সিনোফার্মের টিকায় অগ্রাধিকার প্রবাসী কর্মীদের

সিনোফার্মের টিকায় অগ্রাধিকার প্রবাসী কর্মীদের

সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় বিদেশ যেতে পারছেন না দেশের লাখো প্রবাসী কর্মী। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশেষ ব্যবস্থায় এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী কর্মীদের টিকা দিয়ে কর্মস্থল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

উপহার হিসেবে চীন থেকে আসা টিকা দিয়েই আবার টিকা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী শনিবার শুরু হবে এই কার্যক্রম। তবে সেটি বড় পরিসরে নয়।

সরকারের প্রত্যাশা, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে টিকার জোগান নিশ্চিত হলে বড় পরিসরে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সিনোফার্মের টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন প্রবাসী কর্মীরা। যারা বিভিন্ন দেশ থেকে করোনার সময় দেশে এসে আর বিদেশ যেতে পারছেন না, কিংবা নতুন করেই কাজের উদ্দেশে বিদেশে যেতে পারছেন না তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছে সরকার।

গত রোববার সন্ধ্যায় উপহার হিসেবে চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছায়। এর আগে প্রথম দফায় ১২ মে দেশে ৫ লাখ ডোজ টিকা পাঠায় চীন। আর ৩১ মে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা পায় বাংলাদেশ। এসব দিয়েই শুরু হচ্ছে টিকা কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সিনোফার্মের টিকা প্রদান করা হবে দেশের সব জেলায়। প্রতি জেলাতে মাত্র একটি টিকাদান কেন্দ্রে দুটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে এসব টিকা।

ঢাকার মধ্যে সরকারি চারটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি করে টিকাদান কেন্দ্রে ও দুটি করে বুথ করা হয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের এই টিকা দেয়া হচ্ছে।

যেসব জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেই, সেসব জেলায় সিভিল সার্জন ও করোনা টিকাদান কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জেলা সদর হাসপাতাল বা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মধ্যে যেকোনো একটি কেন্দ্র নির্বাচন করে টিকাদান কেন্দ্র ঘোষণা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার আবার গণটিকা শুরু হচ্ছে। ঢাকার চার হাসপাতালে ২৫ মে চীনের তৈরি টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। যে কারণে এবার অনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কোনো কর্মসূচি থাকছে না।

‘টিকা দেয়া হবে স্বল্প পরিসরে। তবে দেশের সব জেলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই টিকা দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিকাদান নিয়ে বলেন, উপহার হিসেবে চীন থেকে মোট ১১ লাখ ভ্যাকসিন এসেছে। সেগুলো দিয়েই দ্বিতীয় দফায় গণটিকা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

‘এগুলোকে দেয়ার ব্যবস্থা শুরু করছি আমরা ১৯ তারিখ থেকে। টিকা কার্যক্রম আবার শুরু হচ্ছে। আমরা আশা করি, ৫ লাখ লোককে এই টিকা দেব। দ্বিতীয় ডোজ হাতে রেখে দেয়ার পরিকল্পনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।‘

যারা পাচ্ছেন সিনোফার্মের টিকা

সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় বিদেশ যেতে পারছেন না দেশের লাখো প্রবাসী কর্মী। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশেষ ব্যবস্থায় এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী কর্মীদের টিকা দিয়ে কর্মস্থলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীদের টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে বয়স কমানোর চিন্তাভাবনাও করছে সরকার।

এ ছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্য, সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা, নার্স, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী, সরকারি মেগা প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী এ টিকা পাবেন।

এ ছাড়া করোনায় মৃতদেহ সৎকারে নিয়োজিত ব্যক্তি, দেশে বসবাসরত চীনা নাগরিক ও এর বাইরেও বিদেশি নাগরিকরা সিনোফার্মের টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে শুরু হতে পারে গণটিকা
টিকা উৎপাদনেই বেশি নজর সরকারের
টিকা: রাশিয়া থেকে মিলতে পারে সুখবর
নেত্রকোণায় সিনোফার্মের ৫ হাজার টিকা
চীনের মান ভাঙেনি, রাশিয়ার টিকার দাম প্রকাশ নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য