ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ

‘স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ হবে না, যদি না কতগুলো মৌলিক পরিবর্তন আনা যায়। মৌলিক পরিবর্তনটা হলো, আজকে বাংলাদেশে যদি বিল্ডিংয়ের দিক দিয়ে পরিমাপ করা হতো, আমার মনে হয়, আমরা নোবেল প্রাইজ পেয়ে যেতাম।’

সেবার মানসিকতা নেই উল্লেখ করে চিকিৎসকদের সমালোচনা করেছেন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘মেডিক্যালে যারা আসেন তাদের সঙ্গে সেবার অনেকেরই কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সে এ পেশাকে কখনো মনে করে ধান্ধা।’

এই পরিস্থিতি পাল্টাতে মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার তাগিদও দেন। নিজের প্রতিষ্ঠানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতিমূহুর্তে তাদের সঙ্গে শিক্ষক থাকেন। সে দরিদ্র মানুষের রূপ নিজের চোখে দেখে।’

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে এক আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আলোচনায় স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ হবে না, যদি না কতগুলো মৌলিক পরিবর্তন আনা যায়। মৌলিক পরিবর্তনটা হলো, আজকে বাংলাদেশে যদি বিল্ডিংয়ের দিক দিয়ে পরিমাপ করা হতো, আমার মনে হয়, আমরা নোবেল প্রাইজ পেয়ে যেতাম।

‘আমাদের প্রায় ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, আট হাজার ইউনিয়ন হেলথ কেয়ার সেন্টার আছে, সাড়ে পাঁচ শ উপজেলায় আছে। বিল্ডিং আর বিল্ডিং আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেখানে সেটা হলো, চিকিৎসকের উপস্থিতি নেই। এ জন্য চিন্তা করতে হবে কেন চিকিৎসক নেই?’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘একটা ইউনিয়ন সেন্টারে পাঁচজন ডাক্তার, ১০ জন নার্স অন্যান্য বাড়িঘর তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। সেখানে যে যন্ত্রপাতি থাকবে, তা নিয়ে ৫০ রকমের পরীক্ষা করা যাবে। এই টাকা আমাদের বাজেটে এই হেরফেরই করা যায় সম্ভব।’

ধান্ধা ভেবে মেডিক্যাল পেশায় আসছে: জাফরুল্লাহ
বাজেট নিয়ে মূল্যায়নে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আলোচনায় বক্তারা

স্বাস্থ্য খাতে এই পরিবর্তনটা না এলে ঢাকার শাসন আর ইসলামাবাদের শাসনের খুব বেশি পার্থক্য নেই বলেও মনে করেন তিনি।

সরকার স্বাস্থ্য খাতের চেয়ে জনপ্রশাসনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জাফরুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘আমলারা বিনা ভোটের সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে বলে তাদের তো খুশি রাখতে হয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি যে এটা কমিয়ে আনা উচিত।’

একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করে বাড়তি টাকা সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করার তাগিদ দেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়দ সাকি, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা উৎপাদনে সহযোগিতা দিন

টিকা উৎপাদনে সহযোগিতা দিন

গণটিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর টিকা নিচ্ছেন এক নারী। ফাইল ছবি

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে করোনা মহামারি প্রতিরোধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ যেসব দেশের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা আছে, সেসব দেশকে টিকা উৎপাদনে সহায়তা দিন।

টিকা উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবারও সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই) নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে মোমেন এই সহযোগিতা চান।

বৃহস্পতিবার সকালে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এই সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং আই সভাপতিত্ব করেন।

চীনা উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেন।

সম্মেলনে করোনা মহামারি প্রতিরোধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ যেসব দেশের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা আছে, সেসব দেশকে টিকা উৎপাদনে সহায়তা দিন।

করোনা নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান, করোনা প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয়, টিকাকে জনগণের সম্পত্তি ও কোভ্যাক্স উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তাব দেন তিনি।

টিকা উৎপাদনে সহযোগিতা দিন

টিকা উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবারও সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

সম্মেলনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জনগণের স্বার্থে টেকসই উন্নয়নে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

ফাইজার-মডার্নার টিকায় হৃৎপিণ্ডের জটিলতা, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

ফাইজার-মডার্নার টিকায় হৃৎপিণ্ডের জটিলতা, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী এমআরএনএ টিকার দুই ডোজ নিয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ। ছবি: এএফপি

সিডিসির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃৎপিণ্ডে প্রদাহের সঙ্গে টিকার সম্পর্ক রয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঝুঁকির কারণে টিকা নেয়ার উপযোগিতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। টিকা নেয়ার পর হৃৎপিণ্ডে প্রদাহ তৈরি হলেও রোগীরা দ্রুতই সেরে উঠছেন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার উপসর্গ চলে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকা নেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দেখা দিচ্ছে হৃৎপিণ্ডের বিরল জটিলতা।

শিগগিরই এ বিষয়ে সতর্কতা জারির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেসেঞ্জার রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিডের (এমআরএনএ) ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব টিকা নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক শ কিশোর ও তরুণের হৃৎপিণ্ডে একধরনের প্রদাহ তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় দফায় দফায় বৈঠক করছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, হৃৎপিণ্ডে প্রদাহের সঙ্গে টিকার সম্পর্ক রয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঝুঁকির কারণে টিকা নেয়ার উপযোগিতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। টিকা নেয়ার পর হৃৎপিণ্ডে প্রদাহ তৈরি হলেও রোগীরা দ্রুতই সেরে উঠছেন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার উপসর্গ চলে যাচ্ছে।

কয়েক মাস পর্যবেক্ষণ করে সিডিসি জানিয়েছে, টিকা নেয়ার পর হৃৎপিণ্ডে প্রদাহের ঘটনা বেশি ঘটেছে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে। প্রদাহে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। ১২ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার অপ্রত্যাশিত রকমের বেশি।

৩০ বছরের কম বয়সী ৩০৯ জন এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২৯৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

টিকা নেয়ার বিষয়ে মানুষের আস্থা রক্ষায় এর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আর করোনা ঠেকাতে কার্যকারিতার ওপর জোর দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও জনসেবা বিভাগ। এতে সরকারি স্বাস্থ্যবিদ ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন একযোগে জানিয়েছে, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হৃৎপিণ্ডে প্রদাহের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের খেয়াল রাখার নির্দেশ দিয়েছে এফডিএ। তাও এফডিএ ও সিডিসির এমন আভাসের পর পুঁজিবাজারে মডার্না ৪ দশমিক ২ শতাংশ আর ফাইজার ১ দশমিক ৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

ফাইজার-বায়োএনটেক আর মডার্নার এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি করোনা প্রতিরোধী টিকার স্বাস্থ্যঝুঁকি খতিয়ে দেখতে বেশ কয়েকটি দেশে গবেষণা চলছে।

ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ১২ বছর থেকে শুরু করে সব বয়সীদের টিকা নেয়ার ওপর জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ টিকা নিলেও এর পর থেকে প্রথম ডোজ নেয়া দিন দিন কমছে। গত দুই মাসে টিকা নেয়ার হার কমেছে ৮৫ শতাংশ।

এ অবস্থায় আগামী ৪ জুলাই দেশটির স্বাধীনতা দিবসের আগেই ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে কমপক্ষে এক ডোজ টিকা দেয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন, তা অর্জিত হবে না বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী এমআরএনএ টিকার দুই ডোজই নিয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

রাজশাহী মেডিক্যালে এক দিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

রাজশাহী মেডিক্যালে এক দিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত রোগী ছিলেন ৮ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের।

করোনাভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর পর এটিই রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে সর্বোচ্চ মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত রোগী ছিলেন ৮ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত ১৮ জনের মধ্যে ৮ জন নারী, অন্যরা পুরুষ। এ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৬৩ জনের, যার মধ্যে ১৩৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

শামীম আরও জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৫৪ রোগী।

রাজশাহী মেডিক্যালে ল্যাব ইনচার্জ সাবেরা গুলনাহার জানান, বুধবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে ৪৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩০ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। আর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানান শামীম ইয়াজদানী।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

জয়পুরহাটের ৫ পৌরসভায় এখন কঠোর বিধিনিষেধ

জয়পুরহাটের ৫ পৌরসভায় এখন কঠোর বিধিনিষেধ

৭ জুন থেকে জেলার জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। গত শুক্রবার  থেকে কালাই পৌরসভা এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়। বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ জারির মধ্য দিয়ে জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি পৌরসভায় বিধিনিষেধের আওতায় এলো।

জয়পুরহাটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বুধবার থেকে আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল পৌরসভা এলাকায় সাতদিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৭ জুন থেকে জেলার জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। গত শুক্রবার থেকে কালাই পৌরসভা এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়। বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ জারির মধ্য দিয়ে জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি পৌরসভায় বিধিনিষেধের আওতায় এলো।

জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাট,পাঁচবিবি, কালাই পৌরসভা এলাকায় বিধিনিষেধ চলছে। ওই তিনটি পৌরসভা এলাকায় যেসব বিধিনিষেধের নির্দেশনা রয়েছে, এই দুটি পৌরসভায়ও একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ।

এগুলো হলো- প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত পৌরসভা এলাকায় ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পৌর এলাকার লোকজন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী করোনার সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ২৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮১ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৩ জনে।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

ঝিনাইদহে করোনায় ৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৭

ঝিনাইদহে করোনায় ৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৭

গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ৪ জন রোগী মারা গেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ল্যাবে ২২৭ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১১৭ জনের পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তের হার ৫১ দশমিক ৫৪ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৩ হাজার ৬৩৮ জনে।

ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১১৭ জন।

সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ল্যাবে ২২৭ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১১৭ জনের পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তের হার ৫১ দশমিক ৫৪ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৩ হাজার ৬৩৮ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৮ জন।

এদের মধ্যে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ৪ জন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার রহিমপুর গ্রামে একজন, শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামে একজন, মহেশপুর উপজেলার আজমপুর গ্রামে একজন ও কোটচাঁদপুর উপজেলার মায়াধরপুর গ্রামে একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো ৭৯ জনে।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলায় শুরু হয়েছে লকডাউন। লকডাউন কার্যকরে শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট ও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

করোনায় মানবাধিকারকর্মীর মৃত্যু

করোনায় মানবাধিকারকর্মীর মৃত্যু

মনিরুজ্জামান। ফাইল ছবি

গত ১৭ জুন মনিরুজ্জামানের করোনা শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ১৮ জুন শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, ১৯ জুন তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় । সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়।’

শেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে মনিরুজ্জামান নামের এক মানবাধিকার কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বুধবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মোবারক হোসেন।

মৃত মনিরুজ্জামান শেরপুর শহরের উত্তর নওহাটা মহল্লার বাসিন্দা। ৪৩ বছরের মনিরুজ্জামান মজিবুর রহমানের ছেলে। গার্মেন্টস কাপড়ের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মানবাধিকার সংগঠন ‘আমাদের আইনের শেরপুর’ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন।

গত ১৭ জুন মনিরুজ্জামানের করোনা শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ১৮ জুন শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৯ জুন তাকে ময়মনিসংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়।’

জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম আনোয়ারুর রউফ জানান, গত বছরের ৫ এপ্রিল জেলায় প্রথম দুই ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এ বছরের ২২ জুন পর্যন্ত সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১৩৫ জনে। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

এক দিনে ৮৫ মৃত্যু, ৭২ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

এক দিনে ৮৫ মৃত্যু, ৭২ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

ছবি: সাইফুল ইসলাম

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭৮৭ জনের।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের, যা গত ২৯ এপ্রিলের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৫ হাজার ৭২৭ জনের শরীরে, যা গত ৭২ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭৮৭ জনের।

এক দিনের হিসেবে এর আগে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছিল ১৩ এপ্রিল, ৬ হাজার ২৮ জন। আর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ২৯ এপ্রিল, ৮৮ জন।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫৫৪ ল্যাবে ২৮ হাজার ২৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্ত হার ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ। মধ্যে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ১৬৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৩ জন। সুস্থতার হার ৯১.৩১ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫৫ পুরুষ জন, নারী ৩০ জন।

বয়স বিবেচনায় মৃত ৮৫ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১০, চল্লিশোর্ধ্ব ১১ পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৮, ষাটোর্ধ্ব ৪৬ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। এরপরই রয়েছে ঢাকা বিভাগ, ১৯ জন। অন্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ১৮, চট্টগ্রামে ৭, বরিশাল ১, রংপুর বিভাগে ১ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
৩০ লাখ শহীদের বেশির ভাগই মারা যান ভারতে: ডা. জাফরুল্লাহ
দাবি না মানলে প্রধান বিচারপতির বাসা ঘেরাও
প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না কী ভুল করছেন: জাফরুল্লাহ
সরকার পতনে ১০০ জীবন চাইলেন জাফরুল্লাহ
পাকিস্তানকে ক্ষমা করে দিন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন