টিকা নেয়ায় কম ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

হাসপাতাল

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ বাড়ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

সীমান্তবর্তী রাজশাহী এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে রোগী। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। তবে ভ্যাকসিন নেয়ায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে রাজশাহীর বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমরা রোগীদের ভালোভাবেই সেবা দিতে পারছি। আগের বছরের মত পরিস্থিতি খারাপ হলে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে যেত। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার প্রথম ঢেউ আসার পরই গত বছর একের পর এক চিকিৎসক আক্রান্ত হতে থাকেন। নার্স, আয়াসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। তখন সেবা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। প্রথম ঢেউয়ে রাজশাহীতে চিকিৎসায় জড়িত ৬১২ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে চিকিৎসক ছিলেন ২৩২ জন, নার্স ২৬২ জন। হাসপাতালের কর্মচারী আক্রান্ত হন ১১৮ জন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে সাধারণ মানুষের সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বেড়ে গেলেও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা অনেকটা ঝুঁকি মুক্ত আছেন। এবার এখন পর্যন্ত এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। আর নার্স আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হান্নান করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ মার্চ মারা যান। তারপর আর কেউ আক্রান্ত হননি।

ডা. সাইফুল বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন ২৫৮ জন চিকিৎসক ও নার্স ৪৫২ জন। আর হাসপাতালে দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারী ২১৬ জন। তারা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।

ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে করোনা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখানে বেড রয়েছে ২৭১টি। কয়েকদিন ধরেই রোগীর সংখ্যা বেশি। সবশেষ শনিবার সকালে এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৮৯ জন।

তিনি জানান, যারা করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা ১৪ দিন পর পর কোয়ারেন্টিনে থাকছেন। কোয়ারেন্টিইন থেকে আবার চিকিৎসার কাজে যোগ দিচ্ছেন। চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে চিকিৎসা সম্পৃক্তরা করোনায় কম আক্রান্ত হওয়ার কারণ ভ্যাকসিন গ্রহণ। এখানকার ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এ কারণে তাদের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া, যে কয়জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন তাদের উপসর্গ উল্লেখযোগ্য নয়।

রাজশাহীতে ঈদের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে করোনা রোগী। বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলোতেও রোগী বাড়ছে। করোনা শনাক্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বেড়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ড একের পর এক করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়।

এদিকে, করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। স্থানীয় প্রশাসন আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসনের চার জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরে কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
টিকা আনতে চীন গেল ২ উড়োজাহাজ
অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ঢাকা আসতে প্রস্তুত চীনের আরও টিকা
সবাই বলে টিকা দেবে, হাতে পাই না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বেসরকারি হাসপাতালে টিকার সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিল ভারত

শেয়ার করুন

মন্তব্য