ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কম মানুষেরা আছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে। ছবি: সংগৃহীত

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগী, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অক্সিজেন গ্রহণ করেছেন- এদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাদের ঝুঁকি বেশি। আবার স্টেরয়েড গ্রহণ করা ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

করোনা মাহামারি মধ্যে কালো ছত্রাক বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়ালেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ছোঁয়াচে না হওয়ায় সুরক্ষার সুযোগ তুলনামূলক বেশি।

করোনার মতো লাখ লাখ মানুষকে আক্রান্ত করবে না এই রোগ। ঝুঁকিতে তারাই যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কম।

রোগটির ওষুধ আছে আর তা উৎপাদন হয় বাংলাদেশেই। যদিও চাহিদা বাড়লে সেই কোম্পানিটি চাহিদা পূরণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে আছে সংশয়।

করোনা মহামারিতে নাজেহাল ভারতে ব্যাপক হারে দেখা গেছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। দেখা মিলছে দেশেও।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগটি মিউকরমাইকোসিস নামে পরিচিত।

মঙ্গলবার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে আরও দুইজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, এটি দেশে নতুন কোনো ছত্রাক নয়। এটি আগেও ছিল। তবে সম্প্রতি ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সেখানে মহামারি ঘোষণার পর আলোচনা বেশি হচ্ছে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত

ঝুঁকি যাদের বেশি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও ইনফেকশাস বিভাগের চিকিৎসক ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী মারুফ নিউজবাংলাকে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগী, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অক্সিজেন গ্রহণ করেছেন- এদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি।

এর বাইরে কিটো অ্যাসিডোসিস আক্রান্তরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। এ ছাড়া, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অন্তঃসত্ত্বা, অত্যধিক স্টেরয়েড গ্রহণ করা, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং চরম অপুষ্টিজনিত রোগীদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হতে পারে।

সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে মিউকরমাইকোসিস আক্রান্ত রোগীদের ৫০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ রোগী মৃত্যুবরণ করে থাকেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস পরিবেশে সব সময়ই থাকে। থাকে মানুষের শরীরেও। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলে এটা রোগ হিসেবে দেখা দেয়।

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাদের ঝুঁকি বেশি। আবার স্টেরয়েড গ্রহণ করা ব্যক্তিরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

তিনি জানান, এই ছত্রাক নাক, চোখ এবং কখনও কখনও মস্তিষ্কে আক্রমণ করে।

যেভাবে বুঝবেন আক্রান্ত

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস দেহের বেশ কয়েকটি জায়গায় ক্ষত করতে পারে, সাধারণত বেশি নাকে ক্ষত তৈরি করে।

মাথা ও নাকব্যথা থাকতে পারে। নাকে বেশি ক্ষত হলে সেখান থেকে রক্ত আসতে শুরু করে। আস্তে আস্তে এটা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

এটা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে উঠে আসে। তখন রোগীর মানসিক অবস্থা পরিবর্তন করে ফেলে। এটা ফুসফুসেও ক্ষত তৈরি করতে পারে।

ফুসফুসে ক্ষত হলে নিউমোনিয়া বেশি দেখা দেয়। কাশি থাকে, রক্তও আসতে পারে। শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

চোখে অনেক সময় এই ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ে। তখন দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চেহারাতেও এই ছত্রাক ক্ষত তৈরি করতে পারে। চেহারায় আক্রান্ত হলে চেহারার রং পরিবর্তন হতে পারে। যদি দ্রুত সময়ে এই ছত্রাক শনাক্ত না করা হয় তাহলে চোখ তুলে ফেলতে হয়।

এ ছাড়া, চোখে ঝাপসা দেখা, নাক বন্ধ, সর্দি এই ছত্রাকে সংক্রমিত হওয়ার লক্ষণ।

শ্বাসকষ্ট, মুখের একদিকে ফুলে যাওয়া, নাক অথবা দাঁতের মাড়ি কালো হয়ে যাওয়া, কফের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্তবমি, নতুন করে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ, মাথাব্যথা, দাঁতে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, স্কিনে কালো দাগ দেখা দেয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ঝুঁকিতে কারা, কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত

সুরক্ষার উপায়

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) জুনিয়র চিকিৎসক তাসনিম জারা বলেন, ফাঙ্গাসগুলো মাটি, পানি, বাতাসে মিশে থাকে। অনেকভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু যতজনের শরীরে এই ফাঙ্গাস ঢুকে সবাইকে আক্রান্ত করে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শরীরে যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে সেটা ফাঙ্গাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে। অধিকাংশ সময় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এই ফাঙ্গাস ধ্বংস করে। যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।’

স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ নিজে নিজে না খাওয়া, যেসব স্থানে অনেক ধুলাবালি বা বাড়িঘর নির্মাণ হচ্ছে, এমন সব স্থান এড়িয়ে চলতে হবে।

মাটিতে হাত দেয়ার আগে হ্যান্ড গ্লাভস পরে নেয়া, নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন এই চিকিৎসক।

যেভাবে দেয়া হয় চিকিৎসা

ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী বলেন, চিকিৎসাটা চার ভাগে করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে প্রথমে সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়। রোগী আগে থেকে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে সেটিও অনেক কমিয়ে দিতে হবে।

এমন কিছু রোগের ক্ষেত্রে রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধও দিতে হয়। তবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হলে সেসব ওষুধও বন্ধ রাখতে হয়।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসবিরোধী একটি ইনজেকশন আছে। সেটি প্রয়োগের পাশাপাশি কোনো স্থানে যদি ক্ষত তৈরি হয়, সেই ক্ষতটি কেটে ফেলতে হয়। চোখে ক্ষত হলে চোখও তুলে ফেলতে হয়।

নার্জাল এন্ডোস্কোপি করে যদি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়, তাহলে বিদ্যুতের শকও দেয়া হয়।

ছোঁয়াচে নয়

কিছুটা স্বস্তির বার্তা হলো, চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ‘পারসন টু পারসন’ অর্থাৎ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তার পরেও সতর্ক থাকতে হবে এই ছত্রাক নিয়ে।

বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস যে কেবল করোনার কারণেই হবে, সেটা নয়। ‘হসপিটাল অ্যাকোয়ার্ড’ ইনফেকশনও হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘তাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীদের পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং দরকার না হলে স্টেরয়েড ও অক্সিজেন না দেয়ার মতো কাজগুলো করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার মাগুরা শহরে অনির্দিষ্টকালের লকডাউন

এবার মাগুরা শহরে অনির্দিষ্টকালের লকডাউন

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি জেলায় করোনার সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় মাগুরা শহরকে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত লকডাউন চলবে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো এবার মাগুরা শহরে লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোমবার থেকে লকডাউনের ঘোষণা দেন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি জেলায় করোনার সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় মাগুরা শহরকে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত লকডাউন চলবে।

এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ছয়টার পর বন্ধ থাকবে।

জেলা সিভিল সার্জনের অফিস জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে মাগুরায় ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশ জেলার পৌর এলাকার।

বর্তমানে বাড়িতে আইসোলেশনে আছে ৫৮ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচজন।

এ পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ জনের দেহে। মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের।

মাগুরার সিভিল সার্জন শহীদুল্লাহ দেওয়ান নিউজবাংলাকে জানান, এক সপ্তাহ ধরে মাগুরায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। স্বাস্থ্যবিধি না মানাটাই এর প্রধান কারণ। এ ছাড়া পাশেই সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের কারণে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে বাড়ছে করোনা রোগীর চাপ

বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে বাড়ছে করোনা রোগীর চাপ

গত ১২ দিনে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৪ জন, সুস্থ হয়েছেন দুইজন। প্রতিদিনই আসছে রোগী, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী শয্যা না থাকায় ভর্তি নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

গত ১২ দিনে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৪ জন, সুস্থ হয়েছেন দুইজন। প্রতিদিনই আসছে রোগী, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী শয্যা না থাকায় ভর্তি নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ছিদ্দীকুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। আর নতুন শনাক্ত হয়েছে ২২ জন। জেলায় এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৯ জন, মারা গেছেন ১৮৮ ব্যক্তি।

তিনি জানান, শতকরা হিসাবে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভের হার ২০ দশমিক ৮০, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭২ এবং সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ৬৬।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বই থেকে জানা যায়, গত ১ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে ১১ জনই ৫০ ঊর্ধ্ব।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১২ দিনে আইসিইউয়ে যারা মারা গেছেন তারা হলেন, ভাঙ্গার আমুদ আলী, রাজবাড়ীর শহিদুল রহমান ও আবুল হোসেন, বোয়ালমারীর রহিমা বেগম, শহরের ঝিলটুলির মোসলেমউদ্দিন ও এমএ মামুন, মাদারীপুরের মনোয়ারা বেগম ও নূরুল হক, গোয়ালন্দর খাদেজা বেগম, কালুখালীর রফিকুল ইসলাম, কানাইপুরের লাল মিয়া, গোপালগঞ্জের দুর্গা রানী, সালথার অঞ্জনা রানী ও চরভদ্রাসনের ইউসুফ হোসেন।

হাসপাতালের আইসিইউয়ে ১৬ শয্যা থাকলেও সচল রয়েছে ১৪টি। আইসিইউ ইনর্চাজ অনন্ত বিশ্বাস বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি দুই সপ্তাহ ধরে অবনতির দিকে। রোগীর চাপ বাড়ছে অনেক। কিছু দিন আগেও ওয়ার্ডে রোগী ছিল ৩/৪ জন। এখন সেখানে সিট ফাঁকা নেই।’

তিনি জানান, করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধরন আগের থেকে ভিন্ন। কারণ এখন আইসিইউয়ে ভর্তি হয়ে সুস্থতার হার একেবারেই কম। মারা যাচ্ছে বেশি এবং তাও আবার দ্রুত।

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন

করোনা: ৩৫ দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

করোনা: ৩৫ দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার জানানো হয়, গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ২ হাজার ২৩৬ জনের শরীরে। এই নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৬ হাজার ৯২২ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ১১৮ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ৩৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল গত ৯ মে। ওই দিন ৫৬ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার জানানো হয়, গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ২ হাজার ২৩৬ জনের শরীরে। এই নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৬ হাজার ৯২২ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ১১৮ জনের।

গত একদিনে ৫১২টি ল্যাবে ১৮ হাজার ৭৪৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২.৯৯ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৩৯ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ২৪২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬৬ হাজার ২৬৬ জন। সুস্থতার হার ৯২.৬৬ শতাংশ।

গত একদিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন, নারী ১৫ জন। তাদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ৫, চল্লিশোর্ধ্ব ৪, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৮, ষাটোর্ধ্ব ২৯ জন।

বিভাগ অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯, খুলনায় ৮, রাজশাহীতে ৬, বরিশাল ১, সিলেট ২, রংপুরে ৪ ও ময়মনসিংহে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন

কোভ্যাক্সের কাছে চাওয়া হলো আবহাওয়া উপযোগী টিকা

কোভ্যাক্সের কাছে চাওয়া হলো আবহাওয়া উপযোগী টিকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা নিশ্চিতে চীন, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এমনকি কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের আমরা বারবার জানিয়েছি বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেটি আমাদের ইপিআরে রাখা যাবে এমন টিকা আমাদেরকে দেয়া হয়।’

ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিতের প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের কাছে দেশীয় আবহাওয়া উপযোগী টিকা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে রোববার অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা নিশ্চিতে চীন, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এমনকি কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের আমরা বারবার জানিয়েছি বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেটি আমাদের ইপিআরে রাখা যাবে এমন টিকা আমাদেরকে দেয়া হয়। এটি আমরা সহজেই মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করতে পারি; দেশের জনগণকে দিতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা যেটি আমরা পেয়েছি, এটা এখনই আমরা প্রয়োগ শুরু করতে পারছি না। ডাইলুয়েন্ট নামের মিশ্রণ মেশাতে হবে। সেই মিশ্রণ গত সোমবার রাতে আসার কথা থাকলেও আসেনি।

‘ডাইলুয়েন্ট মিশ্রণ ছাড়া ফাইজারের টিকা প্রয়োগ করা যায় না। এটার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেটি দেশে আসলে ফাইজারের টিকা কত তারিখ থেকে দেয়া হবে এটা জানানো হবে।’

উপহার হিসেবে দেয়া সিনোফার্মের করোনা প্রতিরোধী আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা এখন দেশের পথে জানিয়ে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি সি ১৩০ পরিবহন বিমান চীনের টিকা আনতে গেছে। বিকেল সাড়ে ৫টায় টিকা নিয়ে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি সবকিছু ঠিক থাকলে এই টিকা আজই দেশে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে এই মুহূর্তে ৪০ থেকে ৫০ হাজার পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা করবার জন্য জনগণের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ...যদি করোনা পরীক্ষার জন্য উপস্থিতি সংখ্যা বাড়ে তাহলে আমরা পরীক্ষা বাড়তে পারব।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার চরম সংকটের মধ্যে বাংলাদেশকে ১০ লাখ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই টিকা কবে দেশে আসছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি টিকা পাওয়ার সুসংবাদটি যখন আমরা পেয়ে যাব, আপনাদের মাধ্যমে আমরা দেশবাসীকে জানিয়ে দিতে পারব।

‘অক্সফোর্ডের টিকা বাংলাদেশের আরও অন্তত ১৪ লাখ লাগবে। কারণ যাদের সিরামের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছিল টিকার অভাবে তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যায়নি।’

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে গুরুতর অসুস্থদের ৮০% আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট 

চট্টগ্রামে গুরুতর অসুস্থদের ৮০% আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট 

‘আইসিইউতে যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশের নমুনায় আফ্রিকান ধরন বা বেটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর রোগীদের নমুনায়ও ৭৫ শতাংশ বেটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।’

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে যেতে হয়েছে এমন ৮০ শতাংশ রোগীর শরীরে আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ২৪ রোগীর নমুনা থেকে প্রাথমিকভাবে এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণার সম্পূর্ণ ফল পেতে আরও ৫ থেকে ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের সদস্য ডা. আবদুর রব।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের পাঁচজন গবেষক এটি করেছেন। গবেষণায় সহযোগিতা করেছে ঢাকার চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

পাঁচ গবেষক হলেন চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের চিকিৎসক এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব, ডা. মিনহাজুল হক ও ডা. রাজদীপ বিশ্বাস।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া গবেষণার এই ফল জার্মানি থেকে প্রকাশিত ভাইরাসের আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার ‘গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেট’ (GISAID) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন ডা. আব্দুর রব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ২৪ জন করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালনা করি। তাদের সবাই গত এপ্রিল ও মের মাঝামাঝি সময় হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই ২৪ জনের মধ্যে ১০ জনকে আইসিইউতে যেতে হয়েছিল। যাদের সবার হাই ফ্লো অক্সিজেন প্রয়োজন হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইসিইউতে যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশের নমুনায় আফ্রিকান ধরন বা বেটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর রোগীদের নমুনায়ও ৭৫ শতাংশ বেটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। বেটা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের ৯০ শতাংশের জ্বর, কফ ও সর্দির উপসর্গ ছিল। বাকি রোগীদের নমুনায় আলফা ভ্যারিয়েন্ট বা যুক্তরাজ্যের ধরন পাওয়া গেছে। তাদের অর্ধেকের উপসর্গ ছিল স্বল্পমাত্রার।’

ডা. আব্দুর রব জানান, তাদের গবেষণাটি চলমান। তারা প্রাথমিকভাবে জিনোম সিকোয়েন্সের ফল ও প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য পেয়েছেন। তারা এখন ভ্যারিয়েন্টের সিকোয়েন্সে কোনো ধরনের পরিবর্তন আছে কি না সেটা দেখবেন। সিকোয়েন্সের তথ্যগুলো আরও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করবেন।

গবেষণার সম্পূর্ণ ফল পেতে আরও ৫ থেকে ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে ওই ২৪ জনের কারও শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন

পিসিআর টেস্টের চেয়ে কার্যকর কুকুরের নাক

পিসিআর টেস্টের চেয়ে কার্যকর কুকুরের নাক

পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। ছবি: খালিজ টাইমস

বিশ্লেষণের পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান পদ্ধতি বায়েজিয়ান ইনফারেন্স ব্যবহার করে দেখা গেছে, ৩ হাজার ১৩৪ জন ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় বেশি সঠিক ফল পাওয়া গেছে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার চেয়েও বেশি কার্যকর কুকুরের ঘ্রাণশক্তি।

আবুধাবিভিত্তিক এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

কেন্দ্রীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরকে মানুষের ঘামের গন্ধ শুঁকে করোনা শনাক্তের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

দুবাইভিত্তিক পত্রিকা খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩ হাজার ২৯০ জনের মধ্য থেকে করোনাভাইরাস নেগেটিভ ৩ হাজার ২৪৯ জনকে বাদ দিতে পেরেছে কুকুরগুলো।

এ ছাড়া বিশ্লেষণের পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান পদ্ধতি বায়েজিয়ান ইনফারেন্স ব্যবহার করে দেখা গেছে, ৩ হাজার ১৩৪ জন ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় বেশি সঠিক ফল পাওয়া গেছে কুকুরের ঘ্রাণশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

মানুষের নাক ও গলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চালানো হয় আরটি-পিসিআর টেস্ট।

আবুধাবির ফেডারেল শুল্ক কর্তৃপক্ষ, হায়ার কলেজেস অফ টেকনোলজি ও ফোর উইন্ডস কে-নাইন সলিউশনসের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে এ গবেষণা চালিয়েছেন।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে গত সপ্তাহে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়।

এতে বলা হয়, উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্তদের শনাক্তেও সক্ষম পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কে-নাইন কুকুর।

৩ হাজার ১৩৪ জনের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আরটি-পিসিআর টেস্টে যেখানে করোনা শনাক্তে সাফল্যের হার ৭৩ শতাংশ, সেখানে কে-নাইন কুকুরের সাফল্যের হার ৮৯ শতাংশ।

গবেষণার জন্য নমুনা নেয়া হয়েছিল আল মাফরাক ওয়ার্কার্স সিটি পরিদর্শনকারীদের কাছ থেকে।

নমুনাদাতাদের সবাই পুরুষ। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাদের ৯০ শতাংশের বেশি এশীয় বংশোদ্ভূত। এদের ৩৮ শতাংশ ভারত ও ২৮ শতাংশ পাকিস্তানের।

কুকুরের ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে করোনা শনাক্তে একই ব্যক্তিদের বগলের ঘামও সংগ্রহ করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষের কে-নাইন ইউনিটের পরিচালক আব্দুল সালাম আল শামসির অধীনে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

আবুধাবি ও শারজাহ বিমানবন্দর, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট আর দুবাইয়ের কয়েকটি বড় বড় অনুষ্ঠানস্থলে কুকুর দিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তে সাফল্য মিলেছে।

আগে বিভিন্ন হত্যা রহস্য সমাধান এবং বন্দরে পৌঁছানো পণ্যের ভেতর মাদক ও বিস্ফোরক শনাক্তে সাহায্য করেছে এসব কুকুর।

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন

খুলনায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু ৪

খুলনায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু ৪

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের আরএমও জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে ওই চারজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে দুইজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। বাকি দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন,

খুলনায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজন ও উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুহাস রঞ্জন হালদার রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে ওই চারজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জেলার ফুলতলা উপজেলার কাজী জালাল ও যশোরের কেশবপুরের আব্দুল মজিদ খান।

শনিবার রাতেই ওই চারজনের মৃত্যু হয় বলে জানান হাসপাতালের আরএমও।

তিনি জানান, হাসপাতালে ১৪৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। যাদের মধ্যে রেড জোনে ৬৬ জন, ইয়েলো জোনে ৩০ জন, হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ৩৪ জন এবং আইসিইউতে ১৩ জন চিকিৎসাধীন। শনিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন।

আরও পড়ুন:
যাদের আক্রান্ত করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস
ওষুধ আছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের, শঙ্কা উচ্চ মূল্য আর সরবরাহে
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ভারতে রোগী বেড়ে প্রায় ১২ হাজার
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস: ওষুধের দাম কমানোর চেষ্টায় সরকার
করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

শেয়ার করুন