গণটিকা আবার শুরু শনিবার

গণটিকা আবার শুরু শনিবার

রোববার সন্ধ্যায় উপহার হিসেবে চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছায়। এর আগে প্রথম দফায় ১২ মে দেশে ৫ লাখ ডোজ টিকা পাঠায় চীন। আর ৩১ মে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা পায় বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাতে যতটুকু ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে তা দিয়ে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম আবার চালু হবে ১৯ জুন।’

উপহার হিসেবে চীন থেকে আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা আসার পর আবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানালেন, আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে গণটিকা।

সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মা প্রয়াত ফৌজিয়া মালেকের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাতে যতটুকু ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে তা দিয়ে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম আবার চালু হবে ১৯ জুন।’

রোববার সন্ধ্যায় উপহার হিসেবে চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছায়। এর আগে প্রথম দফায় ১২ মে দেশে ৫ লাখ ডোজ টিকা পাঠায় চীন। আর ৩১ মে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা পায় বাংলাদেশ।

চীন থেকে প্রথম দফায় টিকা পাওয়ার পর ঢাকার সরকারি চারটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান শুরু হয়। আরও টিকা হাতে আসায় টিকাদানের পরিসর আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে আমাদের হাতে কিছু টিকা চলে আসছে। চীন থেকে গতকাল ৬ লাখ টিকা হাতে আসছে। ফাইজারের টিকাও রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমাকে অবহিত করেছেন। আগামী ১৯ জুন থেকে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। আগের নিবন্ধনকারীরা এই টিকা পেতে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘করোনা প্রতিরোধে আমরা টিকাদান কার্যক্রম আবার শুরু করেছি। ১ কোটি টিকা দেয়া হয়ে গেছে। আরও কয়েক কোটি টিকা লাগবে। সেই টিকার অনেক সংকট রয়েছে।’

বাংলাদেশ প্রথমে করোনার অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহারের পক্ষে ছিল। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। কেনা টিকার বাইরে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকেও আসার কথা ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টিকা। পরে জানানো হয় আরও বেশি আসবে। কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

টিকাস্বল্পতায় বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। এমন অবস্থায় টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি টিকা কেনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুটি দেশের টিকা দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৫০ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা আবার বাড়ছে। এখন থেকেই সবাইকে আবার সচেতন হতে হবে। হাসপাতালে শয্যা কম। করোনা বেশি বাড়লে সেবাও ব্যাহত হবে। তাই প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের ছবি দেখিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ হবে না। এ সময় করোনার উৎপত্তিস্থলের ছবি টেলিভিশনে প্রচার করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সিনোফার্ম, ফাইজারের টিকা শুরু আগামী সপ্তাহে
বাজেটে টিকার বরাদ্দ ‘যথেষ্ট নয়’
চীনের আরও টিকা ঢাকায়
কোভ্যাক্সের কাছে চাওয়া হলো আবহাওয়া উপযোগী টিকা
ঢাকার পথে চীনের টিকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য