ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: দ্রুত চিকিৎসা শুরুর পরামর্শ সরকারের

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বিষয়ক গাইডলাইনের প্রকাশনা’ উপলক্ষে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: দ্রুত চিকিৎসা শুরুর পরামর্শ সরকারের

বুধবার ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাবিষয়ক গাইডলাইনের প্রকাশনা’ উপলক্ষে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ রোগ প্রতিরোধযোগ্য। হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থেকে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আবশ্যক। সময় নষ্ট না করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস নিয়ে অহেতুক ভয় পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ রোগ প্রতিরোধযোগ্য বলে আশ্বস্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কে তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থেকে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আবশ্যক। সময় নষ্ট না করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বিষয়ক গাইডলাইনের প্রকাশনা’ উপলক্ষে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ছত্রাকবিরোধী ওষুধ বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ড্রাগ জরুরিভাবে প্রয়োগ করতে হবে। পাশিপাশি ঝুঁকিসমূহ যেমন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে আক্রান্ত অঙ্গে সার্জারি করতে হতে পারে বা কোনো কোনো সময়ে তা কেটে ফেলে দিয়ে জীবন রক্ষা করতে হতে পারে।

‘সার্জারিগুলোর মধ্যে রাইনো-অরবিটাল-সেরেব্রাল সংক্রমণে নাক, সাইনাস বা চক্ষুকোটরের অপারেশন, আক্রান্ত অংশ অপসারণ, চক্ষু অপসারণ, এক্সেন্টারেশন ও ইন্ট্রাক্র্যানিয়াল অন্যতম।’

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোভিড মহামারির সঙ্গে ভারতের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রাদুর্ভাবের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকজন রোগী পাওয়া গেলেও এই মুহূর্তে ভারতের মতো মহামারির আশঙ্কা নেই।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: দ্রুত চিকিৎসা শুরুর পরামর্শ সরকারের

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন সব চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের নিয়ে কোভিড-১৯-এর মোকাবিলায় বিশেষ করে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

‘আইসিইউ ও বেডসংখ্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে, হাইফ্লো অক্সিজেনের সরবরাহ সম্প্রসারিত করে ও পূর্ণ উদ্যমে ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়েও সরকার, চিকিৎসক সমাজ, সাংবাদিক ও জনগণকে সঠিক ধারণা ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে আজ এই গাইডলাইন প্রকাশ করা হল।’

তিনি বলেন, মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিশেষ ধরনের অণুবীক্ষণিক ছত্রাকের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগকে বোঝায়। এর মধ্যে রাইজোপাস প্রজাতি হলো সবচাইতে বেশি দায়ী, তবে অন্যান্য জীবাণু যেমন মিউকর, কানিংহামেলা, অ্যাফোফিজোমাইসেস, লিচথিমিয়া, সাকসেনিয়া, রাইজোমুকর এবং অন্যান্য প্রজাতিও এই রোগের কারণ।

‘এই ছত্রাক সর্বব্যাপী- মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে থাকলেও সংক্রমণক্ষমতা এতই কম যে এক লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ১-২ জন আক্রান্ত হতে পারে। এটা বেড়ে সর্বোচ্চ এক লাখে ২০-৩০ জন হতে পারে। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।’

বহু আগে থেকেই এই রোগের কথা জানা থাকলেও সম্প্রতি কোভিড মহামারিতে ভারতে এর প্রকোপ দেখা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বিশেষত কিটো অ্যাসিডোসিস আক্রান্ত রোগীরা, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অন্তঃসত্ত্বা নারী, অত্যধিক মাত্রায় বা অপ্রয়োজনীয় স্টেরয়েড গ্রহণ করা, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং চরম অপুষ্টিজনিত রোগী, চামড়ার গভীর ক্ষত ও পোড়া ঘায়েও এই রোগ হতে দেখা যায়। কোভিড ভাইরাসে দীর্ঘমেয়াদে আক্রান্ত বা চিকিৎসাধীন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, মিউকর ছত্রাকের হাইফাগুলো মানুষের রক্তনালিতে আক্রমণ করে, যা থেকে থ্রম্বোসিস ও টিস্যু ইনফেকশন, নেক্রোসিস এবং পরিশেষে গ্যাংগ্রিনও হতে পারে। সুস্থ মানুষের রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বা নিউট্রোফিল এই ছত্রাকের বিরুদ্ধে মূল প্রতিরক্ষার কাজ করে থাকে। সুতরাং নিউট্রোপেনিয়া বা নিউট্রোফিল কর্মহীনতায় (যেমন, ডায়াবেটিস, স্টেরয়েড ব্যবহার) বা এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।

‘আক্রান্ত অঙ্গের ওপর ভিত্তি করে মিউকরমাইকোসিস রোগটি ছয় ধরনের হলেও রাইনো-অরবিটাল-সেরেব্রাল রোগ নাক, নাকের ও কপালের সাইনাস, চোখ ও ব্রেইন বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ করে বলে এটাই সবচাইতে বিপজ্জনক। তাছাড়া ফুসফুসীয়, আন্ত্রিক, ত্বকীয় সংক্রমণও হতে পারে।’

‘আক্রান্ত অংশ আর নাকের শ্লেষ্মা, কফ, চামড়া ও চোখ কালো রং ধারণ করে বলে একে কালো ছত্রাক নামে ডাকা হয়। আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা না করতে পারলে ৫০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ রোগী মৃত্যুবরণ করে থাকেন। আর সংক্রমণের মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশের কাছাকাছি।’

এ ছাড়া মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণ প্ৰতিরোধে চিকিৎসা গাইডলাইন তৈরি ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা অন্তর্ভুক্তকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংরক্ষণ এবং স্টেরয়েডের যৌক্তিক ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ রফিকুল আলম প্রশাসন, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বেসিক সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. খন্দকার মানজারে শামীম, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, আইআরবি’র সদস্যসচিব সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. রসুল আমিন ছাড়াও আইআরবি’র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা উৎপাদনে সহযোগিতা দিন

টিকা উৎপাদনে সহযোগিতা দিন

গণটিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর টিকা নিচ্ছেন এক নারী। ফাইল ছবি

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে করোনা মহামারি প্রতিরোধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ যেসব দেশের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা আছে, সেসব দেশকে টিকা উৎপাদনে সহায়তা দিন।

টিকা উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবারও সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই) নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে মোমেন এই সহযোগিতা চান।

বৃহস্পতিবার সকালে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এই সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং আই সভাপতিত্ব করেন।

চীনা উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেন।

সম্মেলনে করোনা মহামারি প্রতিরোধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ যেসব দেশের টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা আছে, সেসব দেশকে টিকা উৎপাদনে সহায়তা দিন।

করোনা নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান, করোনা প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয়, টিকাকে জনগণের সম্পত্তি ও কোভ্যাক্স উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তাব দেন তিনি।

টিকা উৎপাদনে সহযোগিতা দিন

টিকা উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবারও সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

সম্মেলনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জনগণের স্বার্থে টেকসই উন্নয়নে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

রাজশাহী মেডিক্যালে এক দিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

রাজশাহী মেডিক্যালে এক দিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত রোগী ছিলেন ৮ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের।

করোনাভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর পর এটিই রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে সর্বোচ্চ মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত রোগী ছিলেন ৮ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত ১৮ জনের মধ্যে ৮ জন নারী, অন্যরা পুরুষ। এ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৬৩ জনের, যার মধ্যে ১৩৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

শামীম আরও জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৫৪ রোগী।

রাজশাহী মেডিক্যালে ল্যাব ইনচার্জ সাবেরা গুলনাহার জানান, বুধবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে ৪৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩০ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। আর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানান শামীম ইয়াজদানী।

শেয়ার করুন

জয়পুরহাটের ৫ পৌরসভায় এখন কঠোর বিধিনিষেধ

জয়পুরহাটের ৫ পৌরসভায় এখন কঠোর বিধিনিষেধ

৭ জুন থেকে জেলার জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। গত শুক্রবার  থেকে কালাই পৌরসভা এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়। বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ জারির মধ্য দিয়ে জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি পৌরসভায় বিধিনিষেধের আওতায় এলো।

জয়পুরহাটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বুধবার থেকে আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল পৌরসভা এলাকায় সাতদিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৭ জুন থেকে জেলার জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। গত শুক্রবার থেকে কালাই পৌরসভা এলাকায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়। বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ জারির মধ্য দিয়ে জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি পৌরসভায় বিধিনিষেধের আওতায় এলো।

জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাট,পাঁচবিবি, কালাই পৌরসভা এলাকায় বিধিনিষেধ চলছে। ওই তিনটি পৌরসভা এলাকায় যেসব বিধিনিষেধের নির্দেশনা রয়েছে, এই দুটি পৌরসভায়ও একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ।

এগুলো হলো- প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত পৌরসভা এলাকায় ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পৌর এলাকার লোকজন বিকেল ৫টা থেকে পরদিন ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী করোনার সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ২৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮১ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৩ জনে।

শেয়ার করুন

ঝিনাইদহে করোনায় ৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৭

ঝিনাইদহে করোনায় ৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৭

গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ৪ জন রোগী মারা গেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ল্যাবে ২২৭ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১১৭ জনের পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তের হার ৫১ দশমিক ৫৪ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৩ হাজার ৬৩৮ জনে।

ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১১৭ জন।

সিভিল সার্জন সেলিনা বেগম জানান, বুধবার সকালে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ল্যাবে ২২৭ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১১৭ জনের পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তের হার ৫১ দশমিক ৫৪ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৩ হাজার ৬৩৮ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৮ জন।

এদের মধ্যে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ৪ জন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার রহিমপুর গ্রামে একজন, শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামে একজন, মহেশপুর উপজেলার আজমপুর গ্রামে একজন ও কোটচাঁদপুর উপজেলার মায়াধরপুর গ্রামে একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো ৭৯ জনে।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলায় শুরু হয়েছে লকডাউন। লকডাউন কার্যকরে শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট ও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেয়ার করুন

করোনায় মানবাধিকারকর্মীর মৃত্যু

করোনায় মানবাধিকারকর্মীর মৃত্যু

মনিরুজ্জামান। ফাইল ছবি

গত ১৭ জুন মনিরুজ্জামানের করোনা শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ১৮ জুন শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, ১৯ জুন তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় । সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়।’

শেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে মনিরুজ্জামান নামের এক মানবাধিকার কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বুধবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মোবারক হোসেন।

মৃত মনিরুজ্জামান শেরপুর শহরের উত্তর নওহাটা মহল্লার বাসিন্দা। ৪৩ বছরের মনিরুজ্জামান মজিবুর রহমানের ছেলে। গার্মেন্টস কাপড়ের ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মানবাধিকার সংগঠন ‘আমাদের আইনের শেরপুর’ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন।

গত ১৭ জুন মনিরুজ্জামানের করোনা শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ১৮ জুন শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৯ জুন তাকে ময়মনিসংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়।’

জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম আনোয়ারুর রউফ জানান, গত বছরের ৫ এপ্রিল জেলায় প্রথম দুই ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এ বছরের ২২ জুন পর্যন্ত সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১৩৫ জনে। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

শেয়ার করুন

এক দিনে ৮৫ মৃত্যু, ৭২ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

এক দিনে ৮৫ মৃত্যু, ৭২ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

ছবি: সাইফুল ইসলাম

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭৮৭ জনের।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের, যা গত ২৯ এপ্রিলের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৫ হাজার ৭২৭ জনের শরীরে, যা গত ৭২ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭৭ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭৮৭ জনের।

এক দিনের হিসেবে এর আগে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছিল ১৩ এপ্রিল, ৬ হাজার ২৮ জন। আর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ২৯ এপ্রিল, ৮৮ জন।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫৫৪ ল্যাবে ২৮ হাজার ২৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্ত হার ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ। মধ্যে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ১৬৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৩ জন। সুস্থতার হার ৯১.৩১ শতাংশ।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫৫ পুরুষ জন, নারী ৩০ জন।

বয়স বিবেচনায় মৃত ৮৫ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১০, চল্লিশোর্ধ্ব ১১ পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৮, ষাটোর্ধ্ব ৪৬ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। এরপরই রয়েছে ঢাকা বিভাগ, ১৯ জন। অন্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ১৮, চট্টগ্রামে ৭, বরিশাল ১, রংপুর বিভাগে ১ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

শেয়ার করুন

অ্যান্টিবডি মানেই নিরাপদ নয়

অ্যান্টিবডি মানেই নিরাপদ নয়

অ্যান্টিবডি থেকে যাওয়া মানেই মানুষের দেহে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে, সেটা বলা যাবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘অনেকেই এমন মনে করছেন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে মানে আপনার দেহে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে, এটা বলা যাবে না। অ্যান্টিবডি মানে আপনি করোনা প্রতিরোধী এটা ভাবাও সঠিক নয়।’

মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পাওয়া মানে হার্ড ইমিউনিটি নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সম্প্রতি এক গবেষণায় ঢাকায় ও চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য আসল।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে মঙ্গলবার জানানো হয় বস্তি ও বস্তিসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা শহরে ৭১ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৫৫ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।

দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে বুধবার এ বিষয়ে কথা বলেন অধিদপ্তরের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিনও। জানান, ঢাকার ৭১ শতাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি মানেই সবার দেহে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে এটা বলা ঠিক হবে না।

রোবেদ বলেন, সম্প্রতি আইসিডিডিআরবি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে বস্তিবাসী ও বস্তিবাসী ছাড়া নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে। তারা দাবি করেছে ঢাকার ৭১ শতাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

‘আমি বলব, কোনো পরীক্ষা করার জন্য দেশের নিদিষ্ট কিছু স্থান থেকে তিন থেকে চার নমুনা সংগ্রহ করছে, এটা দিয়ে কোনো দেশের অবস্থান বোঝানো যাবে না।

‘দ্বিতীয়ত, অ্যান্টিবডি থেকে যাওয়া মানে দেশের ৭১ শতাংশ মানুষের দেহে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে এটা বলা সঠিক নয়। অনেকেই এমন মনে করছেন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে মানে আপনার দেহে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে, এটা বলা যাবে না। অ্যান্টিবডি মানে আপনি করোনা প্রতিরোধী এটা ভাবাও সঠিক নয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান, মানুষের দেহে কতটুকু অ্যান্টিবডি থাকলে করোনা প্রতিরোধী এটা এখনও কোনো গবেষণায় পরিষ্কার হয়নি। এ ছাড়া দেশের সব এলাকায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি তৈরি হলে বলা যাবে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। এই ছোট গবেষণা দিয়ে হার্ড ইমিউনিটির বিষয়ে বলা যাবে না। এ ছাড়া মানুষের দেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এটার মাধ্যমে সে করোনা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়ে পড়েছে তাও পরিষ্কারভাবে বলা যাবে না।

স্বাস্থ্যবিধি পালনের ওপর জোর দিয়ে রোবেদ আমিন বলেন, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প কিছুই নেই। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে করোনা সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।

শেয়ার করুন