অ্যান্টিজেন টেস্ট

জনসাধারণকে করোনার নমুনা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নওগাঁয় বিনামূল্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

দৈবচয়নে ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট, বাড়ছে শনাক্ত

‘গরিব মানুষ টাকার অভাবে করোনা টেস্ট করতে পারে না। এ কারণে গত ৬ জুন থেকে জেলায় ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হয়েছে। গরিবদের জন্যই মূলত এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। আমরা যত বেশি স্যাম্পল টেস্ট করব তত বেশি ফল পাব। কম পরিমাণ নমুনা টেস্টে তেমন ফল মেলে না।’

জনসাধারণকে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নওগাঁয় বিনামূল্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শহরে রাস্তার পাশে উন্মুক্ত স্থানে টেবিল-চেয়ার পেতে স্বাস্থ্যকর্মীরা দৈবচয়নের ভিত্তিতে মানুষকে ডেকে ডেকে টেস্ট করাচ্ছেন।

সিভিল সার্জন অফিস জানায়, গত রোববার নওগাঁ জিলা স্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে করোনা টেস্ট শুরু হয়। সেদিন জেলায় র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ১ হাজার ১০৮ জনের নমুনার মধ্যে ৯৫টি পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

ফ্রি টেস্টের ফলে পাওয়া করোনা শনাক্তের হার উদ্বেগজনক। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই করোনা উপসর্গবিহীন বলে জানান স্বাস্থ্যকর্মীরা।

যত বেশি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে মানুষের মাঝে সচেতনতা তত বাড়বে বলে জানায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফল পাওয়া যায়।

নওগাঁ শহরে জিলা স্কুল ও এটিএম মাঠে বসানো হয়েছে ফ্রি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কেন্দ্র। পাশাপাশি জেলার অন্য সব উপজেলায়ও চলছে ফ্রি টেস্ট ক্যাম্পের কার্যক্রম।

রোবরার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলায় ২ হাজার ২৭১ জনের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। এতে ২৫০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, নানা কারণে অনেকেই করোনা পরীক্ষা করান না। স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা খরচে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হচ্ছে। উপসর্গহীন অনেকের শরীরে করোনা পজিটিভ এসেছে। এ কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ফ্রি টেস্ট করতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

শহরের তাজের মোড়ের বাসিন্দা ভ্যান চালক আহাদ আলী বলেন, ‘হামি ভ্যান চালা তিনজনের সংসার চালায় ম্যালা কষ্টে। হামার রোদ আর গরোমের জন্নি এ্যানা সর্দি লাগাই থাকে। করোনার যে অবস্থা ভয় হচ্ছিল করোনা হলো নাকি। যদি করোনা পরীক্ষা করায় তালে ১০০ ট্যাকা লাগবে। এই ভয়ে করোনা পরীক্ষা করনি এতদিন।

‘বৃহস্পতিবার বিকালে তাজের মোড়োত ট্যাকা ছাড়াই টেস্ট করানি। আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হয়নি। হামি সুস্থ আছি করোনা নাই হামার শরীলোত।’

শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লার দিনমজুর আকবর আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সারাদিন মজুরের কাম করা যা পাই সেডা দিয়া চার জনের সংসার কোন রকমে চলে। এতদিন করোনার পরীক্ষা হামি করনি। শহরোত মাইকিং হচ্ছে। যারকে ট্যাকা দিয়া করোনার পরীক্ষা করার মত অবস্থা নাই তারা ফ্রিতে পরীক্ষা করবার পারবে। তাই ভাবনু পরিক্ষা করাই ফেলি।

‘এর পর আজ সকালে শহরের এটিম মাঠোত স্বাস্থ্যকর্মী ভাইকেরে মাধ্যমে পরীক্ষা করাই ফেলনু। ৩০ মিনিট পর জানবার পারনু হামার দেহোত কোন করনা নাই। শুনা শান্তি পানু। ফ্রি পরীক্ষা করার নিয়ম করা হামাকে মত গরিব মানুষের জন্নি ভালোই হচে। এর জন্নি সরকারোক ধন্যবাদ জানাই।’

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, ‘গরিব মানুষ টাকার অভাবে করোনা টেস্ট করতে পারে না। এ কারণে গত ৬ জুন থেকে জেলায় ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হয়েছে। গরিবদের জন্যই মূলত এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। আমরা যত বেশি স্যাম্পল টেস্ট করব তত বেশি ফল পাব। কম পরিমাণ নমুনা টেস্টে তেমন ফল মেলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে জানান দিতে উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে ফ্রি অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষকে নমুনা দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রথমে কেউ নমুনা দিতে চাচ্ছিল না। তাদের বুঝিয়ে নমুনা নেয়া হয়েছে এবং উপসর্গবিহীন অনেকেরই করোনা পজেটিভ এসেছে। জেলাজুড়ে ফ্রিতে নমুনা টেস্টের মাইকিং করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফ্রি টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে।’

দুই-এক দিনের মধ্যে একটি ফরম করা হবে। দরিদ্ররা ফরম পূরণ করে ফ্রি টেস্ট করাবেন বলে জানান ডেপুটি সিভিল সার্জন।

নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল) আশীষ কুমার সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৩ ব্যক্তির সদর হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং ১৭৯ ব্যক্তির রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনা পজিটিভ এসেছে ৪৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের হার ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ২৬৪ জনকে। নওগাঁয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৯ জন।

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, চিঠিতে নিশ্চয়তা

টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, চিঠিতে নিশ্চয়তা

হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের পাশাপাশি এশিয়ার ১৮টি দেশকে নতুন করে ১ কোটি ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে। এ ছাড়া বিশ্বের আরও ৩০টি দেশ ও জোটকে সরাসরি যে ১ কোটি ৪০ লাখ টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, সেই তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

বাংলাদেশকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দিতে পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান এ কে আব্দুল মোমেন।

হোয়াইট হাউস থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের পাশাপাশি এশিয়ার ১৮টি দেশকে নতুন করে ১ কোটি ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হবে।

এ ছাড়া বিশ্বের আরও ৩০টি দেশ ও জোটকে সরাসরি যে ১ কোটি ৪০ লাখ টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, সেই তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

উন্নত দেশগুলো প্রয়োজনের বেশি টিকা নিয়ে বসে আছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অন্যান্য ভ্যাকসিন ছাড়াও অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ টিকা চেয়েছে।

বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা শুরু করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা টিকা দিয়ে। অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ। তবে রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৭০ লাখ দেয়ার পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাদের এই টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছিল, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সেই ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ সরকার এখন ভারতের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মঙ্গে যোগাযোগ করছে।

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

নকল মাস্ক সরবরাহ: শারমিনকে অব্যাহতির সুপারিশ

নকল মাস্ক সরবরাহ: শারমিনকে অব্যাহতির সুপারিশ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে মাস্ক সরবরাহের অনুমতি পায় শারমিন জাহানের প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নকল মাস্ক সরবরাহ করে। এ মাস্ক ব্যবহার করে চিকিৎসক ও রোগী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নকল মাস্ক সরবরাহের মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী শারমিন জাহানকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে ডিবি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মোর্শেদ হোসেন খান (নিরস্ত্র) ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতে মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আদালতের শাহাবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নকল মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের মালিক শারমিনের বিরুদ্ধে গত বছর ২৩ জুলাই মামলা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোজাফফর আহমেদ।

অভিযোগে বলা হয়, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে মাস্ক সরবরাহের অনুমতি পায় শারমিন জাহানের প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নকল মাস্ক সরবরাহ করে।

এ মাস্ক ব্যবহার করে চিকিৎসক ও রোগী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সেই সঙ্গে নকল মাস্ক সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

মামলা দায়েরের পরদিন ২৪ জুলাই রাতে শাহবাগের একটি বাসা থেকে শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

রিমান্ড শেষে শারমিন জাহানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এরপর মামলাটিতে তিনি জামিন পান।

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

শঙ্কা এখন খুলনা বিভাগ নিয়ে, এক দিনে মৃত্যু ২৭

শঙ্কা এখন খুলনা বিভাগ নিয়ে, এক দিনে মৃত্যু ২৭

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৯ জন, কুষ্টিয়ায় ৫ জন, যশোর ও বাগেরহাটে ৪ জন, নড়াইলে ৩ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন মারা গেছেন।

এক দিনের ব্যবধানে খুলনা বিভাগে আবারও বেড়েছে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগরীর ৯ জন।

এ সময়ের মধ্য ৯৯৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৯ জন, কুষ্টিয়ায় ৫ জন, যশোর ও বাগেরহাটে ৪ জন, নড়াইলে ৩ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন মারা গেছেন।

এর আগে সোমবার (২১ জুন) এই বিভাগে করোনায় ১২ জনের মৃত্যু ও শনাক্ত হন ৯৪৫ জন।

আর রোববার (২০ জুন) এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যু এবং ৭৬৩ জনের দেহে করোনা শনাক্তের কথা জানানো হয়েছিল।

তার আগে ১৯ জুন ২২ জনের মৃত্যু ও ৬২৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৪৬ হাজার ৯৭৫ জন। আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬৪ জনে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৪ হাজার ৯৪৮ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৬৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। জেলায় করোনায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ২৬৪ জন। মারা গেছেন ২২০ জন; সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ১৬৩ জন।

বাগেরহাটে করোনায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৫৬ জন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৯২ জন। মৃত্যু ৭০; সুস্থ ১ হাজার ৮৪০।

সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের দেহে। মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২ জন। মারা গেছেন ৬২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৮২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২৫৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৩৮ জন। মোট মারা গেছেন ১১৩ জন; সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৭৮৯ জন।

নড়াইলে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪২ জন। মোট শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৫২জন ; মৃত ৩৫ এবং সুস্থ ১ হাজার ৮৪৭ জন।

মাগুরায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন। এ জেলায় করোনায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪২১ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫ জন; সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২২৩ জন।

ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩০ জন। জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ জন। মারা গেছেন ৬৮ জন; সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯০২ জন।

কুষ্টিয়ায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ১১৯ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৪০ জন। মোট মারা গেছেন ১৬২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ১০৪ জন।

২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৮২ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৩২ জন। মৃত্যু ৭৪; সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১০ জন।

মেহেরপুরে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৪৬ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪১৩ জন। আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ৩৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৯৮৮ জন।

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

বাংলাদেশসহ এশিয়ায় দেড় কোটি ডোজ টিকা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ এশিয়ায় দেড় কোটি ডোজ টিকা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

দেশে শুরু হয়েছে চীনের সিনোফার্ম ও ফাইজারের তৈরি টিকাদান। ফাইল ছবি

এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও টিকা পাবে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লাওস, পাপুয়া নিউ গিনি, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডস।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার ১৮টি দেশ ও অঞ্চলকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ১ কোটি ৬০ লাখ ডোজ বিনা মূল্যে দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বব্যাপী টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে জাতিসংঘের গৃহীত কোভ্যাক্স কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে এ টিকা।

সাড়ে ৫ কোটি ডোজ বণ্টনের বিস্তারিত পরিকল্পনা সোমবার প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাড়ে ৫ কোটি ডোজের ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ১০ লাখ ডোজ সরবরাহ করা হবে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। এসব টিকা পাবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, এশিয়া ও আফ্রিকার স্বল্পোন্নত দেশগুলো।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এর মধ্যে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ৪০ লাখ ডোজ, এশিয়ার জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ ডোজ আর আফ্রিকার জন্য ১ কোটি ডোজ।

এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও টিকা পাবে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লাওস, পাপুয়া নিউ গিনি, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডস।

বাকি ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ কোটি ৪০ লাখ ডোজ আঞ্চলিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঠানো হবে কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, ইরাক, ইউক্রেন আর অবরুদ্ধ পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায়।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ কোটি ডোজ টিকা বিনা মূল্যে দেবেন বলে যে আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সেটি রক্ষারই প্রথম ধাপ এটি। এর মধ্যে আড়াই কোটি ডোজ চলতি মাসেই পাঠিয়ে দেবে ওয়াশিংটন।

দরিদ্র দেশগুলো যখন করোনা নিয়ন্ত্রণ ও টিকা কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে, সে সময় সহযোগিতার জন্য চাপ বাড়ছিল বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার বড় অংশের জন্য টিকা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক চাহিদা মেটানোর দিকে নজর দিয়েছে দেশটির সরকার।

বিনা মূল্যে বিতরণের প্রথম সাড়ে ৫ কোটি ডোজের চালানে রয়েছে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের গবেষণালব্ধ টিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএর অনুমোদন মিললে দেশটিতে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও দরিদ্র দেশগুলোতে পাঠাবে ওয়াশিংটন।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির সাত দেশের জোট জি সেভেন চলতি বছর দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

এর মধ্যে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারে উৎপাদিত আরও ৫০ কোটি ডোজ দেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের।

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

করোনা পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া: বিএনপি

করোনা পরবর্তী জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া: বিএনপি

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর রাজধানীর এয়ারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গত শনিবার বাসায় ফেরেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশনেত্রীর চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান ডা. এএফএম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, দেশনেত্রী করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ থেকে মুক্ত হলেও কোভিড পরবর্তী কয়েকটি জটিলতায় ভুগছেন এবং তিনি কোনো মতেই ঝুঁকিমুক্ত নন। উনার লিভার ও অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা বিদেশে কোনো উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে করা প্রয়োজন।’

করোনা থেকে সেরে উঠলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত বিদেশে পাঠাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীর চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান ডা. এএফএম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, দেশনেত্রী করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ থেকে মুক্ত হলেও কোভিড পরবর্তী কয়েকটি জটিলতায় ভুগছেন এবং তিনি কোনো মতেই ঝুঁকিমুক্ত নন। উনার লিভার ও অন্যান্য জটিলতার চিকিৎসা বিদেশে কোনো উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে এর সুযোগ কম।’

মির্জা ফখরুল জানান, স্থায়ী কমিটি মনে করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে আরও উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো দরকার। এজন্য দেশনেত্রীর বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে এবং তাকে মুক্তি দিতে আহ্বান জানায় কমিটি।

গত ২০ জুন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ফুসফুসসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা হয় বলে জানান মির্জা ফখরুল।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে প্রেরণ দলের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আগে বলিনি, উনার পরিবার বিদেশে প্রেরণের কথা বলেছিলে। আমরা এবার পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেজুলেশন নিচ্ছি যে, তার বিদেশে চিকিৎসা দরকার। এজন্য যা কিছু সরকারের করা দরকার, সরকারের উচিত ইমিডিয়েটলি করা। তারপরের যে স্টেপগুলো আছে পরবর্তিতে আলাপ-আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ৫৩ দিন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত শনিবার খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরেন।

হাসপাতালে আবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকার কারণে তাকে বাসায় নিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয় ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড।

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

বিএমআরসির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেন ডা. শারফুদ্দিন

বিএমআরসির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেন ডা. শারফুদ্দিন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আগে সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক মহাসচিব এবং শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), প্রিভেনটিভ এন্ড সোস্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন ও চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) নতুন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপ্তিতে আরও জানানো হয়, অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ এই পদের দায়িত্ব পাওয়ায় দেশের স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় নতুন গতি আসবে।

তিনি আগে সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক মহাসচিব এবং শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), প্রিভেনটিভ এন্ড সোস্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন ও চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি গত ২৯ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার খায়েরহাটে।

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ঘরে ঘরে করোনা, কাজে আসছে না লকডাউন

ঘরে ঘরে করোনা, কাজে আসছে না লকডাউন

রাজশাহীতে লকডাউন দিয়েও থামানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ। ছবি: নিউজবাংলা

কঠোর লকডাউনের পরও রামেকে করোনা রোগী বেড়েছে। এ পরিস্থিতিকে ভয়ংকর হিসেবেই দেখছেন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, লকডাউনে কোনো ফল মিলছে না, কারণ, ঘরে ঘরে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সব থেকে জরুরি হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

কঠোর লকডাউনের পরও রাজশাহীর করোনা সংক্রমণ কমছে না। সেই সঙ্গে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুও থামছে না। করোনা ইউনিটে বেডের তুলনায় সব সময়ই রোগীর সংখ্যা বেশি থাকছে। এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একের পর এক ওয়ার্ড রূপান্তরিত হচ্ছে করোনা ওয়ার্ডে।

এ অবস্থায় সোমবার আরও একটি ওয়ার্ডকে করোনা ইউনিটে যুক্ত করা হয়েছে। করোনা ওয়ার্ড করার জন্য কাজ চলছে আরও দুটিতে। কিন্তু সামলানো যাচ্ছে না রোগী।

এদিকে ১ হাজার ২০০ বেডের এ হাসপাতালে এখন প্রায় ৪০০-এর বেশি করোনা রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে সাধারণ চিকিৎসা পড়েছে ঝুঁকির মুখে। হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের মাঝেও করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিকে ভয়ংকর হিসেবেই দেখছেন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, লকডাউনে কোনো ফল মিলছে না, কারণ, ঘরে ঘরে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সব থেকে জরুরি হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

রামেকে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে করোনা রোগী। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কঠোর লকডাউন শেষে বিশেষ বিধিনিষেধ চলছে। আর রাজশাহী শহরে ১২ দিন ধরে চলছে কঠোর লকডাউন। কিন্তু দুই জেলায় সংক্রমণের সংখ্যা কমছেই না। থামছে না মৃত্যুও।

রোগীর হিসাব

সবশেষ সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রামেকের করোনা ইউনিটে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজিটিভ ছিল। বাকি ৮ জন মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে।

চলতি মাসে তিন সপ্তাহে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২২৯ জন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের।

কঠোর লকডাউনের পরও রামেকে করোনা রোগী বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ৬২ জন। সোমবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬১ জন।

রোববার সকালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৩৭৭ জন। আর সোমবার সকালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৪০২ জনে। আবার মঙ্গলবার এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯৩ জনে। ৩০৯ বেডের বিপরীতে এসব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাড়তি রোগীরা আছেন চরম ঝুঁকিতে। কারণ, বেডে জায়গা না হওয়ায় তারা সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা পাবেন না।

অথচ এখন যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তাদের সবার জন্যই জরুরি অক্সিজেন। সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে তাদের সেবা দেয়া হচ্ছে, এতেও তাদের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

রামেকে করোনা ইউনিট

যেভাবে রোগী বাড়ছে, সেভাবে চিকিৎসা দেয়ার সক্ষমতা বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া করোনা রোগীদের জন্য নতুন নতুন ওয়ার্ড বাড়ানোর কারণে অন্য রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় সোমবার দুপুরে এখানকার আরেকটি ওয়ার্ডকে যুক্ত করা হয়েছে করোনা ইউনিটে। এটির বেডসংখ্যা ৪৮টি।

কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে একের পর এক সাধারণ ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে। এখন হাসপাতালের ১, ৩, ১৫, ১৬, ১৭, ২২, ২৫, ২৭, ২৯, ৩০, ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে করোনা রোগী রাখা হয়।

এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ২০টি ও কেবিনে ১৫টি করোনা ডেডিকেটেড শয্যা আছে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডটি যুক্ত হওয়ায় মোট শয্যা হলো ৩৫৭টি।

চিকিৎসকদের ভাবনা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নাই। এখন ঘরে ঘরে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। লকডাউন দিয়েও ফল মিলছে না।

‘এ অবস্থায় খুব জরুরি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বাড়িতে থাকলেও একজন আরেকজনের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে ঘরেও মাস্ক পরতে হবে।

‘কারণ বাড়ির বাইরে বের না হয়েও অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন অন্যের মাধ্যমে। এ অবস্থায় কাউকে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নাই।’

নওশাদ আলী আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি কোনো পরিবারে একজনের করোনা হলে অন্যদেরও করোনা হচ্ছে। আর চিকিৎসা পরিস্থিতিও দিন দিন খারাপই হচ্ছে। হাসপাতাল করোনা রোগীতে ঠাঁসা। পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয় তাহলে আমাদের করণীয় কী, এটা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।

‘বিকল্প হাসপাতালের কথা ভাবতেই হবে। এটা নিশ্চিত যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভয়ংকর অবস্থার দিকেই যাচ্ছি আমরা। এ জন্য আমরা নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালের কথা ভাবতে পারি। সেটির কাজ দ্রুত শেষ করে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীও বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমরা চেষ্টা করছি আমাদের ওয়ার্ড বৃদ্ধি করে রোগীদের একুমডিভেট করার। আমাদের এখানে যারা আসছে এদের সবারই অক্সিজেনের সমস্যা।

‘এদেরকে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে রাখা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার মাত্র দেড় ঘণ্টা যায়। সে জন্য একজন রোগীরে জন্য ২৪ ঘণ্টায় ১৬টি সিলিন্ডার লাগছে। সিলিন্ডার দিয়ে রোগী ম্যানেজ করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমরা সেন্ট্রাল অক্সিজেন ও অক্সিজেন কনস্যালটেন্ডের মাধ্যমে এদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। আমাদের বর্তমানে ৭৫২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে।’

এখন কী করা যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘ওয়ার্ডগুলোকে ফাঁকা করে করোনা ইউনিট ঘোষণা করলেও হয়। কিন্তু আসলে এটি হচ্ছে না। এখানে যেসব রোগী থাকছে তাদের অক্সিজেন দিয়ে ফুলফিল করতে পারছি না। এ জন্যই আমরা পরিস্থিতি ভয়াবহ বলছি।

‘প্রত্যেকের বাসায় করোনা বাড়ছে। এখন লকডাউনও চলছে। আমাদের এখানে ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আছে। সঠিক সময় আমরা সঠিক কাজটি করতে পারিনি। এ জন্যই আজকে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।’

গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৬২ জনের মধ্যে গ্রামের রোগী ৩৬ জন। আর শহরের ২৬ জন। এখন ৬০ শতাংশের ওপরে রোগী গ্রাম থেকে আসছে।

হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ‘এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে লকডাউনের চেয়েও স্বাস্থ্যবিধি মানাটা জরুরি। লকডাউন থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোনো লাভ নাই। সম্মিলতভাবে এটি কন্ট্রোল করতে না পারলে এটি আরও খারাপ হতে পারে।’

‘আমাদের এখানে বর্তমানে করোনা রোগী বাদে প্রায় ৬০০-এর মতো রোগী আছে। এগুলোর মধ্যে ৪০০-এর মতো জরুরি রোগী। কিডনী রোগী আছে, হার্টের রোগী আছে। এরপরও আমরা ৪ ও ১৪ নং ওয়ার্ডেও অক্সিজেন লাইন বসানোর কাজ করছি। এগুলোকেও করোনা ইউনিটে যুক্ত করা হবে।’

আরও পড়ুন:
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রাজশাহীতে
করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ হাজার
নেত্রকোণায় ৪ বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত
খুলনায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

শেয়ার করুন