টিকা নিয়ে আর সমস্যা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

টিকা নিয়ে আর সমস্যা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন নিয়ে যখন গবেষণা চলছিল তখনই আমরা যোগাযোগ শুরু করেছিলাম। কিন্তু ভারত ভ্যাকসিন এক্সপোর্ট বন্ধ করে দেয়ায় আমরা অসুবিধায় পড়ে যাই। কিন্তু আমরা আবার ব্যবস্থা করেছি। ভ্যাকসিন নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবার সকালে বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন নিয়ে যখন গবেষণা চলছিল তখনই আমরা যোগাযোগ শুরু করেছিলাম। কিন্তু ভারত ভ্যাকসিন এক্সপোর্ট বন্ধ করে দেয়ায় আমরা অসুবিধায় পড়ে যাই।

কিন্তু আমরা আবার ব্যবস্থা করেছি। ভ্যাকসিন নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না। জুলাইয়ে আরও ভ্যাকসিন আসবে। এরপর আমরা ব্যাপকভাবে আবারও টিকা কর্মসূচি শুরু করব।’

দেশে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে। সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সেই টিকা কেনার চুক্তিও হয় বাংলাদেশের।

চুক্তি হয় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিকা কেনার, যা প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ধাপে ধাপে দেয়ার কথা সিরামের। কিন্তু দুই ধাপে সিরাম মাত্র ৭০ লাখ টিকা দিয়ে জানায়, তারা আপাতত টিকা রপ্তানি করবে না।

এর বাইরে ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ টিকা দেয়। ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে টিকা সংকটের মুখে এক পর্যায়ে দেশে বন্ধ হয়ে যায় গণটিকা কার্যক্রম।

টিকা নিয়ে আর সমস্যা হবে না: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বিটিভি থেকে সংগৃহীত

এর মধ্যে করোনা প্রতিরোধী টিকা বণ্টনের আন্তর্জাতিক ফ্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কিছু টিকা পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ। ফাইজারের এক লাখের বেশি ডোজ টিকা দেশেও পৌঁছেছে। উপহার হিসেবে টিকা দিয়েছে চীনও। সেগুলো দিয়ে আবার শুরু হয়েছে টিকাদান।

টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রবাসী কর্মীদের আগে টিকা দিতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমি বলে দিয়েছি, ফাইজারের যে টিকাগুলো আছে, সেগুলোর দুটি ডোজই যেন প্রবাসী কর্মীদের দেয়া হয়। ওখানে (বিদেশ) গিয়ে যেন তাদের কোয়ারেন্টিন করতে না হয়। তারা যেন কর্মস্থলে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

পর্যায়ক্রমে দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘দেশের মোট ৮০ শতাংশ মানুষকে পর্যায়ক্রমে আমরা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।…স্কুল থেকে শুরু করে এবং উচ্চশিক্ষায় সকলে যেন ভ্যাকসিন পায়। আমরা দ্রুত যেন স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারি সে ব্যবস্থা নেব।

সরকার প্রধান জানান, এ পর্যন্ত দেশে এক কোটির বেশি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ৪৩ লাখ নাগরিক ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য