৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

৫০ নমুনার ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর ও আইদেশি দেশে এ পর্যন্ত করোনার ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছে। এর মধ্যে ৪০টি (৮০ শতাংশ) নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, আটটিতে (১৬ শতাংশ) সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ জন রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ৪০ জনের ক্ষেত্রেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পেয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

শুক্রবার আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইদেশির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়া ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের জিনোম সিকোয়েন্স বৈশ্বিক ডাটাবেজ জিআইএসএআইডিতেও জমা দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট) এর কমিউনিটি সংক্রমণ পর্যবেক্ষণে উচ্চ সংক্রমিত এলাকায় নিয়মিত করোনা আক্রান্ত রোগীদের কেস ইনভেস্টিগেশন, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং সন্দেহজনক রোগীদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করছে আইইডিসিআর।

গত ১৬ মে আইইডিসিআর কর্তৃক বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের এর শনাক্ত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আইইডিসিআর ও আইদেশি এ পর্যন্ত ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছে।

এর মধ্যে ৪০টি (৮০ শতাংশ) নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, আটটি (১৬ শতাংশ) নমুনায় সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হতে সংগৃহীত ১৬টি নমুনার ১৫টিতে, গোপালগঞ্জে সাতটি নমুনার সবগুলোতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শানাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া, খুলনা শহর হতে সংগৃহীত তিনটি নমুনার সবগুলোয়, ঢাকা শহরের চারটি নমুনার দুটিতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় আগত সাত জনের দেহে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এর বাইরে ভারত থেকে আগত তিনজন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় চিকিৎসাধীন আছেন।

করোনার ধরনের জিনোম সিকুয়েন্সিং করা ৫০ রোগীর মধ্যে তিন জনের বয়স অনূর্ধ্ব ১০ বছর, সাতজনের বয়স ১০-২০ বছর, ২১-৩০ বছর বয়স ১০ জনের, আটজনের বয়স ৩১-৪০ বছর, আটজনের বয়স ৪১-৫০ বছর এবং চারজনের বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে।

এদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, ২৬ জন নারী।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মধ্যে আট জনের পার্শ্ববর্তী ভারতে ভ্রমণের ইতিহাস আছে এবং ১৮ জনের বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস আছে। অপর ১৪ জনের বাংলাদেশের বাইরে ভ্রমণের অথবা বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কোনো ইতিহাস পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ বিদ্যমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ অন্যান্য জেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংক্রমণের হার হ্রাস করার লক্ষ্যে এবং দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টসহ করোনার অন্যান্য ধরনের বিস্তার রোধে জনসাধারণকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর।

দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে লকডাউন চললাম৷ এসব এলাকায় অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধের জন্য কঠোর নজরদারির এবং টহল বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কোডিভ-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

তারা বলছেন, দেশের সার্বিক কোভিড-১৯ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে; বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাতে সংক্রমণ উচ্চ হারে বেড়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু জেলায় উচ্চ সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি বাড়লে হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যেমনটি বিভিন্ন উন্নত দেশে দেখা গেছে।

সাম্প্রতিককালে ভারত এই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় সংক্রমণ প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নাই এবং এতে জনপ্রশাসনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ জন্য সীমান্তের জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধের জন্য কঠোর নজরদারি ও টহল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় আরেক ডাক্তারের মৃত্যু

করোনায় আরেক ডাক্তারের মৃত্যু

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা.কে এম সাইফুল ইসলাম ডেভিড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিএমএ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. কে এম সাইফুল ইসলাম ডেভিড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

সোমবার ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে বা ভাইরাসপরবর্তী জটিলতায় মারা যাওয়া চিকিৎসকদের তালিকায় নতুন করে নাম উঠল ডা. ডেভিডের।

ডা. ডেভিড জয়পুরহাট পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দেবীপুর-কাজীপাড়া এলাকার মৃত সোলায়মান আলীর ছেলে।

তার ভাতিজা ইমরুল কায়েস জানান, ডা. ডেভিড গত ১০ জুন করেনায় আক্রান্ত হয়ে তার বর্তমান কর্মস্থল বগুড়া টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন।

অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ডা. ডেভিডের অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে অক্সিজেন ছাড়াই ছিলেন তিনি। গত রাত থেকে আবারও তার অবস্থার অবনতি হয়। ভোররাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

করোনায় মৃত এ চিকিৎসক স্ত্রী ও ২ ছেলে রেখে গেছেন।

তার সহকর্মী ডা. আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করে জানান, তিনি জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহণের পর বগুড়ার বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কাজ করেছেন।

বিএমএ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, শনাক্ত ৪৬৩৬, মৃত্যু ৭৮

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, শনাক্ত ৪৬৩৬, মৃত্যু ৭৮

দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ হাজার।

সোমবার সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জনের, আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ৬৪১ জন।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫২৮ ল্যাবে ২৪ হাজার ৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। রোববার এই হার ছিল ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এক দিনের হিসাবে এর চেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছিল গত ১৪ এপ্রিল, ৫১৮৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এই সময়ে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। আগের দিন মৃতের সংখ্যা ছিল ৮২।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৬ জনের।

করোনা থেকে গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৮২৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮২ জন। সুস্থতার হার ৯১.৭৩ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৫৬ জন পুরুষ, ২২ জন নারী। তাদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ৭, চল্লিশোর্ধ্ব ৮, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২৩ ও ষাটোর্ধ্ব ৩৯ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, ১৫ জন। এ ছাড়া, খুলনা বিভাগে ১৪, বরিশালে ৩, সিলেটে ২, রংপুরে ৯ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

বাবা হারালেন স্বাস্থ্যসচিব

বাবা হারালেন স্বাস্থ্যসচিব

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার বাবা আলহাজ মোজাম্মেল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার বাবা আলহাজ মোজাম্মেল হোসেন সোমবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান জানান, মোজাম্মেল হোসেন সোমবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে মারা গেছেন। তিনি ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে এক দিনে ১৩ মৃত্যু, ৯ জনই নারী

রাজশাহীতে এক দিনে ১৩ মৃত্যু, ৯ জনই নারী

রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে সোমবার ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকি ৭ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৯ জন নারী; ৪ জন পুরুষ।

রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকি ৭ জন মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তবে এদের মধ্যে ১ জন করোনা নেগেটিভও হয়েছিলেন।

এ নিয়ে চলতি মাসে ২১ দিনে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২১৬ জন।

এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১১২ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন।

রামেক হাসপাতালের প্রতিবেদনে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন, রাজশাহী ও নাটোরের ৩ জন করে এবং নওগাঁর ১ জন।

এদিকে, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তিও বেড়েছে।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টা এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬২ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ৫৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৪ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৩৮ জন। রোববার সকালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৩৭৭ জন। সোমবার সকালে সেটি বেড়ে হয়েছে ৪০২ জন।

রোববার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৫৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ২৪৫ জনের।

রাজশাহীর ৪৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২০৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮ জনের পজিটিভ এসেছে। এ ছাড়াও নাটোরে ১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ এসেছে।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

খুলনায় ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু

খুলনায় ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু

খুলনায় করোনায় এক দিনে ৩ হাসপাতালে ১০ মৃত্যু। ছবি: নিউজবাংলা

বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাজী মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে করোনায় ৪ জন মারা গেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন। যার মধ্যে আইসিইউতে ৪, এইচডিইউতে ৫ জন রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন।

খুলনায় তিন হাসপাতালে এক দিনে করোনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এর মধ্যে করোনায় ৯ জন ও উপসর্গে ১ জন মারা যান।

মৃত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনেরই বাড়ি খুলনা। বাকি ৩ জন যশোর ও ১ জন বাগেরহাটের।

সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, ১৩০ শয্যার করোনা হাসপাতালে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৬১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। যার মধ্যে রেড জোনে ১০২ জন, ইয়ালো জোনে ২০ জন, এইচডিইউতে ১৯ জন ও আইসিইউতে ২০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। মারা গেছেন ৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন।

২৫০ জেনারেল হাসপাতালে মুখপাত্র ডা. রাশেদ জানান, ৭০ শয্যার করোনা হাসপাতালে করোনায় ১ জন মারা গেছেন। ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন।

বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাজী মিজানুর রহমান জানান, এই হাসপাতালে করোনায় ৪ জন মারা গেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৭৪ জন।

যার মধ্যে আইসিইউতে ৪, এইচডিইউতে ৫ জন রয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ জন।

খুলনা করোনা হাসপাতালের সমন্বয়ক মেহেদি নেওয়াজ জানান, ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৬৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৯৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

দেশে ফাইজারের টিকা প্রথম নিলেন মুন্না

দেশে ফাইজারের টিকা প্রথম নিলেন মুন্না

দেশে ফাইজারের টিকার প্রথম গ্রহীতা রাহাত চৌধুরী মুন্না। ছবি: নিউজবাংলা

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার পর রাহাত চৌধুরী মুন্নার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি জানান, এপ্রিলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা পেতে নিবন্ধন করেছিলেন তিনি। সিরামের টিকা শেষ হওয়ার কারণে এত দিন অপেক্ষায় ছিলেন। পরে গত রাতে এসএমএস আসে টিকা নেয়ার জন্য।

দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা প্রথম নিয়েছেন রাহাত চৌধুরী মুন্না। তার বয়স ৪৬ বছর।

তিনি একজন ব্যবসায়ী। থাকেন রাজধানীর মালিবাগে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে সোমবার সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে মুন্নাকে টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

দেশে প্রয়োগ করা হবে ফাইজারের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান শুরু হওয়ার সময় বাংলাদেশে প্রথম টিকা নেন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা। এরপর দেশে ব্যবহার হওয়া দ্বিতীয় টিকা চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-করভি দেয়া শুরু হয় ২৫ মে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতা প্রথম এই টিকা নেন।

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেয়ার পর রাহাত চৌধুরী মুন্নার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

তিনি জানান, এপ্রিলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা পেতে নিবন্ধন করেছিলেন তিনি। সিরামের টিকা শেষ হওয়ার কারণে এত দিন অপেক্ষায় ছিলেন। পরে গত রাতে এসএমএস আসে টিকা নেয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় যেভাবে টিকা নিয়েছেন, সেভাবেই টিকা দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব হয়নি।’

মুন্না বলেন, ‘ফাইজারের টিকা প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নিতে পেরে আনন্দ অনুভব করছি। টিকা নেয়ার পর এখন কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।

‘টিকা দেওয়া স্থানে এখনও ব্যথা অনুভব করছি না। ভালো লাগছে; শরীরেও কোনো ব্যথা অনুভূত করছি না।’

টিকা নেয়ার পর ৩০ মিনিট বিশ্রাম নেন মুন্না। পরে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর তিন হাসপাতালে সকাল সাড়ে ৯টার পর শুরু হওয়া টিকাদান কার্যক্রম চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। তিন হাসপাতলের প্রতি কেন্দ্রে ১২০ জন করে মোট ৩৬০ জনকে সোমবার টিকা দেয়া হবে।

বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকা শুরু করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা টিকা দিয়ে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ।

তবে রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৭০ লাখ দেয়ার পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আর ফাইজারের কিছু টিকা পাওয়া গেছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কার্যকারিতার দিক থেকে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি, রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির মতো ফাইজারের টিকাও নিতে হয় দুই ডোজ করে।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের এই টিকা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এই টিকার দাম তুলনামূলক বেশি। আর এর কার্যকারিতাও বেশি। এ কারণে এই টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে।

ফাইজারের টিকা সারা দেশে পরিবহন করার মতো কোল্ড চেইন সিস্টেম না থাকায় এগুলো মূলত রাজধানীতেই দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফাইজারের টিকা অবশ্যই মাইনাস ৬০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ফাইজারের টিকা দেয়া শুরু

ফাইজারের টিকা দেয়া শুরু

প্রথম দিনে ফাইজারের টিকা পাবেন ৩৬০ জন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

সকাল ৯টা ৪৯ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। তিন হাসপাতলের প্রতি কেন্দ্রে ১২০ জন করে ৩৬০ জনকে সোমবার টিকা দেয়া হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে রাজধানীর তিন হাসপাতালে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে সোমবার সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

একই সময় শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফারুক আহমেদ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ নিজ নিজ কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

সকাল ১০টার আগে শুরু হওয়ার এই কার্যক্রম চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। তিন হাসপাতলের প্রতি কেন্দ্রে ১২০ জন করে ৩৬০ জনকে সোমবার টিকা দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ।

গতকাল রোববার স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক এ কথা জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ৭ থেকে ১০ দিন প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফাইজারের টিকা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হলো। যারা এই সেন্টারে নিবন্ধন করে এখনও টিকা পাননি। তাদের মধ্যে থেকে ১২০ জনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে এই টিকা দেয়া হচ্ছে।

‘টিকা দেয়ার পর প্রথমে দুজনকে তাদের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বিশ্রামের জন্য আলাদা বুথ রাখা হয়েছে।’

শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের পরিচালক ফারুক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল থেকে ১১৫ জনকে টিকা নিতে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।

‘সাড়ে ৯টার সময় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১১৫ জনের মধ্যে যারা আসবে তাদের সবাইকেই এই টিকা দেয়া হবে।’

টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একাধিক কর্মকর্তা এখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

যাদের টিকা নেয়া বারণ

যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা হিসেবে ‘ব্লাড প্লাজমা’ কিংবা ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ নিয়েছেন বা এখনও নিচ্ছেন তাদের করোনাভাইরাসের টিকা নেয়া উচিত হবে না।

যারা এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন তাদের শারীরিক যেকোনো অস্বস্তির দিকে সতর্ক নজর থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোনো ‘অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন’ দেখা দিচ্ছে কি না। যেকোনো অস্বস্তি, তা যত সামান্যই হোক, চিকিৎসককে জানাতে হবে।

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যদি দেখা দেয়, তবে শুরুতে ঘাবড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। জ্বর, অবসাদ, ব্যথা, চুলকানি ইত্যাদি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার কথা ইতোমধ্যেই জানা গেছে। আর এসবই হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর টিকার প্রতিক্রিয়া, যাতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

বাংলাদেশ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান শুরু করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা টিকা কোভিশিল্ড দিয়ে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কেনার চুক্তি হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ।

তবে রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৭০ লাখ দেয়ার পর সিরাম আর টিকা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। আর ফাইজারের কিছু টিকা পাওয়া গেছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কার্যকারিতার দিক থেকে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি, রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির মতো ফাইজারের টিকাও নিতে হয় দুই ডোজ করে।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের এই টিকা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। এই টিকার দাম তুলনামূলক বেশি। আর এর কার্যকারিতাও বেশি। এ কারণে এই টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে।

ফাইজারের টিকা সারা দেশে পরিবহন করার মতো কোল্ড চেইন সিস্টেম না থাকায় এগুলো মূলত রাজধানীতেই দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফাইজারের টিকা অবশ্যই মাইনাস ৬০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ২
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৫
খুলনার ৩ থানা ১ উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ইউনিটে আরও ১৬ মৃত্যু
ভারতে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৬২৪ চিকিৎসকের মৃত্যু

শেয়ার করুন