দরিদ্র দেশে ১০০ কোটি টিকার অঙ্গীকার জি-সেভেনের: জনসন

দরিদ্র দেশে ১০০ কোটি টিকার অঙ্গীকার জি-সেভেনের: জনসন

দরিদ্র দেশে ১০০ কোটি টিকা দিতে জি-সেভেন নেতাদের অঙ্গীকারের কথা জানান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ছবি: এএফপি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রাথমিক উদ্যোগ কিছু স্বার্থপর ও জাতীয়তাবাদী প্রস্তাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি টিকা দিতে বিশ্বের সাত ধনী দেশের জোট জি-সেভেনের নেতারা অঙ্গীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

জি-সেভেনের সম্মেলন শেষে স্থানীয় সময় রোববার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কর্নওয়াল কাউন্টিতে শুক্রবার থেকে টানা তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে বসেন জি-সেভেনের নেতারা।

করোনাভাইরাস সৃষ্ট বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় পদক্ষেপ নিয়ে জি-সেভেনভুক্ত সাত দেশ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রাথমিক উদ্যোগ কিছু স্বার্থপর ও জাতীয়তাবাদী প্রস্তাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘করোনাকে চিরতরে বিদায় জানাতে আমাদের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সামর্থ্যও এসবের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। বিশ্ব চায় আমরা যেন এসব সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা থেকে মুক্ত হই।’

জনসন বলেন, সরাসরি বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উদ্যোগে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোতে ১০০ কোটি করোনার টিকা সরবরাহে অঙ্গীকার করেছেন জি-সেভেনের নেতারা। এগুলোর মধ্যে ১০ কোটি টিকা যুক্তরাজ্য দেবে।

জি-সেভেন সম্মেলনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববাসীকে দ্রুত নিরাপদ টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে করোনা মহামারির ইতি টানতে এবং জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে জি-সেভেন।

জি-সেভেন সম্মেলনে বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত দেশের নেতাদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। এবারও ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যের ঘরে এবং কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধে ফের অঙ্গীকার করেন জি-সেভেনের নেতারা।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা ছাড়া বাইরে আসা নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার মন্ত্রীর

টিকা ছাড়া বাইরে আসা নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার মন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ফাইল ছবি

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককেই পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে ‘টিকা নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ ১১ আগস্টের পর হতে বাইরে বের হতে পারবে না’ মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মন্ত্রীর যে বক্তব্য প্রচার হচ্ছে বক্তব্যের সে অংশটুকু প্রত্যাহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

করোনাভাইরাস রোধে সরকারের আরোপ করা লকডাউন শেষে টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা বাইরে আসতে পারবেন না বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ফোনে নিউজবাংলাকে বক্তব্য প্রত্যাহারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ পরে বক্তব্য প্রত্যাহারের বিষয়টি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান।

তিনি জানান, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককেই পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে ‘টিকা নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ ১১ আগস্টের পর হতে বাইরে বের হতে পারবে না’ মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মন্ত্রীর যে বক্তব্য প্রচার হচ্ছে বক্তব্যের সে অংশটুকু প্রত্যাহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

করোনাভাইরাস রোধে সরকারের আরোপ করা লকডাউনের পর ১১ আগস্ট থেকে অফিস খুলে দেয়া হবে। বাস চলাচল করবে, খুলবে দোকানপাট।

প্রায় ১৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে সচিবালয়ে এক সভা হয় মঙ্গলবার। সে সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।

সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১১ আগস্টের পর টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। গেলে শাস্তি পেতে হবে।

তার এমন বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তার মন্ত্রণালয়ে থেকেও মঙ্গলবার জানানো হয়, তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মঙ্গলবার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্য কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত নয়।’

সচিবালয়ে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে আসলে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি যে টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সের কেউ বের হলে অপরাধ হবে। সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এমন বক্তব্য সরকারের সমন্বয়হীনতা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাহ, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সেখানে হয়নি। আমাদের সচিবও সেই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু এই ধরনের সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি।’

মাস্ক পরার ওপর জোর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মানে সেটির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়াও ওই বৈঠকে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার বিষয়টিও জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘মাস্ক না পরলে পরে যাতে ইনস্ট্যান্টলি শাস্তি দেয়া যায়, সে জন্য পুলিশের কাছে এ ধরনের... অবশ্যই বিচারিক ক্ষমতা নয়, পুলিশ যেমন অবৈধ যানবাহনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে, ট্রাফিক পুলিশ ভায়োলেট করলে সেখান থেকে জরিমানা আদায় করে, সুতরাং সেই ধরনের ইনস্টিটিউট দ্বারা ভ্যালিডেটেড অবশ্যই হতে হবে সেটি আইন আনুযায়ী।’

বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘পুলিশ যাতে জরিমানা করতে পারে, সেটি আইনের মধ্যে থেকে কীভাবে করা যায়, সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেটা করা প্রয়োজন বলেও সবাই অভিমত ব্যক্ত করেছে।’

৭ আগস্ট থেকে সরকার ব্যাপক টিকা কার্যক্রমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১ সপ্তাহে ১৪ হাজার কেন্দ্র থেকে ১ কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘তখন কেউ কেউ, আমার ঠিক মনে নেই, এ ধরনের আলোচনা করেছে। টিকা ছাড়া বের হলে... এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন

নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ

নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণ হিসেবে বেশিরভাগ মানুষই সিডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত এই ভ্যাকসিন কার্ড পেয়েছেন। ছবি: ইউএসএ টুডে

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে ‘ভ্যাকসিন পাস’ বা টিকা সনদ চালু করল নিউইয়র্ক। অর্থাৎ বাড়ি থেকে বের হতে হলে নগরবাসীদের সঙ্গে থাকতে হবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার প্রমাণপত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশেষ করে যে কোনো রেস্তোরাঁ, জিম ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার আগে দেখাতে হবে টিকা সনদ।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও জানান, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম। কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে নগরবাসীকে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রূপ পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়তে থাকার মধ্যেই এলো এ ঘোষণা।

গত বছরের মতো এ বছরও সবকিছু বন্ধ রেখে জনগণকে ঘরবন্দি না রাখতে বিকল্প খুঁজছে প্রশাসন। সংক্রমণ বৃদ্ধির বাস্তবতা মাথায় রেখেই চলছে অর্থনীতি সচলের চেষ্টা। তাই টিকা সহজলভ্য হতে থাকায় সবাইকে ডোজ নিয়ে ও মাস্ক পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, ডেল্টার বিস্তারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে উচ্চ সংক্রমিত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের বের হওয়া বন্ধে ৬০ দিনের স্থগিতাদেশ রয়েছে।

যদিও এ ধরনের স্থগিতাদেশ কার্যকরে কংগ্রসকে নতুন আইন পাস করতে হবে বলে চলতি বছরের জুনে এক সিদ্ধান্তে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মীদের জন্য টিকাগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। গুগল, ফেসবুক, টাইসন ফুডসসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের জন্য একই নীতিমালা নিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক পরা ও গত বছর ঘরে থাকার নির্দেশনার মতোই সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার এ প্রচেষ্টা নিয়েও বিরোধিতার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।

এরই মধ্যে আমেরিকান জনগণ, বিশেষ করে রক্ষণশীলদের মধ্যে সরকারের ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকায় পূর্ণ অনুমোদন দিতে পারে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। করোনা প্রতিরোধী সব টিকাই এখন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে জরুরি অনুমোদন সাপেক্ষে।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন

বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু

বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু

ফাইল ছবি

ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে ৩০০ শয্যার ক‌রোনা ইউ‌নি‌টে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৩৪৯ জন ভ‌র্তি। যার ম‌ধ্যে ১২৪ জনের ক‌রোনা প‌জি‌টিভ। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ইউ‌নি‌টে ৫৩ নতুন রোগী ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন।

বরিশাল বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা শনাক্ত হয়ে ৬ ও উপসর্গ নিয়ে ১০ জন মারা গেছেন। তারা সবাই বরিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসা নিচ্ছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৭৭৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে শনাক্তের সংখ্যা ৩৩৭, ভোলায় ১৮২, পটুয়াখালী‌তে ৯৭, পি‌রোজপু‌রে ৪৭, বরগুনায় ৬৪ ও ঝালকা‌ঠি‌তে ৪৬।

ব‌রিশাল বিভা‌গে মোট ক‌রোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ১৪০।

এ‌দি‌কে ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে ৩০০ শয্যার ক‌রোনা ইউ‌নি‌টে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৩৪৯ জন ভ‌র্তি। যার ম‌ধ্যে ১২৪ জনের ক‌রোনা প‌জি‌টিভ।

গত ২৪ ঘণ্টায় এ ইউ‌নি‌টে ৫৩ নতুন রোগী ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু

ফাইল ছবি

হাসপাতালের ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান মুন জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত করোনা ইউনিটে ৫৫৩ জন চিকিৎসাধীন। ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি আছেন ২২ জন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

মৃতদের মধ্যে ১০ জন করোনা শনাক্ত ও ১২ জনের উপসর্গ ছিল। তাদের মধ্যে ৮ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ফোকাল পারসন) মহিউদ্দিন খান মুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত করোনা ইউনিটে ৫৫৩ জন চিকিৎসাধীন। ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি আছেন ২২ জন।

এক দিনে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১০০ রোগী। এ সময়ের মধ্যে ৮৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, নতুন করে ১ হাজার ৪৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন

হাসপাতালে না ঢুকতে সংবাদকর্মীদের চিঠি

হাসপাতালে না ঢুকতে সংবাদকর্মীদের চিঠি

মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মানবেন্দ্র সরকার বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের সব তথ্য দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মানিকগঞ্জে সংবাদকর্মীদের ভেতরে না ঢুকতে চিঠি দিয়েছে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে মঙ্গলবার বিকেলে লিখিত চিঠিটি পাঠান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ। তবে জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জানান, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওই চিঠিতে বলা হয়, মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও ফ্লোরেও রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মী ও চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের সুরক্ষায় হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ থেকে বিরতি থাকার অনুরোধ করা হলো। তবে আগের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া যাবে।

মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অতীন্দ্র চক্রবর্তী বিপ্লব বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা সব সময় সচেতন ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে রোগীদের চিকিৎসা, অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা হলে তো সংবাদকর্মীদের হাসপাতালে গিয়ে কাজ করতে হবে।’

এ সংক্রান্ত চিঠিতে সাক্ষর করা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদের বক্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মানবেন্দ্র সরকার বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের সব তথ্য দেয়া হবে।’

জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ অবশ্য জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। নিউজবাংলাকে তিনি জানান, হাসপাতালে সংবাদকর্মী প্রবেশ নিষেধের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন

ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে টিকা ছাড়াও

ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে টিকা ছাড়াও

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, টিকা না নিয়ে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কেউ ১১ আগস্টের পর ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। এর মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বার্তায় জানানো হলো, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সী কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ফেসবুকে সাংবাদিকদের একাধিক গ্রুপে মঙ্গলবার রাত ১২টার পরে ‘জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ’ শিরোনামে লেখা এক বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে অনলাইনে অনুষ্ঠিত করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, ১৮ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তি ১১ আগস্টের পর করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। যদি কেউ বের হন তাবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যারা ১১ তারিখ থেকে মুভ করবে, ভ্যাকসিন ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো লোক, শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি রাস্তাঘাট, গাড়িতে, মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেলে, টেম্পো বা বাসে বা ট্রেনে হোক, নো বডি অ্যালাউ টু মুভ, তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিননেটেড হতে হবে।’

৭ আগস্ট সারা দেশে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু হচ্ছে গণটিকা কার্যক্রম। ১৪ হাজার কেন্দ্রে টানা সাত দিনে এক কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনবে সরকার।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা তাদের সুযোগ করে দিচ্ছি, অগ্রাধিকার দিচ্ছি, গ্রামে গ্রামে ভ্যাকসিন আমরা পৌঁছিয়ে দিচ্ছি। বলতে পারবে না, আমরা এসে পাই না, শুধু ঢাকা শহরে হবে না, ১৪ হাজার কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। আমরা ১১ তারিখ থেকে কঠোরভাবে সেগুলো প্রয়োগ করব।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকার কঠোর হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এমন কথাও আসছে, যদি তারা আইন না মানে, তাহলে সরকার হয়তো অধ্যাদেশ জারি করবে। যেহেতু এখন পার্লামেন্ট চালু নেই, আইন করতে পারবে না। অধ্যাদেশ জারি করে হলেও কিছু শাস্তি ইনফোর্স করার ক্ষমতা বিভিন্ন লেভেলে দেয়া হতে পারে।’

ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে টিকা ছাড়াও
‘জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ’ শিরোনামে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বার্তা

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা দেখি যে আমাদের এ আবেদন-নিবেদন, অনুরোধে কাজ হচ্ছে না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না, মাস্ক পরিধান করছে না, তাহলে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী কথাগুলো বলার সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। ওই সময় তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান নি।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে নিউজবাংলা। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এরপর রাতে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানায়, ‘টিকা নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ বাইরে বের হতে পারবে না- বলে যে সংবাদটি প্রচার হচ্ছে তা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। প্রচারিত এই তথ্য সঠিক নয়।’

বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে এলে, জনমনে যাতে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয়, সেজন্য তার নির্দেশেই বার্তাটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান মাইদুল ইসলাম প্রধান।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন

করোনায়ও বরাদ্দের টাকা ব্যয়ে ব্যর্থ স্বাস্থ্য খাত

করোনায়ও বরাদ্দের টাকা ব্যয়ে ব্যর্থ স্বাস্থ্য খাত

মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের বৃহত্তম করোনা হাসপাতাল। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি কারণে স্বাস্থ্য খাতের এ অবস্থা। একটি দুর্বলতা, অপরটি করাপশন। এ দুটি সমস্যা এক সঙ্গে আসে। দুর্বলতার কারণে প্রকল্পের টাকা ব্যয় করতে পারে না।’

চলমান করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যয় কমানোর জন্য সব মন্ত্রণালয়ের অর্থ ব্যয়ে লাগাম টানতে বলা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতের খরচের হাত খুলে দেয় সরকার। তবে বরাবরের মতোই করোনার এসময় অর্থ ব্যয়ের সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে স্বাস্থ্য খাত।

দক্ষতা ও সক্ষমতার অভাবে প্রায় সোয়া ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করা যায়নি এ খাতে। অথচ করোনাভাইরাসের সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর সময় উন্নত সেবার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ ও অর্থ ব্যয়ের কথা ছিল স্বাস্থ্য খাতের।

টাকা পেয়েও সেটি খরচ করতে না পারায় এ খাতের অদক্ষতা, দুর্নীতিকে দায়ী করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে স্বাস্থ্য খাতের অক্ষমতার চিত্রই ফুটে উঠে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগের মোট বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ১১ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা পেলেও পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) এই বিভাগ খরচ করতে পেরেছে ৬ হাজার ৯৩৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, ৫৮ শতাংশের কম।

অপর দিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ১ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা পেয়ে খরচ করেছে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এ দুটি বিভাগ সম্মিলিতভাবে খরচ করতে পেরেছে ৮ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। বরাদ্দ বাস্তবায়নের হার ৬১ দশমিক ৪০ শতাংশ। ফেরত গেছে ৫ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। অথচ দুই বিভাগ মিলে উন্নয়ন বাজেটের ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ পেয়েছিল।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) মো. সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর আমাদের নানা সমস্যা ছিল, তাই এডিপি বাস্তবায়ন কম হয়েছে, খরচ কম হয়েছে। এ বছর আমরা চেষ্টা করছি শুরু থেকেই, জুলাই থেকেই কীভাবে বাস্তবায়ন ভালো করা যায়।’

টাকা অব্যয়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে টাকা খরচ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, যেমন টিকা কেনার ক্ষেত্রে। আমরা এখন যেভাবে খরচ করতে পেরেছি, গত মাসে অবস্থা সে রকম ছিল না। যেসব জায়গায় আগে ব্যয় হয়নি, এখন সেসব জায়গায় কাজ করা হচ্ছে। যেন সব জায়গায় সঠিকভাবে ব্যয় করা যায়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনার সরঞ্জাম ও টিকা কেনার প্রকল্পগুলোও মনিটরিং হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগের অধীনে ৬৮টি প্রকল্প চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার এখন পর্যন্ত দুটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার একটিতে অর্থ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, অন্যটিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।

গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর তড়িঘড়ি করে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত অর্থ বছরে দুটি প্রকল্পে আশানুরূপ টাকা খরচ হয়নি।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারিতে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য খাত। এই সময়ে চিকিৎসার অপ্রতুলতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালগুলো ধুঁকছে। তখন বাজেটে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনতে যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, সেটি খরচ করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এটি মেনে নেয়া যায় না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনার যে ঘাটতি, করোনা সবার চোখে সেটি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এ খাতে উন্নয়ন প্রকল্পে যা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তার বেশিরভাগ তো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করে। এরা যদি বলে, যে কাজটা আগামী বছরের জন্য এডিপি এবং অপারেটিং বাজেটের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে, সেটা আমরা করতে পারব না।

‘কিন্তু তারা না করবে না। তবুও তারা তা ঠিক মতো করতে পারছে কি না, তা তো টাকা ব্যবহারের মধ্যেই দেখাই যাচ্ছে। এমনকি যেটা ব্যবহার হচ্ছে সেখানেও তো দুর্নীতি অপচয় এগুলোর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দশ টাকার জিনিস ৩০-৫০ টাকায় কেনা হচ্ছে। কেনা হলেও তা ঠিকমতো খালাস করা হচ্ছে না। পণ্য ঠিক মতো ব্যবহার হচ্ছে না। যেটা প্রয়োজন সেটা কেনা হচ্ছে কি না, যা কিনছে তা সত্যিই দরকার আছে কি না, যার দরকার আছে তাকে সময় মতো দেয়া হচ্ছে কি না, এমন অনেক প্রশ্নই রয়েছে।’

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এরকম একটা জাতীয় দুর্যোগের মধ্যে শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে পারছে না, তাদের ওপর একচেটিয়া নির্ভরশীলতা থেকে বের হওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখা যাচ্ছে না। সামাজিকভাবেই এসব সেবা গ্রাহকদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সেটি না করে ডিজিএইচএস এর ওপর শুধু নির্ভরশীল থাকলে হবে না। তাদের সক্ষমতার বাইরে তো পারবে না। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রয়েছে, বিশেষ করে ব্যবস্থপনার ক্ষেত্রে। সোজা কথায় দুর্নীতির ক্ষেত্রে যদি দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসে, তাহলে এ অবস্থার উন্নতি হবে না।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবসময়ই হেলথ সেক্টরের ব্যয় তারা করতে পারতো না। আগে ব্যয়টা একটু কম ছিল, তাদের ওপর এতো চাপ ছিল না। কিন্তু এটা তো ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি। এই সিচুয়েশনে এটা হওয়া উচিত না, কিন্তু হচ্ছে। এখন ব্যয় করতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক।

‘দুটি কারণে স্বাস্থ্য খাতের এ অবস্থা। একটি দুর্বলতা, অপরটি করাপশন। এ দুটি সমস্যা এক সঙ্গে আসে। প্রকল্পের দুর্ললতার কারণে প্রকল্পের টাকা ব্যয় করতে পারে না। এক দিকে টাকা খরচ করে পারে না, অপর দিকে আনফেয়ার ওয়েতে বিভিন্ন কন্ট্রাক্টগুলো যায়। যে কারণে প্রকিউরমেন্ট (কেনাকাটা) বন্ধ হয়ে যায়। এতে ডিসভার্সমেন্টও (অর্থ ছাড়) বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে সক্ষমতার অভাব তো রয়েছেই।’

অর্থ প্রাপ্তিতে শীর্ষ পাঁচে, খরচে তলানির দশে স্বাস্থ্য

আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থ বছরের এডিপির বরাদ্দে শীর্ষ পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের একটি ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু বছর শেষে কাজের দিক দিয়ে সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্বাস্থ্যের অবস্থান ৪৯তম বা তলানিতে থাকা ১০টির একটি।

বরাদ্দে স্বাস্থ্যের ওপরে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগে ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৮৮ শতাংশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৮১ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে।

শীর্ষ বরাদ্দ পাওয়াদের মধ্যে স্বাস্থ্যের চেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েও রেলপথ মন্ত্রণালয় ৮৫ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১০১ দশমিক ২৯ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রায় ৮২ শতাংশ এবং ১০৪ দশমিক ২৭ খরচ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এমনকি কৃষি মন্ত্রণালয়ও ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন দেখিয়েছে।

খরচের সামর্থ্য না থাকলেও নিয়েছে বাড়তি অর্থ

বছরের শুরু থেকেই ভালো অবস্থায় ছিল না স্বাস্থ্য খাত। গত অর্থ বছরের মূল এডিপিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৭৩৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভাগটি খরচ করতে পেরেছিল মাত্র ২ হাজার ৮১ কোটি টাকা যা বরাদ্দের ২১ শতাংশ।

এরপরও মার্চ মাসে এডিপি সংশোধনের সময় আরও ২ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ নেয় বিভাগটি। তবে বছর শেষে মূল বরাদ্দ থেকেই ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কম খরচ করেছে তারা।

খরচের হাত খোলা ছিল স্বাস্থ্যের জন্য

করোনার সময় অর্থ ব্যয়ে লাগাম টানতে বিভিন্ন খাতের কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে খরচ কমানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের একটা অংশও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যয় কমানো নীতিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সরকারি অংশ থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ আটকে রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় এর আওতাভুক্ত ছিল না।

এ বছরের মার্চে অর্থ বিভাগের অপর নির্দেশনায় বলা হয়, উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি অংশের ১৫ শতাংশ অব্যয়িত রেখে বাকি ৮৫ শতাংশ খরচ করা যাবে। এখানেও স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতকে আওতার বাইরে রাখা হয়। এর আগে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে গাড়ি কেনা স্থগিত করা হয় আগামী জুন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
আইসোলেশনে বরিস জনসন
ড্যাশবোর্ডের মতো জ্বলজ্বল করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা: জনসন

শেয়ার করুন