করোনা: ৩৯ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনা: ৩৯ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৯১৩ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলছে। একদিনের হিসেবে গত ৩৯ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত দেখল দেশ। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৩২২ জনের দেহে। আক্রান্তদের মধ্যে এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪৪ জনের।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এর থেকে বেশি শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ২ হাজার ৩৪১ জন।

আর মৃত্যুর সংখ্যায় ৪৪ জন গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ৯ মে ৫৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৯১৩ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫১০টি ল্যাবে ১৯হাজার ১৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২.১২ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৪০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৬২ জন সুস্থ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে সাত লাখ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। সুস্থতার হার ৯২.৬৪ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ২৭ পুরুষ, ১৭ নারী। বয়স বিবেচনায় মৃত ৪৪ জনের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। বাকিদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব তিন, চল্লিশোর্ধ্ব চার, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০, ষাটোর্ধ্ব ২৬ জন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার নয়, হামের টিকা নিয়েছিলেন মিমি

করোনার নয়, হামের টিকা নিয়েছিলেন মিমি

করোনার বদলে হামের টিকা নিয়ে প্রতারণার শিকার হন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

টিকাকরণে উৎসাহ দিতে ওই শিবির থেকে টিকা নেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু টিকা নেয়ার মেসেজ তার ফোনে না আসায় সন্দেহ হয়। মিমি পুলিশকে জানালে ভুয়া টিকাকরণের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

কলকাতা পুরসভার নামে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভুয়া প্রতিষেধক শিবির চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ভুয়া আইএএস কর্মকর্তা দেবাঞ্জন দেবকে জেরা করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। করোনার বদলে হাম বা বিসিজির টিকা নিয়ে প্রতারণার শিকার হন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীসহ অনেকে।

এ নিয়ে দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের একসঙ্গে উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এ ঘটনায় তৃণমূল যোগের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।

ভুয়া টিকা শিবিরে কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিন নয়, তার বদলে বিসিজি বা হামের টিকা দেয়া হয়েছে বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, 'এ রাজ্যে সবকিছু বেআইনিভাবে চলে, তা থেকে টাকা কামানোও হয় । এসবের মধ্যে তৃণমূলের নেতারাও যুক্ত। একজন সাংসদ কীভাবে এসব খোঁজখবর না নিয়ে গেলেন?'

কলকাতায় টিকা জালিয়াতি নিয়ে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কলকাতাসহ সারা রাজ্যে টিকা দেয়ার কাজ সন্তোষজনক। একজন অপরাধ করেছে। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

‘নেতাদের সঙ্গে ছবি কিছু প্রমাণ করে না। তাহলে সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে সবার পরিচয় যাচাই করতে হয়।’

টানা ১০ দিন কলকাতা পুরসভার নামে কসবায় বিনা মূল্যে করোনার টিকাকরণের শিবির চালাচ্ছিলেন দেবাঞ্জন।

টিকাকরণে উৎসাহ দিতে ওই শিবির থেকে টিকা নেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু টিকা নেয়ার মেসেজ তার ফোনে না আসায় সন্দেহ হয়।

মিমি পুলিশকে জানালে ভুয়া টিকাকরণের বিষয়টি সামনে চলে আসে।

তদন্তে নেমে দেবাঞ্জনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুধু কসবা নয়, আমহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজেও দেবাঞ্জন একই রকম ভুয়া টিকাকরণের শিবির করেছিলেন।

কলকাতা পুরসভার নামে বেআইনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন দেবাঞ্জন। ভারত সরকারের স্টিকার, নীল বাতি লাগানো সাদা টয়োটা গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াতেন দেবাঞ্জন। এলাকায় প্রভাবশালী পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

দেবাঞ্জনের কাছ থেকে কলকাতা পুরসভার সিলমোহর, প্যাড, অন্যান্য কাগজপত্র এবং তার কসবার নিউমার্কেটের অফিস থেকে ভুয়া টিকা বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ ও অক্সিমিটার দেবাঞ্জন মজুত করেছিলেন পরে চড়া দামে বিক্রি করবেন বলে।

যে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার কাছ থেকে পুরসভার নাম ভাঙিয়ে ঋণ নিয়েছিলেন দেবাঞ্জন, সে সংস্থা তালতলা থানায় অভিযোগ করেছে।

টিকা দেয়ার জন্য ১৩ জনের একটি দল গঠন করেছিলেন দেবাঞ্জন। এ দলে কারা ছিলেন, তারা ডাক্তার নাকি নার্স, এসব জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

শুক্রবার লালবাজারের তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবাঞ্জনের কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করবেন এ প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা, কীভাবে যুক্ত। টিকার ভায়াল এল কোথা থেকে এবং আর কোথাও এমন ভুয়া শিবির চলছে কি না।

বাগরি মার্কেট থেকে কিনে এনে নকল স্টিকার লাগানো টিকার ভায়ালে কী ছিল, তা জানতে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার নজর এড়িয়ে ভুয়া টিকাকরণের এমন শিবির এতদিন ধরে চলল কী করে।

এদিকে ভুয়া টিকা নেয়া ব্যক্তিদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুরসভা তাদের শারীরিক পরীক্ষা করছে।

ভুয়া টিকা নেয়া মিমি চক্রবর্তী শুক্রবার পরীক্ষা করাবেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন

চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে উনিশের অক্টোবরে

চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে উনিশের অক্টোবরে

২০১৯ সালের অক্টোবরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সার্স-কোভ-২ এর আবির্ভাব হয়।

২০১৯ সালের অক্টোবরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হতে পারে। এর দুই মাস পর ডিসেম্বরে দেশটির উহান শহরে মানবদেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয়।

চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী পিএলওএস প্যাথোজেন্সে শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সার্স-কোভ-২ এর আবির্ভাব হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাসের আবির্ভাবের সম্ভাব্য তারিখ ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর। পরের বছর ২০২০ সালের জানুয়ারির দিকে এটি সম্ভবত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা বিশ্বকে জানায় চীন। উহান শহরের হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে এটির সংক্রমণ হতে পারে বলে সে সময় ধারণা করা হয়।

ডিসেম্বরের আগে চীনে করোনার উপস্থিতির সঙ্গে হুয়ানান সিফুড মার্কেটের যোগসূত্র জানা যায়নি। এর অর্থ হলো মার্কেটটি থেকে ছড়ানোর আগেই সার্স-কোভ-২ এর সংক্রমণ শুরু হয়।

চলতি বছরে মার্চের শেষের দিকে চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে অবশ্য স্বীকার করা হয়, উহানে প্রাদুর্ভাবের আগেই করোনায় বিছিন্নভাবে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

চলতি সপ্তাহে চীনে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকের ডিলিট করা সিকোয়েন্সিং ডাটা উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. জেস ব্লুম।

ডাটায় দেখা যায়, হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সামগ্রিকভাবে সার্স-কোভ-২কে প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং হুয়ানান থেকে ছড়ানোর আগে এটির উপস্থিতি ডাটায় পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ রয়টার্সকে জানায়, গত বছরের মার্চে গবেষণায় ব্যবহৃত নমুনা সিকোয়েন্স রিড আর্কাইভে জমা দেয়া হয়। পরে চীনের অনুসন্ধানকারীদের অনুরোধে সেসব ডিলিট করা হয়।

চীনা অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্য ছিল, নমুনা হালনাগাদ করে অন্য আরেকটি আর্কাইভে জমা দেয়া হবে।

সমালোচকদের ভাষ্য, ডিলিট করায় এটাই প্রমাণ হয় যে, করোনার উৎস ঢাকার চেষ্টা করেছিল চীন।

হার্ভার্ডের ব্রড ইনস্টিটিউটের গবেষক অ্যালিনা চ্যান টুইটবার্তায় বলেন, ‘উহানে করোনা কীভাবে ছড়ায় এ তথ্য সংবলিত গুরুত্বপূর্ণ ডাটা ডিলিট করতে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজকে বিজ্ঞানীরা কেন বলবেন?’

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন

ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

ডাবের পানি লবণের মিশ্রণে করোনা সারে না

ইউনিভার্সিটি অফ ইন্দোনেশিয়ার মেডিক্যাল স্কুলের ডিন অধ্যাপক আরি ফাহরিয়াল সিয়াম জানান, করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে কথিত এ পথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘এই পথ্য নিছক গুজব; মিথ্যা খবর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধই এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি; না আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে, না ভেষজ পথ্য হিসেবে।’

ডাব বা নারিকেলের পানির সঙ্গে লবণ, মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে খেলে করোনাভাইরাস সেরে যায় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে।

তবে বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দাবিটি সত্য নয়।

চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সেরে ওঠার সঙ্গে এ মিশ্রণ পান করার কোনো সম্পর্ক নেই।

ফেসবুকে করোনার প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া ওষুধটির দাবি সংক্রান্ত পোস্টটি প্রথম প্রকাশ হয় গত ২৫ মে।

পোস্টে ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় লেখা কথাটি অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘মহান আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি। করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভের একটি প্রাকৃতিক পথ্য বা ওষুধ এটি। উপকরণ: ডাবের পানি, একটি লেবুর রস, আধা চা-চামচ লবণ ও দুই টেবিল চামচ মধু।

‘সব মিশিয়ে পান করে ফেলুন। আল্লাহ আপনার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবেন। আমিন।’

পরে আরও বেশ কয়েকজন একই পোস্ট প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। কিন্তু এ দাবি মিথ্যা।

ইউনিভার্সিটি অফ ইন্দোনেশিয়ার মেডিক্যাল স্কুলের ডিন অধ্যাপক আরি ফাহরিয়াল সিয়াম জানান, করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে কথিত এ পথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, ‘এই পথ্য নিছক গুজব; মিথ্যা খবর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধই এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি; না আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে, না ভেষজ পথ্য হিসেবে।’

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগিজাকার্তা শহরের গাদজাহ মাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক জুলিয়ার ইকাবতি বলেন, ‘ফেসবুকের এসব পোস্ট ভিত্তিহীন। এসব দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপন করেনি কেউ।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, প্রতিকার ও চিকিৎসাবিষয়ক এমন বেশ কয়েকটি তথ্য ভুয়া বলেও আগেও বের হয়ে এসেছে এএফপির ফ্যাক্ট চেকে।

এর আগে লবণ খাওয়া, লেবুর রস পান করা, অ্যাসপিরিন ওষুধ, লেবুর রস ও মধুর মিশ্রণ করোনার ঘরোয়া ওষুধ হিসেবে কার্যকর বলে ভিত্তিহীন দাবি করেছিলেন অনেকেই।

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন

খুলনা বিভাগে ১ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত, ২৩ মৃত্যু

খুলনা বিভাগে ১ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত, ২৩ মৃত্যু

খুলনা বিভাগে বাড়ছে মৃত্যু, শনাক্ত। ছবি: নিউজবাংলা

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ৭, খুলনায় ৫, যশোরে ৫, ঝিনাইদহে ২, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও মেহেরপুরে ১ জন করে মারা গেছেন।

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই সময়ে খুলনায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩২২ জন, যা বিভাগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

এর আগে ১৮ জুন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। বিভাগে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৫০ হাজার।

শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ৭, খুলনায় ৫, যশোরে ৫, ঝিনাইদহে ২, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও মেহেরপুরে ১ জন করে মারা গেছেন।

খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ১১৭ জন।

বিভাগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ । এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ হাজার ৯২২ জন।

জেলাভিত্তিক করোনা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা জেলায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয় ৩৩২ জনের দেহে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ১৬১ জনের।

জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ২৩৩ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৩৪৯ জন।

বাগেরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয় ৭৩ জনের দেহে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয় ২ হাজার ৮৬৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৩৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয় ৪৮ জনের দেহে। জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৭৭ জনের। মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ২৩২ জন।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয় ৩৭০ জনের দেহে। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭২০ জনের।

এ সময় মারা গেছেন ১২৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৮৮৯ জন।

এক দিনে নড়াইলে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয় ২ হাজার ৪৬১ জনের।

জেলায় মোট মৃত্যু হয় ৩৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন।

মাগুরায় নতুন ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট করোনা শনাক্ত ১ হাজার ৪৩৬। মৃত্যু ২৫ ও সুস্থ ১ হাজার ২৩৫।

ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৭৯ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৯০ জন। মারা গেছেন ৮০ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯৩৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১১ জনের দেহে। জেলায় মোট শনাক্ত সংখ্যা ৬ হাজার ৯১২; মৃত্যু ১৮০ ও সুস্থ ৫ হাজার ২২২।

চুয়াডাঙ্গায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ১১৬ জন। মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জনের। মারা গেছেন ৮২। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৪৯ জন।

মেহেরপুরে নতুন করোনা শনাক্ত হয় ৪৫ জনের। মোট শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে মৃত্যু ৩৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪০ জন।

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে করোনায় আরও ১৪ মৃত্যু, অর্ধেক নারী

রাজশাহীতে করোনায় আরও ১৪ মৃত্যু, অর্ধেক নারী

রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তাদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়, যা এখন পর্যন্ত ভাইরাসে এখানকার সর্বোচ্চ প্রাণহানি।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তাদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ।

এ নিয়ে চলতি মাসের ২৫ দিনে (১ থেকে ২৫ জুন) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২৭৭ জন।

এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১৩৮ জন। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।

হাসপাতালের পরিচালক আরও জানান, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি রাজশাহীতে, ৩ জনের নওগাঁয়, ৪ জনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ১ জনের বাড়ি নাটোরে।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৪ জনের বয়স ষাটোর্ধ্ব। এ ছাড়া ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৪, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫ জন মারা গেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬৫ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৩ জন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ৪২৩ জন। গতকাল এ সংখ্যা ছিল ৪০৪ জন।

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

সাতক্ষীরায় ২১ দিন লকডাউনেও মেলেনি সুফল। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও ৭ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ জন সাতক্ষীরা মেডিক্যালে ও ১ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চলতি মাসে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৩০৪ জন। আর করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন ৬৩ জন। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৬৫ জনের দেহে। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২২৯ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৪ জন করোনা সংক্রমিত রোগী ভর্তি ছিলেন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৩৬৭ জন। গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ৯; উপসর্গে ৪৫ জন।

সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবাই উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। বুধবার (২৩ জুন) করোনায় মৃত্যু ১; উপসর্গে ৭ জনের। মঙ্গলবারেও (২২ জুন) করোনায় মৃত্যু ১; উপসর্গ নিয়ে ৮।

২১ জুন মোট মৃত্যু ৪; করোনায় ১ ও উপসর্গে ৩। ২০ জুনে করোনায় ৩ ও উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়। শনিবার (১৯ জুন) ৮ জনের মৃত্যু হয়; করোনায় ১ ও উপসর্গে ৭ মৃত্যু হয়। আর ১৮ জুন করোনায় ১ জনের মৃত্যু হয়।

লকডাউনের মধ্যেও করোনা সংক্রমণ না কমার কারণ হিসেবে সিভিল সার্জন হুসেইন শাফায়াত বলেন, ‘জনগণ আইনকানুনের তোয়াক্কা করছেন না বলেই মনে হয় এমন হচ্ছে। শুধুমাত্র মাস্ক পরার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায়।

‘পাশাপাশি এটাও বলা যায়, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে। যে কারণে সংক্রমণ কমছে না। একটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। পিকটাইমটা চলে গেছে। লকডাউনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অচিরেই আমরা এর ফল পাব।’

এদিকে রোগী ভর্তির শয্যা সংকট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল। সিট না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট মানস মণ্ডল জানান, এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছেন ২৯১ জন। সিট ক্যাপাসিটি ২০০। ফলে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন অথবা ফ্লোরে থাকছেন। শয্যা বাড়াতে হলে চিকিৎসক বাড়াতে হবে। সেবিকা, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনারসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদিও বাড়াতে হবে।

অপরদিকে বরাবরের মতো ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউনের ২১তম দিন। শহর ও গ্রামে একাধিক যান চলাচল করতে দেখা গেছে। মোবাইল কোর্টের তৎপরতাও ছিল সীমিত।

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন

খুলনার ৩ হাসপাতালে এক দিনে ৯ মৃত্যু

খুলনার ৩ হাসপাতালে এক দিনে ৯ মৃত্যু

খুলনার তিনটি হাসপাতালে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৬, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনার তিনটি হাসপাতালে করোনাভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে এক দিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৬, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা করোনা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনের করোনায় ও ১ জনের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

১৩০ শয্যার এ হাসপাতালে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৫৪ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে রেড জোনে ৯৬, ইয়েলো জোনে ২৩, এইচডিইউতে ২০ ও আইসিইউতে ১৬ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন।

খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে খুলনার রূপসা উপজেলার সরদার মনিরুল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬৯ জন। এর মধ্যে ৩০ পুরুষ ও ৩৯ জন নারী।

গাজী মেডিক্যালের স্বত্বাধিকারী গাজী মিজানুর রহমান জানান, এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার শাহানা জামান ও পিরোজপুর সদরের রহিমা।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ৯৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ৯ ও এইচডিইউতে ৭ জন চিকিৎসাধীন।

এক দিনে হাসপাতালে ২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন।

এ ছাড়া হাসপাতালের আরটি পিসিআর মেশিনে ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২২ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ জানান, খুলনা মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবে বৃহস্পতিবার রাতে ৩৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৯৯ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

খুলনার ৩২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৭৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

এ ছাড়া বাগেরহাটের ১৪, যশোরের ৬, সাতক্ষীরার ২ ও গোপালগঞ্জের ১ জন রয়েছেন।

উপাধ্যক্ষ আরও জানান, মোট নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
নওয়াপাড়ার ৩ ওয়ার্ড অবরুদ্ধ, সড়কে ব্যারিকেড
ভারতে করোনায় মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ ছাড়াল
রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরও ৮ মৃত্যু
করোনা চিকিৎসার খরচ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
‘সীমান্ত এলাকায় বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে’

শেয়ার করুন