ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা

ফ্লাইট না পাওয়ায় আসছে না ফাইজারের টিকা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আজ আসার কথা থাকলেও ফ্লাইট না পাওয়ায় এই টিকা পেতে আরও সময় লাগবে। আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লেগে যেতে পারে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ রোববার রাতে দেশে আসার কথা থাকলেও ফ্লাইট জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এই টিকা আসতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশের করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে অধিদপ্তর মুখপাত্র রোবেন আমিন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আজ আসার কথা থাকলেও ফ্লাইট না পাওয়ায় এই টিকা পেতে আরও সময় লাগবে। আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লেগে যেতে পারে।’

এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার রাতে আসতে পারে ফাইজারের টিকা।

এই টিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। সংরক্ষণ করতে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেফ্রিজারেটর দরকার। ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা যাবে পাঁচ দিন। আর রেফ্রিজারেটরের বাইরে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা যাবে দুই ঘণ্টা।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনার টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এ টিকা দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশকে।

কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সিইপিআই) উদ্যোগে।

এই জোটের মাধ্যমে প্রতিটি দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের জন্য বিনা মূল্যে টিকার ব্যবস্থা করার কথা। কোভ্যাক্স থেকে প্রথম পর্যায়ে ১ কোটি ২৭ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বিশ্বজুড়ে টিকার সংকট দেখা দেয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কার্যকারিতার দিক থেকে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, সিনোফার্মের টিকা বিবিআইবিপি-করভি, রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির মতোই ফাইজারের টিকাও নিতে হয় দুই ডোজ করে।

প্রথম ডোজ দেয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহ পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ। ১২ বছরের বেশি যেকোনো ব্যক্তি এ টিকা নিতে পারবে।

ফাইজারের টিকা সংরক্ষণের জন্য যে মাত্রার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের দরকার হয়, তা দেশে কমই আছে। ফলে অন্যান্য জেলায় এই টিকা প্রয়োগ অনেকটাই অসম্ভব।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

একই উদ্ভিজ্জ তেল বারবার ব্যবহার করলে বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়।

ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন গবেষকরা।

হৃদরোগে মৃত্যুর পেছনে বড় আতঙ্কের নাম এখন ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আতঙ্কের ব্যাপার হলো, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

খাবারের ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড হলো ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেশির ভাগ ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয় শিল্প-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ তেল তৈরির সময় তাতে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়। এই হাইড্রোজেনযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেল, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও জমে যায়, সেটিই হলো ট্রান্সফ্যাট। খাবার তৈরির সময় উদ্ভিজ্জ তেল পরিবর্তন না করে ভাজার জন্য বারবার ব্যবহার করলে তা বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়, যা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

শনিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় ট্রান্সফ্যাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একদল বক্তা। ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই কর্মশালাটির আয়োজন করে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, ভয়ংকর খাদ্য উপাদান ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। এ জন্য ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট খাদ্যের একটি বিষাক্ত উপাদান, যা হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গবেষক দল ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

প্রবিধানমালার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিএফএসএর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এটি চূড়ান্ত হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্ত‍‍র্জাতিক বাজার হারাব এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়বে এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে।’

কর্মশালায় প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার মো. হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ সংবাদকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরণ ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন

২০ বছরে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

২০ বছরে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখের বেশি মানুষ। মারা যায় ১৪৮ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৫৯ জন। সংখ্যার দিক থেকে ২০০০ সালের পর ডেঙ্গুতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক লাখের বেশি মানুষ। মারা যায় ১৪৮ জন।

এর আগে ২০০১ সালে ৪৪ ও ২০০২ সালে ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অন্যদিকে ২০০৭ সাল থেকে টানা চার বছর ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি।

তবে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮৭ জন। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে ৫ হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হলো।

এ বছরের জুলাই থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে শনাক্ত হয় দুই হাজারের বেশি রোগী। আর আগস্ট মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬৯৮ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৪৫ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৪৬০ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৪ হাজার ২০৪ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ১৯৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৯০ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ জন।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

প্রতীকী ছবি

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

যথাযোগ্য জনবলের অভাবে ডেঙ্গু সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ ভুলভাবে হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা, টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এসব মত দেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০০০ সাল থেকে প্রায় বছরই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু মহামারিতে রূপ নিয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে নগরীর মশা নিবারণে টেকসই সমাধানের রূপরেখাবিষয়ক সেমিনার হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ও নগরে মশা এখন সারা বছরের সমস্যা। দেশের জন্য এটা বিব্রতকর যে, দীর্ঘদিনেও ডেঙ্গু সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান হয়নি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যথাযোগ্য জনবল সমস্যা।

‘মশা নিবারণ, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য এখন পর্যন্ত সরকার কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। তাই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মশক নিবারণ কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনার অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেখানে প্রশিক্ষিত জনবল নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মহামারি প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানসম্মত কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না।

‘ফুলের টবের জমা পানি ফেলে দেয়ার কথা বলে নগরব্যাপী দৌড়ঝাঁপ চলে। কিছু পার্ভিসাইড ছিটানো ও ভুলভাবে ফগিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে তাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ। এতে মশাও মরে না, ডেঙ্গু রোগেরও নিয়ন্ত্রণ হয় না।’

সিটি করপোরেশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা পূর্ণাঙ্গ মশা না মেরে লার্ভা মারার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঢোল পিটিয়ে বেড়িয়েছে; লোকজনকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা করেছে। এসব জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাস।’

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

সেমিনারে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) চেয়ারম্যান ও কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণ একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। আমাদের দেশেও এটা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণের জন্য জাতীয়ভিত্তিক একটা গাইডলাইন প্রয়োজন। নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) আইন-২০১৮, স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনায় নিতে হবে।’

সেমিনারে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কীটতত্ত্ববিদ ড. জি এম সাইফুর রহমানসহ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন

১১২ দিনে সর্বনিম্ন শনাক্ত, মৃত্যু ৩৫

১১২ দিনে সর্বনিম্ন শনাক্ত, মৃত্যু ৩৫

প্রতীকী ছবি

দেশে গত ২৯ মে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ জনের দেহে। এরপর শনিবার প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সংখ্যাটি গত ১১২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯০ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে গত ২৯ মে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ জনের দেহে। এরপর শনিবার প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সংখ্যাটি গত ১১২ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ১৮২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৬ ও নারী ১৯ জন। ওই সময়ে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এক দিনে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশু আছে। বাকিদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৬, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭, ষাটোর্ধ্ব ৮, সত্তরোর্ধ্ব ৫ ও অশীতিপর ৭ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ৬ জন, রাজশাহী ও খুলনায় ৩ জন করে ৬ জন, বরিশালে ১, সিলেটে ২ ও রংপুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৪৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৪ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়।

এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে পরিচিত বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, আর সেটা যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একই পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরে নেয়া যায়।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন

২০ দিনের মধ্যে টিকা পাবে স্কুলশিক্ষার্থীরা

২০ দিনের মধ্যে টিকা পাবে স্কুলশিক্ষার্থীরা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল গোয়িং ছেলেমেয়েদের টিকা দেয়া হবে। যে টিকা এই বয়সের ছেলেমেয়েদের দেয়া সম্ভব, সেটাই আমরা দেব। আমেরিকার ফাইজারের টিকা দিয়ে শুরু করব।’

আগামী ২০ দিনের মধ্যে স্কুলের ছেলেমেয়েদের করোনার টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল গোয়িং ছেলেমেয়েদের টিকা দেয়া হবে। যে টিকা এই বয়সের ছেলেমেয়েদের দেয়া সম্ভব, সেটাই আমরা দেব। আমেরিকার ফাইজারের টিকা দিয়ে শুরু করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষকেই আমরা টিকা দেব, এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। আমরা খুব ভাগ্যবান যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমরা ১০ কোটি টিকার প্রস্তাব পেয়েছি। তারা ১০ কোটি টিকাই আমাদের দেবে। যার দাম প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দেশ আছে, যারা সেভাবে টিকা নিতে পারেনি। আমরা প্রায় আড়াই কোটি লোককে টিকা দিয়েছি এবং দেড় কোটি লোক দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।’

মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র রমজান আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীনসহ অনেকে।

কলেজশিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে শিগগিরই

এর আগ শিগগিরই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

বরিশাল সরকারি কলেজ মিলনায়তনে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আবারও যদি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কলেজশিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চল এ সভার আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন।

করোনা মহামারির কারণে প্রায় ১৭ মাস বন্ধ রাখার পর ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে স্কুল খুলে দিয়েছে সরকার। স্কুল খোলার পর থেকে শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে সরকারের ওপর অভিভাবকদের চাপ বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দেয়ার কথা বলছেন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

ভারতে এক দিনে আড়াই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস। সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্ম হয় নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদির। শুক্রবার তার জন্মদিনে ভারতে টিকা দেয়া হয় দুই কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ জনকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে টুইট করে টিকাদানে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও একই বিষয় জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের রেকর্ড সংখ্যার জন্য গর্ব বোধ করবেন প্রতিটি ভারতীয়।’

টিকাদান অভিযান সফল করতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের ধন্যবাদ জানান মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আড়াই কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এক দিনে সে লক্ষ্যের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছিল চীন।

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস।

সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) প্রধান আর এস শর্মা শুক্রবার সন্ধ্যায় এনডিটিভিকে বলেন, দিনটি ঐতিহাসিক।

ওই সময় তিনি দেশব্যাপী টিকাদানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন।

সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এনকে অরোরা বলেন, কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায়। এই নিয়ে প্রায় সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে পৌঁছাল।

চীনের সিনোফার্ম উৎপাদিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির আরও ৫০ লাখ ডোজ দেশে পৌঁছেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয়ক ডা. আবু জাহের বিমানবন্দরে এসব টিকা গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে এলো।

ঢাকায় চীনের দূতাবাস থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, শনিবার ঢাকায় পৌঁছাবে টিকার এই বড় চালান। নির্ধারিত সময়ের আগেই তা দেশে পৌঁছায়। এর আগে ৫৪ লাখ ও ৫০ লাখ ডোজের আর দুটি টিকার বড় চালান বাংলাদেশে পাঠায় সিনোফার্ম।

বাংলাদেশে করোনারোধী চলমান টিকা কার্যক্রমে যেসব ব্র্যান্ডের টিকার প্রয়োগ চলছে তার বেশির ভাগই সিনোফার্মের।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর বাইরে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বণ্টনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গড়া তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। এসব টিকাই প্রতি সপ্তাহে ৫০ লাখ ডোজ করে পাঠাচ্ছে চীন।

বাংলাদেশ টিকা কার্যক্রমের শুরুটা করেছিল ভারতে উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। এর ফলে গণটিকাদান কর্মসূচি কিছুদিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সরকার।

সিরাম থেকে টিকা না পেয়ে টিকার বিকল্প উৎসেন সন্ধানে নামে বাংলাদেশ। এতে চীন থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। দেশটি থেকে সিনোফার্মের মোটা দাগের টিকা কেনার পাশাপাশি দেশে উৎপাদনেরও চুক্তি করে সরকার, যা পক্রিয়াধীন।

চীনের পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকেও দফায় দফায় টিকা পাচ্ছে সরকার। সংকট কেটে যাওয়ায় টিকা প্রদানের আওতাও বাড়ানো হয়েছে। বয়স সীমা দফায় দফায় কমানো হয়েছে। ১৮ বছর বয়সীদেরও টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন:
ফাইজারের টিকা আসছে রাতে
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফাইজার-বায়ো অ্যানটেকের টিকার অনুমোদন
টিকা কেনা ও  উৎপাদন নিয়ে প্রস্তাব: রাশিয়ার জবাব শিগগির  
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুধু রাজধানীতে

শেয়ার করুন