ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

রোগীটি করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে তার। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

খুলনা থেকে ডানচোখে সমস্যা নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীটি দুই দিন আগেই শনাক্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে একজন পুরুষ শনাক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে খুলনা চিকিৎসা নিতে হাসপতালে ভর্তি হন। এর আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।’

এই রোগীর চিকিৎসা চলছে জানিয়ে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমি তাকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন সন্দেহ করি এবং নাক কান গলা বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে সাইনাস অপারেশন করি। তারপর ওখানকার স্যাম্পল নিয়ে ফাঙ্গাস টেস্ট করতে দিই। রোগীর হিস্টোপ্যাথলজি, মাইক্রোস্কপি আর কালচার তিনটাতেই মিউকর মাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর এম্ফোটেরিসিন-বি দিয়ে চিকিৎসা চলছে। মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগুলো করেন বারডেম হাসপাতালের প্রফেসর লাভলি বাড়ৈ।

তিনি জানান, রোগীটির মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

চোখ ফেলে দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জাবাবে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমরা চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, ওনি সুস্থ হয়ে যাবেন।’

আর আগে গত ২৫ মে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছিল বারডেম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার তিনদিন আগে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ব্ল্যাকফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে তিনজনের শরীরে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম এখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মহামারিতে নাজেহাল ভারতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেও রোগটি শনাক্তের খবর আসছে।

গত এক-দেড় মাসে ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের প্রায় সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার কিছুদিনের মধ্যে ছত্রাকটিতে আক্রান্ত হন।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ বেড়েছে ১৫০ শতাংশ
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে সচেতন না হলে বড় বিপর্যয়: ডিএসসিসি
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগী চিকিৎসায় প্রস্তুত বিএসএমএমইউ
পোলট্রি মুরগি কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উৎস?
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: দ্রুত চিকিৎসা শুরুর পরামর্শ সরকারের

শেয়ার করুন

মন্তব্য