দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন মার্চে

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন মার্চে

দেশে রাশিয়ার ফর্মুলায় স্পুৎনিক ভি টিকা তৈরি করবে ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিউক্যালস। ফাইল ছবি

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদনে এরইমধ্যে একটি কোর কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে কমিটিতে আছে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান।

রাশিয়ার ফর্মুলায় টিকা উৎপাদনের অনুমতি পেতে পারে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা লিমিটেড।

বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ২০২২ সালের মার্চ থেকে দিনে ৩০ হাজার ডোজ ‘স্পুৎনিক ভি’ করোনা টিকা উৎপাদনের সুযোগ পাবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৭ মে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সেখানেই টিকা তৈরির প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি নেয়ার হয়েছে বলে বৈঠকের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে।

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদনে এরইমধ্যে একটি কোর কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে কমিটিতে আছে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান।

রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেশটির পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন।

চলতি সপ্তাহে আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বাংলাদেশে স্পুৎনিক ভি তৈরির।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এরইমধ্যে টিকার ফর্মুলা প্রকাশ না করা ও যৌথ উৎপাদন সম্পর্কিত দুইটি সমঝোতা সই হয়েছে। এখন পারচেজ ও প্রডাকশন ফ্যাসিলিটিজ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র বলছে, প্রথম পর্বের বৈঠকে উভয় পক্ষ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার স্পুৎনিক ভি উৎপাদন করবে বলে সম্মত হয়। আগামী মার্চ থেকেই উৎপাদন শুরু হবে।

উভয় দেশের সম্মতিতে প্রতিদিন ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘স্পুৎনিক ভি’ দেশে উৎপাদন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত ২২ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা রাশিয়া থেকে কিছু ভ্যাকসিন ক্যাশ দিয়ে কিনব, আর কিছু আমরা এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করব। এখানে এক নম্বর শর্ত হচ্ছে যে, ভ্যাকসিন উৎপাদনের ফর্মুলা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে সমাঝোতা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে লাইন মিনিস্ট্রি হিসেবে কাজ করেছে। বিষয়টি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলোচনা ও সমাঝোতা করছে।’

১০ জুন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে দেশেই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর ঘোষণা আসবে।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার আই ইগ্নটভের গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বিদায়ী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন সহযোগিতা নিয়ে আলাপ চলছে। এ বিষয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই রাশিয়া থেকে ভ্যাকসিন সহযোগিতা পাবে বাংলাদেশ।

প্রথমে বাংলাদেশ সরকার একমাত্র উৎস হিসেবে করোনার টিকা কেনার চুক্তি করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি হয়।

সেই টিকা দেয়ার কথা ছিল প্রতিমাস ৫০ লাখ করে। কিন্তু সিরাম বাংলাদেশকে মাত্র ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করে। এরপর আর দেয়নি। পাশাপাশি ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দেয় ৩৩ লাখ টিকা।

এ ছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশকে দুই দফায় উপহার দিয়েছে ১১ লাখ সিনোফার্মের তৈরি টিকা। চীন থেকেও সরকার দেড় কোটি টিকা কেনার প্রাথমিক চুক্তি করেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য