করোনা: দেশে বাড়ল শনাক্ত, মৃত্যু

করোনা: দেশে বাড়ল শনাক্ত, মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭৫৮ জনে।

দেশে গত এক দিনে করোনাভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যু আরও বেড়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭৫৮ জনে।

এই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৮৭ জনের। এ নিয়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৭ হাজার ৮৬৭ জনের দেহে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫০৯টি ল্যাবে ১৮ হাজার ১৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।

করোনা থেকে গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৭২৩ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫৮ জন। সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী। এদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। অন্যদের বয়স বিশোর্ধ্ব এক, ত্রিশোর্ধ্ব দুই, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচ, পঞ্চাশোর্ধ্ব ছয় ও ষাটোর্ধ্ব ১৯ জন।

বিভাগ অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চট্টগ্রামে ছয়, রাজশাহী, খুলনা পাঁচ, বরিশাল এক, সিলেট তিন এবং রংপুরে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চীন থেকে সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ

চীন থেকে সাড়ে ৭ কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ

সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভির সাত কোটি ডোজ কিনছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দেড় কোটি ডোজের দাম পরিশোধ করা হয়েছে। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সিনোফার্মের ৭৫ মিলিয়ন (সাড়ে সাত কোটি) ডোজ টিকা আনার অর্ডার দিয়েছি। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন (দেড় কোটি) ডোজের মূল্য পরিশোধ করেছি। বাকিটার প্রসেস চলছে। এ ছাড়াও চলতি মাসে কোভ্যাক্সের আওতায় সিনোফার্মের ৩৪ লাখ ও অ্যাস্ট্রেজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।’

চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বিবিআইবিপি-করভির ৭৫ মিলিয়ন বা সাড়ে সাত কোটি ডোজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি ডোজ টিকার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সিনোফার্মের ৭৫ মিলিয়ন ডোজ টিকা আনার অর্ডার দিয়েছি। এরই মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডোজের মূল্য পরিশোধ করেছি।

‘বাকিটার প্রসেস চলছে। এ ছাড়াও চলতি মাসে কোভ্যাক্সের আওতায় সিনোফার্মের ৩৪ লাখ ও অ্যাস্ট্রেজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।’

মোমেন বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল, এত টিকা আমাদের রাখার ব্যবস্থা আছে কি না।

‘আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলেছি। আজ আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি, আমাদের রাখার জায়গার সমস্যা নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এক কোটি টিকা দেয়ার যে প্রোগ্রাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছিল তাতে কিছুটা পরিবর্তন তারা এনেছে। এটা হয়তো কিছুটা এদিক-সেদিক হবে। তবে সরকারের টিকাদান লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

‘আমরা দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দিতে চাই। প্রতি সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দিলে দুই মাসে আট কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য ছিল সরকারের। তা হয়তো কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে।’

গণটিকাদান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমরা আমাদের হাতে থাকা টিকা থেকে প্রথম ডোজ নেয়া নাগরিকদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ হাতে রেখেই গণটিকা কার্যক্রম চালাতে চাই। টিকা আসবে ও সেটি দেয়া হতে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া ভারত জানিয়েছে, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাদের করোনা পরিস্থিতি আরেকটু উন্নতি হলে নয়াদিল্লি থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসবে।

‘তবে আমি দ্রুত যৌথ উৎপাদন শুরু করতে চাই। চীনের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত। যেকোনো সময় চুক্তি হবে। এরপরই ইনসেপটা উৎপাদনে যেতে পারবে। তবে চুক্তি সইয়ের পরও আট সপ্তাহ সময় লাগবে।’

রাশিয়ার টিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের তৃতীয় ঢেউয়ে অফিস-আদালত সব বন্ধ। আমরা আমাদের সব কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। অচিরেই সাড়া পাওয়া যাবে।’

এদিকে বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান।

একই টিকার ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাকি টিকা দিতে পারেনি সিরাম।

সরবরাহ সংকটের কারণে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় অপেক্ষমাণদের রোববার থেকে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান। সেখান থেকে কয়েক দফায় ৩০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশকে দেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

কিছুদিন আগ পর্যন্ত দেশে টিকার সংকট থাকলেও এখন অনেকটাই কেটে গেছে তা। দফায় দফায় টিকা আসছে চীনের সিনোফার্ম থেকে। এ ছাড়া কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা।

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ৮০২, মৃত্যু ১৫ 

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ৮০২, মৃত্যু ১৫ 

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিনই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।

কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন।

পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬১৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

শনাক্তদের মধ্যে ১৯০ জনই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।

বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদরের ২৭, সদর দক্ষিণের ২২, বুড়িচংয়ের ৩২, ব্রাহ্মণপাড়ার ৩৮, চান্দিনার ৩৫, চৌদ্দগ্রামের ৮৬, দেবিদ্বারের ৩২, দাউদকান্দির ৩৪, লাকসামের ৫৩, লালমাইয়ের ১১, নাঙ্গলকোটের ৭০, বরুড়ার ৬২, মনোহরগঞ্জের ২১, মুরাদনগরের ১২, মেঘনার ১৭, তিতাসের ৪০ জন এবং হোমনা উপজেলার ৩০ জন।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের চারজন এবং দাউদকান্দি, মুরাদনগরের দুইজন করে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদর, বুড়িচংয়, ব্রাহ্মণপাড়া, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার, বরুড়া, মনোহরগঞ্জের একজন করে মারা গেছেন।

মৃতদের মধ্যে আটজন নারী এবং সাতজন পুরুষ।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৭২জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৫৫ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হলেন ১৭ হাজার ৫৬০জন।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিনই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ‘জেলায় শতভাগ টিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস।’

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

ডা. জাহাঙ্গীর বললেন, ‘বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দিব।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়া চারটি ডিগ্রি এখন থেকে আর সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএমডিসি চিঠি পাঠাবে এটা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক যদি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে, সেটা তো বিএমডিসি অনুমোদন দেবে না। কারণ বিএমডিসি সেটা গ্রহণ করবে না।’

ডা. জাহাঙ্গীর দাবি করেন, প্রেসক্রিপশনে তিনি তার ডিগ্রিকে ট্রেইনিং (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) হিসেবে উল্লেখ করতেন। তবে বিএমডিসির দাবি, তিনি তার প্রেসক্রিপশনে ডিগ্রি হিসেবেই উল্লেখ করতেন। এরকম প্রেসক্রিপশনের নমুনা তাদের কাছে আছে।

এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। এ অভিযোগের পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিওসহ মোট তিনটি পোস্ট সরিয়ে নেবেনে বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর।

তবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এফডিএসআর নেতারা বলছেন, ডা. জাহাঙ্গীরকে কিটো ডায়েট সংক্রান্ত সব ভিডিও সরাতে হবে। তা না হলে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগে মামলা করা হবে তার বিরুদ্ধে। এসব ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় দিয়েছে এফডিএসআর।


আরও পড়ুন: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ডিগ্রির ‘অনুমোদন নেই’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, দেশের চিকিৎসকরা তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি উল্লেখ করতে গেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন নিতে হয়। এই আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই চারটি ডিগ্রি ব্যবহার আসছেন ডা. জাহাঙ্গীর।

আইন অনুযায়ী, প্র্যাকটিস করা যে কোনো চিকিৎসককে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সদনের কপি বিএমডিসিতে জমা দিয়ে তা ব্যবহারের অনুমোদন নিতে হয়। বিএমডিসি সেগুলো যাচাই করে একটি নিবন্ধন নম্বর দেয়। এরপর ডিগ্রির তথ্য বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করার অনুমতি মেলে।

ডা. জাহাঙ্গীর কবির তার সাইনবোর্ডে, প্রেসক্রিপশনে যেসব ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিএমডিসিতে কোনো আবেদন করেননি।

ডা. জাহাঙ্গীর এমবিবিএস ছাড়াও যে চারটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, সেগুলো হলো: ডিপ্লোমা মডিউল ইন ডায়াবেটিস (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন অ্যাজমা (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন সিওপিডি (এডুকেশন ফর হেলথ), স্পিরো ৩৬০ স্পাইরোমেট্রি কোর্স (ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু অভিযোগ পেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছি, এ বিষয়ে তিনি আমাদের কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দেবেন। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘এছাড়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। এই ভিডিওগুলোতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি কেন অনুমোদন ছাড়াই ডিগ্রিগুলো ব্যবহার করছেন? এটা কী ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা আমাদের আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাখ্যা দিতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

বিএমডিসির পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে চাইলে মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ দিনে জবাব না এলে ধারাবাহিকভাবে তিনটা চিঠি তার কাছে পাঠানো হবে। এরপরেও জবাব না দিলে ডিগ্রিগুলো নকল ধরে নিয়ে র‌্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের সংস্থার কর্মকর্তারা সেই অভিযানে থাকবেন।’

চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজের (এফডিএসআর) মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ব্যবহার করা ডিগ্রিগুলোর অনুমোদন বিএমডিসি দেয়নি। এগুলো আসলে মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটা এক ধরনের প্রতারণার শামিল এবং অবশ্যই নিয়ম লঙ্ঘন।’

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন

এসএমএস ছাড়াই টিকার গুজবে ভোগান্তি

এসএমএস ছাড়াই টিকার গুজবে ভোগান্তি

রাজধানীর একটি কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের টিকা নিচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এসএমএস ছাড়াই টিকা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে এতজন অহেতুক ঘোরাফেরা করে। তারা যদি একবার করে এসে বলে যে কারা নিতে পারবে, কারা না তাইলে এতক্ষণ দাঁড়ায় থাকা লাগে না। প্রথমে বলল, এসএমএস নাই টিকা দিব না। এখন বলতেছে টিকাই নাই।’

‘আড়াইশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে আইছি। সকাল ১০টা থেকে আইসা লাইনে দাঁড়াইছি। এখন কয় টিকা শেষ। টিভিতে দেখায় কত টিকা আইছে। এরা কয় টিকা নাই। কয়, এসএমএস আসলে আসেন। এসএমএস ছাড়াই তো সবাই দিতাছে। এরা টিকা কী করছে?’

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এভাবেই রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে টিকা সমন্বয়কারীর সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায় টিকা নিতে আসা রফিকুল ইসলামকে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে নিবন্ধনের টিকা নেয়ার তারিখ জানিয়ে ফিরতি একটি এসএমএস পাঠানো হয় নিবন্ধনকারীর ফোনে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই এসএমএস আসতে ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগছে এমনকি মাসও পেরিয়ে যাচ্ছে।

এসএমএস ছাড়াই শুধু নিবন্ধন কপি নিয়ে গিয়ে টিকা পাওয়া যাবে এমন তথ্যে টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পেয়ে হতাশ রফিকুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাসার কেউ বাইরে বের হয় না। বাচ্চা দুইটা জেলখানার মতোই বন্দি দুইটা বছর ধরে। আমিই একমাত্র বাইরে বের হই। আমার টিকা নেয়াটা জরুরি। রেজিস্ট্রেশন করছি এক মাস হয়ে গেছে। পরে এলাকায় অনেকে বলল, এখন আর মেসেজ লাগেনা। নিবন্ধন কপি নিয়া গেলেই পাওয়া যায় টিকা। তারাও নাকি এভাবেই দিছে।

‘সেটা শুনেই আমি আসছি। আগারগাঁও থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে। যেতে আবার ২৫০ টাকা বা তার চেয়ে বেশিই লাগবে। এর উপর এই গরমে এতক্ষণ ধরে দাঁড়ায় আছি। এখানে এতজন অহেতুক ঘোরাফেরা করে। তারা যদি একবার করে এসে বলে যে কারা নিতে পারবে, কারা না তাইলে এতক্ষণ দাঁড়ায় থাকা লাগে না। প্রথমে বলল, এসএমএস নাই টিকা দিব না। এখন বলতেছে টিকাই নাই।’

রফিকুল ইসলামের মতোই আরও অনেকেই এসএমএস ছাড়াই এসেছেন। ভিড় করে হট্টগোল করে টিকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের টিকা সমন্বয়কারী আবু বকর সিদ্দীকি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএমএস ছাড়া কাউকেই টিকা দেয়া হচ্ছেনা। এটা গুজব। প্রতিদিনই এমন অনেকে আসতেছেন। তাদেরকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। অনেকেই না জেনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। অনেকে অনুরোধ করছেন।

‘এমন কোনো নির্দেশনা থাকলে আমরা তো দিতাম। আমাদের তো কিছু করার নেই।’

শুধু ডেন্টাল কলেজে নয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে নিবন্ধনের পর এসএমএস আসার আগেই টিকা নেয়া যাবে এমন বিশ্বাসে বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে গিয়ে ফেরত আসছেন সাধারণ মানুষ।

এমনকি ‘এসএমএস লাগবে না, নিবন্ধন করে কপি প্রিন্ট করে নিয়ে গেলে টিকা মিলবে’ এমন বিশ্বাসে আগের দিন রেজিস্ট্রেশন করে পরের দিনই টিকা কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন অনেকে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে শেষে টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। কেউ কেউ বাগ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন কেন্দ্রের টিকা সমন্বয়কারীদের সঙ্গে।

একই চিত্র কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে

টিকা নিতে আসা আসমা বেগম বুধবার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। পাশের বাসার ভাবি এসএমএস ছাড়াই টিকা নিতে পেরেছেন এমন তথ্যে নিজেও এসেছেন টিকা নিতে।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে টিকা না পেয়ে হাসপাতালের সিঁড়িতে বসে একা একাই কথা বলছেন।

আসমা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বাসকষ্টের সমস্যা। প্রতিদিন কত মানুষ মরে। সরকার বলে সবার টিকা দিছে। তাইলে আমারটা কই।’

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এসএমএস ছাড়া টিকা দিতাছেনা। আবার দিতাছেও। যাদের লাইনঘাট আছে তারা এসএমএস ছাড়াই দিতাছে। নার্সের দূর সম্পর্কের খালতো ভাই, তালতো ভাই তারাও পাইতেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রের টিকা সমন্বয়কারী আকবর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা না দিলে মানুষ বের হইতে পারবে না। প্রতিদিনের মৃত্যুর সংখ্যা এগুলো মানুষকে খুব নাড়া দিচ্ছে। তারা তথ্যকে নিজেদের মতো করে নিয়ে ভাবছে। আমরা আমাদের মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করছি। টিকা সবাই পাবে। একটা কেন্দ্রে একদিনে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকা দেয়ার সুযোগ থাকে।’

একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা নিবন্ধনের বয়স কমিয়ে আনার পর থেকেই ব্যাপকহারে টিকার নিবন্ধন হচ্ছে। নিবন্ধনের তালিকা অনেক লম্বা হয়ে আসছে।

‘এক কেন্দ্রে দৈনিক ২০০ জনের টিকা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও নিবন্ধন হচ্ছে অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে এসএমএস আসতে একটু দেরি হচ্ছে।’

উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিজানুর বলেন, ‘যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা সবাই টিকা পাবেন। টুডে অর টুমরো (আজ বা কাল) এসএমএস আসবে। এতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন

ঝালকাঠিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজে ধীরগতি

ঝালকাঠিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজে ধীরগতি

ধীরগতিতে চলছে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

সহকারী ঠিকাদার গোলাম মোর্শেদ বলেন, ‘এরই মধ্যে ৬ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার অক্সিজেন ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। ১০ হাজার ৪৩৪ লিটার ধারণক্ষমতার এই প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শিগগিরই শেষ হবে। এরপর ট্যাংকটিতে একবার লিকুইড ভরা হলে তা থেকে উৎপাদিত অক্সিজেন ১০০ জন রোগী তিন মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।’

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনব্যবস্থা না থাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীদের জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এতে রোগী ও স্বজনদের অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সপেক্টা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

অক্সিজেন প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ চলতি বছরের মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও অর্ধেক কাজ শেষ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটি এক বছরে নির্মাণ করেছে ৬ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার অক্সিজেন ট্যাংক। আর ধীরগতিতে চলছে পাইপ স্থাপনের কাজ। কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্ল্যান্টটিতে সরবরাহ করা যাচ্ছে না অক্সিজেন। ফলে সিলিন্ডার দিয়েই করোনা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা করোনা রোগীর স্বজন আমির উদ্দিন বলেন, ‘সেন্ট্রাল অক্সিজেন না থাকায় অতিরিক্ত শ্বাসকষ্টের অনেক রোগীকেই বরিশাল যেতে বলা হচ্ছে।’

আরেক রোগীর স্ত্রী শিমুল আক্তার বলেন, ‘আমার রোগীর জন্য হাসপাতালের বাইরে থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার এনেছি।’

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, এ হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা রোগীর র‌্যাপিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ না আসা পর্যন্ত সেই রোগীর বেডে অক্সিজেন সিলন্ডার দেয়া হয় না।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট আবুয়াল হাসান বলেন, ‘সেন্ট্রাল অক্সিজেন না থাকায় চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘এই প্ল্যান্টে অক্সিজেন উৎপাদন চালু না থাকায় প্রতিদিন বরিশাল থেকে ২০টি বড় আকারের সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভরে আনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। কাজের ধীরগতির বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকেও জানানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সপেক্টা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সহকারী ঠিকাদার গোলাম মোর্শেদ বলেন, ‘এরই মধ্যে ৬ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার অক্সিজেন ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। ১০ হাজার ৪৩৪ লিটার ধারণক্ষমতার এই প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শিগগিরই শেষ হবে। এরপর ট্যাংকটিতে একবার লিকুইড ভরা হলে তা থেকে উৎপাদিত অক্সিজেন ১০০ জন রোগী তিন মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন

বুস্টার স্থগিত করুন, দরিদ্রদের টিকা দিন: ডব্লিউএইচও

বুস্টার স্থগিত করুন, দরিদ্রদের টিকা দিন: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেড্রোস আধানম। ফাইল ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনা প্রতিরোধী টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকার ‘বুস্টার শট’ হিসেবে তৃতীয় ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত অক্টোবরের আগ পর্যন্ত করোনা টিকার বুস্টার ডোজ কর্মসূচি শুরু না করার আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম।

তার মতে, এ কর্মসূচি স্থগিত রাখলে সবগুলো দেশে মোট জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ১০ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ করে টিকা দেয়া সম্ভব হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ অবস্থায় ইসরায়েল, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনা প্রতিরোধী টিকার তৃতীয় ডোজ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

অথচ দরিদ্র দেশগুলোর সিংহভাগ মানুষ এক ডোজ টিকাও পাচ্ছে না বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১০০ জনে টিকাগ্রহীতার হার মাত্র দেড় শতাংশ।

আধানম জানান, এ চিত্র পাল্টাতে হলে টিকার বড় অংশ এখন পাঠাতে হবে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে।

তিনি বলেন, ‘সব সরকারই চাইছে নিজ দেশের মানুষের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে। তাদের উদ্বেগ আমরা বুঝি। কিন্তু যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি টিকা নিয়েছে, তারাই আরও বেশি টিকা নেবে, এটা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

উচ্চ ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে টিকার ভারসাম্যহীনতা বাড়তে থাকার মধ্যেই এ সতর্কবার্তা দিল ডব্লিউএইচও। সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশের অন্তত ১০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চেয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু টিকা কার্যক্রমের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে তা অসম্ভব।

লাতিন আমেরিকার দেশ হাইতি আর আফ্রিকার কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে একজন ব্যক্তিও দুই ডোজ করে টিকা পাননি।

আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক সংক্রমণে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দুই ডোজ টিকা নিয়েছে মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র সাত দশমিক নয় শতাংশ।

অথচ এরই মধ্যে ষাটোর্ধ্বদের তৃতীয় ডোজ দিতে শুরু করেছে ইসরায়েল। শিগগিরই বুস্টার শট দেয়ার পরিকল্পনা মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে জার্মানি। ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সেপ্টেম্বর নাগাদ তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু করতে চায় যুক্তরাজ্য।

করোনা টিকার বুস্টার শট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পরিকল্পনার ঘোষণা এখনও দেয়নি। তবে হোয়াইট হাউজ বুধবার নিশ্চিত করেছে যে আমেরিকান জনগোষ্ঠীকে দুই ডোজ দেয়ার পরেও তৃতীয় ডোজ দেয়ার মতো টিকা মজুত আছে তাদের।

ধনী দেশগুলোতে শিশু-কিশোরদের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রেখে অতিরিক্ত ডোজ দান করতে গত মে মাসেও আহ্বান জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।

বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার সুষম বণ্টন নিশ্চিতে জাতিসংঘের কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় আরও টিকা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন

ব‌রিশালে এক ‌দি‌নে ৩২ মৃত্যু

ব‌রিশালে এক ‌দি‌নে ৩২ মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস জানান, এক দিনে বিভাগে নতুন শনাক্তদের মধ্যে বরিশালের ৩৩৫ জন, ভোলার ১৮২ জন, পটুয়াখালী‌র ১৭৬ জন, পি‌রোজপু‌রের ৭৪ জন, বরগুনার ৬৪ ও ঝালকা‌ঠি‌র ২৭ জন রয়েছেন।

বরিশাল বিভাগে এক দিনে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগে এক দিনে এটিই স‌র্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫১৪ দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস বৃহস্পতিবার সকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়ে ১৫ ও উপসর্গ নিয়ে ১৭ জন মারা গেছেন। বুধব‌ার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্প‌তিবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাদের ম‌ধ্যে ১৯ জন বরিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসা নিচ্ছিলেন।

তিনি আরও জানান, এক দিনে বিভাগে নতুন করে ৮৫৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের ৩৩৫ জন, ভোলার ১৮২ জন, পটুয়াখালী‌র ১৭৬ জন, পি‌রোজপু‌রের ৭৪ জন, বরগুনার ৬৪ ও ঝালকা‌ঠি‌র ২৭ জন রয়েছেন।

এ নিয়ে ব‌রিশাল বিভা‌গে মোট ক‌রোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬ হাজার ৯৯৮।

এ‌দি‌কে ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে ৩০০ শয্যার ক‌রোনা ইউ‌নি‌টে বৃহস্প‌তিবার সকাল পর্যন্ত ৩৪৩ জন ভ‌র্তি রয়েছেন। যার ম‌ধ্যে ১২০ জনের ক‌রোনা প‌জি‌টিভ। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ইউ‌নি‌টে ৪১ জন নতুন রোগী ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন।

আরও পড়ুন:
৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু

শেয়ার করুন