করোনা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৯৬ রোগী

প্রতীকি ছবি

করোনা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৯৬ রোগী

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাবে ২৭০টি নমুনার মধ্যে ১৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে করা জীন এক্সপার্ট পরীক্ষায় ১০টি নমুনার মধ্যে ৩ জন ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৮৩টি নমুনায় ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শতকরা শনাক্তের হার ৫৩ দশমিক ৯৯।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান বিশেষ লকডাউনের মধ্যে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় ১৯৬ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

জেলার সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বুধবার এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাবে ২৭০টি নমুনার মধ্যে ১৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেসরকারি সংস্থা ব্র্র্যাকের করা পরীক্ষায় ৯৩টি নমুনা পরীক্ষায় ২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ৫৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ওই ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। এখন চিকিৎসাধীন আছেন ৮৬৭ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এখন চিকিৎসাধীন ২০ জন। বাকিরা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্ত হলেও মারা যাননি কেউ। এখন পর্যন্ত এ জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৩৭ জন।

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ লকডাউন চলছে এই জেলায়। গত ৩১ মে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা শেষে লকডাউনের মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানো হয়।

দ্বিতীয় দফার বিশেষ লকডাউনের দ্বিতীয় দিন বুধবারেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরজুড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ সদস্যরা জনসাধারণের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছেন। মাঠে আছে জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কাজী এন্টারপ্রাইজেসের

করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কাজী এন্টারপ্রাইজেসের

কাজী এন্টারপ্রাইজেসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে এবং ৬ জুন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে পৌঁছে দেয়া হয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী।

করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে দেশে জরুরি সেবা দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ফ্রন্টলাইনারদের সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে কাজী এন্টারপ্রাইজেস।

সোমবার প্রতিষ্ঠানটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতায় এক অনন্য নাম কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন পণ্যের মাধ্যমে দেশের মানুষের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা রয়েছে কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মে এবং ৬ জুন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে পৌঁছে দেয়া হয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পক্ষে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ, ডিএমপির পক্ষে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) টুটুল চক্রবর্তী এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপক (ইমেজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স) সালমান খান ইয়াসিন সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী গ্রহণ করেন।

এ সময় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তারা কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এভাবেই বেসরকারি খাত দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসবে। এ সময় তারা সবাইকে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে কাজী এন্টারপ্রাইজেস জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী এই মহামারীর সময়ে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। তাই, বুয়েট টেস্টের মাধ্যমে তাদের পণ্যসামগ্রীর সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের এফএমসিজি খাতে এই প্রথম।

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামেও মিলেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

চট্টগ্রামেও মিলেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

গবেষকদের কয়েকজন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং ঢাকার আইসিডিডিআরবি’র একটি যৌথ গবেষণায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সাথে নাইজেরীয় ইটা ভ্যারিয়েন্ট, যুক্তরাজ্যের আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বিটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

এবার চট্টগ্রামেও করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একদল গবেষক।

চট্টগ্রামের সাতটি করোনা পরীক্ষার ল্যাব থেকে ৪২ জন করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে দুইজনের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পান তারা। তবে এই দুইজনের কেউই সম্প্রতি ভারতে যাননি বা ভারতফেরত কারও সরাসরি সংস্পর্শে আসেননি।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং ঢাকার আইসিডিডিআরবির একটি যৌথ গবেষণায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সাথে নাইজেরীয় ইটা ভ্যারিয়েন্ট, যুক্তরাজ্যের আলফা ভ্যারিয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বিটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। গবেষণায় অর্থায়ন করেছেন বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি)।

চলতি বছরের মের শেষ সপ্তাহে চট্টগ্রামের সাতটি করোনা পরীক্ষাগার থেকে ৮২টি নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য ঢাকার আইসিডিডিআরবিতে পাঠায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। এর মধ্যে ৪২টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে দুটি নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। পাশাপাশি ৩৩টি নমুনায় আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট, তিনটি নমুনায় নাইজেরীয় ভ্যারিয়েন্ট এবং চারটি নমুনায় যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রাপ্ত ফলাফলে ৪২টি নমুনায় ৪.৮ শতাংশ ভারতীয়, ৭.২ শতাংশ নাইজেরীয়, ৯.৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যের এবং ৭৮.৫ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া দুজন রোগী সম্প্রতি ভারত যাননি, ভারতফেরত কারও সংস্পর্শেও আসেননি। তবু তাদের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়ায় চট্টগ্রামে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আল ফোরকান নিউজবাংলাকে বলেন, ’এটি একটি চলমান গবেষণা। এই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের সাতটি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাব থেকে সংগ্রহ করা ৪২টি নমুনার ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২টি (৪.৮%) ভারতীয় (ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট), ৩টি (৭.২%) নাইজেরীয় (ইটা ভ্যারিয়েন্ট), ৪টি (৯.৫%) যুক্তরাজ্যের (আলফা ভ্যারিয়েন্ট) এবং বাকি ৩৩টি (৭৮.৫%) দক্ষিণ আফ্রিকার (বিটা ভ্যারিয়েন্ট) শনাক্ত হয়। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত দুইজন রোগীর কেউই সম্প্রতি ভারতে যাননি এবং তাদের জানামতে ভারতফেরত কারও সংস্পর্শেও আসেননি।‘

তিনি বলেন, ’বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী চীনের উহান থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকে এই পর্যন্ত সার্স-কভ-২ (করোনাভাইরাস) মোট ১০ বার রূপ পরিবর্তন করেছে। এর মাধ্যমে মূলত ছয়টি দেশে (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল এবং ভারত) অতিসংক্রমণ এবং মহামারি আকার ধারণ করে ভাইরাসটি।

‘আমাদের বর্তমান গবেষণায় চট্টগ্রামে ভারতীয়সহ চারটি ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণক্ষমতা অনেক বেশি এবং অতিসত্বর বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনাপূর্বক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, যার পরিণতি ভারতের মতো ভয়াবহ হতে পারে।’

গবেষণা দলের সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময় নতুন করে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খুব উদ্বেগজনক। এখনই সতর্ক না হলে সংক্রমণ কমানোর বিষয়টি অনিশ্চয়তার দিকে চলে যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

গণটিকা আবার শুরু শনিবার

গণটিকা আবার শুরু শনিবার

রোববার সন্ধ্যায় উপহার হিসেবে চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছায়। এর আগে প্রথম দফায় ১২ মে দেশে ৫ লাখ ডোজ টিকা পাঠায় চীন। আর ৩১ মে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা পায় বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাতে যতটুকু ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে তা দিয়ে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম আবার চালু হবে ১৯ জুন।’

উপহার হিসেবে চীন থেকে আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা আসার পর আবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানালেন, আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে গণটিকা।

সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মা প্রয়াত ফৌজিয়া মালেকের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাতে যতটুকু ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে তা দিয়ে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম আবার চালু হবে ১৯ জুন।’

রোববার সন্ধ্যায় উপহার হিসেবে চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছায়। এর আগে প্রথম দফায় ১২ মে দেশে ৫ লাখ ডোজ টিকা পাঠায় চীন। আর ৩১ মে কোভ্যাক্স থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা পায় বাংলাদেশ।

চীন থেকে প্রথম দফায় টিকা পাওয়ার পর ঢাকার সরকারি চারটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান শুরু হয়। আরও টিকা হাতে আসায় টিকাদানের পরিসর আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে আমাদের হাতে কিছু টিকা চলে আসছে। চীন থেকে গতকাল ৬ লাখ টিকা হাতে আসছে। ফাইজারের টিকাও রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমাকে অবহিত করেছেন। আগামী ১৯ জুন থেকে এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। আগের নিবন্ধনকারীরা এই টিকা পেতে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘করোনা প্রতিরোধে আমরা টিকাদান কার্যক্রম আবার শুরু করেছি। ১ কোটি টিকা দেয়া হয়ে গেছে। আরও কয়েক কোটি টিকা লাগবে। সেই টিকার অনেক সংকট রয়েছে।’

বাংলাদেশ প্রথমে করোনার অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহারের পক্ষে ছিল। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। কেনা টিকার বাইরে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে ওঠা জোট কোভ্যাক্স থেকেও আসার কথা ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টিকা। পরে জানানো হয় আরও বেশি আসবে। কিন্তু সেখান থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

টিকাস্বল্পতায় বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। এমন অবস্থায় টিকার বিকল্প উৎস হিসেবে চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি টিকা কেনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুটি দেশের টিকা দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৫০ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা আবার বাড়ছে। এখন থেকেই সবাইকে আবার সচেতন হতে হবে। হাসপাতালে শয্যা কম। করোনা বেশি বাড়লে সেবাও ব্যাহত হবে। তাই প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের ছবি দেখিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ হবে না। এ সময় করোনার উৎপত্তিস্থলের ছবি টেলিভিশনে প্রচার করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

রোগীটি করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে তার। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

খুলনা থেকে ডানচোখে সমস্যা নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীটি দুই দিন আগেই শনাক্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে একজন পুরুষ শনাক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে খুলনা চিকিৎসা নিতে হাসপতালে ভর্তি হন। এর আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।’

এই রোগীর চিকিৎসা চলছে জানিয়ে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমি তাকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন সন্দেহ করি এবং নাক কান গলা বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে সাইনাস অপারেশন করি। তারপর ওখানকার স্যাম্পল নিয়ে ফাঙ্গাস টেস্ট করতে দিই। রোগীর হিস্টোপ্যাথলজি, মাইক্রোস্কপি আর কালচার তিনটাতেই মিউকর মাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর এম্ফোটেরিসিন-বি দিয়ে চিকিৎসা চলছে। মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগুলো করেন বারডেম হাসপাতালের প্রফেসর লাভলি বাড়ৈ।

তিনি জানান, রোগীটির মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

চোখ ফেলে দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জাবাবে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমরা চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, ওনি সুস্থ হয়ে যাবেন।’

আর আগে গত ২৫ মে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছিল বারডেম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার তিনদিন আগে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ব্ল্যাকফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে তিনজনের শরীরে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম এখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মহামারিতে নাজেহাল ভারতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেও রোগটি শনাক্তের খবর আসছে।

গত এক-দেড় মাসে ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের প্রায় সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার কিছুদিনের মধ্যে ছত্রাকটিতে আক্রান্ত হন।

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

করোনা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা লকডাউন

করোনা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা লকডাউন

দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সোমবার দুপুরে উপজেলা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ২৭৯ জন। মারা গেছেন ৭১ জন। নতুন আক্রান্ত ৫৭ জনের মধ্যে ৩৫ জনই দামুড়হুদা উপজেলার। 

করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আগামী ১৪ দিন লকডাউন চলবে।

দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সোমবার দুপুরে উপজেলা কোভিড-১৯ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জরুরি সভায় এ কথা জানান জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।

তিনি জানান,দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে দেশে মানুষ আসছে। ওই এলাকায় অনেকগুলো চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় ভারতে অবৈধভাবে যাতায়াত করেন। আর এই কারণেই ওই এলাকায় করোনা সংক্রমণ বেড়েছে।

তাই আগামীকাল থেকে ১৪ দিন দামুড়হুদা উপজেলা পুরোপুরি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন এলাকা নিয়মিত তদারকি করবে প্রশাসন। জনসচেতনতার পাশাপাশি বিতরণ করা হবে মাস্ক।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, লকডাউন এলাকায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান ছাড়া বন্ধ থাকবে সব ধরনের দোকান। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে কাঁচা বাজার। এ ছাড়া সংক্রমিত এলাকায় অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প বসিয়ে নমুনা পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা আক্রান্তের বাড়ি লকডাউনের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্য সহায়তা দেবে প্রশাসন। খাদ্য সহায়তা পাবেন শ্রমিক ও দিনমজুররা।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ও দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু।

এ ছাড়া সভায় সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. আওলিয়ার রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে গত ২ জুন সাতটি গ্রাম ও নাটুদহ ইউনিয়নের দুটি এলাকা লকডাউন করে প্রশাসন। পরে ৬ জুন কুড়ুলগাছী ও পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের আরও ৯টি গ্রাম লকডাউন করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ২৭৯ জন। মারা গেছেন ৭১ জন। নতুন আক্রান্ত ৫৭ জনের মধ্যে ৩৫ জনই দামুড়হুদা উপজেলার।

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

করোনা ইউনিটে ১৪ দিনে ১৩৬ মৃত্যু

করোনা ইউনিটে ১৪ দিনে ১৩৬ মৃত্যু

করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এ বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের তুলনায় জুনে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। গত তিন মাসে মারা গেছেন ২১৬ জন। জুনে এসে মৃত্যু অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। করোনা ইউনিটে এ মাসের ১৪ দিনে করোনায় মারা গেছেন ৮০ জন। আর করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান ৫৬ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট এখন রাজশাহী। সীমান্তবর্তী এ জেলায় প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগী। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছেন রোগী। চলতি মাসের দুই সপ্তাহে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৩৬ জন। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮০ জন। বাকি ৫৬ জন মারা যান করোনা উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এসব তথ্য জানান।

ব্রিগেডিয়ার শামীম জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এ বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের তুলনায় জুনে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২১৬ জন। এর মধ্যে করোনায় মারা যান ৯৮ জন। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১১৮ জন। মার্চে করোনা ইউনিটে মারা গেছেন পাঁচজন। এর মধ্যে করোনায় তিন এবং উপসর্গে দুইজন। এপ্রিলে মারা যান ৮১ জন। এর মধ্যে ৩৭ জন করোনায় এবং ৪৪ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। মে মাসে ইউনিটে মৃত্যু হয় ১৩০ জনের। এর মধ্যে ৫৮ জন করোনায় এবং ৭২ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

তিনি বলেন, জুনে এসে করোনায় মৃত্যু অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৩৬ জন।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রাজশাহী ও আশপাশের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘শুক্রবার থেকে রাজশাহী শহরে যে লকডাউন শুরু হয়েছে তা ভালোভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর ফল আমরা পেতে শুরু করেছি। শিগগিরই অবস্থার উন্নতি হবে।’

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৭ মৃত্যু

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৭ মৃত্যু

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা যায়, ওই ২৪ ঘণ্টায় যশোরে দুইজন, খুলনায় একজন, কুষ্টিয়ায় দুইজন, নড়াইলে একজন ও মেহেরপুরের একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

খুলনা বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা যায়, ওই ২৪ ঘণ্টায় যশোরে দুইজন, খুলনায় একজন, কুষ্টিয়ায় দুইজন, নড়াইলে একজন ও মেহেরপুরের একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ওই ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৬১৪ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪০ হাজার। একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৬।

খুলনা বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ১৯ মার্চে চুয়াডাঙ্গা জেলায়। সেই সময় থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ২২৮ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭২৬ জন। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ হাজার ১৭৪ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক করোনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভাগে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। খুলনায় রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৬৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫৪ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৯৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৭৩৮ জন।

বাগেরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০২ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হলেন ২ হাজার ২০৯ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৬৭ জন।

সাতক্ষীরায় নতুন করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৪৪ । এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩২ জন। মারা গেছেন ৫২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৬৭২ জন।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৯০ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৯৭ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৬৮০ জন।

নড়াইলে করোনায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২৫ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৭ জন। মারা গেছেন ২৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৭ জন।

মাগুরায় ওই ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন সাতজন। জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৩২। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২১৫ জন।

ঝিনাইদহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১২০ জন। মারা গেছেন ৫৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৮২৭ জন।

কুষ্টিয়ায় নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৭১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৬৪৪। মারা গেছেন ১৩২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৮৪৬ জন।

চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৫৭ জন। জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৭৯ । আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন।

শনাক্তের দিক দিয়ে সবার নিচে রয়েছে মেহেরপুর। এখানে রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৯৬ জন।

আরও পড়ুন:
আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন