থানচিতে বেড়েছে ম্যালেরিয়া

থানচিতে বেড়েছে ম্যালেরিয়া

স্থানীয় লোকজন জানান, বর্ষায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। অনেক পরিবারেরই মশারি নেই। মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

বর্ষাকাল শুরুর আগেই বান্দরবানের থানচিতে দেখা দিয়ে ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব। নানা প্রতিকূলতায় রোগীরা পাচ্ছেন না জরুরি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ।

রোগী নিয়ে বান্দরবান শহরে আসারও সুযোগ নেই। দুর্গম এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ না হওয়ায় ও মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই এলাকাগুলো।

রোগীরা চেষ্টা করছেন কবিরাজি ওষুধ খেয়ে বাড়িতেই ম্যালেরিয়া সারানোর।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা জানান, এক সপ্তাহ ধরে এই ইউনিয়নের বড় মদক এলাকার প্রু সাঅং কারবারি পাড়ার ৭-৮ জন এবং ছোট মদক সাখয়উ কারবারি পাড়ার ৭-৮ জন প্রথমে সামান্য জ্বরে ভুগলেও পরে জানা যায় তারা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত।

তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, বর্ষায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। অনেক পরিবারেরই মশারি নেই। মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, গত এক সপ্তাহে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

সাতক্ষীরায় ২১ দিন লকডাউনেও মেলেনি সুফল। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও সাত জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৭ জন সাতক্ষীরা মেডিক্যালে ও ১ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ নিয়ে উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন ৩০৪ জন। আর করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন ৬৩ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৪ জন করোনা সংক্রমিত রোগী ভর্তি ছিলেন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৩৬৭ জন।

এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৬৫ জনের দেহে। সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ২২৯ জন।

বিস্তারিত আসছে...

শেয়ার করুন

খুলনার ৩ হাসপাতালে এক দিনে ৯ মৃত্যু

খুলনার ৩ হাসপাতালে এক দিনে ৯ মৃত্যু

খুলনার তিনটি হাসপাতালে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৬, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনার তিনটি হাসপাতালে করোনাভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে এক দিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৬, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা করোনা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনের করোনায় ও ১ জনের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

১৩০ শয্যার এ হাসপাতালে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৫৪ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে রেড জোনে ৯৬, ইয়েলো জোনে ২৩, এইচডিইউতে ২০ ও আইসিইউতে ১৬ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন।

খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে খুলনার রূপসা উপজেলার সরদার মনিরুল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬৯ জন। এর মধ্যে ৩০ পুরুষ ও ৩৯ জন নারী।

গাজী মেডিক্যালের স্বত্বাধিকারী গাজী মিজানুর রহমান জানান, এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার শাহানা জামান ও পিরোজপুর সদরের রহিমা।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ৯৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ৯ ও এইচডিইউতে ৭ জন চিকিৎসাধীন।

এক দিনে হাসপাতালে ২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন।

এ ছাড়া হাসপাতালের আরটি পিসিআর মেশিনে ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২২ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ জানান, খুলনা মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবে বৃহস্পতিবার রাতে ৩৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৯৯ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

খুলনার ৩২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৭৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

এ ছাড়া বাগেরহাটের ১৪, যশোরের ৬, সাতক্ষীরার ২ ও গোপালগঞ্জের ১ জন রয়েছেন।

উপাধ্যক্ষ আরও জানান, মোট নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে করোনায় আরও ১৪ মৃত্যু, অর্ধেক নারী

রাজশাহীতে করোনায় আরও ১৪ মৃত্যু, অর্ধেক নারী

রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তাদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়, যা এখন পর্যন্ত ভাইরাসে এখানকার সর্বোচ্চ প্রাণহানি।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তাদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ।

এ নিয়ে চলতি মাসের ২৫ দিনে (১ থেকে ২৫ জুন) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২৭৭ জন।

এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১৩৮ জন। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।

হাসপাতালের পরিচালক আরও জানান, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি রাজশাহীতে, ৩ জনের নওগাঁয়, ৪ জনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ১ জনের বাড়ি নাটোরে।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৪ জনের বয়স ষাটোর্ধ্ব। এ ছাড়া ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৪, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫ জন মারা গেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬৫ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৩ জন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ৪২৩ জন। গতকাল এ সংখ্যা ছিল ৪০৪ জন।

শেয়ার করুন

বেসরকারিভাবে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি

বেসরকারিভাবে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি

বেসরকারিভাবে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনুমোদন হয়েছে, এখন অর্ডার ইস্যু হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যে ফাইলটা আসছিল, এটা সই হয়ে গেছে। দুই-চার দিনের মধ্যে তারা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু করতে পারবে।’

সরকারের পাশাপাশি এখন থেকে বেসরকারিভাবে করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক মাসে আগে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা আসে। আমরা সেই ফাইলে সই করেছি। সেখানে যে প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এসেছিল সেগুলো এখন থেকে বেসরকারিভাবে অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে পারবে।’

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সরকারিভাবে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দেয়ার কথা জানানো হয়।

সেই চিঠিতে বলা হয়, সারা দেশে করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রস্তাবনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১১ সেপ্টেম্বরের ‘ইনটারিম গাইডেন্স’ অনুসরণ করে দেশের সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সব স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর অনুমতি দেয়া হলো।

বেসরকারিভাবে পরীক্ষার অনুমোদনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অনুমোদন হয়েছে, এখন অর্ডার ইস্যু হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যে ফাইলটা আসছিল, এটা সই হয়ে গেছে। দুই-চার দিনের মধ্যে তারা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু করতে পারবে।’

এক মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ৩৪টি বেসরকারি হাসপাতালের তালিকা রয়েছে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি পর্যায়ে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মূল্য হবে ৭০০ টাকা।

অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে সরাসরি করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যায় না। তবে যারা উপসর্গহীন আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের রোগ পরবর্তী সময়ে অ্যান্টিবডি যাচাইয়ের ভিত্তিতে শনাক্ত করা সম্ভব।

শরীরে নির্দিষ্ট কোনো রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না- সেটি জানতে এ ক্ষেত্রে রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে আক্রান্ত শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের ওপরেই নির্ভর করছিল সরকার। তবে পরীক্ষার হার বাড়াতে ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্ত হয় অ্যান্টিজেন টেস্ট। সীমান্তে বিনামূল্যে করা হচ্ছে এই টেস্ট।

শেয়ার করুন

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের তিন রোগী ‘সুস্থ’, ওষুধে ব্যয় ১৫ লাখ

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের তিন রোগী ‘সুস্থ’, ওষুধে ব্যয় ১৫ লাখ

করোনার মধ্যে গত ২৪ মে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে রোগী পাওয়ার খবর আসে গণমাধ্যমে। এই ছত্রাকে আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চমৃত্যু হার নিয়ে আছে উদ্বেগ। তবে এখন পর্যন্ত যে পাঁচ জন রোগী পাওয়া গেছে, তাদের একজনের মৃত্যুর তথ্য আছে। যদিও চিকিৎসার উচ্চ খরচ নিয়ে আছে উদ্বেগ।

দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাকে আক্রান্ত পাঁচ রোগীর মধ্যে একজন মারা গেলেও একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অন্য দুই জন সুস্থ হওয়ার পথে। আর একজন কাউকে কিছু না বলে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

এটি কোনো নতুন ছত্রাক না হলেও ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ব্যাপকভাবে তা দেশটিতে ছড়িয়ে যাওয়ায় সেখানে করোনার পাশাপাশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মহামারিও ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ছত্রাকে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার খুবই বেশি। পাশাপাশি ব্যাপক চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টিও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

বাংলাদেশে এই রোগের চিকিৎসায় ওষুধ উৎপাদন হলেও ভারতের মতোই যদি বাংলাদেশেও ছড়ায়, তাহলে সেই কোম্পানিটি চাহিদা পূরণ করতে পারবে না, সেটি সরকারকেও জানিয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৪ মে গণমাধ্যমে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর আসে। সেই রোগী ছিলেন বারডেম হাসপাতালে। বিষয়টি সে সময় তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়।

পরদিন হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একজন রোগী এরই মধ্যে মারা গেছেন আর একজন চিকিৎসাধীন আছেন। পরে আরও তিন জনের সংক্রমণের তথ্য আসে, যাদের মধ্যে একজন ভর্তি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

ওই চারজনের বিষয়ে খোঁজ নিতে নিউজবাংলা কথা বলেছে দুটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন নিউজবাংলা বলেন, ‘করোনা পরবর্তী জটিলতায় নিয়ে বারডেম হাসপাতালের ভর্তি হয় ৫৫ বছর বয়সী একজন রোগী। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি এক মাস ২১ দিন আগে করোনা থেকে মুক্তি লাভ করেন। কিন্তু দুই এক দিনের মধ্যে গায়ে জ্বর দেখা দেওয়া তিনি আবার খুলনা হাসপতালে চিকিৎসা নেন। ওখানার চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বারডেমে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ আগে সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফিরেছেন।’

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের তিন রোগী ‘সুস্থ’, ওষুধে ব্যয় ১৫ লাখ


তিনি জানান, আজ সেই রোগী আবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। তার সামান্য কাশি রয়েছে। সাতক্ষীরা অবরুদ্ধ থাকায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন।

এই রোগী পাঁচ বছর ধরে ডায়বেটিসে ভুগছেন। সঙ্গে হাঁপানির সমস্যাও আছে।

হাসপাতালে চার সপ্তাহে কেমন খরচ হলো, সেই তথ্যও জানিয়েছেন অধ্যাপক দেলোয়ার। জানান অ্যান্টি ফাঙ্গাস ইনকেজশন দিতে হয়েছে প্রতিদিন। এ জন্য দিনে খরচ হয়েছে ৭২ হাজার টাকা। হাসপাতাল শয্যা ও অন্যান্য খরচ এর বাইরে।

বারডেম চিকিৎসা নিতে এসে যে রোগী কাউকে না বলে চলে গেছেন, তার কোনো খোঁজই মিলছে না।

অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, ‘তার বিষয়টি নিয়ে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব না। আর এখন যে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি সুস্থ হওয়ার পথে।’

গত ১৪ জুন খুলনা থেকে আসা এক রোগীর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ধরা পড়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তিনিও প্রায় সুস্থের পথে।

মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ টিটো মিঞা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আর এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করছি। বর্তমানে রোগীর এম্ফোটেরিসিন-বি দিয়ে চিকিৎসা চলছে।’

চিকিৎসা কী?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, এই রোগের চিকিৎসা হয় চার ভাগে।

আক্রান্ত ব্যক্তির যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে প্রথমে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়। রোগী আগে থেকে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে সেটিও অনেক কমিয়ে দিতে হবে।

এমন কিছু রোগের ক্ষেত্রে রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমানোর ওষুধও দিতে হয়। তবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হলে সেসব ওষুধও বন্ধ রাখতে হয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসবিরোধী একটি ইনজেকশন আছে। সেটি প্রয়োগের পাশাপাশি কোনো স্থানে যদি ক্ষত তৈরি হয়, সেই ক্ষতটি কেটে ফেলতে হয়। চোখে ক্ষত হলে চোখও তুলে ফেলতে হয়।

নার্জাল এন্ডোস্কোপি করে যদি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়, তাহলে বিদ্যুতের শকও দেয়া হয়।

মৃত্যুহার যেমন বেশি, তেমনি সমস্যা হচ্ছে এর চিকিৎসার খরচ।

চার থেকে ছয় সপ্তাহ রোগীকে ফলোআপে রাখতে হয়। আর এই সম্পূর্ণ সময়টি হাসপাতালে ভর্তি থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে জানাচ্ছেন অধ্যাপক শরফুদ্দিন। এত দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকলে যে খরচ তা অনেকের পক্ষেই সামাল দেয়া কঠিন।

যে ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়, তার একেকটির দাম ১৫ হাজার টাকা। দেশে সংকট দেখা দিলে ওষুধের দাম বাড়ার অতীত ইতিহাস আছে।

দেলোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, এই ইনজেকশন দিতে হয় স্যালাইনের মাধ্যমে। দিনে দুই থেকে তিনটিও লাগে কখনও কখনও। দুই সপ্তাহ থেকে ছয় সপ্তাহে এই ইনজেকশন দিতে হয়।

দিনে দুটি লাগলেও যদি দুই সপ্তাহ দিতে হয়, তাহলে কেবল ইনজেকশনের খরচ দাঁড়ায় ২ লাখ ১০ হাজার, আর যদি ছয় সপ্তাহ দিতে হয়, তাহলে খরচ হবে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের তিন রোগী ‘সুস্থ’, ওষুধে ব্যয় ১৫ লাখ


তিনটি করে লাগলে দুই সপ্তাহে ইনজেকশনের পেছনে খরচ হবে ৩ লাখ ১৫ হাজার, আর ছয় সপ্তাহে ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম ব্রিফিং করে জানিয়েছেন, এই চিকিৎসার ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজছেন তারা। এরই মধ্যে বিভিন্নভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। এই ছত্রাক বৃদ্ধি পেলেও যাতে ওষুধের দাম না বাড়ে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

ছোঁয়াচে নয় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

কিছুটা স্বস্তির বার্তা হলো, চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ‘পারসন টু পারসন’ অর্থাৎ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তার পরেও সতর্ক থাকতে হবে এই ছত্রাক নিয়ে।

বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস যে কেবল করোনার কারণেই হবে, সেটা নয়। ‘হসপিটাল অ্যাকোয়ার্ড’ ইনফেকশনও হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘তাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোগীদের পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং দরকার না হলে স্টেরয়েড ও অক্সিজেন না দেয়ার মতো কাজগুলো করতে হবে।’

কখন আক্রমণ করে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস পরিবেশে সব সময়ই থাকে। থাকে মানুষের শরীরেও। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে এটা রোগ হিসাবে দেখা দেয়।

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাদের ঝুঁকি বেশি। আবার স্টেরয়েড গ্রহণ করা ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

তিনি জানান, এই ছত্রাক নাক, চোখ এবং কখনও কখনও মস্তিষ্কে আক্রমণ করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগটির নাম মিউকরমাইকোসিস। করোনাকালে ভারতে ছড়াচ্ছে করোনা থেকে সেরে ওঠার পর।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, করোনা থেকে মুক্ত হলেও শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে সময় লাগে বেশি।

আর এই দুর্বল সময়ে আঘাত হানে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। আর এই রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি; শতকরা ৫০ থেকে ১০০ ভাগ পর্যন্ত মৃত্যুর তথ্য আছে।

শেয়ার করুন

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

ডেল্টা প্লাস ধরন কি ডেকে আনবে তৃতীয় ধাক্কা

নতুন ডেল্টা প্লাস ধরন করোনার তৃতীয় ধাক্কার কারণ হতে পারে বলে শঙ্কা অনেকের। ছবি: ডিএনএইন্ডিয়া

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ভারতের তিন রাজ্যে করোনাভাইরাসের ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মিলতেই তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়া এক নারীর মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে।

এ ধরনে আক্রান্ত হওয়া রোগীর মধ্যে ওই রাজ্যে এটাই প্রথম মৃত্যু। মৃত নারী উজ্জয়িনীর বাসিন্দা।

সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন বুধবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

অনেকেরই আশঙ্কা, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে করোনার এই নতুন ধরন।

তবে ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টেগ্রেটেড বায়োলজির পরিচালক ড. অনুরাগ আগরওয়াল জানান, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার জন্য ডেল্টা ধরনই দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভাইরাসের এই ধরনের প্রথম খোঁজ মিলেছিল ভারতেই। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে তা শনাক্ত হয়।

ভাইরাসের মিউটেশন হয়েছে কি না, তা জানার জন্য প্রয়োজন জিনোম সিকোয়েন্সিং। করোনায় আক্রান্তদের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেই অস্তিত্ব মিলেছে ডেল্টা প্লাস ধরনের।

এ বিষয়ে আগরওয়াল বলেন, ‘আপাতত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, তৃতীয় ধাক্কার কারণ হিসেবে ডেল্টা প্লাস ধরনই দায়ী থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘কেবল জুন মাসেই মহারাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এ নমুনাগুলো এপ্রিল ও মে মাসে সংগ্রহ করা হয়। নমুনাতেই ডেল্টা প্লাস ধরনের খোঁজ মেলে।

‘তবে এখন পর্যন্ত এতে সংক্রমণের হার ১ শতাংশের কম। তৃতীয় ধাক্কা আসার আগে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার চেয়ে দ্বিতীয় ধাক্কা এখনও কেন শেষ হয়নি, তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত।’

একই সঙ্গে সংক্রমণ রুখতে যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আবেদনও জানান তিনি।

ভারতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন ডেল্টা প্লাস ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খোঁজ মিলেছে। এরই মধ্যে তিন রাজ্য- মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সংক্রমণ রুখতে কন্টেনমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে করোনায় ১৪ দিনে ১৭১ মৃত্যু

রাজশাহীতে করোনায় ১৪ দিনে ১৭১ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জানায়, ১১ জুন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যান ১৫ জন। ২৪ জুন ১৮ জনসহ গত ১৪ দিনে এখানে ১৭১ জনের মৃত্যু হয়। জেলায় ১১ জুন করোনা শনাক্ত হয় ৩৩৯ জনের। ১৪ দিনের লকডাউনে চার হাজার ৫৭৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে হু হু করে। দুই সপ্তাহে ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই শনাক্ত হচ্ছে তিনশোর বেশি রোগী। মহানগরে লকডাউন শুরুর পরও কমছে না সংক্রমণের হার। উচ্চ সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউন চেয়েছেন সিভিল সার্জন।

দুই সপ্তাহের লকডাউনের মধ্যে রাজশাহী জেলাতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৫৭৪ জন। এই সময় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৭১ জন।

করোনা সংক্রমণের চরম অবনতির প্রেক্ষিতে রাজশাহী শহরে ১১ জুন বিকেল থেকে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। লকডাউন শুরুর পরও কমেনি মৃত্যুর সংখ্যা। বরং দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জানায়, ১১ জুন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যান ১৫ জন। ২৪ জুন ১৮ জনসহ গত ১৪ দিনে এখানে ১৭১ জনের মৃত্যু হয়।

সিভিল সার্জন অফিস জানায়, রাজশাহীতে ১১ জুন করোনা শনাক্ত হয় ৩৩৯ জন।

আর ২৪ জুন ৩১৪ জনসহ লকডাউনের ১৪ দিনে ৪ হাজার ৫৭৪ জনে করোনা শনাক্ত হয়।

সিভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদার বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে লকডাউনটি পুরোপুরি কাজে লাগেনি। তবে করোনা সংক্রমণ এই সময়ে বাড়েনি, আবার কমেও নি। এ কারণে আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। জেলাজুড়ে মাইকিংসহ সব মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ চলছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জেলায় টেস্টের পরিমাণ বাড়ছে। আগে ২০০ থেকে ৩০০ টেস্ট হতো। এখন সব মিলিয়ে কোনো কোনো দিন দুই হাজার পর্যন্ত টেস্ট হচ্ছে। এ কারণে শনাক্ত বাড়ছে। তবে শনাক্ত হার একই আছে। সংক্রমণের হার কমাতে হলে মানুষকে আরও কঠোর লকডাউনের মধ্যে আনতে হবে।’

শেয়ার করুন