‘স্বাস্থ্য খাতে গুণগত ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে’

‘স্বাস্থ্য খাতে গুণগত ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে’

 ‘স্বাস্থ্য খাতে যে বাজেট দেয়া হয়, সেই বাজেট যদি গুণগত বা সঠিকভাবে খরচ করতে পারতাম, স্বাস্থ্য খাতে অনেক উন্নয়ন করা সম্ভব হতো। এখানে যে খরচটা হচ্ছে সেটা রেভিনিউ বা উন্নয়ন বাজেটে ব্যয় থেকে জনগণ সুফল পাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য গুণগত বাজেটে গুরুত্ব দিতে হবে।  

চিকিৎসা নিতে বিদেশমুখিতা কমাতে দেশে সরকারি হাসপাতাল অত্যাধুনিক করে নতুন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ টিকা কেনার জন্য থাকছে আলাদা বরাদ্দ। চলতি অর্থবছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ হয়েছিল, যা প্রস্তাবিত বাজেটেও রয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকে ঢেলে সাজানোর এখনই উপযুক্ত সময়। প্রস্তাবিত বাজেটে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তার গুণগত ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে স্বাস্থ্য খাতের দৈন্যদশা কাটবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে যে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, তার চূড়ান্ত সুফল পাচ্ছে না জনগণ। তাদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ জনগণের সেবা নিশ্চিতে ব্যয় করতে পারলে স্বাস্থ্য খাতকে অনেক এগিয়ে নেয়া সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে যে বাজেট দেয়া হয়, সেই বাজেট যদি গুণগত বা সঠিকভাবে খরচ করতে পারতাম, স্বাস্থ্য খাতে অনেক উন্নয়ন করা সম্ভব হতো। এখানে যে খরচটা হচ্ছে সেটা রেভিনিউ বা উন্নয়ন বাজেটে ব্যয় থেকে জনগণ সুফল পাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য গুণগত বাজেটে গুরুত্ব দিতে হবে।

‘প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়। এর বড় একটা অংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনে চলে যায়। কারণ প্রতিবছর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ৫ শতাংশ করে বাড়ানো হয়। তাই আমাদের জোর মনোযোগ থাকতে হবে, যে বাজেট দেয়া হচ্ছে, এটার গুণগত ব্যয় নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘গুণগত ব্যয় হলো বাজেটের অর্থ দুইভাবে ব্যয় হয়। একটি পরিচালনা। অন্যটি উন্নয়ন ব্যয়। পরিচালনা ব্যয় মূলত বেতন-ভাতা, ওষুধসহ চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ে ব্যয় হচ্ছে। তবে বেতন নেয়ার পর যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে তাদের পেছনে ব্যয় গুণগত ব্যয় হবে না। যেমন: হাসপাতালে রোগী সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসককে বেতন দেয়া হয়। ‘যদি চিকিৎসক হাসপাতালে না গিয়ে বেতন নেন, তাদের পেছনে বাজেটের ব্যয় গুণগত ব্যয় হবে না। স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নের এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’

মহামারির বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অর্থনীতির ক্ষত সারানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। আর মূল বাজেটের চেয়ে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরে মুস্তফা কামালের দেয়া মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সবার প্রাথমিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোস্তাক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, করোনা মোকাবিলা ও টিকা ক্রয়ের জন্য যে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, এ্রর সব টাকা হাসপাতাল তৈরির পেছনে খরচ না করে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে যা করণীয় সে কাজে গুরুত্ব দিতে হবে।

করোনা রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে টিকা কেনার জন্য ও বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাম-শহরের মানুষের প্রাথমিক সেবা নিশ্চিতে ব্যয় বাড়াতে হবে। এই বাজেটে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর কোনো অগ্রগতি রক্ষা করা যায়নি। চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ না নিলে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও বেশি বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

বাজেটের মূল্য লক্ষ্য ঠিক নেই: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে তিন চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এই বাজেটের মূল লক্ষ্য ঠিক নেই বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাব শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দুই-তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। আমার যেখানে প্রয়োজন সাড়ে তিন গজ কাপড়, সেখানে এক হাত কাপড় দিলে কি কাজ হবে? এই কাপড় দিয়ে মৌলভি সাহেবের টুপিও হবে না। যেখানে বরাদ্দ প্রয়োজন, সেখানে ব্যয় বাড়ানো হয়নি।

সরকার এটা বোঝে না তাদের মূল্য লক্ষ্য ঠিক নেই। বাজেট প্রকাশের আগে অবশ্যই আগামী ১০ বছর স্বাস্থ্যে কী ধরনের পরিবর্তন করা দরকার এই বিষয়ে একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। একটা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের তেমন কোনো প্রস্তুতি লক্ষ করা যায়নি। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করতে হবে। গ্রামের মানুষের সুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দেশের জনগণের ৭০ শতাংশ গ্রামে বাস করে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছিল। এতে বলা হয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কমিয়ে ৩২ শতাংশ করা হবে এটা কি সম্ভব। বর্তমানে ব্যক্তির নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় ৭০ শতাংশ রয়েছে।

এটা কমানো সম্ভব কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে মজা করেছে। সরকার না বুঝে, চিন্তা না করে বাজেট দিয়েছে। এই বাজেট নিশ্চিয়ই স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেছে, অর্থমন্ত্রী এটা পড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিনিমাম জ্ঞান থাকলে এমন বাজেট দিত না।’

স্বাস্থ্য বাজেটে কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, বাজেটে বরাদ্দ ব্যয় বাড়ালেই চলবে না। কোথায় ব্যয় হবে সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। মেডিক্যাল শিক্ষা বরাদ্দ বাড়াতে হবে। চিকিৎসক, নার্স স্বাস্থ্যকর্মী বৃদ্ধি করতে হবে। তারা যাতে গ্রামে নিয়ে কাজ করতে পারে, এটাও নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তাদের গ্রামে কিছু সময় থাকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবছর ১০ হাজার শিক্ষার্থীদের এক মাস গ্রামে রাখতে যে খরচ হবে সেটাও সরকাকে বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা আনতে চীন গেল ২ উড়োজাহাজ

টিকা আনতে চীন গেল ২ উড়োজাহাজ

টিকা আনতে চীনে রওনা হয়েছে বিমানবাহিনীর সি ১৩০ জে মডেলের দুটি উড়োজাহাজ

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, বিমানবাহিনীর দুটি সি ১৩০ জে পরিবহন বিমান চীন থেকে টিকা আনার জন্য সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় চায়না থেকে বিমান দুইটি দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

চীনের সিনোফার্ম উদ্ভাবিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির উপহারের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা আনতে চীনে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি উড়োজাহাজ।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর দুটি সি ১৩০ জে পরিবহন বিমান চীন থেকে টিকা আনার জন্য সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় চায়না থেকে বিমান দুইটি দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

একই তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এর আগে, গত ১২ মে দেশে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা উপহার হিসেবে পাঠায় চীন। সেখান থেকে ইতোমধ্যে ঢাকার চারটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এই টিকা দেয়ার কথা রয়েছে সারাদেশের সরকারি ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের। করোনা মোকাবিলায় সামনের সারিতে থাকা পুলিশ সদস্যদেরও দেয়া হবে এই টিকা।

উপহারের দ্বিতীয় কিস্তির টিকা বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সেরে রেখেছে চীন। এ বিষয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের উপ রাষ্ট্রদূত হ্যালং ইয়ান। টিকা পরিবহন ও মজুতের তিনটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেন- ‘৬ লাখ টিকা প্রস্তুত। ১৩ জুন তা বাংলাদেশে পৌঁছাবে।’

উপহারের বাইরে চীনের সিনোফার্মের টিকা কেনার আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, টিকা কিনতে চীনের সঙ্গে ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে ভ্যাকসিনের দাম প্রকাশ হওয়ায় আমাদের সমস্যা হয়েছে। এজন্য চুক্তি অনুযায়ী কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রথমে করোনার অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহারের পক্ষে ছিল। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। কেনা টিকার বাইরে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকেও আসার কথা ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টিকা। পরে জানানো হয় আরও বেশি আসবে। কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের প্রথম দিন কোভ্যাক্স থেকে মাত্র ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা এসেছে দেশে। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও ১০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

টিকা স্বল্পতায় বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। এমন অবস্থায় টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি টিকা কেনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুটি দেশের টিকা দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন

করোনা: নওগাঁয় ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২৫.৫৪ শতাংশ

করোনা: নওগাঁয় ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২৫.৫৪ শতাংশ

শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

নওগাঁয় ২৪ ঘণ্টায় ২৩১টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এই সময়ে করোনায় কারো মৃত্যু হয়নি।

নওগাঁ সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এ ছাড়া অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে ১২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৬ জনের, রাণীনগরের একজনের, বদলগাছীর একজনের, আত্রাইয়ের চারজনের, মহাদেবপুরের চারজনের, মান্দার ছয়জনের, ধামইরহাটের ছয়জনের, পত্নীতলার সাতজনের, সাপাহারের সাতজনের, নিয়ামতপুরের দুইজনের ও পোরশার পাঁচজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

নওগাঁ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন,‘ঈদুল ফিতরের পর থেকে জেলায় আশঙ্কাজনকহারে করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও, মানুষের মধ্যে নমুনা দেয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। জেলার করোনা পরিস্থিতি জানার জন্য এবং মানুষকে নমুনা দিতে আগ্রহী করতে বিনা মূল্যে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে ক্যাম্প করে পথ চলতি মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

‘যেখানে এ জেলায় প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ নমুনা সংগ্রহ হওয়া উচিত, সেখানে প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০টি করে। কম পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ হওয়ায় জেলার সঠিক চিত্র এখনও বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।’

নওগাঁ জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ২৩ এপ্রিল। এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৫২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দুই হাজার ৮০৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’

নিজের তৈরি ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্রের পাশে তাহের মাহমুদ তারিফ। ছবি: নিউজবাংলা

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে বাবা আব্দুস সালামের মৃত্যুর সময় অক্সিজেন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাহের মাহমুদ তারিফকে। অক্সিজেনসংকটেই মারা যান তার বাবা। এর কিছুদিন পর দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়; বাড়তে থাকে অক্সিজেনের চাহিদাও। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য গবেষণা শুরু করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাহের মাহমুদ তারিফ।

গবেষণায় সফলও হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী তারিফ। করোনা মোকাবিলায় স্বল্প খরচে অক্সিজেন তৈরির জন্য ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ যন্ত্র তৈরি করেছে সে।

বৃহস্পতিবার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ওই যন্ত্রের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে দেখায় তারিফ। টানা এক বছরের চেষ্টায় যন্ত্রটি তৈরি করতে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে সে।

তারিফ বলে, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবার আগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। আহত ফুসফুস বাতাস থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহের সামর্থ্য হারাতে থাকে। ফলে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এ কারণে করোনা আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হয়।’

অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তারিফ জানায়, ডায়নামো দিয়ে বাতাসকে প্রথমে একটি সিলিন্ডারে ঢোকানো হয়। বাতাসে অক্সিজেন ছাড়া অন্যান্য উপাদান থাকায় সেগুলো পৃথক করতে জিওলাইট ব্যবহার করা হয়েছে। জিওলাইটের মাধ্যম বাতাস থেকে অক্সিজেনকে এক দিক দিয়ে এবং অন্যান্য উপাদানকে আরেক দিক দিয়ে বের করা হয়।

তারিফ জানায়, এই যন্ত্রের মাধ্যমে ২৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সংরক্ষণ করা যাবে। এটি দিয়ে একজন মানুষকে টানা সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যাবে। এরপর ৫-১০ মিনিট বিরতির নিয়ে আরও সাত ঘণ্টা অক্সিজেন দেয়া যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, ‘তারিফের এ কাজে আমরা সবাই উৎসাহ দিয়েছি। প্রাথমিক সাফল্য এসেছে। এখন ল্যাব টেস্ট করা হবে। ল্যাব টেস্টে দেখতে হবে, তারিফের আবিষ্কৃত যন্ত্রে উৎপাদিত অক্সিজেনের মধ্যে বাতাসের অন্য কোনো উপাদান আছে কি না।’

সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘তারিফ অত্যন্ত মেধাবী। এই শিক্ষার্থীর মেধা দেখে তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর পরেও সে দমে যায়নি। কম খরচে অক্সিজেন তৈরির মিনি প্ল্যান্টটিই তার অধ্যবসায়ের বড় প্রমাণ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘অক্সিজেন ঘাটতি ও এর জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে অল্প খরচে প্ল্যান্ট তৈরি করেছে তারিফ। বাতাস থেকে অক্সিজেন আলাদা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।’

তিনি বলেন, ‘তারিফের অক্সিজেন তৈরির যন্ত্রটি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ল্যাব টেস্টে সাফল্য এলে বড় পরিসরে বড় প্ল্যান্ট করে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন কম খরচে দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) পাবনার সাধারণ সম্পাদক আকসাদ আল মাসুর আনন জানান, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৯৫-১০০ শতাংশ। এই মাত্রা ৯৩ শতাংশের কম হলে সতর্ক হতে হয় এবং ৯২ শতাংশের কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অক্সিজেন দেয়া হয়। যাদের অক্সিজেন লেভেল ৯০-৯১ শতাংশে এসেছিল, এ রকম কয়েকজনকে তারিফের অক্সিজেন প্ল্যান্টে উৎপাদিত অক্সিজেন দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৮-৯৯ শতাংশে ওঠানো সম্ভব হয়েছে বলে তারিফ জানিয়েছে।

তারিফের এই যন্ত্রের সফলতা বিশ্ববিদ্যালগুলোর ল্যাব টেস্টেও আসবে বলে আশা করছেন আকসাদ আল মাসুর।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হলো যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন গ্যাস সংগ্রহ করা। গ্যাস সংগ্রহের পরে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গ্যাসের বিশুদ্ধতা এবং শতকরা পরিমাণ বের করা। এ জন্য সংগ্রহ করা গ্যাসের শতকরা বিশুদ্ধতা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা জরুরি। পরীক্ষার ফলের পরে বলা যাবে এটি রোগীর জন্য ব্যবহার উপযোগী কি না।

এ ব্যাপারে কথা হয়েছে পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি জানান, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের নির্দেশে বৃহস্পতিবার পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তারিফের অক্সিজেন কনসেনট্রেটরটি পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন করে এবং ল্যাব টেস্ট করার পর যন্ত্রটির সফলতা আসবে বলে মনে করছেন পাবনা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন

করোনায় শনাক্তের হার বেড়ে ১৪ শতাংশ

করোনায় শনাক্তের হার বেড়ে ১৪ শতাংশ

২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১ হাজার ৬৩৭ জনের শরীরে। আক্রান্তদের মধ্যে এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও বেড়েছে শনাক্তের হার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত একদিনে ৫১০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১১ হাজার ৫৯০টি। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১ হাজার ৬৩৭ জনের শরীরে। আক্রান্তদের মধ্যে এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে আট লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭১ জনের।

গত একদিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ১০৮ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৪ জন। সুস্থতার হার ৯২.৬৭ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের ২৬ পুরুষ ও নারী ১৩ জন। তাদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ৪, চল্লিশোর্ধ্ব ৭, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭ ও ষাটোর্ধ্ব ২০ জন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে টিআইবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে টিআইবি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে। এটা খুবই দুঃখজনক। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের সব দেশ বা সংস্থা প্রশংসা করেছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

করোনাযুদ্ধে প্রাণ হারানো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দুপুরে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

টিআইবির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রমে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, লকডাউন, টিকা ক্রয় ও বিতরণে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। গত মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে করোনা মোকাবিলায় ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে। এটা খুবই দুঃখজনক। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের সব দেশ বা সংস্থা প্রশংসা করেছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছেন।

‘তবে টিআইবির ঘরে বসে একটি সুন্দর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা করোনা শনাক্ত করতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি- এমন মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে। অথচ করোনা শনাক্তে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা (টিআইবি) বলছে, আমরা কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করিনি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য। অথচ সারা দেশে ১৫ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে শুধু করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য।

‘যে কারণে ভারতের মতো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এখনো অনেক দেশ যথাযথভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও লকডাউন চলমান।’

টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা টিকা নিয়ে স্পষ্ট চুক্তি করে ভ্যাকসিন ক্রয় করেছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে আইসিইউ বাড়াতে পারিনি বলে টিআইবি যে দাবি করছে, এটা সঠিক নয়। গত বছর যেখানে ৩০০-৪০০ আইসিইউ ছিল, এখন সেখানে এক হাজারের বেশি আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

জনগণের কাছে ভুল তথ্য দিতেই টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে অভিযোগ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার জন্য যে সরঞ্জাম কেনা হয়েছে তা ব্যবহার করা হয়নি, এমন তথ্যও সঠিক নয়। আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছি। এমন মিথ্যাচার আমরা গ্রহণ করি না।’

টিকা ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতার অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের টিকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ছিল। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করোনার সামনের সারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ মোটেও গ্রহণযোগ্য না।’

বসুন্ধরার আইসোলেশন সেন্টার নিয়ে মিথ্যাচার হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওটা চালু হলেও ছয় মাসে ছয়টা রোগী হয়েছে। এর পেছনে লাখ লাখ টাকা ভাড়া গেছে। এ কারণে সবার সঙ্গে আলোচনা করে আইসোলেশন সেন্টার থেকে সরঞ্জাম বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’

দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তরের ড্রাইভার থেকে শুরু করে যারা অন্যায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এমনকি ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার জন্য সাবরিনা ও সাহেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে দেয়া হয়েছে। ভুয়া সনদ দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ সময় টিআইবির প্রতি প্রশ্ন রেখে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কোন জায়গায় এক হাজার কোটি টাকা, পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বা দুর্নীতি হয়েছে- এ রকম কোনো তথ্য কি তারা দেখাতে পারবে?

‘এমন তথ্য দিতে পারবে না। অন্যান্য জায়গায় কি দুর্নীতি হয়নি? কেউ কেউ কোটি টাকা নিয়ে কানাডায় চলে গেছে। পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরনের কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন

যশোরে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু ৩

যশোরে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু ৩

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, রোগী ভর্তির চাপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছে। যা নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার দ্বিগুণ। বর্তমানে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৬৪ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছে ৪২ জন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন যশোর শার্শা উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার রফিউদ্দিন, যশোর সদরের ঝুমঝুমপুর এলাকার সুমি (১৪) ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পুরন্দরপুর এলাকার মকছেদুল ইসলাম।

রফিউদ্দিন ও সুমি গত ১০ জুন যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে রফিউদ্দিন শনিবার ভোররাতে ও সুমি সকাল ৮টার দিকে মারা যান।

অপরদিকে, মকছেদুল ইসলাম করোনা উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন, ‘রফিউদ্দিন হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের রেড জোনে ও সুমি ইয়েলো জোনে ভর্তি ছিলেন। ভোর ও সকালে তারা দুজন মারা যান। এছাড়া জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরেক রোগী আজ সকালে ইয়েলো জোনে ভর্তির পর মারা যান।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


শনাক্তের হার উদ্বেগজনক

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৭ শতাংশ। এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৬৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় ঘোষিত লকডাউন কার্যকর করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।

গত ১৬দিন ধরে যশোরের করোনা শনাক্তের হার উদ্বেগজনক।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, রোগী ভর্তির চাপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছে। যা নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার দ্বিগুণ। বর্তমানে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৬৪ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছে ৪২ জন।


যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, নমুনা সংগ্রহের হার কম থাকায় শনাক্তের হার কম। তবে শনাক্তের হার এখনও উদ্বেগজনক। যে কারণে করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে প্রশাসন।

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮টি মামলা দিয়ে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন

ভারতে ৭০ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত

ভারতে ৭০ দিনে সবচেয়ে কম শনাক্ত

দেশটিতে সংক্রমণ কমে আসাকে স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৫ জনে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১ জনের।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ ভারতে অনেকটা কমতির দিকে। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে দুই মাসের বেশি সময় পর ৯০ হাজারের কম মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখল দেশটি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে ৮৪ হাজার ৩৩২ জনের দেহে, যা গত ৭০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তবে মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ হাজার ২ জনের।

সংক্রমণ কমে আসাকে স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৫ জনে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১ জনের।

গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ১ লাখ ২১ হাজার ৩১১ জন। মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৯ লাখ ১১ হাজার ৩৮৪ জন। করোনার প্রকোপ কমে আসায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

দেশটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন করোনারোগী রয়েছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৬৭০ জন, যা মোট আক্রান্ত রোগীর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পথে থাকলেও জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুগ্ম সচিব লাভ আগারওয়াল বলেন, ‘কোভিড থেকে সুরক্ষায় আমাদের দৈনন্দিন চলাফেরায় যথাযথ আচরণ অব্যাহত রাখতে হবে। যদিও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিম্নগামী হয়ে এসেছে, করোনা আর ছড়াচ্ছে না, আমাদের এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও গবেষণা জরুরি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
করোনাকালেও ঢিমেতেতালা স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ কী

শেয়ার করুন