অ্যন্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

দেশে বর্ষা মৌসুমে সাপের ছোবলের ঘটনা বেশি ঘটে। এ সময় সাপে কাটার শিকার বেশি হয় গ্রামের মানুষ। অথচ উপজেলা পর্যায়ে দেশের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) নেই।

এমন বাস্তবতায় সব হাসপাতালে অ্যন্টিভেনম সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রোববার ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর আনুমানিক ছয় লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। আর সাপের কামড়ে মারা যান ছয় হাজার মানুষ।

‘সাপের কামড়ে যেন প্রাণহানি না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়সহ সবখানে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করলেই হবে না, পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা, অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলামসহ অনেকেই।

শেয়ার করুন

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে বাণিজ্যিক নয়

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ।

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মুহাম্মদ।

দেশে হাসপাতাল দরকার। কিন্তু সেটা প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নয় বলে মনে করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মানুষের প্রাকৃতিক জায়গাকে নষ্ট করে ব্যবসা করে মুনাফার জন্য কিছু লোককে হাসপাতালের নামে দখলের বৈধতা দেয়া হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন প্রতিরোধ অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে চট্টগ্রামের ফুসফুস-খ্যাত সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক ‘প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ, বটতলা, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, লীলা ব্যান্ড, মাদল এবং শিল্পী কফিল আহমেদ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, শুধু সিআরবি নয়, বরং সারা দেশই এ ধরনের লুণ্ঠন, আগ্রাসন, দখল, উন্নয়নের নামে বিকৃত উন্মাদনার শিকারে পরিণত হয়েছে। বলা হয়, হাসপাতাল মানুষের অসুস্থতার জন্য। কিন্তু ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদী যদি নর্দমায় পরিণত না হতো, ঢাকা শহরে যদি গাছপালা ও উন্মুক্ত জায়গা থাকত তাহলে মানুষের এত অসুস্থতা তৈরি হতো না।

লুটতরাজদের স্বার্থই সরকারের স্বার্থ দাবি করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি, যেখানে জীবন-জীবিকা সবকিছুর জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। সরকার বধির, কালা, অন্ধ। তার সামনে শুধু মুনাফা, লুটেরা, লুটতরাজ কোটিপতিরাই রয়েছে।’

খাদক ও ঘাতক চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সিআরবি রক্ষার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে বলেও মনে করেন আনু মোহাম্মদ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, শিল্পী কফিল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল প্রমুখ।

উন্মুক্ত এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে গান ও নাটক পরিবেশন করে লীলা ব্যান্ড, সহজিয়া, মাদল, বক্ররেখা, ভাটিয়াল শহুরে, সমগীত, বটতলা, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার বায়ান্ন, বনফুল এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

এ ছাড়া এককভাবে গান, নাচ, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, পারফর্মিং আর্টসহ নানান সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন শিল্পী সুমন হালদার, আশরাফুল হাসান, জিয়া শিকদার, নাসির আহমেদ, হাবিবুল্লাহ পাপ্পু, অমল আকাশ, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, ফারহা নাজ মুন, ইশরাত শিউলি এবং অনন্যা লাবণী।

শেয়ার করুন

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

একই উদ্ভিজ্জ তেল বারবার ব্যবহার করলে বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়।

ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন গবেষকরা।

হৃদরোগে মৃত্যুর পেছনে বড় আতঙ্কের নাম এখন ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আতঙ্কের ব্যাপার হলো, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

খাবারের ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড হলো ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেশির ভাগ ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয় শিল্প-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ তেল তৈরির সময় তাতে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়। এই হাইড্রোজেনযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেল, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও জমে যায়, সেটিই হলো ট্রান্সফ্যাট। খাবার তৈরির সময় উদ্ভিজ্জ তেল পরিবর্তন না করে ভাজার জন্য বারবার ব্যবহার করলে তা বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়, যা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

শনিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় ট্রান্সফ্যাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একদল বক্তা। ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই কর্মশালাটির আয়োজন করে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, ভয়ংকর খাদ্য উপাদান ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। এ জন্য ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট খাদ্যের একটি বিষাক্ত উপাদান, যা হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গবেষক দল ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

প্রবিধানমালার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিএফএসএর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এটি চূড়ান্ত হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্ত‍‍র্জাতিক বাজার হারাব এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়বে এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে।’

কর্মশালায় প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার মো. হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ সংবাদকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরণ ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

শেয়ার করুন

২০ বছরে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

২০ বছরে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখের বেশি মানুষ। মারা যায় ১৪৮ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৫৯ জন। সংখ্যার দিক থেকে ২০০০ সালের পর ডেঙ্গুতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখের বেশি মানুষ। মারা যায় ১৪৮ জন।

এর আগে ২০০১ সালে ৪৪ ও ২০০২ সালে ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অন্যদিকে ২০০৭ সাল থেকে টানা চার বছর ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি।

তবে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮৭ জন। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে ৫ হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হলো।

এ বছরের জুলাই থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে শনাক্ত হয় দুই হাজারের বেশি রোগী। আর আগস্ট মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬৯৮ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৪৫ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৪৬০ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৪ হাজার ২০৪ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ১৯৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৯০ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ জন।

শেয়ার করুন

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

প্রতীকী ছবি

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

যথাযোগ্য জনবলের অভাবে ডেঙ্গু সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ ভুলভাবে হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা, টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এসব মত দেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০০০ সাল থেকে প্রায় বছরই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু মহামারিতে রূপ নিয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে নগরীর মশা নিবারণে টেকসই সমাধানের রূপরেখাবিষয়ক সেমিনার হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ও নগরে মশা এখন সারা বছরের সমস্যা। দেশের জন্য এটা বিব্রতকর যে, দীর্ঘদিনেও ডেঙ্গু সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান হয়নি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যথাযোগ্য জনবল সমস্যা।

‘মশা নিবারণ, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য এখন পর্যন্ত সরকার কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। তাই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মশক নিবারণ কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনার অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেখানে প্রশিক্ষিত জনবল নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মহামারি প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানসম্মত কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না।

‘ফুলের টবের জমা পানি ফেলে দেয়ার কথা বলে নগরব্যাপী দৌড়ঝাঁপ চলে। কিছু পার্ভিসাইড ছিটানো ও ভুলভাবে ফগিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে তাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ। এতে মশাও মরে না, ডেঙ্গু রোগেরও নিয়ন্ত্রণ হয় না।’

সিটি করপোরেশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা পূর্ণাঙ্গ মশা না মেরে লার্ভা মারার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঢোল পিটিয়ে বেড়িয়েছে; লোকজনকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা করেছে। এসব জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাস।’

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

সেমিনারে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) চেয়ারম্যান ও কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণ একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। আমাদের দেশেও এটা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণের জন্য জাতীয়ভিত্তিক একটা গাইডলাইন প্রয়োজন। নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) আইন-২০১৮, স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনায় নিতে হবে।’

সেমিনারে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কীটতত্ত্ববিদ ড. জি এম সাইফুর রহমানসহ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

শেয়ার করুন

১১২ দিনে সর্বনিম্ন শনাক্ত, মৃত্যু ৩৫

১১২ দিনে সর্বনিম্ন শনাক্ত, মৃত্যু ৩৫

প্রতীকী ছবি

দেশে গত ২৯ মে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ জনের দেহে। এরপর শনিবার প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সংখ্যাটি গত ১১২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯০ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে গত ২৯ মে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ জনের দেহে। এরপর শনিবার প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সংখ্যাটি গত ১১২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ১৮২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৬ ও নারী ১৯ জন। ওই সময়ে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এক দিনে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশু আছে। বাকিদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৬, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭, ষাটোর্ধ্ব ৮, সত্তরোর্ধ্ব ৫ ও অশীতিপর ৭ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ৬ জন, রাজশাহী ও খুলনায় ৩ জন করে ৬ জন, বরিশালে ১, সিলেটে ২ ও রংপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৪৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৪ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়।

এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে পরিচিত বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, আর সেটা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একই পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরে নেয়া যায়।

শেয়ার করুন

২০ দিনের মধ্যে টিকা পাবে স্কুলশিক্ষার্থীরা

২০ দিনের মধ্যে টিকা পাবে স্কুলশিক্ষার্থীরা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল গোয়িং ছেলেমেয়েদের টিকা দেয়া হবে। যে টিকা এই বয়সের ছেলেমেয়েদের দেয়া সম্ভব, সেটাই আমরা দেব। আমেরিকার ফাইজারের টিকা দিয়ে শুরু করব।’

আগামী ২০ দিনের মধ্যে স্কুলের ছেলেমেয়েদের করোনার টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল গোয়িং ছেলেমেয়েদের টিকা দেয়া হবে। যে টিকা এই বয়সের ছেলেমেয়েদের দেয়া সম্ভব, সেটাই আমরা দেব। আমেরিকার ফাইজারের টিকা দিয়ে শুরু করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষকেই আমরা টিকা দেব, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। আমরা খুব ভাগ্যবান যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমরা ১০ কোটি টিকার প্রস্তাব পেয়েছি। তারা ১০ কোটি টিকাই আমাদের দেবে। যার দাম প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দেশ আছে, যারা সেভাবে টিকা নিতে পারেনি। আমরা প্রায় আড়াই কোটি লোককে টিকা দিয়েছি এবং দেড় কোটি লোক দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।’

মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র রমজান আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীনসহ অনেকে।

কলেজশিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে শিগগিরই

এর আগ শিগগিরই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

বরিশাল সরকারি কলেজ মিলনায়তনে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আবারও যদি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কলেজশিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চল এ সভার আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন।

করোনা মহামারির কারণে প্রায় ১৭ মাস বন্ধ রাখার পর ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে স্কুল খুলে দিয়েছে সরকার। স্কুল খোলার পর থেকে শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে সরকারের ওপর অভিভাবকদের চাপ বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দেয়ার কথা বলছেন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন