করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে ১৯ দিনে ১৯৩ মৃত্যু

করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে ১৯ দিনে ১৯৩ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

চলতি মাসের ১৯ দিনে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৯৩ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকিদের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি মাসের ১৯ দিনে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৯৩ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকিদের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকিরা মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে। তার মধ্যে রাজশাহীর ৫ জন আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন।

হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৮ জন। শনিবার সকালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৩৬৫ জন।

শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৫৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ১৯২ জনের।

রাজশাহীর ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। আর নওগাঁর ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাইভেটকার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রাইভেটকার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

এসআই বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ভ্যানচালক সৈয়দ আলী।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাইভেটকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ভ্যানের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক ৪৮ বছর বয়সী সৈয়দ আলীর বাড়ি উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নের সাংরাইল গ্রামে। আরেকজনের পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সৈয়দ আলী ভ্যান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তার ভ্যানে এক যাত্রী ছিলেন। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত ভ্যানচালক সৈয়দ আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

এসআই বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত সৈয়দ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এর আগেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত আরেকজনের মরদেহ নিয়ে গেছে তার পরিবার। মৃত আরেকজনের বাড়ি আশপাশের ইউনিয়নে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র দে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছে। নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার থানাপাড়া পুরাতন বাঁধ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত মা ও বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন ও তার ২ বছর বয়সী ছেলে জিম। আকলিমা ওই এলাকার মো. রতনের স্ত্রী। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে রতনের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমা ও জিমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’   

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন।

যশরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম রিয়েল বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে তামজিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

নিহত তামজিরুলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কোর্শাপুর গ্রামে। তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সোমবার বিমানবন্দরে কাজ করার সময় তাকে পতাকা স্ট্যান্ডে পতাকা বাঁধতে এবং লাইট সেট করতে বলা হয়। সে সময় তামজিরুল কোমরে সেফটি বেল্ট বেঁধে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। এ সময় হঠাৎ সেফটি বেল্টটি ছিঁড়ে গেলে তিনি নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’

গফরগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি।’

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন

বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

বগুড়ার শিবগঞ্জে বাউল শিল্পীকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। সংবাদ পেয়েই বাউলশিল্পীকে হেফাজতে নেয়া হয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক কিশোর বাউলশিল্পীকে জোর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ওই কিশোর বাউলশিল্পী শিবগঞ্জ থানায় মামলা করে। পরে রাত ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কিশোর বাউলশিল্পী মেহেদী হাসান শিবগঞ্জ উপজেলার জুড়ি মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন, একই এলাকার শফিউল ইসলাম, মেজবাউল ইসলাম ও তারেক রহমান।

অভিযুক্ত পলাতক বাকি দুই আসামি হলেন, ফজলু মিয়া ও আবু তাহের।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অনটনের কারণে মেহেদী ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্থানীয় এক বাউলশিল্পীর সঙ্গে গান শিখতে থাকেন। একপর্যায়ে গুরুকে অনুসরণ করে সে বাউলশিল্পীদের মতো বাবরি চুল, সাদা ফতুয়া, লুঙ্গি ও গামছা পরতে শুরু করে। পাশাপাশি তার গুরুর সঙ্গে বিভিন্ন বাউল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে চারপাশে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে অভিযুক্তরা মেহেদী ও তার গান নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এলাকায় ছড়াতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেদীর ওপর হামলার হুমকি দেন।

একপর্যায়ে গত শনিবার রাতে অভিযুক্তরা মেহেদীর ঘরে ঢুকে তাকে জোর করে ন্যাড়া করে দেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে মারধরও করেন। তখন মেহেদীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

পরে মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম। এরপরই তিনি মেহেদীকে পুলিশ হেফাজতে নেন।

ওসি সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। সংবাদ পেয়েই বাউলশিল্পীকে হেফাজতে নেয়া হয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

অসহায় ওই বাউলশিল্পীর পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিত্যক্ত মিলনায়তনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তন দেখা যায়, মিলনায়তনটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে পূর্ণ। বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বশীল ভাস্কর্যগুলোতে রং না করায় ময়লা জমেছে। মিলনায়তনের ছাদের সিলিং ভেঙে ঝুলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সিলিংয়ে চলছে ফ্যান। বিভিন্ন স্থানে ছাদও খসে পড়ছে।

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনটি দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি পরিত্যক্ত না ভালো। তবে জরাজীর্ণ সেই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে নানা অনুষ্ঠান।

অভিযোগ রয়েছে, পরিত্যক্ত ভবনটি এখনও অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেয়া হচ্ছে। তবে সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমার দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনটি ভাড়া দেয়া বন্ধ রয়েছে।

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

সরেজমিনে ভবনটিতে দেখা যায়, মিলনায়তনটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে পূর্ণ। বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বশীল ভাস্কর্যগুলোতে রং না করায় ময়লা জমেছে। মিলনায়তনের ছাদের সিলিং ভেঙে ঝুলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সিলিংয়ে চলছে ফ্যান। বিভিন্ন স্থানে ছাদও খসে পড়ছে। নাজুক অবস্থা শৌচাগারের।

সেই মিলনায়তনের ভেতরেই চলছিল স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একজন জানান, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে গত ১০ সেপ্টেম্বর ৪ হাজার ৬০০ টাকায় মিলনায়তনটি ভাড়া দেয় কর্তৃপক্ষ।

যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা বলেন, ‘অডিটোরিয়াম ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা ভাড়া দিইনি। জোর করে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়ে থাকে।’

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন জাতির বিষয়ে ভিডিও নির্মাণে বড় ভূমিকা রয়েছে রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের। তবে তা খুব একটা দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেন রাঙ্গামাটি জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক লতিত সি চাকমা।

তিনি বলেন, ‘ভারতের মিজোরামে চাকমা অটোনোমাস কাউন্সিল (সিএডিসি) যে পরিমাণে ভিডিও নির্মাণে স্পন্সর করে, সে অনুযায়ী রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নাজুক।’

লতিত চাকমা আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট হচ্ছে জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজই হচ্ছে জাতি ও জনস্বার্থ রক্ষা করা। তবে দুর্বল নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতা না থাকলে সেসব রক্ষা কখনও সম্ভব নয়।’

মিলনায়তনের বিষয়ে তিনি জানান, এখানে সবাই অনুষ্ঠান করবে। সেই অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবন পরিত্যক্ত হওয়া দুঃখজনক।

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অনেক দিন হলো সিলিং ঝুলে পড়েছে। যে কেউ এখানে মারা গেলে তারপর কর্তৃপক্ষ এটির ব্যবস্থা নেবে।’

ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধানুযায়ী এ মাসের শেষের দিকে সচিবের আসার কথা। অডিটোরিয়াম পরিত্যক্ত হওয়ায় হয় সংস্কার করতে হবে, নয়তো একেবারে ভেঙে নতুন করে তুলতে হবে।’

ভাস্কর্যগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্ষাকাল চলছে। বর্ষাকাল শেষ হলেই ইনস্টিটিউটের সব ভাস্কর্য রং করা হবে।’

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক রেমলিয়ানা পাংখোয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অডিটোরিয়ামটি ভেঙে নতুন করে সেখানে অফিস কাম মাল্টিফাংশনাল ভবন নির্মাণ করা হবে। এ কারণে অডিটোরিয়াম ভবনটি সংস্কার না করে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সচিব আসার কথা। করোনার কারণে আসতে পারছেন না।’

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

কক্সবাজার সৈকতে ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তুলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটক। ছবি: নিউজবাংলা

পর্যটক জান্নাতুল বলেন, ‘৫২টি ছবির মধ্যে একই ছবি একাধিক ছিল। ২০টি ছবি নিতে চাইলে ওই ফটোগ্রাফার ক্যামেরায় থাকা সব ছবির দাম চেয়ে ধমক দেন।’ 

শেষ বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে ছবি তুলছিলেন ঢাকা থেকে ঘুরতে যাওয়া ফোরকান-জান্নাতুল দম্পতি।

সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করার পর ফটোগ্রাফারের সঙ্গে ছবি তোলার সংখ্যা প্রসঙ্গে জানতে চান ফোরকান। তখন কথা-কাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে।

ওই ফটোগ্রাফারের সঙ্গেই ছবিগুলো প্রিন্ট করতে যান সৈকতসংলগ্ন একটি দোকানে। ছবি প্রিন্ট করতে গিয়ে ফের কথা-কাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে।

সুমন, রাফি, সুরাজসহ সাতজনের একদল যুবক নরসিংদী থেকে ঘুরতে যান সৈকতে। ছবি তোলা শেষে তাদেরও কথা-কাটাকাটি হতে দেখা যায় ফটোগ্রাফারের সঙ্গে।

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সকালে আমার সৈকতে গোসল শেষে চার বন্ধু ছবি তুলি। ফটোগ্রাফারের সঙ্গে কথা হয়, ছবিপ্রতি তিন টাকা। তিনি প্রায় এক শ’র কাছাকাছি ছবি তোলেন। এর মধ্যে একই ছবি একাধিকবার ছিল।

‘পরে আমরা সেখান থেকে বাছাই করে ভালো ছবিগুলো নিতে চাইলে তিনি বলেন, বাছাই করে নিলে দাম পড়বে সাত টাকা করে।’

এমন ধরনের ঘটনা হরহামেশা ঘটছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। তবে ঝামেলা এড়াতে এ ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না পর্যটকরা।

বিষয়টি নিয়ে আরেক পর্যটক জান্নাতুল বলেন, ‘সৈকতে হাঁটছিলাম। এমন সময় একজন ফটোগ্রাফার প্রতি পিস ৫ টাকা করে কয়েকটি ভালো ছবি তুলে দেয়ার প্রস্তাব দেন। তার সঙ্গে একমত হয়ে দর-কষাকষি শেষে ৪ টাকা দরে ছবি তুলি।

‘ছবি তোলা শেষে ওই ফটোগ্রাফার আমাকে জানায় ৫২টি ছবি হয়েছে সব ছবি নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫২টি ছবির মধ্যে একই ছবি একাধিক ছিল। ২০টি ছবি নিতে চাইলে ওই ফটোগ্রাফার ক্যামেরায় থাকা ছবিগুলোর দাম দেয়ার জন্য ধমক দেন।’

পরে দর-কষাকষি করে ৩০টি ছবি নিতে বাধ্য হন জান্নাতুল।

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

টুরিস্ট পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঝামেলা এড়াতে পুলিশকে অভিযোগ করা হয়নি।’

তবে এ বিষয়ে তদারকি বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্টে ফটোগ্রাফার রয়েছে প্রায় ৮০০ জন।

শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে ফটোগ্রাফারের সংখ্যা আরও বাড়ে। তারা দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় করেন।

কক্সবাজার সবচেয়ে বড় পর্যটন শহর হওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে।

একটু সুযোগ পেলেই প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে ভ্রমণপিপাসুরা দূর-দূরান্ত থেকে কক্সবাজার সৈকতে ছুটে যান। দেশের বাইরে থেকেও সেখানে যান অনেক পর্যটক।

সৈকতের ফটোগ্রাফারদের এমন আচরণ প্রায়ই পর্যটকদের আনন্দ নষ্ট করে। যদিও এ ধরনের হয়রানির ক্ষেত্রে ঝামেলা এড়াতে পুলিশকে জানান না অধিকাংশ পর্যটক।

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

হয়রানির ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে অবশ্য সৈকতের অধিকাংশ ফটোগ্রাফার তা এড়িয়ে যান।

যারা কথা বলেছেন তারাও দাবি করেন, হয়রানি হয় না।

মো. রুবেল নামের এক ফটোগ্রাফার জানান, তিনি তিন বছর ধরে হিমছড়ি পয়েন্ট সৈকতে ছবি তোলেন। তবে তারা কাউকে হয়রানি করেন না।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সৈকতে নিয়মিত টহল টিমের এক সদস্য জানান, ‘সৈকতে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি যেসব ঘটনা ঘটে, আমরা হয়তো তার ২০ শতাংশ অভিযোগ পাই।’

হয়রানির শিকার হয়েও অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করেন না এটি স্বীকার করেছেন তিনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। হয়রানি কমাতে সব সময় আমাদের আটটি দল সৈকতে নিয়মিত টহল দেয়।

‘শুধু ছবি তোলা নয়, পর্যটককে যেকোনো ধরনের হয়রানি হয়েছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

পাবনার ফরিদপুর অঞ্চলে দুধ উৎপাদন খামারিরা লোকসানের অজুহাতে মিল্ক ভিটা কারখানায় দুধের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পাবনায় মিল্ক ভিটায় চুক্তিবদ্ধ কিছু সমিতি বেছে নিয়েছে অসাধু পন্থা। অনুমতি ছাড়া মিল্ক ভিটা জোনে দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে তারা। খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুধ ও মিষ্টির কারখানায় বিক্রি করছে এই শীতলকরণ কেন্দ্রগুলো।

পাবনার ফরিদপুর অঞ্চলে দুধ উৎপাদন খামারিরা লোকসানের অজুহাতে মিল্ক ভিটা কারখানায় দুধের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে মিল্ক ভিটার উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

অবৈধভাবে দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করে তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ শীতলীকরণ করছে। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দুধ সরবরাহ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

দুগ্ধশিল্পের প্রসারে ১৯৭৩ সালে বড়াল নদের তীরে বাঘাবাড়ীতে গড়ে তোলা হয় সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা। সরকারি এ প্রতিষ্ঠান ঘিরে পাবনা-সিরাজগঞ্জ এলাকায় দুগ্ধশিল্পের যাত্রা শুরু হয়।

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, শুধু মিল্ক ভিটাকে কেন্দ্র করে পাবনা-সিরাজগঞ্জ এলাকায় ২৫ হাজার দুগ্ধ খামার গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিদিন দুধের উৎপাদন গড়ে ১০ থেকে ১২ লাখ লিটার। মিল্ক ভিটা ছাড়াও আরও ১৫টি অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে।

মিল্ক ভিটার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতি মিল্ক ভিটার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। এসব সমিতির সদস্য প্রায় দেড় লাখ দুগ্ধ খামারি, যাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়।

সম্প্রতি তালিকাভুক্ত খামারিরা লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে মিল্ক ভিটায় দুধের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে মিল্ক ভিটার উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

মিল্ক ভিটা জোনের আওতাভুক্ত পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম আরকান্দি। গত কয়েক দশকে এ গ্রামে দুধের উৎপাদন বেড়েছে ব্যাপকভাবে। মিল্ক ভিটার মাধ্যমে গ্রামটিতে দুগ্ধশিল্প গড়ে উঠলেও এখন মিল্ক ভিটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এখানকার খামারিরা।

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়া এবং সময়মতো বোনাসের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

মিল্ক ভিটায় চুক্তিবদ্ধ কিছু সমিতি বেছে নিয়েছে অসাধু পন্থা। অনুমতি ছাড়া মিল্ক ভিটা জোনে দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে তারা। খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুগ্ধ ও মিষ্টির কারখানায় বিক্রি করছে এই শীতলকরণ কেন্দ্রগুলো।

বাজারজাতকরণ নীতিমালা অগ্রাহ্য করে স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়াই ইচ্ছামতো দুধ বাজারজাত করছে খামারি ও দুগ্ধ সমবায় সমিতি।

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

সরেজমিনে আরকান্দি বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ব্যক্তি উদ্যোগে এ গ্রামে মিল্ক ভিটায় চুক্তিবদ্ধ সমিতির সহায়তায় গড়ে উঠেছে পাঁচটি দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র।

গ্রামের প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতিগুলোর একটির সভাপতি মোহর আলী জানান, তাদের সমিতিতে প্রায় ৬৭টি গরু থেকে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০ লিটার দুধ হয়। কয়েক মাস আগেও পুরো দুধ মিল্ক ভিটায় সরবরাহ করা হতো। কিন্তু উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তারা এখন নিয়মিতভাবে মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করছেন না।

মোহর আলী জানান, মিল্ক ভিটায় দুধের ফ্যাট দেখে দাম নির্ধারণ করা হয়। ফলে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা লিটারের বেশি দাম তারা পান না। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যক্তিগত শীতলীকরণ কেন্দ্রে দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে লিটারপ্রতি কমপক্ষে ৪৫/৫০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

আরকান্দি প্রামাণিকপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতির সভাপতি আব্দুল মমিন নিজেই গড়ে তুলেছেন এ রকম একটি দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র। মিল্ক ভিটার সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে তার কারখানায় শীতলীকরণ করে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশি দামে বিক্রি করছেন তিনি।

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

আব্দুল মমিন বলেন, প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার লিটার দুধ খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে শীতলীকরণ করে পানির ট্যাঙ্কে ভরে ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করছেন তিনি। প্রায় দুই মাস ধরে এটি করলেও কেউ তাকে বাধা দেয়নি।

বাঘাবাড়ি জোনে এ রকম ১০ থেকে ১২টি ব্যক্তিমালিকানার শীতলীকরণ কেন্দ্র আছে বলেও জানান তিনি।

চুক্তিবদ্ধ খামারিরা চাহিদামতো দুধ সরবরাহ না করায় মিল্ক ভিটায় দুধের সরবরাহ কমে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

মিল্ক ভিটার অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন) ড. খোন্দকার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগেও মিল্ক ভিটা প্রতিদিন ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার থেকে ২ লাখ লিটার দুধ প্রক্রিয়াজাত করত। এখন মাত্র ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ লিটারের বেশি দুধ উৎপাদন করতে পারছে না।

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপক (সমিতি) মো. রেজাউল করিম বলেন, বাঘাবাড়ি জোনের (পাবনা ও সিরাজগঞ্জ) আওতায় রয়েছে ৭ শতাধিক প্রাথমিক দুগ্ধ সমিতি, যার মধ্যে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০টি সমিতি এখন মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করছে। জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ লিটার করে দুধের সরবরাহ পাওয়া গেলেও এখন তা নেমে এসেছে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার লিটারে।

মিল্কভিটা বাঘাবাড়ী জোনের ব্যবস্থাপক বাবুল আক্তার জানান, চুক্তিবদ্ধ সমিতির সদস্যরা মিল্ক ভিটা থেকে গো-খাদ্যের জন্য ঘাসের জমির সুবিধা, গবাদিপশুর চিকিৎসাসুবিধা, সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা নিয়েও চাহিদামতো দুধ সরবরাহ না করে বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বাঘাবাড়িতে মিল্ক ভিটার উৎপাদন কমে গেছে।

অবৈধ দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র দেখবে কে

মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান নাদির হোসেন লিপু বলেন, গুণগত মান ভালো না হলে মিল্ক ভিটা সে দুধ গ্রহণ করে না। মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করতে হলে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ফ্যাট থাকতে হবে। ল্যাকটোমিটারে পরীক্ষার পর দুধের মান যাচাই করে তা সংগ্রহ করা হয়। অনুমোদনহীন কারখানায় দুধ সরবরাহ করতে মান যাচাইয়ের মুখে পড়তে হয় না বলেই খামারিরা বেশি লাভের আশায় মিল্ক ভিটার পরিবর্তে ব্যক্তি উদ্যোগে বাজারজাত করছেন।

তিনি আরও বলেন, খামারিদের স্বার্থে মিল্ক ভিটা এক বছরে দুই দফায় প্রায় ৪ টাকা লিটারপ্রতি দুধের দাম বৃদ্ধি করেছে। তবে, বাজারে এখন দুধের আরও চড়া দাম থাকায় অনেকে ব্যক্তিগতভাবে দুধ বাজারজাত করছেন। অবৈধ দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ বাজারজাত করা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন বলেন, অনুমোদন ছাড়া যেখানে-সেখানে দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র বা কারখানা করা যায় না। দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে অবৈধ কারখানার কোনো তথ্য নেই। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি মিল্ক ভিটাকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত
নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা
জয়পুরহাট ও পাঁচবিবির পর কালাই পৌর এলাকা অবরুদ্ধ
গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা
চাঁদপুরে এসেছে করোনার ৯৬০০ চীনা টিকা

শেয়ার করুন