টিকার দাম জানাজানি: দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি

গত ১২ মে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে টিকা হস্তান্তর করেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। ছবি: পিআইডি

টিকার দাম জানাজানি: দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি

কম দামে বাংলাদেশকে টিকা দিচ্ছে বলে চীন টিকার দাম প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এটি প্রকাশ করে ফেলায় চীন ক্ষুব্ধ হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী ১০ ডলারে বাংলাদেশের পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই দাম চীন গোপন রাখতে চেয়েছিল। ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ এই দাম প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বেইজিংকে একটি চিঠি দিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া টিকার দাম জনসমক্ষে প্রকাশ করার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহীনা আকতারকে তার পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে টিকার চাহিদাপত্র পাওয়ার পর বাণিজ্যিক স্বার্থে টিকার দাম যেন কোনোভাবে প্রকাশ করা না হয়, সে বিষয়টি চীন বলে দেয়। তবে টিকার দাম গণমাধ্যমে আসার কারণে চীন খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছে।

এ কারণে ১০ ডলারে টিকা পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেয়া দিয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা ও দ্রুত টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য চীনকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে, যদিও চিঠির উত্তর মেলেনি এখনও।

২৭ মে চীনের কাছ থেকে দেড় কোটি টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এ কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আকতার বলেন, ‘চীন থেকে প্রতি চালানে ৫০ লাখ করে তিন ধাপে দেড় কোটি ডোজ করোনার টিকা কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা ১০ ডলার ধরে হিসাব করলে দেড় কোটি ডোজ আনতে সরকারের খরচ হবে ১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ টিকা কেনা হবে।’

চুক্তি হওয়ার আগেই দাম গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, টিকার দাম গণমাধ্যমে আসার কারণে চুক্তি অনুযায়ী ১০ ডলারে টিকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেয়া দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বেইজিংকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে বেইজিংয়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে টিকার দাম প্রকাশ করা হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ চিঠির উত্তর এখনও মেলেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘চীনের সিনোফার্মের টিকার দাম গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তারা (চীন) খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা বারবার বলেছিল এই দাম কারো কাছে না বলতে। দাম প্রকাশের পর ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ চীনের কাছ থেকে বেশি দামে টিকা নিতে আপত্তি জানিয়েছে। টিকার দামের বিষয়টি নন-ডিসক্লোজেবল ছিল। সাংবাদিকরা কীভাবে কীভাবে বের করে ফেলেছেন। এখন তারা (চীন) আমাদের চাপাচাপি করছে। চীন আমাদের লো-প্রাইস (কম দামে) টিকা দিচ্ছে, তবে দাম প্রকাশ হওয়ার পর জটিলতা বাড়ছে।’

টিকার দাম জানাজানি: দুঃখ প্রকাশ করে চীনকে চিঠি
গত ১২ মে চীনের টিকা নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা

গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা এক কোটি টিকা কেনার ব্যবস্থা করেছি। খুব শিগগির দেশে টিকা আসতে শুরু করবে।’

এর ধারাবাহিকতায় চীনের সিনোফার্ম থেকে টিকা কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করে সরকার। এরই মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সিনোফার্মের টিকা ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে। চীন ১২ মে বাংলাদেশকে সিনোফার্মের ৫ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছে। আরও ৬ লাখ টিকা উপহার হিসেবে পাওয়ার কথা। এই টিকা ইতিমধ্যে ২ হাজারের অধিক মানুষকে দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রথম ধাক্কা সামাল দেয়ার সময় গত বছরের নভেম্বরে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে বেক্সিমকো ফার্মাকে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। দুই দফায় সিরাম ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানোর পর রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশ বেকায়দায় পড়ে যায়।

সিরামের কাছ থেকে টিকার প্রতি ডোজ চার ডলার দামে কিনেছে সরকার।

ভারতে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এতে করে ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া বাংলাদেশের গণটিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের লক্ষ্যে এপ্রিলের শেষে এবং মে মাসের শুরুতে যথাক্রমে রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভি ও চীনের সিনোফার্মের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বন্ধ স্কুলে চলছে পাঠদান, অভিযোগ অভিভাবকদের

বন্ধ স্কুলে চলছে পাঠদান, অভিযোগ অভিভাবকদের

ওই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকার কথা বললেও অধ্যক্ষ নিজ দায়িত্বে খুলে দিয়েছেন। শিক্ষকরা একক সিদ্ধান্তে এটা করেছেন। এ বিষয়ে মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে শিক্ষকরা কোনো আলোচনা করেননি।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এর পরে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা যাবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই সরকারের।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি স্কুলে ক্লাস নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্কুল কমিটির সভাপতি। তবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেছেন, ক্লাস চালু নয়, খোলা রাখা হয়েছে অফিস।

জীবননগরের উথলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থতি আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট কিন্ডারগার্টেনে চলতি মাসের শুরু থেকে নিয়মিত ক্লাস চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

তাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শিক্ষকদের বিষয়টি বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি।

ওই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকার কথা বললেও অধ্যক্ষ নিজ দায়িত্বে খুলে দিয়েছেন। শিক্ষকরা একক সিদ্ধান্তে এটা করেছেন। এ বিষয়ে মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে শিক্ষকরা কোনো আলোচনা করেননি।

‘অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইমরান হোসেনকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। এরপর কোনো শিক্ষার্থী যদি করোনা আক্রান্ত হয়, তাহলে তার দায়ভার আমরা নেব না।’

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইমরান হোসেন পাঠদানের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘শুধু অফিস খুলে রাখা হয়েছে। কোনো পাঠদানের কাজ চলছে না।’

জীবননগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উথলী আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঠদান বন্ধ করার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, বুধবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী র্কমর্কতা অভিযান চালাতে আসছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দ্রুত স্কুল বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন অধ্যক্ষ ইমরান হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে ইমরানকে কল করেও পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

বঙ্গভ্যাক্সসহ তিন টিকার নৈতিক ছাড়পত্রে নীতিগত অনুমোদন

বঙ্গভ্যাক্সসহ তিন টিকার নৈতিক ছাড়পত্রে নীতিগত অনুমোদন

বিএমআরসির পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বিএমআরসিতে আবেদন করা তিন প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কতগুলো নিয়ম অবশ্যই পালন করতে হবে।

দেশের একমাত্র করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরির উদ্যোগ গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্সসহ তিনটি কোম্পানির টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নৈতিক ছাড়পত্রে নীতিগত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) বুধবার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে বৈঠক শেষে সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

অন্য দুটি টিকা হলো ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন ও চীনের সিনোভ্যাকের করোনাভ্যাক।

বিএমআরসির পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বিএমআরসিতে আবেদন করা তিন প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে কতগুলো নিয়ম অবশ্যই পালন করতে হবে। প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বানরের ওপর চালাতে হবে।

‘মানবদেহে প্রয়োগ বিষয়ে নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এসব নিয়মনীতি মেনে করলে অবশ্যই আমরা অনুমোদন দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে তিনটা কোম্পানি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করে, সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আজ বৈঠক হয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত আমরা তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেব।

‘প্রয়োজন হলে তিন কোম্পানির সিআরও প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা জানতে যেকোনো সময় ডাকা হতে পারে।’

গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের (গ্লোব বায়োটেকের) জমা দেয়া কাগজপত্রগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। সবগুলো ঠিক রয়েছে। তবে আগামীতে ট্রায়াল কার্যক্রম দেখে অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

‘আমরা দেখতে চাচ্ছি, টিকা ট্রায়ালের আগে মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে সেটা আমরা দেখব। এটা ঠিক থাকলে অনুমোদন দেব।’

নৈতিক ছাড়পত্র পেতে গত ১৭ জানুয়ারি ১০ হাজার পৃষ্ঠার প্রটোকল পেপার বিএমআরসির কাছে জমা দেয় গ্লোব বায়োটেকের পক্ষে নিয়োজিত একটি গ্রুপ। এর আগে গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা গত বছরের ২ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে আসার কথা প্রথম জানান।

তারা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের শরীরে ওই টিকা প্রয়োগে সাফল্যের কথাও জানান। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্ভাব্য টিকার তালিকায় নাম ওঠে বঙ্গভ্যাক্সের। ৬ জানুয়ারি টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. কাকন নাগ জানান, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ থেকে নৈতিক ছাড়পত্রের অনুমোদন পেলে শতাধিক মানুষের ওপর টিকার পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য কিছু বেসরকারি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে। নৈতিক ছাড়পত্র পেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

শেয়ার করুন

নেত্রকোণায় সিনোফার্মের ৫ হাজার টিকা

নেত্রকোণায় সিনোফার্মের ৫ হাজার টিকা

ফাইল ছবি

নেত্রকোণায় ৬৭ হাজার ৩৬৬ জন টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ৫৮ হাজার ১৮৮ জন টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। সেই হিসাবে জেলায় ৯ হাজার ১৭৮ জনের এখনও প্রথম ডোজ নেয়া বাকি আছেন।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উপহার হিসেবে দেয়া চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের প্রায় পাঁচ হাজার টিকা নেত্রকোণায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলার সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া বুধবার দুপুরে টিকা পৌঁছানোর তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘সিনোফার্মের ৪ হাজার ৮০০ ডোজ টিকা এসেছে। তবে কবে থেকে টিকা দেয়া হবে বা কাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে, এসব নিয়ে এখনও নির্দেশনা আসেনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আসার পর সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

তিনি জানান, জেলায় ৬৭ হাজার ৩৬৬ জন টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ৫৮ হাজার ১৮৮ জন টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। সেই হিসাবে জেলায় ৯ হাজার ১৭৮ জনের এখনও প্রথম ডোজ নেয়া বাকি আছেন।

প্রথম ডোজ টিকা নেয়াদের মধ্যে ৪০ হাজার ৯৬ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পর জেলায় টিকা শেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য অপেক্ষায় আছেন ১৮ হাজার ৯২ জন।

জেলার করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় ৬৫টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২ জনের। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ১২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৫০ জন।

তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১০৩ জন। বর্তমানে ১৪৭ জন বাড়িতে ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।

শেয়ার করুন

করোনায় সিলেটে এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

করোনায় সিলেটে এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত মার্চে সিলেট বিভাগে করোনায় একদিনে আটজন মারা গিয়েছিলেন। এটিই এখন পর্যন্ত এ বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতজন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪৪১ জন।

সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যখন করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তখন উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা সিলেটে একদিনে সাতজনের মৃত্যুর এই খবর এলো।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে বুধবার সকালে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক নুর-এ আলম শামীম বলেন, গত মার্চে সিলেট বিভাগে করোনায় একদিনে আটজন মারা গিয়েছিলেন। এটিই এখন পর্যন্ত এ বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতজন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪৪১ জন।

বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজন সিলেট জেলার। তারা শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। অন্য দুজন মৌলভীবাজারের। তারা জেলার সদর হাসপাতালে ছিলেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সিলেট বিভাগে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৮ জনের। এর মধ্যে ৩৩ জন সিলেট জেলার, দুইজন সুনামগঞ্জ জেলায়, পাঁচজন হবিগঞ্জ জেলার ও ১২ জন মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। এছাড়া সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ রোগীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ২২ হাজার ৩৬১ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চার জেলায় এখন ২১৪ জন করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৪৬ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

ফুলবাড়ী সীমান্তে করোনায় একজনের মৃত্যু

ফুলবাড়ী সীমান্তে করোনায় একজনের মৃত্যু

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবেদের বাড়ি বাংলাদেশে হলেও তার শ্বশুরবাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে। শ্বশুরবাড়ির লােকজন সব সময় আবেদের বাড়িতে যাতায়াত করে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সীমান্তে করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর মেডিক্যালের করােনা ইউনিটে বুধবার সকালে সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ওই রোগীর নাম আবেদ আলী। ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের নাখারজান এলাকার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার-৯৪১-এর পাশে তার বাড়ি।

আবেদের ছেলে মমিন জানান, তার বাবা অসুস্থ হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করােনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবেদের বাড়ি বাংলাদেশে হলেও তার শ্বশুরবাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে। শ্বশুরবাড়ির লােকজন সব সময় আবেদের বাড়িতে যাতায়াত করে।

আবেদের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা এলাকায় ভারতীয় লোকজনের আসা-যাওয়া ঠেকাতে সীমান্তে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানোর দাবি জানান।

ফুলবাড়ী হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে সেখানে এক শিশুসহ করােনা শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাস জানান, ভারতীয় ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকার কারণে আবেদের করোনা হতে পারে। আর সীমান্ত এলাকায় করোনা নিয়ে সচেতনতাও কম।

শেয়ার করুন

খুলনার করোনা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু

খুলনার করোনা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু

খুলনায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে এক দিনে নয়জনের মৃত্যু হয়। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউতে রয়েছেন ২০ জন।

খুলনার করোনা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুহাস রঞ্জন হালদার।

তিনি জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। আর উপসর্গ ছিল ৪ জনের। এ ছাড়া আইসিইউতে রয়েছেন ২০ জন।

হাসপাতালে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৩৯ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে রেড জোনে ৭০ জন, ইয়ালো জোনে ২১ জন, এইচডিইউতে ২৮ জন ও আইসিইউতে ২০ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৮৪ জনের। করোনা শনাক্ত হয়েছে ২২২ জনের, যা নমুনার ৩২ শতাংশ।

করোনা শনাক্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে যশোরের একজন, বাগেরহাটের তিনজন ও খুলনার একজন রয়েছেন।

উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া রোগীদের পরিচয় জানাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খুলনাতে গত এক সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রণ) শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা নিউজবাংলাকে জানান, গত ৮ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত খুলনাতে ৪ হাজার ১১৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ২৯৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। যা নমুনার ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৪৩ জন।

শেয়ার করুন

বঙ্গভ্যাক্সের নৈতিক ছাড়পত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ

বঙ্গভ্যাক্সের নৈতিক ছাড়পত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ

বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনের (সম্ভাব্য টিকা) নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে আজ একটি বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকটি ১১টায় হওয়ার কথা রয়েছে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের একমাত্র টিকা তৈরির উদ্যোগ গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন (সম্ভাব্য টিকা) বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (পরীক্ষার) জন্য নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বুধবার।

এ নিয়ে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) বেলা ১১টায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ওই বৈঠকে বঙ্গভ্যাক্সের নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে সবুজসংকেত মিলতে পারে।

বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনের (সম্ভাব্য টিকা) নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে আজ একটি বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকটি ১১টায় হওয়ার কথা রয়েছে।

‘এখানে তাদের (গ্লোব বায়োটেকের) জমা দেয়া কগজপত্রগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বিষয়ে হয়তো সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

নৈতিক ছাড়পত্র পেতে গত ১৭ জানুয়ারি ১০ হাজার পৃষ্ঠার প্রটোকল পেপার বিএমআরসির কাছে জমা দেয় গ্লোব বায়োটেকের পক্ষে নিয়োজিত একটি গ্রুপ।

এর আগে গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা গত বছরের ২ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে আসার কথা প্রথম জানান।

তারা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের শরীরে ওই টিকা প্রয়োগে সাফল্যের কথাও জানান। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্ভাব্য টিকার তালিকায় নাম ওঠে বঙ্গভ্যাক্সের। ৬ জানুয়ারি টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাকন নাগ জানান, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ থেকে নৈতিক ছাড়পত্রের অনুমোদন পেলে শতাধিক মানুষের ওপর টিকার পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য কিছু বেসরকারি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে। নৈতিক ছাড়পত্র পেলে তাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

শেয়ার করুন