ধৈর্য ধরুন, সিরামের টিকা দিয়েই দ্বিতীয় ডোজ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম জানান সিরামের টিকা সংগ্রহ করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ফাইল ছবি

ধৈর্য ধরুন, সিরামের টিকা দিয়েই দ্বিতীয় ডোজ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম জানান, সিরামের টিকাটি সংগ্রহ করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আশাবাদী, এই টিকা আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পেয়ে যাব। ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে এই টিকা দিয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য যে আক্ষেপ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, এটা হয়তো থাকবে না।

সিরামের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে যাদের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে, তাদের দ্বিতীয় ডোজ একই টিকা দিয়েই দেয়া হবে। কিছু দিনের মধ্যেই এই টিকা দেশে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম এমন আশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে বাংলাদেশে একাধিক টিকা ব্যবহারের জরুরি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সেই দিক থেকে আমরা ভাগ্যবান। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই এবং অনুরোধ রাখতে চাই, আপনারা ধৈর্যহারা হবেন না। আমাদের ওপরে আস্থা রাখুন। যারা প্রথম ডোজে সিরামের টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ সিরামের টিকা দিয়েই দেয়া হবে।

‘এই টিকাটি সংগ্রহ করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আশাবাদী, এই টিকা আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পেয়ে যাব। ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে এই টিকা দিয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য যে আক্ষেপ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, এটা হয়তো থাকবে না।’

চীন ও রাশিয়া থেকে আমরা টিকা পেতে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছি। সেটা আসলেই আমরা প্রথম ডোজ টিকা দেয়া আবারও শুরু করতে পারব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার দুই মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় ডোজ নিলে সুরক্ষা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি মিলবে। কিন্তু বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যত লোককে সিরামের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়া হয়েছে, তাদের সবাই দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারেননি টিকা সংকটের কারণে। প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ লোক এই টিকার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর ৭ জুন সোমবার পর্যন্ত দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৪৩ হাজার ১৯৩ ডোজ, যার প্রায় সবই সিরামের টিকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৮ জন। বিভিন্ন কারণে টিকা নষ্ট হয়েছে ৯০ হাজার ৪১৮ ডোজ। সরকারের কাছে সিরামের টিকার মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৯ ডোজ, যা দিয়ে আর কয়েক দিন চলবে টিকা কার্যক্রম।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাকার পথে চীনের টিকা

ঢাকার পথে চীনের টিকা

ঢাকায় আনার জন্য বিমানে লোড করা হয়েছে চীনের উপহারের টিকা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা উপরাষ্ট্রদূত হ্যালং ইয়ান রোববার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে বেইজিং বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাঠানো পরিবহন বিমানে টিকা লোডের ছবি পোস্ট করেছেন।

উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে দেয়া সিনোফার্মের করোনা প্রতিরোধী আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা এখন দেশের পথে। বিকেল সাড়ে ৫টায় টিকা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি সি ১৩০ পরিবহন বিমানের ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কো-প্রডাকশনের ঘোষণা আসতে পারে জানিয়েছে ঢাকার চীনা দূতাবাস।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা উপরাষ্ট্রদূত হ্যালং ইয়ান রোববার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে বেইজিং বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পাঠানো পরিবহন বিমানে টিকা লোডের ছবি পোস্ট করেছেন।

সেখানে তিনি টিকা আনতে বেইজিং বিমানবন্দরে যাওয়া বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের গ্রুপ ছবিও পোস্ট করেছেন।

হ্যালং ইয়ান লেখেন, ‘রেডি ফর টেক অফ।’

একই ছবি পোস্ট করেছে চীনা দূতাবাসও।

একই সময় দেয়া অন্য একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভ্যাকসিন কো-প্রোডাকশন।’

এটি শিগগির শুরুর কথাও জানান পোস্টে। এমনকি এর জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন সেখানে।

১০ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, ‘শিগগির দেশে যৌথভাবে টিকা উৎপাদন বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।’

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে টিকা উত্পাদনের জন্য স্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি নির্বাচন করতে সংশ্লিষ্টরা দেখবেন, তারা আসবেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সক্ষমতা দেখে উৎপাদনে যেতে পারে।

‘একবার উৎপাদন শুরু হলে দেশে কোনো টিকার সংকট তৈরি হবে না। আশা করি, আমরা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে ভ্যাকসিন রপ্তানিকারক হয়ে উঠব।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এর আগে বলেছিলেন, চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের টিকা সংগ্রহ এবং যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে টিকা আনতে রওনা হয় বিমানবাহিনীর দুটি পরিবহন বিমান।

নিজের ফেসবুক পেজে গত শুক্রবার সকালে পোস্টে হ্যালং ইয়ান টিকা পরিবহন ও মজুতের তিনটি ছবি পোস্ট করেন। তখন তিনি জানান, ৬ লাখ টিকা প্রস্তুত। ১৩ জুন তা বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

অন্যদিকে ১০ জুন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘১৩ তারিখে ৬ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। আমরা এখান থেকে দুটি সি-১৩০ বিমান পাঠাচ্ছি। ওরা ওই দিনই গিয়ে নিয়ে আসবে।’

আবদুল মোমেনকে গত ২১ মে টেলিফোন করে এই টিকা দেয়ার ঘোষণা দেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

উপহার হিসেবে এর আগেও ৫ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছিল চীন, যা ১২ মে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। সব ডোজই চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত বিবিআইবিপি-করভি টিকার।

বাংলাদেশ প্রথমে করোনার অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহারের পক্ষে ছিল। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে।

প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। কেনা টিকার বাইরে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকেও আসার কথা ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টিকা। পরে জানানো হয় আরও বেশি আসবে। কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের প্রথম দিন কোভ্যাক্স থেকে মাত্র ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা এসেছে দেশে।

এই পরিস্থিতিতে টিকাস্বল্পতায় বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে।

এমন অবস্থায় টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি টিকা কেনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুটি দেশের টিকা দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন

করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে এক দিনে মৃত্যু বেড়ে তিন গুণ

করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে এক দিনে মৃত্যু বেড়ে তিন গুণ

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃতদের মধ্যে ছয়জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মৃতদের মধ্যে ছয়জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা শনাক্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও একজনের বাড়ি নওগাঁয়। আর উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী ও নওগাঁর দুইজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও কুষ্টিয়ার একজন করে মারা গেছেন।

গত ২৪ মে থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত ২১ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও আইসিউতে মারা গেলেন ১৭৪ জন।

আর এ মাসে অর্থাৎ ১ জুন থেকে ১৩ জুন সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১২৫ জন। এর মধ্যে ৭০ জনই মারা গেছেন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে।

রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোববার সকালে রোগী ভর্তি আছেন ২৯৪ জন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৪১ জন। আর করোনা সন্দেহে চিকিৎসা চলছে ১১৭ জনের। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ২৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাতজন, নাটোরের তিনজন ও নওগাঁর পাঁচজন। ২৪ ঘণ্টায় ছুটি পেয়েছেন ৩৫ রোগী।

করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার (১১ জুন) বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউনের কারণে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহন চলছে না। রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত

রাজশাহীতে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত

করোনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা ধরা পড়ে ৫২ জনের।

রাজশাহীতে এক দিনে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা ধরা পড়ে ৫২ জনের।

এর মধ্যে রাজশাহীর দুই পিসিআর ল্যাবে ৬৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনিবার রাতে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, শনিবার ল্যাবে মোট ৪৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২২ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এখানে রাজশাহীর ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয় ৭৫ জনের। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ২৬, নওগাঁর চারজনের নমুনা পরীক্ষায় দুইজনের পজিটিভ, নাটোরের ১৫০ জনের নমুনা করে ১৯ জনের করোনা ধরা পড়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, শুক্রবার হাসপাতাল ল্যাবে ১৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।

শনিবার নগরীতে ৫৫৯ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জিন এক্সপার্ট ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে রাজশাহী শহর।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন

টিকা নেয়ায় কম ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

টিকা নেয়ায় কম ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ বাড়ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

সীমান্তবর্তী রাজশাহী এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে রোগী। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। তবে ভ্যাকসিন নেয়ায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে রাজশাহীর বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমরা রোগীদের ভালোভাবেই সেবা দিতে পারছি। আগের বছরের মত পরিস্থিতি খারাপ হলে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে যেত। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার প্রথম ঢেউ আসার পরই গত বছর একের পর এক চিকিৎসক আক্রান্ত হতে থাকেন। নার্স, আয়াসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। তখন সেবা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। প্রথম ঢেউয়ে রাজশাহীতে চিকিৎসায় জড়িত ৬১২ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে চিকিৎসক ছিলেন ২৩২ জন, নার্স ২৬২ জন। হাসপাতালের কর্মচারী আক্রান্ত হন ১১৮ জন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে সাধারণ মানুষের সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বেড়ে গেলেও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা অনেকটা ঝুঁকি মুক্ত আছেন। এবার এখন পর্যন্ত এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। আর নার্স আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হান্নান করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ মার্চ মারা যান। তারপর আর কেউ আক্রান্ত হননি।

ডা. সাইফুল বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন ২৫৮ জন চিকিৎসক ও নার্স ৪৫২ জন। আর হাসপাতালে দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারী ২১৬ জন। তারা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।

ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে করোনা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখানে বেড রয়েছে ২৭১টি। কয়েকদিন ধরেই রোগীর সংখ্যা বেশি। সবশেষ শনিবার সকালে এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৮৯ জন।

তিনি জানান, যারা করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা ১৪ দিন পর পর কোয়ারেন্টিনে থাকছেন। কোয়ারেন্টিইন থেকে আবার চিকিৎসার কাজে যোগ দিচ্ছেন। চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে চিকিৎসা সম্পৃক্তরা করোনায় কম আক্রান্ত হওয়ার কারণ ভ্যাকসিন গ্রহণ। এখানকার ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এ কারণে তাদের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া, যে কয়জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন তাদের উপসর্গ উল্লেখযোগ্য নয়।

রাজশাহীতে ঈদের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে করোনা রোগী। বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলোতেও রোগী বাড়ছে। করোনা শনাক্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বেড়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ড একের পর এক করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়।

এদিকে, করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। স্থানীয় প্রশাসন আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসনের চার জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরে কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন

টিকার সব তথ্য প্রকাশ করল ভারত-বায়োটেক

টিকার সব তথ্য প্রকাশ করল ভারত-বায়োটেক

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তথ্যের স্বচ্ছতা প্রকাশে সর্বোচ্চ সর্তকতা নিয়েছে তারা। মানুষের দেহে ট্রায়ালের যাবতীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান দেশে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় জনগণের উপর ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশী সফলতার রেকর্ড রয়েছে এই টিকার।

ভারতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কোভ্যাকসিন তৈরি বিষয়ক সব ধরনের গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুককারক প্রতিষ্ঠান ভারত-বায়োটেক।

দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদান ব্যবহার করে ভারত-বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাকসিন টিকার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক দেখা গেলে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নেয়।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদিত টিকার কার্যকারিতা ও সুরক্ষার উপর করা অন্তত ৯টি গবেষণাপত্র এরিই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৫টি সাময়িকীতে গত এক বছরে প্রকাশ করেছে।

দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর আগে, এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের (ট্রায়াল) তৃতীয় ধাপের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করেছিল। তবে চলতি মাসের ২০ তারিখে তাদের তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

৬ মাস আগে, জরুরী ব্যবহারের জন্যে অনুমোদন পায় কোভ্যাকসিনের টিকাটি। এর পর থেকেই টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে নানা মহলে। তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করার জন্যে এরিই মধ্যে দুইবার তারিখ পিছিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শনিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে ভারত-বায়োটেক।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তথ্যের স্বচ্ছতা প্রকাশে সর্বোচ্চ সর্তকতা নিয়েছে তারা। মানুষের দেহে প্রয়োগের যাবতীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান দেশে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় জনগণের উপর ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশী সফলতার রেকর্ড রয়েছে এই টিকার।

এর আগে, গত ৯ মার্চ ভারতের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা ‘কোভ্যাকসিন’ নিরাপদ বলে মত দিয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট।

দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালের ফল পর্যালোচনা শেষে এই তথ্য জানিয়েছে সাময়িকীটি।

তাদের পর্যালোচনায় বলা হয়, দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষে টিকাটির কার্যকারিতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে এটি নিরাপদ। ট্রায়ালে অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের পর টিকাটির কার্যকারিতা জানা যাবে।

ভারতে প্রাথমিকভাবে দুটি টিকা দেয়া হচ্ছে প্রথম সারির করোনাযোদ্ধাদের। একটি অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ‘কোভিশিল্ড’। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট টিকাটি উৎপাদন করছে।

অন্যটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি কোভ্যাকসিন। ভারত-বায়োটেক এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে।

প্রথম থেকেই কোভ্যাকসিন নিয়ে বিতর্ক ওঠে। অভিযোগ, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার আগেই এই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভারত-বায়োটেকের টিকা সরবরাহ করা হলেও অনেকেই সেই ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন

টিকা আনতে চীন গেল ২ উড়োজাহাজ

টিকা আনতে চীন গেল ২ উড়োজাহাজ

টিকা আনতে চীনে রওনা হয়েছে বিমানবাহিনীর সি ১৩০ জে মডেলের দুটি উড়োজাহাজ

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, বিমানবাহিনীর দুটি সি ১৩০ জে পরিবহন বিমান চীন থেকে টিকা আনার জন্য সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় চায়না থেকে বিমান দুটির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির উপহারের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা আনতে চীনে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি উড়োজাহাজ।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর দুটি সি ১৩০ জে পরিবহন বিমান চীন থেকে টিকা আনার জন্য সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় চায়না থেকে বিমান দুটির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

একই তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এর আগে গত ১২ মে দেশে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা উপহার হিসেবে পাঠায় চীন। সেখান থেকে ইতোমধ্যে ঢাকার চারটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এই টিকা দেয়ার কথা রয়েছে সারা দেশের সরকারি ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের। করোনা মোকাবিলায় সামনের সারিতে থাকা পুলিশ সদস্যদেরও দেয়া হবে এই টিকা।

উপহারের দ্বিতীয় কিস্তির টিকা বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সেরে রেখেছে চীন। এ বিষয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত হ্যালং ইয়ান। টিকা পরিবহন ও মজুতের তিনটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘৬ লাখ টিকা প্রস্তুত। ১৩ জুন তা বাংলাদেশে পৌঁছাবে।’

উপহারের বাইরে চীনের সিনোফার্মের টিকা কেনার আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, টিকা কিনতে চীনের সঙ্গে ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে ভ্যাকসিনের দাম প্রকাশ হওয়ায় আমাদের সমস্যা হয়েছে। এ জন্য চুক্তি অনুযায়ী কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রথমে করোনার অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহারের পক্ষে ছিল। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। কেনা টিকার বাইরে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকেও আসার কথা ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টিকা। পরে জানানো হয় আরও বেশি আসবে। কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের প্রথম দিন কোভ্যাক্স থেকে মাত্র ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা এসেছে দেশে। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও ১০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

টিকা স্বল্পতায় বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। এমন অবস্থায় টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি টিকা কেনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুটি দেশের টিকা দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন

করোনা: নওগাঁয় ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২৫.৫৪ শতাংশ

করোনা: নওগাঁয় ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২৫.৫৪ শতাংশ

শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

নওগাঁয় ২৪ ঘণ্টায় ২৩১টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এই সময়ে করোনায় কারো মৃত্যু হয়নি।

নওগাঁ সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এ ছাড়া অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে ১২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৬ জনের, রাণীনগরের একজনের, বদলগাছীর একজনের, আত্রাইয়ের চারজনের, মহাদেবপুরের চারজনের, মান্দার ছয়জনের, ধামইরহাটের ছয়জনের, পত্নীতলার সাতজনের, সাপাহারের সাতজনের, নিয়ামতপুরের দুইজনের ও পোরশার পাঁচজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

নওগাঁ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন,‘ঈদুল ফিতরের পর থেকে জেলায় আশঙ্কাজনকহারে করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও, মানুষের মধ্যে নমুনা দেয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। জেলার করোনা পরিস্থিতি জানার জন্য এবং মানুষকে নমুনা দিতে আগ্রহী করতে বিনা মূল্যে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে ক্যাম্প করে পথ চলতি মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

‘যেখানে এ জেলায় প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ নমুনা সংগ্রহ হওয়া উচিত, সেখানে প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০টি করে। কম পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ হওয়ায় জেলার সঠিক চিত্র এখনও বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।’

নওগাঁ জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ২৩ এপ্রিল। এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৫২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দুই হাজার ৮০৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের।

আরও পড়ুন:
সিরাম টিকা না দিলে টাকা ফেরত: অর্থমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যে ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সিরাম
দেশের বাইরে টিকা উৎপাদনে আগ্রহী সিরামও
টিকার কাঁচামালে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলুন, বাইডেনকে সিরাম

শেয়ার করুন