করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে মানবদেহে ছত্রাক শনাক্ত করছেন এক চিকিৎসক। ছবি: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

করোনার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কী সম্পর্ক

চিকিৎসকদের ধারণা, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ভারতে স্টেরয়েড ও বিভিন্ন ইমিউনোসাপ্রিজেন্টসের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে বাড়ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ।

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বিরল মিউকরমাইকোসিসের সংক্রমণ বাড়ায় নতুন বিপর্যয়ের মুখে ভারত। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে (কালো ছত্রাক) আক্রান্তদের চিকিৎসায় এরই মধ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে ‘অ্যাম্ফোটারিসিন বি’ নামের ওষুধের।

গত এক-দেড় মাসে ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের প্রায় সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার কিছুদিনের মধ্যে ছত্রাকটিতে আক্রান্ত হন। তাই প্রশ্ন উঠেছে, করোনাভাইরাসের সঙ্গে প্রাণঘাতী ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কীভাবে সম্পৃক্ত।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এ প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টা করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মঙ্গলবার প্রকাশ হয়েছে এ বিষয়ক প্রতিবেদনটি।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মিউকরমাইকোসিস এমন এক ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ. যার ফলে রোগীর নাক ও আশপাশে কালো দাগ, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসা, বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট আর কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

ডায়াবেটিসসহ শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে আসার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে মিউকরমাইকোসিসের।

কিন্তু করোনাভাইরাসের সঙ্গে মিউকরমাইকোসিসের সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং এটি ছোঁয়াচে রোগও নয়।

করোনা রোগীরাই কেন মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তথা করোনাভাইরাস মহামারির আগে বিশ্বে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৭।

অথচ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত এক মাসে ১২ হাজার মানুষের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে। এদের সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠেছিলেন।

চিকিৎসকদের ধারণা, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ভারতে স্টেরয়েড ও বিভিন্ন ইমিউনোসাপ্রিজেন্টসের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে বাড়ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঘটনা।

স্টেরয়েড ও ইমিউনোসাপ্রিজেন্টস কী

মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে যেসব হরমোন নিঃসরণ হয়, সেগুলোর কৃত্রিম সংস্করণ হলো স্টেরয়েড।

করোনাভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ওষুধ এখন পর্যন্ত উদ্ভাবন হয়নি। এতে গুরুতর অসুস্থ হচ্ছে যারা, তাদের ফুসফুসে প্রদাহ কমাতে নানা ধরনের রাসায়নিকের সমন্বয়ে তৈরি স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা।

আর ইমিউনোসাপ্রিজেন্টস হলো এমন ওষুধ, যেগুলো অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগীদের দেয়া হয়।

দেহের বাইরে থেকে কোনো নতুন অঙ্গের প্রতিস্থাপন করা হলে যেন ওই রোগীর দেহে তা জটিলতা তৈরি না করে, তা নিশ্চিতে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে রোগীর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে আনা হয়। এতে ওই রোগীর দেহে নতুন অঙ্গ সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়।

স্টেরয়েড ও ইমিউনোসাপ্রিজেন্টসের সঙ্গে করোনাভাইরাসের যোগসূত্র

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের ফলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ক্ষতিও কমাতে সহায়ক স্টেরয়েড। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে এবং ডায়াবেটিস আছে বা নেই এমন সব রোগীর রক্তেই শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস খুব প্রাণঘাতী না হলেও ডায়াবেটিস, ক্যানসার, অঙ্গ প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এ ভাইরাসকে প্রাণঘাতী করে তোলে। এর মধ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী রোগীদের ওপর ইমিউনোসাপ্রিজেন্টস প্রয়োগে তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তলানিতে এসে ঠেকে। এর ওপর তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে স্টেরয়েড ব্যবহার আর পুরো বিষয় মিলিয়ে অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে।

আইসিইউতে হিউমিডিফায়ারের ব্যবহার

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের প্রায় সবাই করোনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন নিয়েছেন।

অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে বাতাসে আর্দ্রতা রক্ষায় হিউমিডিফায়ার যন্ত্রের ব্যবহার আবশ্যক। আর অতি আর্দ্রতা ছত্রাক জন্মাতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে ভারতের উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়াও কিছুটা দায়ী।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, মিউকরমাইকোসিসে মৃত্যুহার ৫৪ শতাংশ।

আক্রান্তরা বেঁচে গেলেও বেশিরভাগই হারান এক বা দুটি চোখ। জীবন বাঁচাতে অনেকের চোয়ালও অস্ত্রোপচার করে ফেলে দিতে হয়।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যশোরে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

যশোরে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৭ শতাংশ। মঙ্গলবার মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত। বাকি দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫জন ভারতফেরত। এটি জেলায় একদিনের সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এই সময়ে মারা গেছেন তিনজন।

যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের একজনের বাড়ি শার্শা উপজেলায়। আরেকজন ঝিকরগাছার। তৃতীয় ব্যক্তির নাম জানা যায়নি।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৭ শতাংশ। মঙ্গলবার মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত। বাকি দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতির কারণে যশোর ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় লকডাউন চললেও তা মানছে না সাধারণ মানুষ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, লকডাউন কার্যকরে সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত যশোরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৮৯ জনের। মারা গেছেন ৯১ জন। মঙ্গলবার তিনজনসহ গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৫জন।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন

অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ

অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ

রাজশাহীতে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। ছবি: নিউজবাংলা

আরএমপি কমিশনার বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের রোগী বা তার স্বজনরা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নম্বরে কল করলে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ পুলিশ সদস্য রোগীর ঠিকানায় উপস্থিত হবেন। সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক গিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেবেন।’

পুলিশের নম্বরে ফোন দিলেই করোনা রোগীর বাড়ি পৌঁছে যাবে অক্সিজেন। পুলিশের সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক।

রাজশাহী মহানগরের করোনা রোগীদের বিনা মূল্যের এই সেবা দিতে চালু করা হয়েছে পুলিশ কোভিড অক্সিজেন ব্যাংক।

নগর পুলিশ কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এই ব্যাংকের উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

অক্সিজেন সরবরাহের এ সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরএমপি থেকে একটি ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘কোভিড আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টের রোগী বা তার স্বজনরা কন্ট্রোল রুমের নম্বরে কল করলে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ পুলিশ সদস্য রোগীর ঠিকানায় উপস্থিত হবেন। সঙ্গে যাবেন একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক গিয়ে রোগীকে পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেবেন। তারা রোগীকে অক্সিজেনসহ চিকিৎসা সেবা দেবেন।’

পুলিশ কমিশনার আবু কালাম বলেন, ‘এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ইন্সপেক্টরসহ ১০ জনকে সিলিন্ডার ব্যবহার, স্পিড মাত্রা নির্ধারণ ও রিফিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।’

৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও শিগগিরই তা ১০০ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অক্সিজেন ব্যাংক উদ্বোধনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপি কর্মকর্তা সুজায়েত ইসলাম, মজিদ আলী, রশীদুল হাসান, সাজিদ হোসেনসহ অনেকে।

আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের দেয়া কন্ট্রোল রুমের নম্বরটি হলো ০১৩২০-০৬৩৯৯৮।

ঈদের পর করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেসামাল হয়ে পড়েছে। সাধারণ ওয়ার্ডগুলো একের পর এক করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে; সম্প্রসারণ হতে হতে এখন হাসপাতালের এক-চতুর্থাংশ করোনা ইউনিটে রূপান্তর হয়েছে। তারপরও বেড সংকুলান করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

করোনা টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকক্ষেত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতের বেশ কয়েকজন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে গেছে দাবি করা ব্যক্তির গায়ে সামান্য পাউডার লাগিয়ে দিতেই শরীর থেকে উধাও চুম্বকশক্তি। গায়ে লেগে থাকছে না হাতা, খুন্তি, চামচ, খুচরো পয়সা। ফলে টিকার সঙ্গে এর যে কোনো সম্পর্ক নেই সেটি প্রমাণিত ।

বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে যাওয়া ভুয়া, ভিত্তিহীন খবর।

সম্প্রতি শিলিগুড়ির নেপাল চক্রবর্তী, তেহট্টের প্রবীর মণ্ডল, বসিরহাটের শংকর প্রামাণিক টিকা নেয়ার পর শরীরে ধাতব জিনিস আটকে যাচ্ছে, শরীর হয়ে উঠেছে চুম্বক ক্ষেত্র বলে দাবি করে যে খবর হয়ে ছিল সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।

বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, বর্ষার সময় হওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরে ঘাম বেশি হয়। এ কারণে এসব জিনিস আটকে যাচ্ছে শরীরে।

শরীর ও ধাতব বস্তুর মধ্যে থাকা পৃষ্ঠটান সেই কাজে খানিকটা সাহায্য করছে। এর সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নাই। ম্যাগনেটম্যানরা শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ।

ম্যাগনেট ম্যানদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে, ভারত সরকারের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও জানিয়ে দিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের টিকা নিয়ে কোনো ব্যক্তির শরীরে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অসম্ভব ।

কেন্দ্রীয় সরকারের নোডাল এজেন্সি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো জানিয়েছে, টিকা নিয়ে মানুষ চুম্বক হয়ে উঠেছে বলে যে দাবি নেট মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

বিজ্ঞান মঞ্চের আরেক সদস্য সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘অতিমারি পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ এ ধরনের খবর রটিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন

জনসনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন

জনসনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বেলজিয়ামের জ্যানসেন-সিলাগ ইন্টারন্যাশনাল এনভি উৎপাদিত করোনার টিকা ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আবেদন করা হয়। এরপর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই টিকার ড্রোসিয়ার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পার্ট, সিএমসি পার্ট ও রেগুলেটরি স্ট্যাটাস) মূল্যায়ন করে করোনা চিকিৎসার জন্য জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বেলজিয়ামের জ্যানসেন-সিলাগ ইন্টারন্যাশনাল এনভি উৎপাদিত করোনার টিকা ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আবেদন করা হয়।

এরপর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই টিকার ড্রোসিয়ার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পার্ট, সিএমসি পার্ট ও রেগুলেটরি স্ট্যাটাস) মূল্যায়ন করে করোনা চিকিৎসার জন্য জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাংলাদেশে এই টিকার স্থানীয় এজেন্ট।

গত ১২ মার্চ এটি করোনা চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অনুমোদন পায়। এই টিকা ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সীদের প্রয়োগ করা যাবে। সেই অনুযায়ীই টিকার প্রয়োগ করা হবে।

টিকাটি এক ডোজের ও সংরক্ষণের তাপমাত্রা ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই টিকাসহ দেশে পাঁচটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হলো। এর আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-করভি, সিনোভ্যাকের করোনাভ্যাক ও রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভির অনুমোদন দেয়া হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সহনীয় ও গুরুতর রোগ প্রতিরোধে তাদের তৈরি টিকা ৭২ শতাংশ কার্যকর। সে তুলনায় এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫৭ শতাংশ কার্যকর।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৫০ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩১৯

করোনায় আরও ৫০ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩১৯

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ২২২ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৩১৯ জনের শরীরে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ২২২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১২টি ল্যাবে ২৩ হাজার ২৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪.২৭ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৪০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ২৪৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৭১ হাজার ৭৩ জন। সুস্থতার হার ৯২.৫৩ শতাংশ।

গত একদিনে সুস্থদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন ও নারী ২০ জন। তাদের বয়স বিশোর্ধ্ব এক, ত্রিশোর্ধ্ব তিন, চল্লিশোর্ধ্ব নয়, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১১ ও ষাটোর্ধ্ব ২৬ জন।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কথা ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকেই দেশের বিমানবন্দরসহ সব স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করে। ওই বছরের ৪ মার্চ সমন্বিত করোনা কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন

ভারতে করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ শনাক্ত

ভারতে করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ শনাক্ত

ভারতে করোনার নতুন ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ শনাক্ত হয়েছে।

করোনার এই নতুন ধরন অধিক সংক্রামক কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে আপাতত উদ্বেগজনক কিছু দেখছেন না সিএসআইয়ের ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির পরিচালক অনুরাগ আগরওয়াল।

ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় বড় প্রভাব ছিল অতি সংক্রামক বি.১.৬১৭ ধরনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ ধরনের নাম দিয়েছিল 'ডেল্টা'।

এবার সেই ধরনেরই ফের রূপবদল। রূপ বদলেছে ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেইন। স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন করে সেই স্ট্রেইনই এখন ‘ডেল্টা প্লাস’।

জিনোম সিকোয়েন্সিতে দেখা গেছে, কে৪১৭এন মিউটেশন হয়েছে ডাবল মিউট্যান্ট স্ট্রেইনের। তবে এ স্ট্রেইনকে এখনও উদ্বেগজনক বলছেন না বিজ্ঞানীরা।

দিল্লির সিএসআইআর ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির বিজ্ঞানী বিনোদ স্কারিয়া টুইটবার্তায় বলেন, নয়া এই স্ট্রেইনে বি.১.৬১৭.২.১ পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিনোদের দাবি, মিউটেশনের ফলে মানবদেহে প্রবেশের পথ আরও সুগম করেছে এই ডবল মিউট্যান্ট স্ট্রেইন।

সংস্থা জানিয়েছে, ৭ জুন পর্যন্ত ৬ জিনোমে এই স্ট্রেইন দেখা গেছে।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আপাতত ৬৩ জিনোমে ডেল্টার এই নয়া মিউটেশন ধরা পড়েছে।

বিনোদ জানান, ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার করলেও আপাতত ভারতে দ্রুত ছড়াতে শুরু করেনি এই স্ট্রেইন।

তবে চিন্তার বিষয়, এই স্ট্রেইনের কাছে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি রুখে দেয়ার ক্ষমতা থাকতে পারে। অর্থাৎ অ্যান্টিবডি ককটেলকে আটকে দিতে পারে এই নয়া স্ট্রেইন।

কয়েক দিন আগেই অনুমোদন পেয়েছে অ্যান্টিবডি ককটেল। এবার সেই ককটেলের কার্যকারিতা রুখে দিতে পারলে চিন্তা আরও বাড়বে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

এই নয়া স্ট্রেইন অধিক সংক্রামক কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে আপাতত উদ্বেগজনক কিছু দেখছেন না সিএসআইয়ের ইনস্টিটিউট অব জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির পরিচালক অনুরাগ আগরওয়াল।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন মার্চে

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন মার্চে

দেশে রাশিয়ার ফর্মুলায় স্পুৎনিক ভি টিকা তৈরি করবে ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিউক্যালস। ফাইল ছবি

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদনে এরইমধ্যে একটি কোর কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে কমিটিতে আছে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান।

রাশিয়ার ফর্মুলায় টিকা উৎপাদনের অনুমতি পেতে পারে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা লিমিটেড।

বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ২০২২ সালের মার্চ থেকে দিনে ৩০ হাজার ডোজ ‘স্পুৎনিক ভি’ করোনা টিকা উৎপাদনের সুযোগ পাবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৭ মে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। সেখানেই টিকা তৈরির প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি নেয়ার হয়েছে বলে বৈঠকের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে।

দেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদনে এরইমধ্যে একটি কোর কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে কমিটিতে আছে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান।

রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেশটির পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন।

চলতি সপ্তাহে আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বাংলাদেশে স্পুৎনিক ভি তৈরির।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এরইমধ্যে টিকার ফর্মুলা প্রকাশ না করা ও যৌথ উৎপাদন সম্পর্কিত দুইটি সমঝোতা সই হয়েছে। এখন পারচেজ ও প্রডাকশন ফ্যাসিলিটিজ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র বলছে, প্রথম পর্বের বৈঠকে উভয় পক্ষ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার স্পুৎনিক ভি উৎপাদন করবে বলে সম্মত হয়। আগামী মার্চ থেকেই উৎপাদন শুরু হবে।

উভয় দেশের সম্মতিতে প্রতিদিন ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘স্পুৎনিক ভি’ দেশে উৎপাদন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত ২২ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা রাশিয়া থেকে কিছু ভ্যাকসিন ক্যাশ দিয়ে কিনব, আর কিছু আমরা এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করব। এখানে এক নম্বর শর্ত হচ্ছে যে, ভ্যাকসিন উৎপাদনের ফর্মুলা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে সমাঝোতা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে লাইন মিনিস্ট্রি হিসেবে কাজ করেছে। বিষয়টি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলোচনা ও সমাঝোতা করছে।’

১০ জুন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে দেশেই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর ঘোষণা আসবে।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার আই ইগ্নটভের গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার বিদায়ী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন সহযোগিতা নিয়ে আলাপ চলছে। এ বিষয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই রাশিয়া থেকে ভ্যাকসিন সহযোগিতা পাবে বাংলাদেশ।

প্রথমে বাংলাদেশ সরকার একমাত্র উৎস হিসেবে করোনার টিকা কেনার চুক্তি করে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি হয়।

সেই টিকা দেয়ার কথা ছিল প্রতিমাস ৫০ লাখ করে। কিন্তু সিরাম বাংলাদেশকে মাত্র ৭০ লাখ টিকা সরবরাহ করে। এরপর আর দেয়নি। পাশাপাশি ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দেয় ৩৩ লাখ টিকা।

এ ছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশকে দুই দফায় উপহার দিয়েছে ১১ লাখ সিনোফার্মের তৈরি টিকা। চীন থেকেও সরকার দেড় কোটি টিকা কেনার প্রাথমিক চুক্তি করেছে।

আরও পড়ুন:
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আতঙ্ক নয়, ওষুধ প্রস্তুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে
দেশে করোনামুক্ত দুজনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

শেয়ার করুন