চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

চাঁপাইনবাবনগঞ্জ থেকে ৬৯ জন মৌলভীবাজারে, বসতি লকডাউন

শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান এলাকায় একটি কলোনিতে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৪ জনের করোনা পরীক্ষা করালে তাদের মধ্যে ১৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের দেয়া তথ্যের জানা যায়, জেলা সদরের বড়কাপন ও গুজারাই এলাকায় তাদের মতো আরও ৭১ জন অবস্থান করছেন। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান বিশেষ লকডাউনের মধ্যে সেখান থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ায় ৬৯ জনের আবাসস্থল লকডাউন করেছে প্রশাসন। করোনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের নমুনা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কার্যালয়ের সূত্রমতে, গত ১৮ ও ১৯ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৭১ জন প্লাস্টিক ফেরিওয়ালা ব্যবসার কাজে মৌলভীবাজার যান। তারা জেলা সদর ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় কলোনিতে অবস্থান করছিলেন।

খবর পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ গত ২৯ তারিখ শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান এলাকায় একটি কলোনিতে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৪ জনের করোনা পরীক্ষা করালে তাদের মধ্যে ১৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের দেয়া তথ্যের জানা যায়, জেলা সদরের বড়কাপন ও গুজারাই এলাকায় তাদের মতো আরও ৭১ জন অবস্থান করছেন।

ওই দুই এলাকার পাঁচটি কলোনিতে গিয়ে পাওয়া যায় ৬৯ জনকে। তারা যেসব ঘরে থাকছিলেন, সেগুলো সোমবার সকালে লকডাউন করে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মীরা সোমবার সকালে ৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করেন। মঙ্গলবার রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনিশিয়ান শামছুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, চাঁদনীঘাটের গুজরাইতে তিনি ছয়জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। দুইজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আর বড়কাপন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার গিয়ে গিয়ে ব্যবসা করছেন।

তাদের একজন কবির মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, ঈদের সময় বাড়িতে গিয়েছিলেন। ঈদের পরপরই ট্রাকে করে মৌলভীবাজারে চলে আসেন তারা। তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ অবরুদ্ধ ছিল না।

তারা মৌলভীবাজার এসে গ্রামে ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেরি করে প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রি করেছেন। কারো মধ্যেই করোনার লক্ষণ নেই বলে তাদের দাবি।

জেলা সিভিল সার্জন চৌধুরী জালালউদ্দিন মোর্শেদ নিউজবাংলাকে জানান, তিনি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে যাদের পজিটিভ আসবে, তারা ভারতীয় ভেরিয়েন্টের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বন্ধ স্কুলে চলছে পাঠদান, অভিযোগ অভিভাবকদের

বন্ধ স্কুলে চলছে পাঠদান, অভিযোগ অভিভাবকদের

ওই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকার কথা বললেও অধ্যক্ষ নিজ দায়িত্বে খুলে দিয়েছেন। শিক্ষকরা একক সিদ্ধান্তে এটা করেছেন। এ বিষয়ে মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে শিক্ষকরা কোনো আলোচনা করেননি।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এর পরে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা যাবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই সরকারের।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি স্কুলে ক্লাস নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্কুল কমিটির সভাপতি। তবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেছেন, ক্লাস চালু নয়, খোলা রাখা হয়েছে অফিস।

জীবননগরের উথলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থতি আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট কিন্ডারগার্টেনে চলতি মাসের শুরু থেকে নিয়মিত ক্লাস চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

তাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শিক্ষকদের বিষয়টি বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি।

ওই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকার কথা বললেও অধ্যক্ষ নিজ দায়িত্বে খুলে দিয়েছেন। শিক্ষকরা একক সিদ্ধান্তে এটা করেছেন। এ বিষয়ে মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে শিক্ষকরা কোনো আলোচনা করেননি।

‘অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইমরান হোসেনকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। এরপর কোনো শিক্ষার্থী যদি করোনা আক্রান্ত হয়, তাহলে তার দায়ভার আমরা নেব না।’

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইমরান হোসেন পাঠদানের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘শুধু অফিস খুলে রাখা হয়েছে। কোনো পাঠদানের কাজ চলছে না।’

জীবননগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উথলী আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাঠদান বন্ধ করার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, বুধবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী র্কমর্কতা অভিযান চালাতে আসছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দ্রুত স্কুল বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন অধ্যক্ষ ইমরান হোসেন।

এ বিষয়ে জানতে ইমরানকে কল করেও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন

করোনায় সিলেটে এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

করোনায় সিলেটে এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত মার্চে সিলেট বিভাগে করোনায় একদিনে আটজন মারা গিয়েছিলেন। এটিই এখন পর্যন্ত এ বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতজন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪৪১ জন।

সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যখন করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তখন উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা সিলেটে একদিনে সাতজনের মৃত্যুর এই খবর এলো।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে বুধবার সকালে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক নুর-এ আলম শামীম বলেন, গত মার্চে সিলেট বিভাগে করোনায় একদিনে আটজন মারা গিয়েছিলেন। এটিই এখন পর্যন্ত এ বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতজন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪৪১ জন।

বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজন সিলেট জেলার। তারা শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। অন্য দুজন মৌলভীবাজারের। তারা জেলার সদর হাসপাতালে ছিলেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সিলেট বিভাগে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৮ জনের। এর মধ্যে ৩৩ জন সিলেট জেলার, দুইজন সুনামগঞ্জ জেলায়, পাঁচজন হবিগঞ্জ জেলার ও ১২ জন মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। এছাড়া সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ রোগীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ২২ হাজার ৩৬১ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চার জেলায় এখন ২১৪ জন করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৪৬ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন

ফুলবাড়ী সীমান্তে করোনায় একজনের মৃত্যু

ফুলবাড়ী সীমান্তে করোনায় একজনের মৃত্যু

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবেদের বাড়ি বাংলাদেশে হলেও তার শ্বশুরবাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে। শ্বশুরবাড়ির লােকজন সব সময় আবেদের বাড়িতে যাতায়াত করে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সীমান্তে করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর মেডিক্যালের করােনা ইউনিটে বুধবার সকালে সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ওই রোগীর নাম আবেদ আলী। ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের নাখারজান এলাকার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার-৯৪১-এর পাশে তার বাড়ি।

আবেদের ছেলে মমিন জানান, তার বাবা অসুস্থ হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করােনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবেদের বাড়ি বাংলাদেশে হলেও তার শ্বশুরবাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে। শ্বশুরবাড়ির লােকজন সব সময় আবেদের বাড়িতে যাতায়াত করে।

আবেদের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা এলাকায় ভারতীয় লোকজনের আসা-যাওয়া ঠেকাতে সীমান্তে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানোর দাবি জানান।

ফুলবাড়ী হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে সেখানে এক শিশুসহ করােনা শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাস জানান, ভারতীয় ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকার কারণে আবেদের করোনা হতে পারে। আর সীমান্ত এলাকায় করোনা নিয়ে সচেতনতাও কম।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন

খুলনার করোনা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু

খুলনার করোনা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু

খুলনায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে এক দিনে নয়জনের মৃত্যু হয়। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আইসিইউতে রয়েছেন ২০ জন।

খুলনার করোনা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুহাস রঞ্জন হালদার।

তিনি জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। আর উপসর্গ ছিল ৪ জনের। এ ছাড়া আইসিইউতে রয়েছেন ২০ জন।

হাসপাতালে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৩৯ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে রেড জোনে ৭০ জন, ইয়ালো জোনে ২১ জন, এইচডিইউতে ২৮ জন ও আইসিইউতে ২০ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৮৪ জনের। করোনা শনাক্ত হয়েছে ২২২ জনের, যা নমুনার ৩২ শতাংশ।

করোনা শনাক্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে যশোরের একজন, বাগেরহাটের তিনজন ও খুলনার একজন রয়েছেন।

উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া রোগীদের পরিচয় জানাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খুলনাতে গত এক সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রণ) শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা নিউজবাংলাকে জানান, গত ৮ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত খুলনাতে ৪ হাজার ১১৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ২৯৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। যা নমুনার ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৪৩ জন।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন

বঙ্গভ্যাক্সের নৈতিক ছাড়পত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ

বঙ্গভ্যাক্সের নৈতিক ছাড়পত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ

বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনের (সম্ভাব্য টিকা) নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে আজ একটি বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকটি ১১টায় হওয়ার কথা রয়েছে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের একমাত্র টিকা তৈরির উদ্যোগ গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন (সম্ভাব্য টিকা) বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (পরীক্ষার) জন্য নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বুধবার।

এ নিয়ে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) বেলা ১১টায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ওই বৈঠকে বঙ্গভ্যাক্সের নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে সবুজসংকেত মিলতে পারে।

বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্লোব বায়োটেকের ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনের (সম্ভাব্য টিকা) নৈতিক ছাড়পত্রের বিষয়ে আজ একটি বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকটি ১১টায় হওয়ার কথা রয়েছে।

‘এখানে তাদের (গ্লোব বায়োটেকের) জমা দেয়া কগজপত্রগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বিষয়ে হয়তো সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

নৈতিক ছাড়পত্র পেতে গত ১৭ জানুয়ারি ১০ হাজার পৃষ্ঠার প্রটোকল পেপার বিএমআরসির কাছে জমা দেয় গ্লোব বায়োটেকের পক্ষে নিয়োজিত একটি গ্রুপ।

এর আগে গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানীরা গত বছরের ২ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে আসার কথা প্রথম জানান।

তারা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের শরীরে ওই টিকা প্রয়োগে সাফল্যের কথাও জানান। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্ভাব্য টিকার তালিকায় নাম ওঠে বঙ্গভ্যাক্সের। ৬ জানুয়ারি টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাকন নাগ জানান, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ থেকে নৈতিক ছাড়পত্রের অনুমোদন পেলে শতাধিক মানুষের ওপর টিকার পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য কিছু বেসরকারি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে। নৈতিক ছাড়পত্র পেলে তাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন

রামেক করোনা ইউনিটে বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

রামেক করোনা ইউনিটে বেড়েছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনায় মারা গেছেন আরও ১৩ জন। ছবি: নিউজবাংলা

মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজশাহীতে ৬৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩১৭।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

করোনা শনাক্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি রাজশাহী, দুইজনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে পাঁচজন রাজশাহীর, দুইজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং একজন কুষ্টিয়ার।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজশাহীতে ৬৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩১৭।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাব ইনচার্জ সাবেরা গুলনাহার জানান, ল্যাবে ৪৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৫ জনের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে ৩২ জনের। নওগাঁর একজনের নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ এসেছে। নাটোরের ১৩৯ জনের নমুনা করে ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

১ জুন থেকে ১৬ জুন সকাল পর্যন্ত রামেকের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ১৬১ জন। এর মধ্যে ৯৩ জন মারা গেছেন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে পুরুষ সাতজন আর নারী ছয়জন।

পুরুষদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব দুইজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুইজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুইজন। নারীদের ষাটোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন।

রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বুধবার সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি আছেন ৩২৫ জন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৬২ জন। আর করোনা
সন্দেহে চিকিৎসা চলছে ১৫৫ জনের। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ২০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৪৮ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ২৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৮ জন, নাটোরের ৭, নওগাঁর ৪, কুষ্টিয়ার ১ ও পাবনার ১ জন। ছুটি পেয়েছেন ২৩ রোগী।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে গত শুক্রবার থেকে রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন চলছে। শহরের দোকানপাট বন্ধ, গণপরিবহনও চলছে না। নগরীতে চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন না মানায় মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৩ জনকে মোট ৫৩ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন

যশোরে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

যশোরে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৭ শতাংশ। মঙ্গলবার মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত। বাকি দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫জন ভারতফেরত। এটি জেলায় একদিনের সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এই সময়ে মারা গেছেন তিনজন।

যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের একজনের বাড়ি শার্শা উপজেলায়। আরেকজন ঝিকরগাছার। তৃতীয় ব্যক্তির নাম জানা যায়নি।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৭ শতাংশ। মঙ্গলবার মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত। বাকি দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতির কারণে যশোর ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় লকডাউন চললেও তা মানছে না সাধারণ মানুষ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, লকডাউন কার্যকরে সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত যশোরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৮৯ জনের। মারা গেছেন ৯১ জন। মঙ্গলবার তিনজনসহ গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৫জন।

আরও পড়ুন:
ভারতে ৫০ দিন পর শনাক্ত কমে দেড় লাখে
চাঁপাইনবাবগঞ্জফেরত ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জনের করোনা
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
করোনায় আরও ৩৪ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় এক দিনে ১২ মৃত্যু 

শেয়ার করুন