লকডাউন বাড়ল ১৬ জুন পর্যন্ত

লকডাউন বাড়ল ১৬ জুন পর্যন্ত

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চলমান বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা ৬ জুন মধ্যরাত থেকে ১৬ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে চলমান বিধিনিষেধ ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রোববার এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চলমান বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা ৬ জুন মধ্যরাত থেকে ১৬ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবার ৭ দিন করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এবার বাড়ানো হয়েছে ১০ দিন।

এবার নতুন করে কিছু শর্তারোপ করেছে সরকার।

১. সব পর্যটনস্থল, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

২. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান/ওয়ালিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।

৩. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাদ্য বিক্রয় বা সরবরাহ (টেকওয়ে/অনলাইন) করতে পারবে। আসন সংখ্যার অর্ধেক সেবাগ্রহীতাকে সেবা দিতে পারবে।
৪. কোভিড-১৯-এর উচ্চঝুঁকি থাকা জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে নিজ নিজ এলাকার সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

৫. আন্তজেলাসহ সব ধরেনর গণপরিবহন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অবশ্যই যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৫ এপ্রিল থেকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধসহ সাত দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। সেই বিধিনিষেধ পরে আরও দুই দিন বাড়ানো হয়।

সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেয়া হয় কঠোর লকডাউন। এরপর সেটা কয়েক মেয়াদে বাড়িয়েছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিধিনিষেধ আরও একদফা বাড়ানো হলো।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লকডাউন অনেকটা শিথিল হয়ে এসেছে। ঈদ ছুটি পর্যন্ত দূরপাল্লার গণপরিবহন বাস, ট্রেন, লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়। তারপর ২৩ মে থেকে আন্তজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছে।

হোটেল ও খাবারের দোকানে আসনসংখ্যার অর্ধেক গ্রাহককে সেবা দেয়ার সুযোগ রেখেছে সরকার। জরুরি কাজে নিয়োজিত সরকারের দপ্তরগুলোও খোলা আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে শিল্প-কলকারখানা।

সরকারের বিধিনিষেধ আরোপ থাকলেও মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দৃশ্যত আর কোথাও লকডাউন নেই। যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেয়া প্রজ্ঞাপনে কিছু উল্লেখ নেই।

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাটডাউন বাড়ছে কি না, জানা যাবে সভা শেষে

শাটডাউন বাড়ছে কি না, জানা যাবে সভা শেষে

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা। এ সভা থেকেই চূড়ান্ত হবে শাটডাউন থাকা না থাকার বিষয়টি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান শাটডাউনের সময় আরও বাড়ানো হবে কি না, তা জানা যাবে আন্তমন্ত্রণালয় সভার পরে।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা। এ সভা থেকেই চূড়ান্ত হবে শাটডাউন থাকা না থাকার বিষয়টি।

করোনার সংক্রমণ কমাতে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। কোরবানির ঈদ পরিস্থিতির জন্য আট দিন শিথিলের পর ফের শুরু হয় শাটডাউন।

২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে কঠোর এ বিধিনিষেধ। তবে এর মধ্যেই গত রোববার থেকে খুলে দেয়া হয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্প ও কলকারখানা।

গত শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর শনিবার দিনভর হেঁটে, ছোট পরিবহনে ভেঙে ভেঙে লোকজন যায় ঢাকাসহ কারখানা থাকা বিভিন্ন শহরে।

গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে গণপরিবহন চালু করায় গাদাগাদি কিছুটা কমে। তবে রোববারও লঞ্চগুলোতে ঢাকামুখী যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল।

ঠেলাঠেলি করে শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এ আগমনে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এমন বাস্তবতায় সরকার নতুন করে শাটডাউন দেবে কি না, তা জানতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না।

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন

রাজশাহী মেডিক্যালে ৩ দিনে ৫২ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে ৩ দিনে ৫২ মৃত্যু

ফাইল ছবি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৪৭ রোগী। এ সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩০ জন। এখন সেখানে ৫১৩ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন ৩৯২ রোগী।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে করোনা শনাক্ত ৭ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে মারা গেছেন ১১ জন। এ ছাড়া করোনামুক্ত হয়েও পরবর্তী জটিলতায় ১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের এই হিসাব রেকর্ড করা হয়েছে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে।

তথ্যগুলো জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী।

তিনি জানান, এ নিয়ে গত তিন দিনে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২০ জন ও উপসর্গ নিয়ে ২৬ জন মারা গেছেন। আর করোনামুক্ত হয়েও পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় চিকিৎসাধীন ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ তিন দিনে।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৪৭ রোগী। এ সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩০ জন। এখন সেখানে ৫১৩ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন ৩৯২ রোগী।

তিনি আরও জানান, ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৭৩ জন করোনা পজেটিভ। আর করোনা-পরবর্তী জটিলতায় চিকিৎসাধীন ৭২ জন।

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন

বরিশাল বিভাগে করোনায় ৭, উপসর্গে ১২ মৃত্যু

বরিশাল বিভাগে করোনায় ৭, উপসর্গে ১২ মৃত্যু

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস জানান, এক দিনে বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৪০ জনের। এর মধ্যে বরিশালের আছেন ২৪৫ জন, পটুয়াখালীর ১৭৯, ভোলার ১৬৫, পি‌রোজপু‌রের ৬৩, বরগুনার ৪৬ ও ঝালকা‌ঠি‌র ৪২ জন।

করোনা ও উপসর্গ নিয়ে বরিশাল বিভাগে এক দিনে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১৪ জনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন।

এই তথ্যগুলো জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস।

তিনি জানান, এক দিনে বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৪০ জনের। এর মধ্যে বরিশালের আছেন ২৪৫ জন, পটুয়াখালীর ১৭৯, ভোলার ১৬৫, পি‌রোজপু‌রের ৬৩, বরগুনার ৪৬ ও ঝালকা‌ঠি‌র ৪২ জন।

এ নিয়ে বিভা‌গে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৬৭। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৯৪ জনের।

তিনি আরও জানান, উপসর্গসহ হিসাব করলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে। শুধু শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটেই এখন পর্যন্ত ১১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৭ মৃত্যু, সুস্থ ৫২

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৭ মৃত্যু, সুস্থ ৫২

ফাইল ছবি

জেলা সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, জেলায় রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ নিয়ে জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৯৫।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে উপসর্গ নিয়েই মারা গেছেন ১১ জন। করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।

সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার এই হিসাব নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন করোনা ইউনিটের মুখপাত্র আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মহিউদ্দিন খান মুন।

তিনি জানান, এই ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে ৮৮ জনকে। আর ৫২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৫৫১ জন, যার মধ্যে ২২ জন আছেন আইসিইউতে।

সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, জেলায় সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ নিয়ে জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৯৫।

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন

বিএনপিতে করোনার থাবা

বিএনপিতে করোনার থাবা

করোনায় মারা যাওয়া বিএনপির কয়েকজন নেতা। ফাইল ছবি

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য। ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

করোনাভাইরাসে রীতিমতো কাঁপছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী আক্রান্ত। মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপক।

দলের হিসাব বলছে, কেন্দ্রীয় ১৯ জন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন সারা বিশ্ব তোলপাড় করা ভাইরাসটিতে। আর সারা দেশে নেতা-কর্মীর এই সংখ্যা ৭০৯ বলে দাবি করছেন নেতারা।

দলটির করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা সবশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ১৫ জুন। এর মধ্যে পরে আরও কয়েকজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে জানান, গত দুই মাসেই মারা গেছেন ২৮৩ জন।

বিএনপির করোনা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই মাসে মৃত্যুর সংখ্যা এমনিতেই বেশি। সরকারের ব্যর্থতাই এর প্রধান কারণ। লকডাউনের তামাশা শেষ করে এখন শাটডাউনের তামাশা শুরু করছে তারা।’

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মৃত্যু হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের।

অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদের পরিবারকে দুই ঈদের উপহার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এদের বাইরে কেউ সহযোগিতার আবেদন করলে তাদেরও দেয়া হবে। এমনিতেও দলীয় তহবিল থেকে যতটুকু সম্ভব আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা মারা গেলেন

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, দলীয় চেয়ারপারসনের তিনজন উপদেষ্টা, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সম্পাদক ছাড়া আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য।

ভাইস চেয়ারম্যান দুজন হলেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী।

বিএনপিতে করোনার থাবা
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। ফাইল ছবি

প্রাণ হারানো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টারা হলেন জিয়াউর রহমান খান, এম এ হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-গ্রামসরকার বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেনও প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়।

অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা হলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিউল বারী বাবু, খুররম খান চৌধুরী, আহসান উল্লাহ হাসান, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আহাদ আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী টি এম গিয়াস উদ্দিন, এ টি এম আলমগীর, সাবেক সংসদ সদস্য আবু হেনা, আমেরিকার বোস্টনে বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মিতোষ বড়ুয়া, জাতীয় ট্যাক্স-বারের সাবেক সভাপতি গফুর মজুমদার, ওলামা দলের প্রচার সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ কাশেমী, দিনাজপুর বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক।

বিএনপিতে করোনার থাবা
মানিকগঞ্জের বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানেরও মৃত্যু হয় করোনায়। ফাইল ছবি

তৃণমূলে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু চট্টগ্রাম বিভাগে

হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী দলটির সবচেয়ে বেশি নেতা-কর্মী মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। আর সবচেয়ে কম নেতা-কর্মী মারা গেছেন ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগে (সাংগঠনিক বিভাগ)।

বিএনপিতে করোনার থাবা
করোনায় মারা যাওয়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয় দলটি। ফাইল ছবি

তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮৬, খুলনা বিভাগে ১৫৪, রংপুর বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ৩৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১, ফরিদপুর বিভাগে ১১, বরিশাল বিভাগে ১৯, কুমিল্লা বিভাগে ৩৫ এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন মারা গেছেন।

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন

কবে মিলবে শিশুর টিকা, স্কুল খুলবে কবে

কবে মিলবে শিশুর টিকা, স্কুল খুলবে কবে

চীনের সিনোফার্মের টিকা আসার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের সেগুলো প্রয়োগ করা হয়। ফাইল ছবি

সারা দেশে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ। ১৮ বছরের নিচের জনগোষ্ঠীকে টিকা দেয়ার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালায় পরিষ্কার কিছু উল্লেখ নেই। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শিশুদের টিকা দেয়ার কথা ভাবছে না।

দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে চায় সরকার। এই লক্ষ্যে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবার টিকার নিবন্ধনের সুযোগ মিলছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ১৮ বছরের নিচে স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়ে এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই।

সরকার বলছে, শিশুদের টিকা না দিয়ে স্কুল খোলা হবে না। সে ক্ষেত্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা দেখা দিলেও স্কুল খোলার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সারা দেশে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ। টিকা স্বল্পতার পাশাপাশি এবং ১৮ বছরের নিচের জনগোষ্ঠীকে টিকাদানের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালায় পরিষ্কার কিছু উল্লেখ না থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শিশুদের টিকা দেয়ার কথা ভাবছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ৮০ শতাংশ লোককে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত টিকা পাইপ লাইনে নেই। দেশে যে চার ধরনের টিকা আসছে, সেগুলো দেয়ার তালিকায় স্কুলশিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার আপাতত পরিকল্পনা নেই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া প্রক্রিয়া চলছে। পর্যায়ক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে।

এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার ব্যাপারে তারা আলোচনায় বসবেন শিগগিরই। এর মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টিকা চলে আসবে। দুই অধিদপ্তর বসে তখন হয়তো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও টিকা নিশ্চিত করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সুপারিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত চারটি কোম্পানির টিকা পেয়েছি। এগুলো হলো মডার্না, ফাইজার, সিনোফার্ম এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর মধ্যে শুধু ফাইজারের টিকা ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন রয়েছে। সরকার চাইলে শিশুদের টিকার আওতায় আনতে পারে।

তিনি আরও বলেন, স্কুল-কলেজ খুলে দিতে শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের যে টিকা দেয়া যায়, তার যোগান বাড়াতে হবে। নতুন কোনো টিকা ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের দেয়ার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দেয় কিনা সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ‘টিকা দেয়ার আগে স্কুল-কলেজ খোলা ঠিক হবে না। আমার জানা মতে, এ ধরনোর কোনো টিকা এখনও দেশে আসেনি। তবে যতটুকু খবর পাচ্ছি, আগস্ট নাগাদ ফাইজারে টিকা দেশে আসছে। এই টিকা হাতে পেরে সরকার শিশুদের টিকার প্রয়োগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘না আমাদের এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আগে ১৮ বছর এর সবাইকে টিকা দেয়া শেষ হোক। আর বিষয়টি দেখবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।’

গত ৩ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে শনিবার সংসদ নেতার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়েই স্কুল-কলেজ খুলতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার দাবি উঠছে। কিন্তু আসল কথা হলো যাদের বাচ্চারা স্কুল-কলেজে যায়, তারাই কিন্তু চাচ্ছেন না এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হোক।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র মো. রোবেদ আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেয়া হয়েছে। এটা ইতোমধ্যে আইসিটি বিভাগে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে। তবে স্কুলের টিকা দেয়ার বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইজারের টিকা শিশুদের দেয়া যাবে বলে পরামর্শ আছে। তারা বলছেন, আমেরিকা পরীক্ষামূলকভাবে শিশুদের টিকা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী ভাবছে এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও আমাদের সিদ্ধান্ত আসেনি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মনে করি এ বিষয়ে কথা বলার সময় আমাদের দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। আর একটি কথা মাথায় রাখতে হবে যে, আমরা টিকা উৎপাদনকারী দেশ নই। তাই আমার পরামর্শ আগে বয়স্ক এবং মায়েদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ বছর ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকার আওতায় আনা গেলে দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। তখন সরকারের পক্ষে স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে। করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যে পরিকল্পনা, সেটিই বাস্তবসম্মত বলে আমি মনে করি।’

১৮ বছরের নিচের শিশুদের টিকা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশে ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। ফাইজারের টিকা উৎপাদনকারী সংস্থাটি বলছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুর ওপর টিকা প্রয়োগের ওপর একটি গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর টিকা নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন সংস্থার কাছে এ বিষয়ে জরুরি অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। তবে সরকার এখন চাইলে ১২ বছরের উপরে সবাইকে টিকা আওতায় আনতে পারে। কারণ আগস্টে ৬০ লাখ ফাইজার টিকা আসছে। চাইলে এই টিকা শিশুদের দেয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ‘ভারতীয় বায়োটেক কোম্পানি ভারত বায়োটেক দুই বছর বছরের বেশি বয়সীদের ব্যবহারের জন্য একটি টিকার পরীক্ষা চালাচ্ছে। এ পরীক্ষা সফল হলে সারা বিশ্বের স্কুল-কলেজের শিশুদের টিকার আওতায় আনা সহজ হবে। সে ক্ষেত্রে আমরাও উপকৃত হতে পারি।’

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন

‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কোটি কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আপনার টিকা নিয়ে অজ্ঞতা দেশের চিকিৎসকদের মর্মাহত ও লজ্জিত করেছে। আপনার কোনও অধিকার নাই মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে ক্ষতি করার। যে রোগীর হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি অসুখ আছে তার জন্য অনেকগুলি ওষুধ প্রয়োজন হতেই পারে।

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবিরকে সতর্ক করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিটিলিস (এফডিএসআর)।

ডা. জাহাঙ্গীরের চিকিৎসাকে অপচিকিৎসা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি বলছে, এটি বন্ধ না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিষোদগারের জন্য তাকে (ডা. জাহাঙ্গীর) দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এফডিএসআরের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনার সাম্প্রতিক সময়ের কর্মকাণ্ড আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এই পত্র লিখতে হচ্ছে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন চিকিৎসক হিসেবে আমাদের যেমন নানারকম বিশেষ অধিকার রয়েছে তেমনি দায়িত্বও রয়েছে।

এফডিএসআর মনে করে কোনও চিকিৎসকেরও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করার ও অসত্য বলার অধিকার নাই এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি জীবনধারা পরিবর্তন ও এর মাধ্যমে নানারকম ক্রনিক রোগের চিকিৎসা করছেন বলে দাবি করেন।

এজন্য অনলাইন ও অফলাইনে মানুষকে সুস্থ জীবন গড়ে তোলার জন্য লাইফস্টাইল বা জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এসবই আপাত দৃষ্টিতে চমৎকার কাজ। কিন্তু আপনার মনে রাখতে হবে আপনার পরামর্শ হতে হবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সমর্থিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক।

শুধু তাই নয় এই সকল পরামর্শ যাতে কারো ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকেও আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, আপনি কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিভিন্ন চিকিৎসকের দেয়া প্রেসক্রিপশনকে হেয় করে মন্তব্য করছেন। টিকা নিয়ে ইম্যুনোলজি বিষয়ক ভুল বক্তব্য দিয়েছেন। আপনি আপনার কোনও লেখায় বা বক্তব্যে আপনার সেবাগ্রহীতাদের কিটো ডায়েটের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনও লিখিত বা মৌখিক কাউন্সেলিং করেন না।

ইনফর্মড কনসেন্ট নেন না। আপনি ডায়াবেটিক রোগী ও কিডনি রোগীকেও কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আমরা জানি। এই ডায়েটের ফলে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদী যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে সেটা নিয়ে আপনি কখনও রোগীদের অবগত করেন না। এটা ম্যালপ্র্যাকটিস। অথচ কিটো ডায়েট এর জন্য রোগীর ইনফর্মড কনসেন্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক।

এই ডায়েটের ফলে হৃদরোগ বৃদ্ধি ও কিডনির ক্ষতি, মাংসপেশীর ক্ষতি, হাড়ের ক্ষতি সহ নানা রকম প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আপনি সম্প্রতি বলেছেন কোভিড ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে শরীরে অ্যান্টিবডি প্রবেশ করানো হয়। আরও বলেছেন ভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাক্সিন দরকার।

ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কোটি কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আপনার টিকা নিয়ে অজ্ঞতা দেশের চিকিৎসকদের মর্মাহত ও লজ্জিত করেছে। আপনার কোনও অধিকার নাই মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে ক্ষতি করার। যে রোগীর হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি অসুখ আছে তার জন্য অনেকগুলি ওষুধ প্রয়োজন হতেই পারে।

আপনি এটি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যঙ্গ করেছেন। শুধু তাই নয় আপনি বলেছেন জীবনধারা বদলালে ওষুধ লাগে না। আর জীবনধারা ভালো না হলে ওষুধ কাজ করে না। এভাবে আপনি ওষুধের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন যা অসাধু কাজ ছাড়া কিছু না।

আপনার কথা অনুযায়ী তাহলে লাইফস্টাইল না বদলালে কোলোস্টেরোল লোয়ারিং এজেন্ট কাজ করার কথা না। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ কাজ করার কথা না। সব ধরনের অ্যাকিউট অ্যাটাকে কোনও ওষুধ কাজে লাগার কথা না। এমনকি ভিটামিনও কাজ করার কথা না।

বহু রোগী আছেন হাঁপানির যাদের জীবনধারার সঙ্গে তাদের শ্বাসকষ্টের সম্পর্ক নাই। আপনার কথা অনুযায়ী ইনহেলার ও অ্যালার্জির ওষুধও কাজ করার কথা না। তার মানে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

এতে বলা হয়, রক্তকে অ্যাসিডিক করা বিষয়ে আপনার বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নাই। আপনি লিখেছেন ডায়াবেটিসের ওষুধ কিডনি নষ্ট করে। আপনি একাধিকবার বলেছেন লাইফস্টাইল মডিফিকেশন করলে ওষুধ লাগবে না। যে রোগের কারণের মধ্যে লাইফস্টাইল আছে সেখানে ওষুধের দরকার নাই। এরকম ভুল কথা বলা অন্যায় কারণ আপনি জানেন যে রোগের কারণ বা রোগের প্রভাবক দূর করলেই রোগ সেরে যায় না।

শরীরের বন্ধু টিস্যু আছে যা একবার নস্ট হলে তা রিভার্স করা যায় না। আপনি নিজে কিটো ডায়েটের ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া নিয়ে মানুষকে অবগত করেন না কিন্তু চিকিৎসকরা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে রোগীদের বলে না, বিনাকারণে ইনসুলিন দেয় এসব একথা বলে বিষোদগার করেন।

ডা. জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ড চিকিৎসা বিজ্ঞানের নীতিবিরোধী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, আপনি নিয়মিত বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত রোগ নিরাময়ের পদ্ধতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সামাজিক মাধ্যমে নানারকম ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে জানতে ডা. জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
বাড়তে পারে চলমান বিধিনিষেধ
দামুড়হুদায় আরও ৯টি গ্রামে ৭ দিনের লকডাউন
রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চায় ১৪ দল
৭ জনে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, গ্রাম মহল্লায় বিশেষ লকডাউন
সাতক্ষীরায় শুরু ৭ দিনের লকডাউন

শেয়ার করুন