চাঁদপুরে ফুরিয়ে গেছে করোনার টিকা

চাঁদপুরে ফুরিয়ে গেছে করোনার টিকা

সিভিল সার্জন বলেন, ‘প্রথম ডোজের টিকা নেয়ার পর চার মাস পর্যন্ত এর কার্যকারিতা থাকে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দিতে পারলে তা পুরোপুরি কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা না নিতে পারলে নতুন করে দুই ডোজ টিকা নেয়া লাগবে।’ 

চাঁদপুর জেলায় করোনাভাইরাসের টিকা ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে টিকাদান কর্মসূচি।

টিকার মজুত শনিবার শেষ হওয়ায় রোববার থেকে স্থগিত রাখা হয় টিকাদান।

জেলা সিভিল সার্জন শাখাওয়াত উল্লাহ নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, টিকা ফুরিয়ে যাওয়ায় প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণকারী ১৪ হাজার ১২১ জন দ্বিতীয় ডোজের টিকা নির্ধারিত সময়ে নিতে পারছেন না। টিকাদান কবে শুরু হবে তারও নিশ্চিয়তা দিতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৬০ হাজার ৩৯০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ৩৭ হাজার ৭১৫ জন ও নারী ২২ হাজার ৬৭৫ জন।

দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে পেরেছেন ৪৬ হাজার ২৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৮ হাজার ৭৪৫ জন, নারী ১৭ হাজার ৫২৪ জন।

দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে আসা বিষ্ণুদী আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা খোজেদা আক্তার লাকী বলেন, ‘দ্বিতীয় ডোজের টিকা দিতে এসে জানতে পারি টিকা ফুরিয়ে গেছে। কবে নাগাদ টিকা দিতে পারব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে না পারলে তা কাজ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘প্রথম ডোজের টিকা নেয়ার পর চার মাস পর্যন্ত এর কার্যকারিতা থাকে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দিতে পারলে তা পুরোপুরি কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা না নিতে পারলে নতুন করে দুই ডোজ টিকা নেয়া লাগবে।’

চাঁদপুরে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৭৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ২ হাজার ১৬৯ জন, হাইমচরে ২৩৭ জন, মতলব উত্তরে ২৯০ জন, মতলব দক্ষিণে ৪১৮ জন, ফরিদগঞ্জে ৫১৩ জন, হাজীগঞ্জে ৪৬৮ জন, কচুয়ায় ১৬৯ জন ও শাহরাস্তিতে ৪১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১২২ জনের। বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ২২০ জন।

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইসিইউ অচল, কেন্দ্রীয় অক্সিজেনও নেই হাসপাতালে

আইসিইউ অচল, কেন্দ্রীয় অক্সিজেনও নেই হাসপাতালে

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না। ছবি: নিউজবাংলা

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সালেহ মোহাম্মদ জানান, আইসিইউ পরিচালনায় সহায়তা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে চুক্তির পরও কেবল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে অচল পড়ে আছে চার শয্যার আইসিইউ ইউনিট। কাজে আসছে না ভেন্টিলেটর, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলাসহ মুমূর্ষু করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় উপকরণও।

প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রাংশ থাকার পরও চালু করা যায়নি কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না জেলার প্রধান এ হাসপাতালে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য চারটি শয্যা ও চারটি কার্ডিয়াক মনিটর আনা হয়। চলতি বছরের ফেব্রয়ারিতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য দরপত্র হয়। জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল এখনও প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজই শুরু করতে পারেনি।

ওয়ার্ডগুলোতে পাইপলাইন এবং তরল অক্সিজেন ট্যাংকারের কাজ শুধু শেষ হয়েছে। এখন তরল অক্সিজেন পাওয়া গেলেই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল হোসেন জানান, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের জন্য লিকুইড অক্সিজেন কাঠামো নির্মাণ ১৫ দিন আগে শেষ হয়েছে। তবে লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় এটি চালু করা যাচ্ছে না।

হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে বড় সিলিন্ডার সংযোগ দিয়ে মেডিফোল্ড পদ্ধতিতে হাই-ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি।

তরল অক্সিজেনের মাধ্যমে কবে নাগাদ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাবনা হাসপাতালে লিকুইড ট্যাংকার ও পাইপ লাইন সংযোগের কাজ শেষ। তবে যেসব হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাংকারে সরবরাহ চালু আছে তাদেরই আমরা পর্যাপ্ত তরল অক্সিজেন দিতে পারছি না। পাবনায় কবে চালু করা যাবে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সালেহ মোহাম্মদ আলী জানান, করোনা রোগীদের সেবা দিতে হাসপাতালে ১৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইসিইউ পরিচালনায় সহায়তা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে চুক্তির পরও কেবল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের আইসিইউ, এইচডিইউ সুবিধা দেয়া যাচ্ছে না।

পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, তরল অক্সিজেন বরাদ্দ পেলে জেলায় করোনা রোগীদের সর্বোচ্চ আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হবে। তরল অক্সিজেন বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তরল অক্সিজেন পাওয়া যাবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, পাবনায় করোনা রোগীর সংখ্যা রোববার ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৪১৫ জন শনাক্ত হয়েছেন জুলাইয়ে।

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন

‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কোটি কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আপনার টিকা নিয়ে অজ্ঞতা দেশের চিকিৎসকদের মর্মাহত ও লজ্জিত করেছে। আপনার কোনও অধিকার নাই মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে ক্ষতি করার। যে রোগীর হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি অসুখ আছে তার জন্য অনেকগুলি ওষুধ প্রয়োজন হতেই পারে।

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবিরকে সতর্ক করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিটিলিস (এফডিএসআর)।

ডা. জাহাঙ্গীরের চিকিৎসাকে অপচিকিৎসা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি বলছে, এটি বন্ধ না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিষোদগারের জন্য তাকে (ডা. জাহাঙ্গীর) দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এফডিএসআরের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনার সাম্প্রতিক সময়ের কর্মকাণ্ড আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এই পত্র লিখতে হচ্ছে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন চিকিৎসক হিসেবে আমাদের যেমন নানারকম বিশেষ অধিকার রয়েছে তেমনি দায়িত্বও রয়েছে।

এফডিএসআর মনে করে কোনও চিকিৎসকেরও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করার ও অসত্য বলার অধিকার নাই এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি জীবনধারা পরিবর্তন ও এর মাধ্যমে নানারকম ক্রনিক রোগের চিকিৎসা করছেন বলে দাবি করেন।

এজন্য অনলাইন ও অফলাইনে মানুষকে সুস্থ জীবন গড়ে তোলার জন্য লাইফস্টাইল বা জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এসবই আপাত দৃষ্টিতে চমৎকার কাজ। কিন্তু আপনার মনে রাখতে হবে আপনার পরামর্শ হতে হবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সমর্থিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক।

শুধু তাই নয় এই সকল পরামর্শ যাতে কারো ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকেও আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, আপনি কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিভিন্ন চিকিৎসকের দেয়া প্রেসক্রিপশনকে হেয় করে মন্তব্য করছেন। টিকা নিয়ে ইম্যুনোলজি বিষয়ক ভুল বক্তব্য দিয়েছেন। আপনি আপনার কোনও লেখায় বা বক্তব্যে আপনার সেবাগ্রহীতাদের কিটো ডায়েটের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনও লিখিত বা মৌখিক কাউন্সেলিং করেন না।

ইনফর্মড কনসেন্ট নেন না। আপনি ডায়াবেটিক রোগী ও কিডনি রোগীকেও কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আমরা জানি। এই ডায়েটের ফলে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদী যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে সেটা নিয়ে আপনি কখনও রোগীদের অবগত করেন না। এটা ম্যালপ্র্যাকটিস। অথচ কিটো ডায়েট এর জন্য রোগীর ইনফর্মড কনসেন্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক।

এই ডায়েটের ফলে হৃদরোগ বৃদ্ধি ও কিডনির ক্ষতি, মাংসপেশীর ক্ষতি, হাড়ের ক্ষতি সহ নানা রকম প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আপনি সম্প্রতি বলেছেন কোভিড ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে শরীরে অ্যান্টিবডি প্রবেশ করানো হয়। আরও বলেছেন ভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাক্সিন দরকার।

ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কোটি কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আপনার টিকা নিয়ে অজ্ঞতা দেশের চিকিৎসকদের মর্মাহত ও লজ্জিত করেছে। আপনার কোনও অধিকার নাই মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে ক্ষতি করার। যে রোগীর হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি অসুখ আছে তার জন্য অনেকগুলি ওষুধ প্রয়োজন হতেই পারে।

আপনি এটি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যঙ্গ করেছেন। শুধু তাই নয় আপনি বলেছেন জীবনধারা বদলালে ওষুধ লাগে না। আর জীবনধারা ভালো না হলে ওষুধ কাজ করে না। এভাবে আপনি ওষুধের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন যা অসাধু কাজ ছাড়া কিছু না।

আপনার কথা অনুযায়ী তাহলে লাইফস্টাইল না বদলালে কোলোস্টেরোল লোয়ারিং এজেন্ট কাজ করার কথা না। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ কাজ করার কথা না। সব ধরনের অ্যাকিউট অ্যাটাকে কোনও ওষুধ কাজে লাগার কথা না। এমনকি ভিটামিনও কাজ করার কথা না।

বহু রোগী আছেন হাঁপানির যাদের জীবনধারার সঙ্গে তাদের শ্বাসকষ্টের সম্পর্ক নাই। আপনার কথা অনুযায়ী ইনহেলার ও অ্যালার্জির ওষুধও কাজ করার কথা না। তার মানে আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

এতে বলা হয়, রক্তকে অ্যাসিডিক করা বিষয়ে আপনার বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নাই। আপনি লিখেছেন ডায়াবেটিসের ওষুধ কিডনি নষ্ট করে। আপনি একাধিকবার বলেছেন লাইফস্টাইল মডিফিকেশন করলে ওষুধ লাগবে না। যে রোগের কারণের মধ্যে লাইফস্টাইল আছে সেখানে ওষুধের দরকার নাই। এরকম ভুল কথা বলা অন্যায় কারণ আপনি জানেন যে রোগের কারণ বা রোগের প্রভাবক দূর করলেই রোগ সেরে যায় না।

শরীরের বন্ধু টিস্যু আছে যা একবার নস্ট হলে তা রিভার্স করা যায় না। আপনি নিজে কিটো ডায়েটের ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া নিয়ে মানুষকে অবগত করেন না কিন্তু চিকিৎসকরা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে রোগীদের বলে না, বিনাকারণে ইনসুলিন দেয় এসব একথা বলে বিষোদগার করেন।

ডা. জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ড চিকিৎসা বিজ্ঞানের নীতিবিরোধী ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, আপনি নিয়মিত বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত রোগ নিরাময়ের পদ্ধতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সামাজিক মাধ্যমে নানারকম ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে জানতে ডা. জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন

‘আল্লাহর সৈনিক’ করোনা থেকে বাঁচতে আজহারীর আস্থা এখন টিকায়

‘আল্লাহর সৈনিক’ করোনা থেকে বাঁচতে আজহারীর আস্থা এখন টিকায়

আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। ফাইল ছবি

করোনাকে ‘আল্লাহর সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে দেশে হাস্যরসের জন্ম দেন নানা উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মুফতি কাজী ইব্রাহীম। ওই বছরের মার্চে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি মাহফিলে যোগ দিয়ে একই কথা বলেন আজহারীও। তিনি সে সময় করোনা থেকে বাঁচতে একটি নির্দিষ্ট দোয়া করতে নিজের ফেসবুকে পরামর্শ দেন। এবার করোনার দ্বিতীয় টিকা নিয়ে সেই তিনিই সবাইকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘টিকার কোনো বিকল্প নেই।’

করোনাভাইরাসকে ‘আল্লাহর সৈনিক’ আখ্যা ও করোনা থেকে বাঁচতে একটি দোয়া করার পরামর্শ দেয়ার সোয়া এক বছরের মাথায় এই ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিলেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার অবস্থানকারী ব্যাপক আলোচিত এই বক্তা দ্বিতীয় টিকা নেয়ার বিষয়টি তার নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে সবাইকে টিকা নিতেও বলেছেন।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনে এবং পরে পশ্চিমা দুনিয়ায় করোনার বিস্তার হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় বক্তারা ব্যাপকভাবে বলতে থাকেন, এই ভাইরাস পৃথিবীতে আল্লাহ পাঠিয়েছেন অমুসলিমদেরকে শায়েস্তা করতে।

করোনাকে আল্লাহর সৈনিক আখ্যা দিয়ে দেশে হাস্যরসের জন্ম দেন নানা উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মুফতি কাজী ইব্রাহীম।

ওই বছরের মার্চে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি মাহফিলে যোগ দিয়ে একই কথা বলেন আহজারীও। তিনি সে সময় করোনা থেকে বাঁচতে একটি নির্দিষ্ট দোয়া করতে নিজের ফেসবুকে পরামর্শ দেন।

তবে এক বছর পর সেই মালয়েশিয়া যখন করোনায় জর্জরিত, হাসপাতালগুলোতে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না, অক্সিজেনের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন সোমবার বাংলাদেশ সময় রাতে টিকা নেয়ার বিষয়ে স্ট্যাটাস দেন আজহারী।

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আজ মালয়েশিয়াতে করোনা ভ্যাকসিন— ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করলাম। আল্লাহ তা’আলা টিকার সব ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে আমাদের মুক্ত রাখুন। এর পুরোপুরি উপকার আমাদের নসিব করুন।’

তিনি অন্যদেরকেও টিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যারা এখনও ভ্যাকসিন নেননি, সম্ভব হলে দ্রুত নিয়ে নিন। যতো দ্রুত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শেষ হবে, তত দ্রুত সংক্রমণ কমে আসবে এবং আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

‘আল্লাহর সৈনিক’ করোনা থেকে বাঁচতে আজহারীর আস্থা এখন টিকায়
আজহারীর ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে টিকা নেয়ার পর দেয়া পোস্ট

আজহারীকে ফাইজারের টিকা দেয়া হলেও তিনি তার সমর্থকদেরকে যে টিকা পাওয়া যায়, সেটিই নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, সব ভ্যাকসিন একটা কাজ করতে প্রায় শতভাগ সক্ষম। আর সেটা হচ্ছে—শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা আপনাকে অতি মাত্রায় অসুস্থ হওয়া এবং সংকটাপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করবে। সুতরাং যে ভ্যাকসিনই আগে পাবেন, আল্লাহর উপর ভরসা করে সেটাই নিয়ে নিন।’

টিকার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি এও লেখেন, ‘ভ্যাকসিনের কাজ হলো শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করা। ভ্যাকসিন নেয়া থাকলে, আপনি আক্রান্ত হলেও হয়তো ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে পড়তে হবে না। অথবা আপনি করোনা ভাইরাস বহনকারী হলেও, ভ্যাকসিন নেয়ার কারণে হয়ত নিজে আক্রান্ত হবেন না, কিন্তু ভ্যাকসিন নেয়নি এমন লোকদের সংস্পর্শে গেলে, আপনার মাধ্যমে তারা আক্রান্ত হতে পারে।

‘তাই, কোনো দেশের বেশিরভাগ মানুষের টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে, শুধুমাত্র তখনই কেবল মাস্কের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করা যেতে পারে। তা না হলে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমেও খুব বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। তাই, এই মুহূর্তে প্রতিটি দেশে গণ টিকার বিকল্প নেই।’

গত বছর যা বলেছিলেন আজহারী

গত বছরের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় দেয়া আহজারীর একটি বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

তিনি সেদিন বলেন, ‘এই করোনা হচ্ছে আল্লাহর সৈনিক। আল্লাহ সব সময় ধরে না। ধরলে আবার ছাড়ে না। জলে-স্থলে ভূমিকম্প, ভূমিধস, মহামারি– এগুলো যা হচ্ছে সব আমাদের হাতের কামাই।

‘মাঝেমধ্যে আল্লাহ ভাইরাস পাঠান। কিছু দিন আগে সার্সভাইরাস পাঠিয়েছিলেন। সার্স যেতে না যেতেই এখন পাঠিয়েছে করোনা। কিছু দিন আগে বাংলাদেশে ছিল ডেঙ্গু। হঠাৎ করে দেখবেন আবার ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন। আল্লাহ এগুলো দিয়ে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন, ভালো হওয়ার জন্য। নাফরমানি ছেড়ে দেয়ার জন্য। এক আল্লাহর দাসত্ব ও ইবাদত করার জন্য।’

আজহারী আরও বলেন, ‘এটি হলো মুসলিম জাতির জন্য রিমাইন্ডার। এটি হার্ড রিমাইন্ডার। এই রিমাইন্ডার আল্লাহ পাঠান, যাতে আমাদের টনক নড়ে। যাতে আমাদের ঘুমন্ত বিবেক জেগে ওঠে।’

করোনা ঠেকাতে তখন দোয়ার পরামর্শও ছিল

এখন টিকা নেয়ার পরামর্শ দেয়া আহজারী মার্চের প্রথম সপ্তাহে তার ভ্যারিফাইড পেজে একটি দোয়া শেয়ার করে সেটি বেশি বেশি পড়ার পরামর্শও দেন।

দোয়াটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতার পাশাপাশি এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করুন। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে হেফাজত করুক।’

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

সিলেটে দ্রুত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সঙ্কট। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পাশপাশি সাধারণ শয্যাও খালি মিলছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। রোগী নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে স্বজনদের।

এ অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৭০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে যুক্ত হয়েছে আরও ১০টি আইসিইউ।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার সকাল থেকে এসব শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে।

ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

এসব শয্যা ও আইসিইউ বাড়ানোর ফলে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ওসমানীর সক্ষমতা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নতুন করে ১০টি যুক্ত হওয়ার আগে করোনা রোগীদের জন্য সিলেটের সরকারি দুটি হাসপাতালে ২৩টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা ছিল। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি।

নগরের সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৬০টি সাধারণ শয্যা ছিলো। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও প্রায় ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে ধর্না দিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। সবগুলো হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ ইউনিট রোগীতে পূর্ণ রয়েছে। এ অবস্থায় ওসমানীতে শয্যা ও আইসিইউ দুটিই বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি, সিলেটের সভাপতি এবং নুরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান নাসিম আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি আমরা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু রোগীর চাপ প্রতিদিন এত বেশি বাড়ছে যে আমরা উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও অনেক বাড়ানো প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন

জাপান থেকে ঢাকার পথে টিকার আরেক চালান

জাপান থেকে ঢাকার পথে টিকার আরেক চালান

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে জাপানের নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় উড়াল দেয়ার অপেক্ষায় কার্গো বিমান। ছবি: ফেসবুক

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রেজেনেকা টিকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ টিকা। আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার টিকাগুলো ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

জাপান থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তৃতীয় চালান দেশের পথে। ছয় লাখের বেশি ডোজের টিকার চালানটি মঙ্গলবার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

সোমবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি লিখেছেন, আজকে জাপান থেকে আরও ৬ লাখ ১৬ হাজার অক্সফোর্ডের টিকা একটু আগে ঢাকার পথে রওনা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সবাইকে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করুন এবং পরীক্ষা করাতে সহযোগিতা করুন। টিকা নিতে উৎসাহিত করুন। টিকার মজুদ এখন যথেষ্ট আছে।’

জাপান থেকে টিকার তৃতীয় চালান পাঠানোর বিষয়টি টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসও নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাপান থেকে অ্যাস্ট্রেজেনেকার তৃতীয় চালান ঢাকায় রওনা দিয়েছে। অল নিপ্পন এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে (এএনএ) আসছে চালানটি। এই চালানে আছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা।

দূতাবাস জানায়, জাপানের স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে টিকার চালান নিয়ে বিমানটি নারিতা বিমান বিন্দরের এক নম্বর টার্মিনাল ত্যাগ করে। ৩ আগস্ট চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে পৌঁছবে।

কোভেক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান। দেশটি থেকে এর মধ্যে দুই চালানে ১০ লাখের বেশি টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে।

বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে জাপান।

এ টিকার ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কিনেছিল বাংলাদেশ। দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাকি টিকা দিতে পারেনি সিরাম।

সরবরাহ সংকটের কারণে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি। জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় অপেক্ষমানদেরকে রোববার থেকে আবার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে জাপান। সেখান থেকে দফায় দফায় ৩০ লাখ আ্যস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশকে দেবে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

মাঝে দিয়ে দেশে টিকা সংকট তৈরি হলেও সে অবস্থা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। দফায় দফায় টিকা আসছে চীনের সিনোফার্ম থেকে। এ ছাড়া, কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা।

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন

রাজশাহী মেডিক্যালে জুলাইয়ে করোনায় রেকর্ড মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যালে জুলাইয়ে করোনায় রেকর্ড মৃত্যু

গত জুলাই মাসে করোনায় ৫৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। ফাইল ছবি

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জুলাই মাসে এখানে মোট ১ হাজার ৮৭৮ জন করোনা রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়ে মারা যান ১৮০ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৩২০ জনের।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত জুলাই মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। ওই মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৩১ জন।

করোনা মহামারি শুরুর পর এক মাসে রাজশাহী মেডিক্যালে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। মে ও জুন মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা জুলাইয়ের চেয়ে কম।

হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে। জুনে ব্যাপক বেড়ে যায়।

করোনা সংক্রমণের অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী শহরে ১১ জুন বিকেল থেকে শুরু হয় কঠোর লকডাউন।

১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন শুরুর পরও কমেনে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জানায়, জুলাইয়ে এখানে মোট ১ হাজার ৮৭৮ জন করোন রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়ে মারা যান ১৮০ জন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৩২০ জনের।

এ ছাড়া করোনা মুক্তির পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়।

জুনে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন ১ হাজার ৩৯১ জন। এর মধ্যে মারা যান ৩৬৯ জন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল ১৬৮ জনের, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা চলছিল ১৯৪ জনের। আর করোনা-পরবর্তী জটিলতা নিয়ে মারা যান ৭ জন।

মে মাসে রাজশাহী মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন ৮০৮ রোগী। এর মধ্যে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৩ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যান ৭১ জন।

এপ্রিলে ভর্তি হন ৬৫৪ জন। ওই মাসে মৃত ৭৯ জনের মধ্যে ৩৬ জন মারা যান করোনা আক্রান্ত হয়ে। বাকি ৪৩ জন মারা যান করোনা উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘যারা মারা গেছেন তাদের বেশির ভাগই শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে এসেছিলেন। এমনকি কারও কারও চিকিৎসা শুরু করার আগেই মৃত্যু হয়েছে। এখন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে করোনা রোগীরা যাচ্ছেন। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর যদি অবস্থা বেগতিক হয়, তখনই তাদের রেফার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের বড় একটি অংশকে আমারা সুস্থ করতে সক্ষম হয়েছি।

‘ভারত থেকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আসার পর মৃত্যুর সংখ্যাটা বেড়েছে। যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই বয়স্ক। ৬১ বছরের বেশি বয়সী। তারা এমনিতেই অন্য অসুখে আক্রান্ত। এ কারণে করোনার ধাক্কাটা তাদের একটু বেশিই লাগে।’

হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতালে রোগীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে অক্সিজেন সরবরাহ। এ হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেনের মাধ্যমে ৫১৩ জন রোগীকে এক সঙ্গে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন

টিকা ছাড়াই শুধু সুঁই পুশ: টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যকর্মী শাস্তির মুখে 

টিকা ছাড়াই শুধু সুঁই পুশ: টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যকর্মী শাস্তির মুখে 

দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ নম্বর বুথে রোববার অন্তত ২০ জনের দেহে করোনার টিকা না দিয়েই কেবল সিরিঞ্জের সুঁই পুশ করার অভিযোগ ওঠে। সেখানে টিকাদানের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে করোনাভাইরাসের টিকা না দিয়ে কেবল সুঁই পুশ করার ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর ভাষ্য, বেশি মানুষের চাপে তাড়াহুড়োর মাঝে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ঘটনাটি ঘটেছে।

দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ নম্বর বুথে রোববার অন্তত ২০ জনের দেহে করোনার টিকা না দিয়েই কেবল সিরিঞ্জের সুঁই পুশ করার অভিযোগ ওঠে। সেখানে টিকাদানের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন।

স্থানীয় এক যুবক দাবি করেন, টিকাগ্রহীতাদের শরীরে শুধু সুঁই পুশ করে সিরিঞ্জ ফেলে দিতে দেখেছেন তিনি। ঘটনাটি আবাসিক চিকিৎসক শামিমকে জানানো হলে তিনি পরিত্যক্ত সিরিঞ্জগুলো সংবাদকর্মীদের সামনে বাছাই করে ২০টিতে টিকার সম্পূর্ণ ডোজের উপস্থিতি দেখতে পান।

ডা. শামিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সাজেদা আফরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্ত কমিটির প্রধান জেলার সহকারী সিভিল সার্জন শামিম হুসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।’

টিকা ছাড়াই শুধু সুঁই পুশ: টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যকর্মী শাস্তির মুখে

বিষয়টি জানতে জেলা সিভিল সার্জন আবু ফজল মোহম্মদ শাহাবুদ্দিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেটি ঢাকায় স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন। তিনি বলেন, ‘অনেক লোকের চাপ ছিল। অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটি ঘটে গেছে।’

আরও পড়ুন:
ভারতফেরত আরও দুজন করোনা আক্রান্ত
করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
করোনা ইউনিটে চিকিৎসা সহায়ক মেশিন সহায়তা
করোনা শনাক্ত ৮ লাখ ছাড়াল, এক দিনে মৃত্যু ৩৬
চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শেয়ার করুন