ফাইজারের টিকা: সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য

ফাইজারের টিকা: সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘ওরা (কোভ্যাক্স) আমাদের যে ইটিনারি দিয়েছিল ফ্লাইটের, সেই হিসাব অনুযায়ী (রোববার) সন্ধ্যায় রোববার টিকা আসার কথা। কিন্তু এখন আমাকে আবার জানাল যে, ওদেরের হিসেবে গন্ডগোল হয়েছে। সন্ধ্যা নয় কালকে আসবে। কাল কখন আসবে এই টাইমটা আমাকে জানানো হয়নি।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজের প্রথম চালান কখন দেশে পৌঁছাবে এ বিষয়ে একেক সময় একক তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা বলছে, গিনেজ সময়ের ব্যবধান বুঝতে পারেনি কোভ্যাক্স। ফলে সময় নিয়ে বিভ্রাট হচ্ছে।

কোভ্যাক্স থেকে ফাইজারের টিকার চালান দেশে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়ের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, ‘ওরা (কোভ্যাক্স) আমাদের যে ইটিনারি দিয়েছিল ফ্লাইটের, সেই হিসাব অনুযায়ী (রোববার) সন্ধ্যায় রোববার টিকা আসার কথা। কিন্তু এখন আমাকে আবার জানাল যে, ওদেরের হিসেবে গন্ডগোল হয়েছে। সন্ধ্যা নয় কালকে আসবে। কাল কখন আসবে এই টাইমটা আমাকে জানানো হয়নি।

‘ওদের হিসেবে গন্ডগোল হওয়ার কারণে এই টাইমের কথা বলেছিল। গিনেস ঢাইমের গন্ডগোলের জন্য ওরা হিসেবটা বুঝতে পারেনি। তারা আগে যে তথ্য আমাদের দিয়েছিল সেই হিসেবে আমার কথা বলেছিলাম।’

অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক রোববার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা রাত ১১টা ২০ মিনিটে কাতার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশে পৌঁছাবে।’

এরপর দুপুরে দেশের করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে অধিদপ্তর মুখপাত্র রোবেন আমিন জানান, ফ্লাইট জটিলতার কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে ফাইজারের টিকা দেশে পৌঁছাচ্ছে না। টিকা আসতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লেগে যেতে পারে।

তার কিছুক্ষণ পরই রোবেদ আমিন জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে যে তথ্য জানানো হয়েছিল, তা ভুল। ভুল স্বীকার করে অধিদপ্তরের মুখপাত্র রোবেন আমিন জানিয়েছেন, রোববার রাতেই আসছে টিকা।

এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফাইজারের টিকা রোববার আসছে না বলে জানানো হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিনিয়র কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম এক ক্ষুদে বার্তায় জানান, রোবাবার টিকা আসবে না ৩১ মে, সোমবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে টিকা পৌঁছাবে।

এতে আরও বলা হয়, ফাইজারের টিকা রোববার রাতে দেশে আসার কথা ছিল। তবে এই টিকা ১০ দিন পরে আসবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার হচ্ছে তা সঠিক নয়।

ফাইজারের টিকা দেশে পৌঁছানোর একাধিক সম্ভাব্য সময় জানানোয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মী মাহবুব পারভেজ বলেন, ‘একবার আসবে। আরেকবার আসবে না। নিউজ আপডেট আর কতবার করতে হয়। এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য না দেয়া ভালো।’

আরেক গণমাধ্যম কর্মী সেবিকা বলেন, ‘তথ্য সঠিক নয় মানে কী? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনই তো আমাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।’

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশকে।

কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সিইপিআই) উদ্যোগে।

এই জোটের মাধ্যমে প্রতিটি দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের জন্য বিনা মূল্যে টিকার ব্যবস্থা করার কথা। কোভ্যাক্স থেকে প্রথম পর্যায়ে ১ কোটি ২৭ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বিশ্বজুড়ে টিকার সংকট দেখা দেয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ফাইজারের ডোজগুলো সংরক্ষণ করতে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেফ্রিজারেটর দরকার। ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা যাবে পাঁচ দিন। আর রেফ্রিজারেটরের বাইরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা যাবে দুই ঘণ্টা।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কার্যকারিতার দিক থেকে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি, রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির মতোই ফাইজারের টিকাও নিতে হয় দুই ডোজ করে।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজধানীতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরাই পাচ্ছে সিনোফার্মের টিকা

রাজধানীতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরাই পাচ্ছে সিনোফার্মের টিকা

রাজধানীর বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি। ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত কেন্দ্রে এরই মধ্যে যারা রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা ছিল। তবে রাজধানীতে টিকাকেন্দ্রগুলোতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে এই টিকা। বাকিদের অনেকের এসএমএস এলেও টিকা পাননি।

চীনের সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি দিয়ে শনিবার সকাল থেকে স্বল্পপরিসরে শুরু হয়েছে গণটিকাদান।

এ টিকা শুরুতে ১০ শ্রেণি-পেশার মানুষকে দেয়ার কথা থাকলেও রাজধানীতে শুধু মেডিক্যাল-শিক্ষার্থীদের ডোজটি দিতে দেখা গেছে।

নির্ধারিত কেন্দ্রে এরই মধ্যে যারা রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা ছিল। তবে রাজধানীতে টিকাকেন্দ্রগুলোতে শুধু মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে এই টিকা। বাকিদের অনেকের এসএমএস এলেও টিকা পাননি।

টিকা-সংকটের কারণে রাজধানীর চারটি হাসপাতালে এই টিকা দেয়া শুরু হয়েছে।

শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি করে টিকাকেন্দ্রে দুটি বুথে সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে। তবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে এখনও সিনোফার্মের টিকা দেয়া হয়নি।

ফাইজারের টিকা দেয়া হচ্ছে না

সিনোফার্মের টিকার সঙ্গেই কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজারের টিকা প্রয়োগের কথা একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা। তবে এ টিকাদান এখনই শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র।

ওই সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর চারটি কেন্দ্রে এ টিকা প্রয়োগের প্রস্তুতি ছিল। তাপমাত্রা জটিলতার কারণে ঢাকার বাইরে এই টিকা দেয়া হবে না।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে এ টিকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে এর প্রয়োগ দেখা যায়নি।

টিকা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘কবে ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুরু হবে এটা বলতে পারছি না। সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এটা শুধু জানুন। বাকিটা পরে জানলেও চলবে।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. টিটু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চীনের টিকা দেয়া অনেক আগ থেকে শুরু হয়েছে আমাদের এই হাসপাতালে। আজও প্রায় ৪০০ জনকে এই টিকা দেয়া হবে, যারা সবাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থী।’

টিকা প্রয়োগের বিষয়ে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ উন নবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ৪ হাজার ১৮৭ জনের একটি তালিকা আসছে। এরা সবাই ৭টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। পরবর্তী সময়ে আরও তালিকা বাড়বে।

‘সকাল ৯টা থেকে (সিনোফার্ম) টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। ৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে এই টিকা দেয়ার কথা রয়েছে।’

১০ শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই টিকা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। বাকিরা কবে থেকে টিকা পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে রশিদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে এখনও আসেনি। আসলে আমরা শুরু করতে পারব। তবে আমাদের হাসপাতালে এখনও সিরামের টিকা দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া চলছে।’

রাজধানীর মুগদার ৫০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অশিন কুমার নাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিনোফার্মের টিকা দেয়া সকাল থেকেই শুরু হয়েছে। আজ ৪০০ মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে এই টিকা দেয়া হবে। তবে অন্য জনগোষ্ঠীকে কবে টিকা দেয়া যাবে, এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। নির্দেশনা পরে অবশ্যই দেয়া হবে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধুমাত্র মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের এই টিকা দেয়া শুরু করেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী শনিবার থেকে হয়তো সবার জন্য টিকা দেয়া শুরু হবে।’

যাদের পাওয়ার কথা সিনোফার্মের টিকা

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্য, সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী, নার্স, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী, সরকারি মেগা প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী কর্মী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ ছাড়া করোনায় মৃতদেহ সৎকারে নিয়োজিত ব্যক্তি, দেশে বসবাসরত চীনা নাগরিক ও এর বাইরেও বিদেশি নাগরিকরা সিনোফার্মের টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন

খুলনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু

খুলনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু

খুলনাতে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, করোনায় ৮ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৩ জন মারা গেছেন।

খুলনায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে এক দিনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, করোনায় ৮ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৩ জন মারা গেছেন।

হাসপাতালে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৫৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। যার মধ্যে রেডজোনে ৯৫ জন, ইয়ালোজোনে ২১ জন, এইচডিইউতে ২০ জন এবং আইসিইউতে ১৯ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৪ জন।

খুলনা করোনা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতক্ষীরার ৩, যশোর ও খুলনার ২ ও পিরোজপুরের ১ জন রয়েছেন।

খুলনায় ৩৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৪৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন

করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে ১৯ দিনে ১৯৩ মৃত্যু

করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে ১৯ দিনে ১৯৩ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

চলতি মাসের ১৯ দিনে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৯৩ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকিদের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি মাসের ১৯ দিনে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৯৩ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকিদের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকিরা মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে। তার মধ্যে রাজশাহীর ৫ জন আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন।

হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৮ জন। শনিবার সকালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৩৬৫ জন।

শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৫৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ১৯২ জনের।

রাজশাহীর ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। আর নওগাঁর ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত

চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, ১৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল শুক্রবার রাতে পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় করোনায় মারা গেছেন আরও দু’জন।

চুয়াডাঙ্গায় বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। নতুন করে এ জেলায় আরও ৭৬ জনে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চুয়াডাঙ্গায় এটিই একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শনাক্তের হার বিবেচনায় ৩৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন আরও দু’জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৭ জনে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, ১৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল শুক্রবার রাতে পেয়েছে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৩ জনে।

জেলায় নতুন শনাক্ত ৭৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৫ জন, দামুড়হুদায় ৩৫, আলমডাঙ্গায় চার ও জীবননগরে দুই জন।

চুয়াডাঙ্গায় করোনা সংক্রমণ রোধে সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলা ১৪ দিনের জন্য বিশেষ লকডাউন করা হয়েছে। বিশেষ বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে জীবননগর উপজেলাতেও। লকডাউন ও বিধি নিষেধ জারি করা এলাকা নিয়মিত তদারকি করছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন এএসএম মারুফ হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গায় সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। অনেকে সর্দি কাশি জ্বরে আক্রান্ত হয়েও পরীক্ষায় আগ্রহী হচ্ছে না। অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে যখন শ্বাসকষ্ট তীব্র হচ্ছে তখন স্বজনরা তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিচ্ছেন। এ ধরনের রোগীর মৃত্যু হচ্ছে বেশি।

করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এবং সংক্রমণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন

নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা

নদী-ঝিলের জলেও করোনাভাইরাসের নমুনা

সবরমতীর জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, নদীর জলে অবাধে বেঁচেবর্তে রয়েছে করোনাভাইরাস। গান্ধীনগর আইআইটির আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মণীশ কুমার জানান, ঝিল ও নদীর জলে ভাইরাসের উপস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের।

এবার ভারতে নদীর জলেও মিললো করোনাভাইরাসের নমুনা। আসামের গুয়াহাটি এবং গুজরাটের আহমেদাবাদে সবরমতীর জলে করোনার নমুনা পাওয়া গিয়েছে। একইসঙ্গে সে শহরের কাঁকরিয়া ও চন্দোলা ঝিলের জলেও করোনার উপস্থিতি মিলেছে।

গান্ধীনগর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) ও দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স যৌথভাবে সবরমতীর জলের নমুনা পরীক্ষা করে।

সেখানেই দেখা যায় নদীর জলে অবাধে বেঁচেবর্তে রয়েছে করোনাভাইরাস। গান্ধীনগর আইআইটির আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মণীশ কুমার জানান, ঝিল ও নদীর জলে সার্স-কোভ-২র উপস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের।

গোটা রাজ্যের জন্য সেটি ভয়াবহ হতে পারে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে ইউনিসেফকে। নদী ও ঝিলের জলে করোনাভাইরাসের নমুনা পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন সিদ্ধান্ত নেয়, নিয়মিতভাবে জলের নমুনা পাঠানো হবে গুজরাট বায়োটেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারে।

জলের প্রাকৃতিক উৎসেও করোনার বাস সম্ভব কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে লাগাতার সমীক্ষা চালাচ্ছে আইআইটি গান্ধীনগরসহ দেশের আটটি প্রতিষ্ঠান। তারা ইতোমধ্যেই ‘ন্যাচরাল ওয়াটার সোর্সে’ করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছে। তারা অসমের গুয়াহাটিতে ভারু নদীর জলেও সমীক্ষা চালায়। সেই নদীর জলেও করোনার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।

২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ও ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সপ্তাহে একবার জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সাবরমতী নদী এবং কাঁকরিয়া ও চান্দোলা হ্রদ থেকে। সাবরমতী নদী থেকে ৬৯৪টি, চান্দোলা থেকে ৫৪৯ এবং কাঁকরিয়া হ্রদ থেকে ৪০২টি নমুনা নেয়া হয়।

অধ্যাপক মণীশ কুমার বলেন, ‘আমাদের দল নদী থেকে জলের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছে। আহমেদাবাদের ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে গুয়াহাটিতে এরকম প্ল্যান্ট একটিও নেই। আমরা তাই এই দুই জায়গাকেই পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে বেছে নিই। কিন্তু দেখলাম দুই জায়গাতেই জলে করোনার উপস্থিতি।’

শুধু বর্জ্য মিশ্রিত জলই নয়, স্বচ্ছ টলটলে জলেও অবাধে থেকে যেতে পারে করোনাভাইরাস। অন্তত এই সমীক্ষায় তেমনটাই দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন

গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা

গ্রামে বেড়েছে সংক্রমণ, মৃত্যুর তালিকায় তরুণরা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীর ৩০ থেকে ৪০ ভাগই গ্রামের মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘এবারের করোনার যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, সেটি কেউ মানছেন না। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছেন তরুণ ও যুবকরা। এখন করোনা ওয়ার্ডগুলোতে যারা ভর্তি আছেন, তাদের ৩০ থেকে ৪০ ভাগই গ্রামের শ্রমজীবী মানুষ।’

করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী নগরীজুড়ে চলছে দুই সপ্তাহের লকডাউন। এরই মধ্যে সংক্রমণ বেড়ে গেছে গ্রামে। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু। মৃত্যুর তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন তরুণরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বাড়ে গেছে। রাজশাহীর আশপাশের জেলাগুলোতেও বেড়েছে রোগী। এ অবস্থায় শুধু রাজশাহী নগরীর লকডাউনে কতটা ফল মিলবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘এবারের করোনার যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, সেটি কেউ মানছেন না। হাসপাতালে আগে দেখেছি গ্রামের কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেননি। এখন করোনা ওয়ার্ডগুলোতে যারা ভর্তি আছেন, তাদের ৩০ থেকে ৪০ ভাগই গ্রামের শ্রমজীবী মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি করোনা ইউনিটে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছেন তরুণ ও যুবকরা। আগে সাধারণত বেশি বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতেন। এই ধারাও পরিবর্তন হচ্ছে, যারা কম বয়সী তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন।’

সিভিল সার্জন অফিস জানায়, গত ১৫ মার্চ রাজশাহীর সব কটি উপজেলা করোনামুক্ত হয়েছিল। ওই সময় সিটি করপোরেশন এলাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪৩ রোগী থাকলেও জেলার কোনো উপজেলাতে একজন রোগীও ছিলেন না।

এ অবস্থা বেশি দিন থাকেনি। ১৫ এপ্রিল উপজেলা পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০ জনে। তখন সিটি করপোরেশন এলাকায় রোগী ছিলেন ১ হাজার ১৪৮ জন।

১৫ মে উপজেলা পর্যায়ে রোগী কমে দাঁড়ায় ২২ জনে। এদিন রাজশাহী সিটি এলাকায় রোগী ছিলেন ৭৩৮ জন।

তবে জুনে বাড়তে থাকে রোগী। শহরের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে গ্রামেও বেড়ে যায় করোনার সংক্রমণ। ১৫ জুন রাজশাহীর উপজেলাগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭৪ জনে। এদিন সিটি এলাকায় রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৫৫ জন।

করোনায় মৃত্যুও বেড়ে গেছে জুনে। মার্চে সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া রাজশাহী জেলার নয় উপজেলায় মারা যান ২১ জন। এপ্রিলে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ২৩। মে মাসে ২৭। আর জুনের ১৫ দিনেই মারা গেছেন ৪৫ জন।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন কাইয়ুম তালুকদার বলেন, ‘আমাদের উপজেলাগুলোতে রোগী বেড়েছে। বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে।’

শুধু শহরের লকডাউনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘করোনা তো শুধু রাজশাহী নগরে না, আশপাশের জেলাগুলোতেও ব্যাপক হারে ছড়িয়েছে। শহরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা না গেলে শহরের লকডাউনের ফল পাওয়া মুশকিল।’

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে আগে টেস্ট হতো না। এখন উপজেলায় র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করাচ্ছি বলেই এই রিপোর্ট আসছে। দুই সপ্তাহ ধরে টেস্ট ফ্রি করে দিয়েছি। উপজেলাগুলোতে আগেও করোনা ছিল, এখনও আছে।’

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন

বছর শেষে জার্মানিতে ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা

বছর শেষে জার্মানিতে ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা

টিকা নিতে অপেক্ষা করছেন জার্মানির বয়স্ক নাগরিকেরা। ছবি: এএফপি

ভারতে শনাক্ত করোনার ধরনের কথা উল্লেখ করে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট ফর ইনেফকশাস ডিজিজেজের প্রধান লোথার উইলার বলেন, ‘দেশের প্রায় ৬ শতাংশ মানুষের দেহে ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয়েছে। তবে এর সংক্রমণ আরও বাড়বে।’

চলতি বছরের শেষ তিন মাসে করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ভারতীয় ধরন জার্মানিতে ব্যাপক মাত্রায় সংক্রমণ ঘটাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

করোনার ওই ধরন মোকাবিলায় মাস্ক পরা ও টিকা নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার তিনি এ শঙ্কার কথা জানান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভারতে শনাক্ত করোনার ধরনের (যা ডেল্টা ধরন নামে পরিচিত) কথা উল্লেখ করে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট ফর ইনেফকশাস ডিজিজেজের প্রধান লোথার উইলার বলেন, ‘দেশের প্রায় ৬ শতাংশ মানুষের দেহে ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয়েছে। তবে এর সংক্রমণ আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে কি না, সেটা প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কবে এটি আঘাত হানবে। বছর শেষে ভারতীয় ধরনটি প্রভাব বিস্তার করবে।’

করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়া ও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় গত বছরের নভেম্বর থেকে জার্মানির ১৬টি অঙ্গরাজ্যে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া শুরু হয়। বড় অংশের জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় আসায় করোনার তৃতীয় ধাক্কা দেশটিতে দেখা যায়নি।

সংক্রমণ কমে যাওয়ায় জার্মানির রেস্তোরাঁ, বার, বিয়ার গার্ডেন, হোটেল ও কনসার্ট হল খুলে দেয়া হয়েছে।

জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস পান বলেন, ভাইরাসের হাত থেকে কার্যকর সুরক্ষার জন্য দরকারী করোনার টিকার দুটি ডোজের একটি ডোজ ৫১ শতাংশ জার্মান নিয়েছেন। প্রায় ৩০ শতাংশ নাগরিক দুটি ডোজই নেন।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকায় অগ্রাধিকার দেবে সরকার
রাশিয়া থেকে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত এ সপ্তাহেই
ফাইজারের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুল
ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে

শেয়ার করুন