করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের ট্রায়াল

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা করছেন গবেষকরা। ছবি: এএফপি

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় জীবাণুবিরোধী ওষুধ আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছেন ব্রিটিশ গবেষকরা।

করোনার সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে আইভারমেকটিনের উপযোগিতা নিয়ে এ গবেষণার কথা বুধবার জানায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

যুক্তরাজ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে এ গবেষণা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াই করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলার পথ খুঁজতে ওষুধটি নিয়ে গবেষণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আইভারমেকটিনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

ছোট একটি দলের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই এ ওষুধটি প্রয়োগ করা হলে মানবদেহে এটি ভাইরাস বাড়তে এবং মৃদু উপসর্গ বেশি দিন স্থায়ী হতে দেয় না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত এ গবেষণার নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রিন্সিপ্যাল’।

গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। ফলে এমন ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের ব্যবহার কিছুটা আশা দেখিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা করোনার চিকিৎসায় আইভারমেকটিন ব্যবহারের বিরোধী।

করোনায় আক্রান্তদের ওপর শুধু পরীক্ষামূলকভাবে ওষুধটি প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

তবে ভারত, কলম্বিয়াসহ অনেক দেশেই করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে ওষুধটি ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা।

ব্রিটিশ গবেষক দলের সহ-প্রধান ক্রিস বাটলার বলেন, ‘প্রিন্সিপ্যালের মতো বড় পরিসরের পরীক্ষায় আইভারমেকটিন অন্তুর্ভুক্ত করার মাধ্যমে করোনার চিকিৎসায় এটির কার্যকারিতা প্রমাণের চেষ্টা করেছি আমরা। একই সঙ্গে এটি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধাও খতিয়ে দেখেছি।’

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিভারের অসুখে ভুগছেন এবং রক্তের ঘনত্ব কমানো ওষুধ নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর এ পরীক্ষা করা হয়নি। আইভারমেকটিনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্যান্য চিকিৎসা নেয়া ব্যক্তিদেরও এ পরীক্ষার বাইরে রাখা হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের দেড় বছর পার হলেও ভাইরাসটির নতুন ধরন থেকে রেহাই পেত সুনির্দিষ্ট ওষুধ উদ্ভাবন হয়নি।

করোনার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত সপ্তম ওষুধ আইভারমেকটিন।

এর আগে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির বা রিটোনাভির, কর্টিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টস, ফ্যাভিপিরেভির জরুরি ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ডব্লিউএইচও।

বর্তমানে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরেভিরের সঙ্গে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা তুলনা করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
ভারতে তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের ঝুঁকি কম
দেড় মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু
নওগাঁয় আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনার জাল সনদ বিক্রি: ৪ জন কারাগারে

শেয়ার করুন

মন্তব্য