২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার

২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার

স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল হয়ে যাবে ২০৫০ সালের মধ্যে। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রিনীতার মতে, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ মাইক্রোচিপ। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই এটি রেকর্ড করবে।

মানুষের শরীরে বসানো হয়েছে মাইক্রোচিপ। এতে রেকর্ড হচ্ছে দিনের কাজকর্মের সবকিছু। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে মোবাইলফোনের। যেতে হচ্ছে না ডাক্তারের কাছে।

হয়তো ভাবছেন এগুলো কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ভিত্তিতে নির্মিত সিনেমার দৃশ্য। কিন্তু গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রস্ট অ্যান্ড সালিভানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিনীতা দাস তা মনে করছেন না।

তার মতে, ৩০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল হয়ে যাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এর ফলে উল্লিখিত স্বপ্নগুলো হবে বাস্তব।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে রিনীতা ২০৫০ সালের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এমন চিত্র তুলে ধরেন।

আরব স্বাস্থ্য বাণিজ্যবিষয়ক প্রদর্শনীর ফাঁকে তিনি যে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করেছেন, তা উঠে এসেছে দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদনে

২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার
গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রস্ট অ্যান্ড সালিভানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিনীতা দাস। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

মাইক্রোচিপে রেকর্ড হবে সবকিছু

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রিনীতার মতে, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ মাইক্রোচিপ। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই এটি রেকর্ড করবে।

২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার

তিনি বলেন, ‘দেহে মাইক্রোচিপ স্থাপনে সক্ষম হবেন এবং এটি আপনার জীবনের পাসপোর্ট হিসেবে কাজ করবে।

‘এটি আপনার জীবন, কাজ, স্বাস্থ্যসহ সব কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রাখবে।’

বাড়িতে রোজই স্ক্যান হবে শরীর

পুরোপুরি ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতি সকালে আমাদের শরীর স্ক্যান হবে। এ নিয়ে রিনীতা বলেন, ‘সকালে উঠে গোসলের সময় আপনি পূর্ণ এমআরআই স্ক্যান করাতে পারবেন, যাতে রেকর্ড হবে দেহের গুরুত্বপূর্ণ সব দিক।

‘(স্ক্যান থেকে পাওয়া) এ তথ্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠানো হবে, যারা দিনে আপনার কোন কোন ভিটামিন বা ওষুধ লাগবে, তা ঠিক করে দেবে।’

২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার

এর ফলে ভুল রোগ শনাক্ত ও ভুল ওষুধ প্রয়োগ বন্ধ হবে বলে মনে করেন রিনীতা। তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডের কম সময়ে রক্তচাপ, ওজনসহ অন্যান্য পরিসংখ্যান আপনার গোসলখানার আয়নায় ভেসে উঠবে।’

মোবাইলফোনের ইতি

রিনীতার মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে মোবাইলফোন আর থাকবে না। মোবাইল ব্যবহার করে আমরা যে কাজগুলো করি, তার বেশিরভাগই করা যাবে দেহে স্থাপিত মাইক্রোচিপের মাধ্যমে।

২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার

মাইক্রোচিপের ভূমিকা নিয়ে রিনীতার ভাষ্য, এ মাধ্যমেও দিনের সংবাদগুলো দেখা যাবে। কারও অ্যাপয়েন্টমেন্টসহ অন্য দরকারি কাজগুলো করা যাবে। তবে চিপের মাধ্যমে এ কাজগুলো হবে স্নায়ু বা চোখের মাধ্যমে।

চিপ জেগেও উঠবে নীরবে। অ্যালার্মের মতো কর্কশ আওয়াজ থাকবে না এতে।

যেতে হবে না ডাক্তারের কাছে

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তার মতে, একুশ শতকের মাঝামাঝির মধ্যে আরেকটি পরিবর্তন হবে পরামর্শের প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বন্ধ হওয়া।

২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার

তিনি বলেন, ‘দিনের কাজ চালাতে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো ওষুধ বা ভিটামিন ঠিক করে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ডাক্তারের কাছে আপনাকে কখনোই আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে না।’

ব্যবসার বড় হাতিয়ার হবে ডাটা

ফ্রস্ট অ্যান্ড সালিভানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামীর পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি পণ্যগুলোর একটি হবে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ডাটা।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে বৈশ্বিক ডাটার ৩০ শতাংশই আসছে স্বাস্থ্যসেবা থেকে।’

২০৫০ সাল: দেহে বসবে মাইক্রোচিপ, লাগবে না ডাক্তার

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তিগত ডিজিটাল ডাটার বাজার ৫০ কোটি ডলার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালে এটি বেড়ে ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য