টিকার দাম জানাজানি: দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি

টিকার দাম জানাজানি: দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি

গত ১২ মে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে টিকা হস্তান্তর করেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। ছবি: পিআইডি

কম দামে বাংলাদেশকে টিকা দিচ্ছে বলে চীন টিকার দাম প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এটি প্রকাশ করে ফেলায় চীন ক্ষুব্ধ হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী ১০ ডলারে বাংলাদেশের পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই দাম চীন গোপন রাখতে চেয়েছিল। ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ এই দাম প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বেইজিংকে একটি চিঠি দিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া টিকার দাম জনসমক্ষে প্রকাশ করার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহীনা আকতারকে তার পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে টিকার চাহিদাপত্র পাওয়ার পর বাণিজ্যিক স্বার্থে টিকার দাম যেন কোনোভাবে প্রকাশ করা না হয়, সে বিষয়টি চীন বলে দেয়। তবে টিকার দাম গণমাধ্যমে আসার কারণে চীন খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছে।

এ কারণে ১০ ডলারে টিকা পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেয়া দিয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা ও দ্রুত টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য চীনকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে, যদিও চিঠির উত্তর মেলেনি এখনও।

২৭ মে চীনের কাছ থেকে দেড় কোটি টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এ কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আকতার বলেন, ‘চীন থেকে প্রতি চালানে ৫০ লাখ করে তিন ধাপে দেড় কোটি ডোজ করোনার টিকা কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা ১০ ডলার ধরে হিসাব করলে দেড় কোটি ডোজ আনতে সরকারের খরচ হবে ১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ টিকা কেনা হবে।’

চুক্তি হওয়ার আগেই দাম গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, টিকার দাম গণমাধ্যমে আসার কারণে চুক্তি অনুযায়ী ১০ ডলারে টিকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেয়া দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বেইজিংকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে বেইজিংয়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে টিকার দাম প্রকাশ করা হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ চিঠির উত্তর এখনও মেলেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘চীনের সিনোফার্মের টিকার দাম গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তারা (চীন) খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা বারবার বলেছিল এই দাম কারো কাছে না বলতে। দাম প্রকাশের পর ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ চীনের কাছ থেকে বেশি দামে টিকা নিতে আপত্তি জানিয়েছে। টিকার দামের বিষয়টি নন-ডিসক্লোজেবল ছিল। সাংবাদিকরা কীভাবে কীভাবে বের করে ফেলেছেন। এখন তারা (চীন) আমাদের চাপাচাপি করছে। চীন আমাদের লো-প্রাইস (কম দামে) টিকা দিচ্ছে, তবে দাম প্রকাশ হওয়ার পর জটিলতা বাড়ছে।’

টিকার দাম জানাজানি: দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি
গত ১২ মে চীনের টিকা নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা

গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা এক কোটি টিকা কেনার ব্যবস্থা করেছি। খুব শিগগির দেশে টিকা আসতে শুরু করবে।’

এর ধারাবাহিকতায় চীনের সিনোফার্ম থেকে টিকা কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করে সরকার। এরই মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সিনোফার্মের টিকা ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে। চীন ১২ মে বাংলাদেশকে সিনোফার্মের ৫ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছে। আরও ৬ লাখ টিকা উপহার হিসেবে পাওয়ার কথা। এই টিকা ইতিমধ্যে ২ হাজারের অধিক মানুষকে দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রথম ধাক্কা সামাল দেয়ার সময় গত বছরের নভেম্বরে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে বেক্সিমকো ফার্মাকে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। দুই দফায় সিরাম ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানোর পর রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশ বেকায়দায় পড়ে যায়।

সিরামের কাছ থেকে টিকার প্রতি ডোজ চার ডলার দামে কিনেছে সরকার।

ভারতে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এতে করে ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া বাংলাদেশের গণটিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের লক্ষ্যে এপ্রিলের শেষে এবং মে মাসের শুরুতে যথাক্রমে রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভি ও চীনের সিনোফার্মের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য