যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস

যক্ষ্মা রোগীদের হাজারে ১ জনের এইডস

দেশে যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে এইডস আক্রান্ত হাজারে একজন করে। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণায় দেশের চিকিৎসাধীন ১২ হাজার যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে চালানো জরিপে ১২ জন এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পুরুষ ৬৫ শতাংশ, নারী ৪৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গ শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

দেশে চিকিৎসাধীন যক্ষ্মা রোগীদের প্রতি এক হাজার জনের একজন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত।

সম্প্রতি জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

ভার্চুয়াল এক সভায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে নিপসম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিপি-ল্যাপস অপারেশন প্লেনের সৌজন্যে ‘গ্লোবাল ক্যন্ড’-এর অর্থায়নে ‘বাংলাদেশের যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে এইচআইভির মাত্রা ২০১৯-২০২০’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপটির প্রধান গবেষক ছিলেন নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ।

গবেষণায় দেশের চিকিৎসাধীন ১২ হাজার যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে চালানো জরিপে ১২ জন এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পুরুষ ৬৫ শতাংশ, নারী ৪৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গ শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

দেশে ৩৫ লাখের অধিক যক্ষ্মা রোগী রয়েছে। গত বছর নতুন করে ৩ লাখ যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বায়জীদ খুরশীদ যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে কী পরিমাণ এইডসে আক্রান্ত রোগী রয়েছে তা যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই জরিপ করা হয়েছে।

জরিপটি গত বছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ করা হয়েছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় যারা চিকিৎসাধীন রয়েছে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে।

৯০ হাজার যক্ষ্মা রোগীর মধ্যে ১২ হাজারের অধিক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয় গবেষণার জন্য।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদ বলেন, ‘যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে যদি এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া যায় তবে চিকিৎসায় মারাত্মক ব্যঘাত তৈরি করবে। দেশে যক্ষ্মা রোগীরদের মাত্রা শূন্য দশমিক ০১ ভাগ এইচআইভিতে আক্রান্ত। যা মোট জনগোষ্ঠীর তুলনায় অনেক কম, এটা স্বস্তিদায়ক।

‘গবেষণায় উঠে আসছে, যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত তাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে, এটা চিন্তার বিষয়। কারণ এই বয়সটা নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ, অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীল।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক শামিউল ইসলাম।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ১০, ২০, ১০০ বা ২০০ জন করে নতুন রোগী প্রতিবছর শনাক্ত হয়েছে। ২০১৮ সালে নতুন রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৯ জনে।

এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক রোগী মারা যায় ২০০০ সালে। ২০১৮ সালে একই রোগে মৃতের সংখ্যা ১৪৮। ২০১৯ সালে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছিল।

আরও পড়ুন:
এইডস আক্রান্ত ২০ নারীর সুস্থ সন্তান প্রসব

শেয়ার করুন

মন্তব্য