বাগেরহাটে এক দিনে করোনায় রেকর্ড শনাক্ত ১৭৭

লকডাউনে কঠোর অবস্থানে আছে পুলিশ

বাগেরহাটে চলমান লকডাউনে কঠোর অবস্থানে আছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় ২৩৭ জনের নমুনার মধ্যে ১১১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সদর উপজেলায় সংক্রমণের হার ৪৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বাগেরহাটে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার এক দিনের ব্যবধানে ২০ শতাংশ বেড়ে ৪২ দশমিক ৯৬ শতাংশ হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৪১৩ জনের নমুনায় রেকর্ড ১৭৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুধু সদর উপজেলাতেই শনাক্ত হয়েছে ১১১ জনের দেহে।

জেলার সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় ২৩৭ জনের নমুনার মধ্যে ১১১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সদর উপজেলায় সংক্রমণের হার ৪৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ফকিরহাটে ৫০ জনের নমুনায় ১৯ জনের, মোরেলগঞ্জে ৩২ জনের নমুনায় ১৫ জনের, মোংলায় ৩০ জনের নমুনায় ১৪ জনের, মোল্লাহাটে ১৫ জনের নমুনায় ১০ জনের, শরণখোলায় ৭ জনের ও কচুয়ায় ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সর্বোচ্চ সংক্রমণের হার মোল্লাহাটে, ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৯ জনের দেহে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ৩ জন, মোংলার ১ ও রামপালের ১ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের।

করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন। বাড়িতে আইসোলেশনে আছে ৭৬৩ জন।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাগেরহাটে চতুর্থ দিনের মতো চলছে লকডাউন। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, শপিংমল ও অভ্যন্তরীণ ১৬টি রুটে যান চলাচল।

গত তিন দিনে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মামলা করা হয়েছে ১৬৩ জনের বিরুদ্ধে।

জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘বাগেরহাটে উদ্বেগজনক হারে ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অপ্রয়োজনে বের হচ্ছেন, তাদের মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর অবস্থানে আছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর: কৃষিমন্ত্রী

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামী লীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এই শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশকে পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় রোববার দুপুরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অপশক্তিকে প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামী লীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে। এই মেধাবীরা আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, তানভীর হাসান ছোট মনির, আহসানুল ইসলাম টিটু, আতাউর রহমান খানসহ জেলা আওয়ামী লীগের আরও অনেক-নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন

হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।’

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর জেলা প্রতিনিধি কাজল সরকার ও ডেইলি অবজারভার পত্রিকার প্রতিনিধি আমির হামজা।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পাশে একটি গ্যারেজের ছবি তোলার সময় রোববার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকদের থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ওই সাংবাদিকদের দুইজন লোক টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, একজন লাঠি দিয়ে মারধর করছেন।

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।

‘থানার ভিতর নিয়ে যাওয়ার পরও তারা আমাদের মারার জন্য হামলা চালায়। তখন কয়েকজন কনস্টেবল এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম মুরাদ আলিকে এই প্রতিবেদক ফোন করলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু হাইওয়ে থানায় ঘটেছে। আপনি হাইওয়ে থানার এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।’

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলামকেও ফোন করা হয় মন্তব্যের জন্য। তিনি বলেন, ‘আগে বিষয়টা জানবেন তারপর মন্তব্য করবেন। গ্যারেজটি থানার না, সেটি পাবলিক গ্যারেজ। তাদের (সাংবাদিকদের) সমস্যা হয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, পুলিশের না। আমি মাত্র থানায় আসছি, আপনিও পারলে থানায় আসেন।’

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

জামালের মা রুনু বেগম বলেন, ‘দেড় বছর ধরে বড় ছেলে জামাল কারাবন্দি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদব। কিন্তু ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে গিয়ে দেখাও করতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখে মরতে পারব না।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে বরগুনায়।

শহরের টাউনহল এলাকার অগ্নিঝরা একাত্তর চত্বরে রোববার বেলা ১১টায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বন্দি সাংবাদিকের নাম জামাল মীর, তিনি বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম ও দৈনিক বর্তমানের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

সমাবেশে তার পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে জামালের মা রুনু বেগম বলেন, ‘দেড় বছর ধরে বড় ছেলে জামাল কারাবন্দি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদব। কিন্তু ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে গিয়ে দেখাও করতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখে মরতে পারব না।’

জামালের বাবা জালাল মীর বলেন, ‘ছেলের জামিন করাতে গিয়ে বিচারিক আদালত থেকে উচ্চ আদালতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। টাকা শেষ হওয়ার পরে জমি বিক্রি করেও ছেলের জামিনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন আমাদের তিন বেলা খাবার জোটেনা। জামালের মা অসুস্থ, একটা ওষুধ কিনে দেয়ার সামর্থ্য নেই আমার।’

কারাবন্দি সাংবাদিকের স্ত্রী লিমা বেগম বলেন, ‘মানসম্মত খাবারের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আমাদের মেয়ে তাহিয়া। বঞ্চিত হচ্ছে বাবার ভালোবাসা থেকে। মেয়ের পায়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।’

বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, ‘জামাল বরগুনায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার করতেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস দপ্তরের অনিয়ম, দুর্নীতি প্রচার করে অসংখ্য প্রতিবেদন করেছেন। জামাল সব চোর-বাটপারদের চোখের শুল হয়েছিলেন। এসব চোরদের সঙ্গে কিছু সাংবাদিকদের যোগসাজশে জামালকে ফাঁসানো হয়েছে।’

বরগুনা সদরের পানামা রোড এলাকার এক নারী গত বছরের ২৪ এপ্রিল সম্মানহানি এবং তাদের বসতঘরে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ করেন জামালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জামালসহ ৭ জনের নামে মামলা করেন।

একই বছরের ৬ মে লামিয়ার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামাল ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রতিনিধি সুমন সিকদারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন পরে সুমন সিকদারসহ ৫ জনের জামিন হলেও কারাগারেই আছেন জামাল।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি মহিদুল জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

গাজীপুরের পূবাইলে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পূবাইল থানাধীন মাজুখান গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে থেকে রোববার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতের নাম মো. সিহাব। সিহাব পূবাইল থানার মাজুখান গ্রামের মো. জুয়েলের ছেলে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিদুল।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে সিহাবের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

সিহাবের বাবা জুয়েল জানান, নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখোঁজি করেও সিহাবের সন্ধান না পেয়ে রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম।

সিহাবকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, শিশুটির বাবা-মা সাত মাস ধরে আলাদা থাকেন। শিশুটি মাজুখান এলাকায় তার বাবার সঙ্গে থাকত। শনিবার দুপুরে নিখোঁজের পর রোববার ভোরে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

টেকনাফের পাহাড় থেকে উদ্ধার অপহরণ হওয়া ৩ যুবক

অপহরণের ২ দিন পর র‍্যাবের অভিযানে উদ্ধার হন এই তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, নির্মাণ কাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়। 

কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে অপহরণ হওয়া তিন বাংলাদেশি যুবককে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। তবে সেখান থেকে কাউকে আটক করা যায়নি। র‍্যাব জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের অপহরণ করেছে।

উদ্ধার যুবকরা হলেন নোয়াখালীর হাতিয়ার আজিজুল ইসলাম, নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের আল আমিন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মুক্তার হোসেন মৃধা।

নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শনিবার দুপুরে তাদের উদ্ধার করা হলেও বিষয়টি রোববার দুপুরে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানান, নির্মাণ কাজ দেয়ার কথা বলে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ডেকে নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনদের ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণও চাওয়া হয়।

অপহরণ হওয়া আজিজুল ইসলামের ভাই হাসান মো. সায়েম ঘটনাটি র‍্যাবকে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নয়াপাড়ার ওই পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় তিনজনকে।

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ সাদী আরও জানান, এ ঘটনায় আজিজুলে ভাই টেকনাফ থানায় মামলা করেছেন। অপহরণকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন

সৌদিতে ক্রেন থেকে পড়ে নোয়াখালীর যুবক নিহত

সৌদিতে ক্রেন থেকে পড়ে নোয়াখালীর যুবক নিহত

সৌদি আরবে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইউপি সদস্য সবুজ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো ক্রেনে উঠে কাজ করছিলেন আরজু। হঠাৎ সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরজুকে মৃত ঘোষণা করেন।’

সৌদি আরবে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে নোয়াখালীর এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের রিয়াদের আল দোয়াদমি এলাকায় শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চরহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল খায়ের সবুজ রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত ২৫ বছর বয়সী মো. শেখ ফরিদ আরজুর বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি সৌদিতে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন।

ইউপি সদস্য সবুজ বলেন, ‘এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে আরজু সৌদিতে যান। প্রতিদিনের মতো ক্রেনে উঠে কাজ করার সময় হঠাৎ সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরজুকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

এর আগে সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক যুবক নিহত হন। নিহত তামজিরুল ইসলাম তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

শেষ সময়ে রাজবাড়ীর শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। ছবি: নিউজবাংলা।

চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব শিল্পী মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানিকভাবে বেড়ে ওঠেন না। যার কারণে কারও নজরে থাকেন না। তারা মূলত জাত শিল্পী। এদের কোনো ট্রেনার নাই। সব রকম সুবিধাবঞ্চিত তারা। প্রতিমা তৈরি করে যে সম্মানি পান তা খুব লজ্জাজনক। আনন্দ তৈরি করে নিজেরাই নিরানন্দ জীবন যাপন করেন।'

শেষ সময়ে রাজবাড়ী জেলার শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

রাজবাড়ীতে এবার ৪৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

পৌর শহরের দুধ বাজার মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করেছেন দুলাল পাল। কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, করোনার কারণে গেল দুবছর পূজার আড়ম্বর না থাকায় তাদের আয়ের পথ বন্ধ ছিল। এবারও করোনার কারণে মানুষের হাতে পয়সা নেই। যার কারণে পূজার খরচ কমাতে হচ্ছে।

দুলাল পাল জানান, এবার পূজায় তার দুইটা প্রতিমা তৈরির অর্ডার আছে। তবে বাজেট খুব কম। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য বাজেট নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। বাদবাকি টাকা আমি ও আমার সহকারীরা ভাগ করে নিই। এতে অবশিষ্ট বেশি টাকা থাকে না। সারা বছরের এই সময়েই আমাদের আয়ের একটা বড় উৎস দুর্গাপূজা।

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

দুলাল পালের সহযোগী উত্তম বলেন, ‘আমরা প্রতিমা তৈরি করে যে পয়সা পাই তাতে সংসার চলে না। প্রতিদিনের শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা করে পেলেও ১৫ দিনে ৭-৮ হাজার টাকা আয় হয়। ২০ হাজার টাকার একটা মন্দিরের অর্ডার নিলে যাতায়াত খরচ, মাটি খরচ, রং খরচ বাদ দিলে আমাদের হাতে কয় টাকা থাকে? তার ওপর প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে মাটির বাসন কেউ ব্যবহার করে না। সারা বছর এটাই আমাদের আয়ের বড় উৎস। উৎসবানন্দ তৈরি করতে আমরাই আনন্দহীন হয়ে পড়ছি।‘

প্রতিমা তৈরির আরেকজন কারিগর পলাশ পাল বলেন, ‘দিন দিন আমাদের অবস্থা খারাপই হচ্ছে। সারা বছর তেমন ইনকাম থাকে না। এই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেই কিছু আয় হয়। বিগত বছরের তুলনায় এবার আয় কম হচ্ছে। আমাদের সন্তান আর এ পেশায় আগ্রহী হচ্ছে না। তা ছাড়া, দিন দিন মাটির পরিবর্তে শোলা ধান, প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা উপকরণে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে থিম পূজার নামে। এগুলো কতটুকু শাস্ত্রসিদ্ধ তা পণ্ডিতরা ভালো বলতে পারবেন। যদি ও আমাদের দেশে এর ব্যবহার এখনও তেমন করে শুরু হয় নাই। এগুলো ব্যবহারে মাটির ব্যবহার কমে গেলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।‘

পলাশ পালের সহযোগী উজ্জ্বল কুমার পাল বলেন, ‘আমরা ৭টি মন্দিরের কাজ নিয়েছি। এই মন্দিরের আয় দিয়েই চলে সারা বছর। তবে এবার করোনার জন্য সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। গতবারের থেকে অনেক কম রেটে কাজ করতে হচ্ছে। আগে যে কাজ ৪০ হাজারে করেছি এবার সেটা ৩০ হাজার ২০ হাজারেও করতে হচ্ছে। এদিকে আবার সরঞ্জামাদির দামও বেশি। রাত-দিন একনাগারে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের তো এই কাজ ছাড়া কোনো কাজ নেই। তা ছাড়া, আমাদের খোঁজখবরও কেউ রাখে না।‘

উৎসব তৈরির কারিগররা কতটুকু আনন্দে

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজার উৎসব পালনে মণ্ডপগুলোতে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বৈঠকের প্রস্ততি নিয়েছি।‘

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে অনুদান পাওয়ার কথা সেটা পেয়ে থাকি প্রতিবছরই।‘

প্রতিমা তৈরির যারা কারিগর তারা আনন্দ তৈরি করে নিজেরাই নিরানন্দ জীবন যাপন করছেন।

এ বিষয়ে চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব শিল্পী মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানিকভাবে বেড়ে ওঠে না। যার কারণে কারও নজরে থাকেন না। তারা মূলত জাত শিল্পী। এদের কোনো ট্রেনার নাই। সব রকম সুবিধাবঞ্চিত তারা। প্রতিমা তৈরি করে যে সম্মানি পান তা খুব লজ্জাজনক। আনন্দ তৈরি করে নিজেরাই নিরানন্দ জীবন যাপন করেন।'

আরও পড়ুন:
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১১৯ মৃত্যু
বরগুনায় ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ
খুলনা বিভাগে করোনায় এক দিনে ২৮ মৃত্যু
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে বিধিনিষেধ ফিরছে দেশে দেশে
নেত্রকোণায় কমছে পরীক্ষা, বাড়ছে শনাক্ত

শেয়ার করুন